Barta24

বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

English

রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন

রংপুরেই এরশাদের দাফন, সম্মত রওশন
এরশাদের মরদেহে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরের মানুষের ভালোবাসায় শ্রদ্ধা রেখে রংপুরেই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দাফন করার অনুমতি দিয়েছেন তার স্ত্রী রওশন এরশাদ। শুধু তাই নয়, পাশে নিজের জন্যও কবরের জায়গা রাখার অনুরোধ করেছেন তিনি।

রংপুরে এরশাদের দাফনের সম্মতি জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেছেন, বৃহত্তর রংপুরবাসীর অভূতপূর্ব আবেগে আমি আজীবন কৃতজ্ঞ ও চিরঋণী হয়ে রইলাম।

এ সংক্রান্ত এক বিবৃতিতে রওশন বলেন, “তার মৃত্যুতে আপনারা যে অভাবনীয় শ্রদ্ধা, সম্মান ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন তার জন্য আমি জানাচ্ছি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

প্রিয় দেশবাসী, বিশেষত তার প্রাণপ্রিয় রংপুবাসীর আবেগ ও ভালোবাসায় সম্মানার্থে তাকে রংপুরের মাটিতে সমাধিস্থ করার বিষয়ে আমি ও আমার পরিবার সম্মতি প্রদান করছি।”

রওশন এরশাদের সম্মতির ফলে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দাফন নিয়ে যে বিভ্রান্তির সৃষ্টির হয়েছিল তার অবসান হলো।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563270977625.jpg
জাতীয় পার্টির সারাদেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রথম চাওয়া ছিল এরশাদের মরদেহ ঢাকায় দাফন করার। তবে সেটা হতে হবে উন্মুক্ত স্থানে। যেখানে মসজিদ-মাদ্রাসা নিয়ে কমপ্লেক্স থাকবে। কিন্তু এরশাদের মৃত্যুর পর যখন সামরিক কবরস্থানে দাফনের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন অনেকেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে রংপুরে দাফনের বিষয়ে সারা দেশের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মৌন সমর্থন দেন। বিশেষত রংপুর, রাজশাহীসহ উত্তরের নেতাকর্মীরা যেকোন মূল্যে প্রিয় নেতাকে রংপুরে চিরশায়িত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন।

জাতীয় পার্টি তৃণমূল নেতাকর্মীদের যুক্তি ছিল— সামরিক কবরস্থানে দাফন করলে সেখানে যখন তখন যেতে পারবেন না নেতাকর্মীরা। তার চেয়ে রংপুর দাফন করলে নেতার সমাধিতে সহজেই যেতে পারবেন।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুরে রংপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চতুর্থ জানাজা সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সম্পন্ন হয়। জানাজা পড়ান রংপুর জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ ইদ্রিস আলী।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563268819443.jpg
জানাজায় অংশ নেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, এরশাদ পুত্র রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু হোসেন বাবলা, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, আজম খান, তাজ রহমান ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু।

এছাড়াও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, রংপুর মহানগরের সভাপতি ও রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা সরকারসহ রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী জানাজায় অংশ নেন।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/16/1563272378360.jpg
জানাজার আগে দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এরশাদের জীবনী তুলে ধরেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার বিপুল অবদান। ইসলামের জন্য তিনি অনেক কাজ করেছেন। মানুষ হিসেবে কথা ও কাজে ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। আমি এরশাদের ভাই হিসেবে ক্ষমা চাই। দোয়া চাই। তাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তাকে যেন আল্লাহ জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন।

জানাজা শেষে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মরদেহ তার রংপুরের বাসভবন পল্লী নিবাসে নেওয়া হয়।

এর আগে সোমবার (১৫ জুলাই) বাদ আছর ঢাকায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে এরশাদের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের খতিব। ওই দিন সকালে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দ্বিতীয় এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তার প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। প্রতিটি জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতা, ফুসফুসে সংক্রমণ ও কিডনির জটিলতাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৪ জুলাই) না ফেরার দেশে চলে যান এরশাদ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

আপনার মতামত লিখুন :

আ'লীগ জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে: দুদু

আ'লীগ জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে: দুদু
মানববন্ধনে বিএনপির নেতাকর্মীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, 'খা‌লেদা জিয়া‌কে মুক্ত কর‌তে হ‌লে জেলের তালা ভাঙতে হবে। আন্দোলন করতে হবে। এটা ছাড়া কোনো পথ নেই। আওয়ামী লীগও জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে। এটাই রাজনীতি, এটাই এখন আমাদের লক্ষ্য, জেলখানা যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন।'

বুধবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি' শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন নামের একটি সংগঠন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, 'আইন-আদালত করে কোনো লাভ হবে না, যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন তারা স্পষ্ট করে এ কথা বলেছেন। যদি তাকে (খালেদা জিয়াকে) বের করতে হয় তাহলে এই স্লোগান আমাদেরকে দিতে হবে। অতীতে যেমন শেখ মুজিবকে বের করার জন্য স্লোগান দিয়েছে মানুষ। ঠিক তেমনি স্লোগান দিতে হবে, জেলের তালা ভাঙবো বেগম জিয়াকে আনব। পাকিস্তান আমলে স্লোগান ছিল- জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনব। জেলের তালা ভাঙতে হবে।'

তিনি বলেন, 'বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, বিএনপি হত্যাকাণ্ড, নৈরাজ্য পছন্দ করে না। বিএনপি রাজপথের আন্দোলন, নির্বাচন, গণঅভ্যুত্থানে বিশ্বাস করে। সেজন্য আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এক কাতারে শামিল হই। দেশ রক্ষা করি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। খালেদা জিয়া যদি এখন জেলের বাইরে থাকতেন, তাহলে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেন, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেন, ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন, ঢাকা শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষ যে অসহায় জীবন যাপন করছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন, কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ধান ক্ষেতে আগুন দিয়েছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন।'

তি‌নি আরও ব‌লেন, 'ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেটে যে টাকা লুট হয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করতেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করতেন, রাজপথে নেমে আসতেন। কিন্তু তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে না পারেন।'

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্রদ‌লের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, কৃষক দ‌লের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, মৎস্যজীবী দ‌লের নেতা ইসমাঈল হো‌সেন সিরাজী, জাগপার সহ সভাপতি, আবু মোজ্জাফর মোহাম্মদ আনাস প্রমুখ।

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের রায় কার্যকর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব। আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গ্রেনেড হামলা মামলায় পলাতক তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পলাতকদের ফিরিয়ে আনার পথে কিছুটা জটিলতা ছিল আজও আছে, সেটাও সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি, এই রায় কার্যকর করার জন্য তাদেরকে ফিরিয়ে আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে।

মামলার রায় পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিচারিক আদালত যদি কাউকে ফাঁসি দেয় তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭০ ধারা অনুযায়ী সেই মামলা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্ট ডিভিশনে চলে যায়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার রায়ে কিছু সংখ্যক লোকের ফাঁসি হয়েছে, কিছু আসামির যাবজ্জীবন হয়েছে। ফাঁসি হওয়ার কারণে তা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে চলে গেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা যাবজ্জীবন পেয়েছেন তারাও হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করছেন। হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ম হচ্ছে, ডেথ রেফারেন্স ও যাবজ্জীবন সাজাটাকে একসঙ্গে ট্যাগ করে তারা শুনানি করেন। সেই ক্ষেত্রে কিছু ফরমালিটিজ আছে সেগুলো কম্পিলিট করতে হয়।

'এক্ষেত্রে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের পেপারবুক সরকারের তৈরি করে দিতে হয় বিজি প্রেসের মাধ্যমে। এ পেপারবুকের মধ্যে মামলার যাবতীয় কাগজপত্র থাকে। এটা তৈরি করে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত এবং শুনানি হয়।'

তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি এ মামলার পেপারবুক তৈরি হওয়ার জন্য যে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সেটা শুরু হয়ে গেছে। যেমন কাগজপত্র আসার পরে সেটা সটিং হয়, তারপরে এটা বিজি প্রেসে চলে যায়। আমি এটুকু বলতে পারি একাজ শুরু হয়ে গেছে।

আনিসুল হক বলেন, আমরা প্রসিকিউশন থেকে দেখবো এ পেপারবুক তৈরির কাজটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন শেষ হয়। এ মামলার মোট সাক্ষী ২২৫ জন, ফলে পেপারবুক অনেক বড় হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলাটির শুনানি শুরু করব।

রায়ের ১০ মাস পার হলেও হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বেশি সময় নয় আমরা বলতে পারি আগামী ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মামলাটির পেপারবুক তৈরি হয়ে যাবে, তখন শুনানি হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র