Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

ট্যানারি শিল্প ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হলো: রিজভী

ট্যানারি শিল্প ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হলো: রিজভী
সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কাঁচা চামড়া বিদেশে রফতানির সুযোগ দিয়ে দেশের ট্যানারি শিল্পকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, 'কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে যখন দেশের মানুষ ক্ষোভে দুঃখে মাটিতে পুঁতে ফেলল ঠিক তখনই পানির দরে কেনা কাঁচা চামড়া রফতানির ঘোষণা দিল সরকার। ঈদ উপলক্ষে অফিস, আদালত সব বন্ধ। এই সময়ে হঠাৎ গতকাল রাতের অন্ধকারে কাঁচা চামড়া রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলো সরকার। গরিব, মিসকিন ও এতিমদের হক মারার পর কার স্বার্থ উদ্ধারে, কেন এই তড়িঘড়ি করে এই রফতানির ঘোষণা দেয়া হলো তা দেশের মানুষ জানতে চায়।'

তিনি বলেন, 'একদিকে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে কম টাকায় চামড়া কিনে এতিম মিসকিনদের পেটে লাথি মারা হলো। এখন আবার কাঁচা চামড়া বিদেশে রফতানির সুযোগ দিয়ে বাংলাদেশের ট্যানারি শিল্পকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হলো। সবই ছিল পূর্ব পরিকল্পিত এবং সিন্ডিকেটের লুটপাটের জন্য মহাকারসাজি। এই চামড়াই আবার দেখা যাবে অন্য দেশ থেকে আমদানি করা হবে চড়া মূল্যে। কাঁচা চামড়া রফতানি হলে শতভাগ দেশীয় শিল্প অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং এই শিল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির সম্মুখীন হবে।'

চামড়া রফতানিতে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, 'চামড়াশিল্প ধ্বংস করে পানির দরে কেনা কাঁচা চামড়া প্রতিবেশী দেশে রফতানি করতে হচ্ছে। ঠকছে কৃষক, ঠকছে এতিম-গরিব-মিসকিন। জিতছে লুটেরা, জিতছে সিন্ডিকেট আর তাদের সতীর্থরা। ক্ষতি হবে এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অনেক লোকের। বেকার হয়ে পড়বে বিপুল সংখ্যক মানুষ।'

একই সংবাদ সম্মেলনে চামড়া বিশেষজ্ঞ ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার টি এস আইয়ুব একটি হিসেব তুলে ধরে বলেন, 'কাঁচা চামড়া ফিনিশড করা পর্যন্ত মোট খরচ হয় ৯৯০ টাকা। আর ওই ফিনিশড করা চামড়া রফতানি হয় ৪১১৭ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে নিট লাভ হত ৩১২৮ টাকা প্রতিটি চামড়ায়। আর একটি চামড়া দিয়ে ৯ জোড়া জুতা তৈরি করা যায়। ৯ জোড়া জুতা তৈরিতে খরচ হয় ৪৭৭৫ টাকা। আর এই জুতা রফতানি করা হয় ২৭ হাজার টাকায়। অর্থাৎ একটি চামড়া থেকে ২২ হাজার ২২৫ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা লাভ হয়। তাই জুতা না বানিয়ে যদি কাঁচা চামড়া রফতানি করা হয় তাহলে এই কোরবানি ঈদে ৪৪ হাজার ৪৫০ কোটির ক্ষতি হবে।'

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে: সেলিমা রহমান

জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে: সেলিমা রহমান
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণ খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে।

শনিবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।

মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিমা রহমান বলেন, জনগণের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার দাবি আছে। এই জনগণের জন্যই এক এগারোর সময় তিনি বলেছিলেন, 'এই দেশ আমার, এই মাটি আমার, এদেশের জনগণের জন্য মরতে হলে আমি মরবো।' সেই আপোষহীন নেত্রী এখনো জনগণের জন্য কারারুদ্ধ।

এছাড়াও তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের ডেঙ্গু সচেতনতা ও সরকারের ব্যর্থতার দায় নিয়ে মন্তব্য করেন। 

মানববন্ধনে মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক  সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, সাবেক নেত্রী নূরে আরা সাফা প্রমুখ।

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন জাপা সমর্থন করে

সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন জাপা সমর্থন করে
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সংখ্যালঘুদের প্রাপ্যতা দেখাশোনার জন্য সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় বা কমিশন থাকতে পারে। যাতে তারা তাদেরর প্রাপ্য পেতে পারে। এটাকে জাতীয় পার্টি (জাপা) সমর্থন করে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

শনিবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘ আয়োজিত ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান।

জিএম কাদের বলেন, ‘স্বাধীনতার এতো বছর পরে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নের প্রশ্ন উঠছে এটা বড়ই লজ্জার। যদিও আমি সংখ্যালঘু শব্দটা থাকার পক্ষে নই। আমরা সবাই বাংলাদেশি এটা আমাদের সবার পরিচয়।’

আরও পড়ুন: কে পাচ্ছেন এরশাদের শূন্য আসনের লাঙ্গল

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতা অনেকটা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আমাদের এই সম্প্রীতির ইতিহাস হাজার বছর ধরে চলে আসছে। ৯৫ শতাংশ মানুষ সম্প্রীতির পক্ষে। আর ৫ শতাংশ মানুষ হয়তো এর বিরুদ্ধে থাকতে পারে। এরা সমাজের মঙ্গল চায় না।’

জাপার চেয়ারম্যান বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ টেনে সঠিক কথাই বলেছেন। আমাদের দেশে একই চত্বরে পাশাপাশি মসজিদ মন্দির রয়েছে। একই সময়ে নামাজ ও পূজা চলে। এমন উদাহরণ খুব কমই পাওয়া যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566631723229.jpg

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষ ধার্মিক তবে গোড়া না। আমি মনে করি যে যত ধার্মিক তাকে তত অসাম্প্রদায়িক হতে হবে। ধর্মগুলো সৃষ্টি হয়েছে সমাজে শান্তির জন্য। সব ধর্মেই শান্তির কথা বলা হয়েছে।’

জিএম কাদরে বলেন, ‘আমাদের জনপ্রিয় দলগুলো কোনোটাই কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। তবে এদের ভেতরে প্রবেশ করে কিছু লোক এটা বিনষ্ট করার অপচেষ্টা করে।’

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘কাশ্মীর ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু। ভারত তার সংবিধান কাটবে না, জোড়া লাগাবে এটা তাদের বিষয়। এটা নিয়ে আমাদের মাথা না ঘামানোই ভালো। আমাদের মাথা ঘামাতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে।’

আরও পড়ুন: জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন

শত্রু সম্পত্তি আইন বাতিলের জন্য সোচ্চার থাকার জন্য হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অনুরোধও জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি তাপস কুমার পাল বলেন, ‘জন্মাষ্টমীর দিনে কেনো নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হলো। কারা এরা, এদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। এরা বাংলাদেশের ভালো চায় না। এদের চিহ্নিত করতে হবে।’

শ্রীকৃষ্ণ সেবা সংঘের আহ্বায়ক নকুল চন্দ্র বলেন, ‘প্রিয়া সাহা আমেরিকায় গিয়ে যে কথা বলেছেন, সেই বক্তব্য তার ব্যক্তিগত, এটা হিন্দু সম্প্রদায়ের বক্তব্য নয়। আমরা এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নই। সরকার যদি কষ্ট পেয়ে থাকে এর জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- জাতীয় পার্টির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সোমনাথ দে, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ থ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, ঢাকা মহানগরের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস, ডিএসসিসির ৫৯ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আকাশ কুমার ভৌমিক প্রমুখ।সভা পরিচালনা করেন আয়োজক সংগঠনের সদস্য সচিব সুজন দে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র