Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীনামা: বহিষ্কার নাকি সাধারণ ক্ষমা

উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীনামা: বহিষ্কার নাকি সাধারণ ক্ষমা
উপজেলা নির্বাচনে দুই শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোট করেন/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে সংগঠন গোছাতে বেশি মনোযোগী ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ত্রিবার্ষিক কাউন্সিলকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে দলের চেইন অব কমান্ড ঠিক রেখে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নানা কৌশল হাতে নিয়েছেন দলটি। এর মধ্যে নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান যেমন আছে তেমনি আলোচনায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের শাস্তি প্রদান।

গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচন শেষ হয়ে গেলেও তার রেশ এখনো রয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে চলছে নির্বাচনের ফলাফল মূল্যায়ন, কাটা-ছেঁড়া ও বিশ্লেষণ।

বিএনপিবিহীন সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার মূল প্রতিপক্ষ ছিল আওয়ামী লীগই। যাদেরকে দল বলছে 'বিদ্রোহী প্রার্থী'। দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা, হাইকমান্ডের রক্তচক্ষু ও সাংগঠনিক শাস্তির ভয়কে পাশ কাটিয়ে অনেক উপজেলায় নৌকাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিজয়ী হয়েছেন এই বিদ্রোহীরা।

অনেক মন্ত্রী, এমপিও বিদ্রোহী এসব প্রার্থীর সমর্থনে সরাসরি নৌকার বিপক্ষে হাল ধরেছিলেন। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করার জন্য শুরুতে এ বিষয়ে নীরব ছিল আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। তবে নির্বাচনকেন্দ্রিক স্থানীয় পর্যায়ের এই কোন্দল যাতে ভবিষ্যতে মাথাচাড়া দিতে না পারে সেজন্য এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

দলীয় নেতাকর্মীদের কাঠগড়ায় থাকা এসব বিদ্রোহী প্রার্থীদেরকে দল শাস্তি দেবে নাকি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা হবে- তাই নিয়েই চলছে গুঞ্জন, আলোচনা।

গত ১২ গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের শোকজ ও সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে যেসব মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী নেতা কাজ করেছেন, তাদেরও কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। শোকজের জবাব যথার্থ না হলে অপরাধের মাত্রা অনুসারে তাদের শাস্তি দেওয়া হতে পারে বলে সিদ্ধান্ত হয়।

সেই সভার সিদ্ধান্ত মূল্যায়নে শনিবার (২০ জুলাই) দলের সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে সম্পাদকমণ্ডলীর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহীদের ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা হয়।

সভায় নতুন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের নেতৃত্বে গঠিত আট বিভাগের আটটি টিমকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘২৭ তারিখ পর্যন্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ২৮ তারিখ থেকে সিদ্ধান্ত কার্যকরের দিকে যাব।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শর্ত সাপেক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাধারণ ক্ষমাও ঘোষণা করতে পারে। সেজন্য শোকজ নোটিশকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সাহয্যকারী মন্ত্রী, এমপি, সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও সাধারণ ক্ষমার স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে করে শোকজের জবাব প্রস্তুত করছেন। তারা চান, কেন্দ্রীয়ভাবে সুষ্ঠু তদন্ত শেষে যেন শাস্তি কার্যকর হয়।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তারা সকলেই স্থানীয় পর্যায়ে কম বেশি জনপ্রিয়। জন সমর্থনের জোরেই নৌকার বিপক্ষেও পাস করেছেন। তাই তাদেরকে দল থেকে বাদ দেওয়াটা সহজ নয়।
অন্যদিকে যোগ্যদেরকে মনোনয়ন না দিয়ে দুর্বল ও বিতর্কিত প্রার্থীকে যে নৌকা প্রতীক তুলে দেওয়া হয়েছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের সেই দুর্বলতাও তখন আলোচনায় উঠে আসবে। সব মিলিয়ে তাই দলীয় সভাপতি এবার সাধারণ ক্ষমার কথাও বিবেচনা করতে পারেন বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

সূত্র জানায়, আট বিভাগে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল কমপক্ষে ২০০। এদের মধ্যে রংপুরে ২৬, বরিশালে ১৭, ময়মনসিংহে ২০, খুলনায় ৪১, রাজশাহীতে ২০, সিলেটে ৩২, ঢাকায় ৪৫-এর অধিক, চট্টগ্রামে ১৭-এর অধিক।
নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে ভোট করে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ১৪৩ জন। তাদের মদতদাতা হিসেবে ৬০ জন মন্ত্রী, এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সেই খসড়া তালিকা প্রস্তুতও হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়: মির্জা ফখরুল

২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়: মির্জা ফখরুল
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ওপর গ্রেনেড হামলা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা। কিন্তু সরকার প্রধান এনিয়ে যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা সরকারে থাকা অবস্থায় এফবিআইকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। তদন্ত করার জন্য তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার আমরাই করেছি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের মিথ্যাচার বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, 'তাদের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মুলা দিয়েছে সেই ফর্মুলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলো তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ানমারের যে ফর্মুলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পূরণ করবার জন্য সরকার কাজ করছে।'

রোহিঙ্গা সমস্যা কিভাবে সমাধানে আসতে পারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এই সমস্যা সমাধানে প্রথম হচ্ছে অলপার্টি ডায়ালগ করা। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে।'

প্রথমে দরকার ছিল সরকার প্রধানের সেই সমস্ত রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্যা স্টেটের সাথে দেখা করা যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেটা সরকার করে নাই, এখন পর্যন্ত তারা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা কোনো প্রতিনিধিদল করেন নাই।’

বিএনপির এই নেতা জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যে র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিকালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

রোববার এরশাদের আসনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে জাপা

রোববার এরশাদের আসনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে জাপা
ছবি: সংগৃহীত

 

রংপুর-৩ শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি পার্লামেন্টারি বোর্ডে সদস্য সচিব করা হয়েছে মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।

বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, গোলাম কিবরিয়া টিপু, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ার ও অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

আগামী রোববার (২৫ আগস্ট) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয় থেকে রংপুর- ৩ শূন্য আসনের জন্য ফরম বিতরণ করা হবে।

একাদশ সংসদের রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৪ জুলাই তার মৃত্যূতে আসনটি শূন্য হয়ে যায়।

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ (সদর) আসনে হাফ ডজন প্রার্থী চাইছেন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন। এরশাদ পুত্র সাদসহ পরিবারের ৪ সদস্য রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে।

একজনতো মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। পরিবার থেকে মনোনয়ন দৌড়ে থাকা প্রার্থীরা হলেন- এরশাদ পুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ, ভাতিজা (ছোট ভাইয়ের ছেলে) সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার, ভাতিজা (মামাতো ভাইয়ের ছেলে) মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ভাগনি (মেরিনা রহমানের মেয়ে) মেহেজেবুন্নেছা রহমান টুম্পা।

পরিবারের বাইরে থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি এসএম ফখর-উজ-জামান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি এসএম ইয়াসির।

এদিকে, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এসএম ইয়াসিরকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে।

জাতীয় পার্টির দুর্গখ্যত এই আসনে মনোনয়ন পেলেই বিজয়ী হবেন এমনটা ধরে নিয়ে লবিং-তদবীর বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রার্থীরা। অনেকেই পার্টির চেয়ারম্যান মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

মনোনয়ন দৌড়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এরশাদ পুত্র সাদ। তার জন্য লবিং করছেন তার মা সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। বিগত নির্বাচনে তাকে কুড়িগ্রাম সদর আসনে প্রার্থী করার চেষ্টা করেছিলেন। রওশন চাইছেন এরশাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ছেলে সাদ রংপুরে প্রার্থী হোক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র