Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জোটের ভাঙাগড়ায় চিন্তিত নয় বিএনপি

জোটের ভাঙাগড়ায় চিন্তিত নয় বিএনপি
বিএনপির পতাকা ও ঐক্যফ্রন্টের লোগো
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে তৈরি হয়েছিল ২০ দলীয় জোট। তিনি কারান্তরীণ হওয়ার পর একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে আগে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয় বিএনপি।

সম্প্রতি ঐক্যফ্রন্ট থেকে বের হয়ে গেছে শরিক দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। অন্যদিকে নতুন জোট গঠন করছেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

জোটের ভাঙাগড়ার বিষয়ে পাত্তাই দিচ্ছেন না বিএনপি নেতারা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির এখন মূল লক্ষ্য দলের চেয়ারপারসনকে কারামুক্ত করা। একই সঙ্গে দল পুনর্গঠন করে সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করা।

গত ২৭ জুন অলি আহমদ ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ নামে একটি জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও থাকবেন। খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১৮ দফা দাবি নিয়ে ‘জাতীয় মুক্তি মঞ্চ’ গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আছে জোটে মূল্যায়ন না পাওয়ায় আলাদাভাবে শক্তি সঞ্চার করতে চাচ্ছেন বিএনপির সাবেক এই নেতা। শক্তি সঞ্চার করে বিএনপির ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করবেন তিনি।

অপর দিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব ও কোনো কর্মকাণ্ড নেই দাবি করে গত ৮ জুলাই জোট থেকে বের হয়ে যান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী।

ঐক্যফ্রন্টের ভাঙন এবং ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কের নতুন জোট গঠন- এগুলো সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতারা। বলা যায় এসব বিষয় নিয়ে দলটির নেতারা আদতে কিছুই ভাবছেন না। অলি আহমদের উদ্যোগকে ইতিবাচক বলেও মনে করছেন বিএনপির কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বীর প্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম 'জাতীয় মুক্তি মঞ্চ' ঘোষণার দিন উপস্থিত থাকলেও পরে আর এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকেও উপস্থিত হচ্ছেন না তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে কাদের সিদ্দিকীর বেরিয়ে যাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুই-একটা লোক বেরিয়ে যাচ্ছে, আসছে-যাচ্ছে। বরাবরই হচ্ছে, এটা হবেই। সবাই একই রকম হয় না। বিভিন্ন রকম চিন্তাবোধ থাকে।

জোটের এসব বিষয় নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমরা একটা রাজনৈতিক বিশ্বাস নিয়ে কাজ করি। সে বিশ্বাসের সঙ্গে যারা একমত তাদের সঙ্গে আমাদের জোট। নির্বাচনের আগে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন শেষ, এখন তিনি জোটের সঙ্গে থাকতে চান না। তাকে তো জোর করে কেউ জোটে নিয়ে আসে নাই। নিজের সিদ্ধান্তে এসেছেন, এখন আবার নিজের সিদ্দান্তে সরে গেলেন। আবার হয়তো নিজের সিদ্ধান্তে চলে আসবেন।

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, অলি আহমদ বলেছেন তিনি ২০ দলীয় জোটে আছেন, থাকবেন। তবে খালেদা জিয়ার মুক্তি ও পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে তিনি কিছু একটা করতে চান। আমাদের ২০ দলেরও সিদ্ধান্ত ছিল, জোটের মধ্যে যে সংগঠনগুলি রয়েছে তারাও খালেদা জিয়ার মুক্তি আদায়ে চেষ্টা করবে। পার্থক্যটা এই যে, তিনি এটাকে একটা মঞ্চ হিসেবে নাম দিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে তিনি এটা করলেন, তার সঙ্গে কারা কারা আছেন সেটা পরিষ্কার নয়। বিভিন্ন দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা-ভাবনা আছে, থাকবে। এটা পড়ে ঠিক হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন
জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান নন বলে বিবৃতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ সহ দলের কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। সোমবার (২২ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই দাবি করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতামত না নিয়ে তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।  

বিবৃতির বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম।

বিবৃতিতে রওশন এরশাদ সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, জিএম কাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছেন। তিনি দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু হুট করে আলাপ-আলোচনা ছাড়া তাকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা হঠকারিতা। কারণ, তাকে জাপার চেয়ারম্যান করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জিএম কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা থেকে বিরত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি রওশনপন্থি নেতারা আহ্বান জানান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ঘোষণার পর থেকেই বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এরশাদের নির্ধারিত কক্ষে বসতে দেখা গেছে জিএম কাদেরকে। তিনি সে সময় উপস্থিত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

জাতীয় পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে নিজের অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এরশাদ। পরবর্তীতে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন তিনি নিজেই।

JAPA

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন নির্দেশনার পর থেকে এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জিএম কাদের পালন করে আসছিলেন।

জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত বাতিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম সোমবারের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরদিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বিরোধী দলীয় উপনেতা ঘোষণা করা হয় রওশন এরশাদকে।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশনপন্থিদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন তিনি।

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
প্রতীকী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত দেশব্যাপী আবারও নতুন কোন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সরকার বিরোধীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বার্তাটোয়ন্টিফোর.কমকে বলেন, সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে বর্তমানে বড় কোন ইস্যু নেই। তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের মেগা প্রকল্প জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পকে ঘিরে গুজব ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে বলে ফেসবুকে যারা গুজব ছড়িয়েছে তারা কোন সাধারণ নাগরিক নয়। এদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো বিএনপি-জামায়াত চক্র সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো ঘিরে গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। এই চক্রটি আবার ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দিয়ে গণপিটুনির নামে নিরীহ মানুষকে খুন করাচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশের চলমান ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ষড়যন্ত্রের নতুন জাল বিস্তার শুরু করেছে। এরা আবারও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়।

এই পর্যন্ত গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির তদন্ত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এদের ইন্ধনদাতা বা সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রদোহের শামিল। তাছাড়া গণপিটুনির নামে কাউকে হত্যা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যারা এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রক্ষা পাবে না।

সন্দেহের তালিকায় কারা আছে, এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গোয়ন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন সময়মত সব জানানো হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার (২২ জুলাই) নেত্রকোনায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশজুড়ে ছেলেধরা গুজবে মানুষকে যেভাবে পেটানো হচ্ছে তা আইনের মধ্যে পড়ে না। আপনারা জানেন যে, পদ্মা সেতুতে মাথা চাই—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করেই এসব ঘটনা ঘটছে।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব রটানো হয়। এর পরই নেত্রকোনা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে এক শিশুর মাথা পাওয়ার পর তাকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়।

এর পরই ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ছেলেধরা আতঙ্ক ও গণপিটুনি। এই গুজবে গত চারদিনে প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যেই পুলিশের সব ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র