Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

আ’লীগে বহিষ্কার-শোকজ থেকে বাঁচতে ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ

আ’লীগে বহিষ্কার-শোকজ থেকে বাঁচতে ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ
আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা
আবু হায়াত মাহমুদ
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

গত মার্চ মাস থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজ দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধীতাকারীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। ১৪৩ উপজেলায় নৌকার হারের জন্য দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অভিযুক্ত নেতার সংখ্যা প্রায় হাজার খানেক।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কঠোর মনোভাবের পর শোকজ ও বহিষ্কার থেকে পরিত্রাণ এবং পদ-পদবি রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অভিযুক্তরা। প্রতিনিয়ত তারা দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে ঘোরাফেরা করছেন এবং ধর্না দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নেতাদের কাছে। তবে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ।

যদিও এর আগে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পার যেয়ে গেছেন অনেক নেতা। তবে এ যাত্রায় রক্ষা পাচ্ছেন না বিদ্রোহী স্থানীয় নেতা ও তাদের মদতদাতা বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য এবং বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।

জানা গেছে, কেন্দ্রের নির্দেশে দেশের ৮টি বিভাগে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ তালিকা তৈরি করছেন। শনিবার (২০ জুলাই) আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এ সভায় অভিযুক্তদের নামের তালিকা যাচাই-বাছাই করে চিঠি পাঠানোর দিন-তারিখ ঠিক করা হবে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ’এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। অসংখ্যবার বলা হয়েছে। দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সবার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

দলের সিদ্ধান্ত ও সভানেত্রীর নির্দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কারা শাস্তি পাচ্ছেন বা মোট সংখ্যা কত সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মুখ খুলতে রাজি হননি মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

সূত্রমতে, হাজার খানেকের এক তালিকায় আছে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতা। যারা নৌকার বিরোধিতা করে অনেক উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্টদের পক্ষে কাজ করেছেন।

দেশের মোট ৮টি বিভাগে নৌকার বিরোধিতা করে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন প্রায় দুই শতাধিক নেতা। এ সব বিদ্রোহীদের সমর্থন ও মদত দিয়েছেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। আর তাদের মদতে উৎসাহী হয়ে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতা উৎসাহী হয়ে নৌকার পরাজয় ঘটান অন্তত ১৪৩টি উপজেলায়। এ ক্ষেত্রে যারা জড়িত ছিলেন সবাইকেই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের অনুসরণকারী স্থানীয় নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তাছাড়া বিদ্রোহীদের মদতদাতা বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। যাদের মধ্যে অনেকেই আগামী দিনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচনে করতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আমরা প্রথমে কারণ দর্শাতে বলি। তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। কেন আপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানতে চাওয়া হবে অভিযুক্তদের কাছে। সহযোগীদের মধ্যে যারা বিদ্রোহে ছিল বা সহায়তা করেছেন তাদেরও সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত ১২ জুলাই আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর পৃথক দুটি সভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধীতাকারীদের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা হয়েছিলেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অন্যদিকে বিদ্রোহীদের মধ্যে যেসব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা মদত যুগিয়েছেন তাদের শোকজ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়: মির্জা ফখরুল

২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়: মির্জা ফখরুল
বক্তব্য রাখছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২১ আগস্ট বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ওপর গ্রেনেড হামলা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা। কিন্তু সরকার প্রধান এনিয়ে যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। এতে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা সরকারে থাকা অবস্থায় এফবিআইকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। তদন্ত করার জন্য তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার আমরাই করেছি।’

এসময় প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রীদের মিথ্যাচার বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তিনি বলেন, 'তাদের বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণভাবে মিয়ানমারের কাছে নতি স্বীকার করেছে, তারা (মিয়ানমার) যে ফর্মুলা দিয়েছে সেই ফর্মুলার কাছে তারা নতি স্বীকার করছে। সর্বশেষ, সাড়ে তিন হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য ব্যবস্থা নিয়েছিলো তার সমাধান হয়নি অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, তাদের নিরাপত্তা, তাদের নিজের সম্পত্তির মালিক হয়ে বাসভূমিতে ফিরে যাওয়া, তাদের সম্পত্তির মালিক হওয়া-এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হয়নি বলেই আস্থার অভাবে রোহিঙ্গারা চলে যায়নি। এসব ক্ষেত্রে কোনো কাজ না করে সরকার সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। মিয়ানমারের যে ফর্মুলা, তাদের যে ইচ্ছা সেটাকে পূরণ করবার জন্য সরকার কাজ করছে।'

রোহিঙ্গা সমস্যা কিভাবে সমাধানে আসতে পারে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, 'এই সমস্যা সমাধানে প্রথম হচ্ছে অলপার্টি ডায়ালগ করা। একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে।'

প্রথমে দরকার ছিল সরকার প্রধানের সেই সমস্ত রাষ্ট্র সফর করা, হেড অব দ্যা স্টেটের সাথে দেখা করা যারা মিয়ানমারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। সেটা সরকার করে নাই, এখন পর্যন্ত তারা করে নাই। এই রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো সফর বাংলাদেশের সরকার প্রধান বা কোনো প্রতিনিধিদল করেন নাই।’

বিএনপির এই নেতা জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন যে র‌্যালি হওয়ার কথা ছিল তা পরিবর্তন করে ২ সেপ্টেম্বর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর বিকালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।'

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

রোববার এরশাদের আসনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে জাপা

রোববার এরশাদের আসনে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করবে জাপা
ছবি: সংগৃহীত

 

রংপুর-৩ শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে জাতীয় পার্টির পার্লামেন্টারি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে থাকছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি পার্লামেন্টারি বোর্ডে সদস্য সচিব করা হয়েছে মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে।

বোর্ডের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ, গোলাম কিবরিয়া টিপু, অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ার ও অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

আগামী রোববার (২৫ আগস্ট) জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয় থেকে রংপুর- ৩ শূন্য আসনের জন্য ফরম বিতরণ করা হবে।

একাদশ সংসদের রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৪ জুলাই তার মৃত্যূতে আসনটি শূন্য হয়ে যায়।

এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ (সদর) আসনে হাফ ডজন প্রার্থী চাইছেন জাতীয় পার্টির মনোনয়ন। এরশাদ পুত্র সাদসহ পরিবারের ৪ সদস্য রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে।

একজনতো মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছেন। পরিবার থেকে মনোনয়ন দৌড়ে থাকা প্রার্থীরা হলেন- এরশাদ পুত্র রাহগীর আল মাহি সাদ এরশাদ, ভাতিজা (ছোট ভাইয়ের ছেলে) সাবেক এমপি আসিফ শাহরিয়ার, ভাতিজা (মামাতো ভাইয়ের ছেলে) মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ভাগনি (মেরিনা রহমানের মেয়ে) মেহেজেবুন্নেছা রহমান টুম্পা।

পরিবারের বাইরে থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি এসএম ফখর-উজ-জামান ও রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির সেক্রেটারি এসএম ইয়াসির।

এদিকে, রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা এসএম ইয়াসিরকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছে।

জাতীয় পার্টির দুর্গখ্যত এই আসনে মনোনয়ন পেলেই বিজয়ী হবেন এমনটা ধরে নিয়ে লবিং-তদবীর বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রার্থীরা। অনেকেই পার্টির চেয়ারম্যান মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

মনোনয়ন দৌড়ে সবচেয়ে প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন এরশাদ পুত্র সাদ। তার জন্য লবিং করছেন তার মা সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ। বিগত নির্বাচনে তাকে কুড়িগ্রাম সদর আসনে প্রার্থী করার চেষ্টা করেছিলেন। রওশন চাইছেন এরশাদের উত্তরাধিকারী হিসেবে ছেলে সাদ রংপুরে প্রার্থী হোক।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র