Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সমন্বয়হীনতায় ঐক্যফ্রন্ট

সমন্বয়হীনতায় ঐক্যফ্রন্ট
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

সরকার বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয়হীনতা দেখা দিয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত জোরালো কোন কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারেনি ঐক্যফ্রন্ট। জোটের কার্যক্রম নিয়ে নেতাদের মধ্যেও রয়েছে ক্ষোভ। কিছুদিন ধরে জোটের শরিক দুটি দলের প্রধান নেতার ক্ষোভ প্রকাশ পাচ্ছে।

নির্বাচনের আগে ও পরে ঐক্যফ্রন্টের অনেক কর্মসূচি স্পষ্ট ছিল না দাবি করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী জোটের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে চিঠিও দিয়েছিলেন। ওই চিঠিতে তিনি বলেছিলেন, ‘দেশে ধর্ষণ, হত্যা মহামারীর আকার ধারণ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এসবের প্রতিবাদে তেমন কোন ভূমিকা রাখছে না।‘ জোট ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন কাদের সিদ্দিকী।

পরে গত ১০ জুন বিকেলে ঐক্যফ্রন্টের আরেক নেতা জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের উত্তরার বাসায় জোটের নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কাদের সিদ্দিকী জানিয়েছিলেন, ড. কামাল হোসেন সুস্থ হলে তাকে নিয়ে বৈঠকে বসে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন, এর আগ পর্যন্ত জোট ত্যাগ করা স্থগিত থাকবে।

সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ঐক্যফ্রন্ট যে লক্ষ্য নিয়ে গঠন করা হয়েছিল তা পূরণ করতে পারেনি, ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তাও জানেন না তিনি।

গত ৩০ এপ্রিল বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি, নুসরাত হত্যা ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সেই কর্মসূচি পালন করা হয়নি। গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বিএনপি, বামদলীয় জোট প্রতিবাদ জানালেও ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে কিছুই বলা হয়নি বা কোন কর্মসূচি নেওয়া হয়নি।

জোটে সমন্বয়হীনতার ব্যাপারে জানতে চাইলে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ নেতা (ড. কামাল হোসেন) বিদেশ গেছেন চিকিৎসা নিতে, দুই-তিন দিনের মধ্যে তিনি দেশে আসবেন। তিনি আসলে সামনের সপ্তাহে আমরা সবাই বসব।

জোটের মধ্যে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘জোটের মধ্যে কোন প্রবলেম নাই। কিন্তু সমন্বয়টা হচ্ছে না। কারণ, বড় শরিক দল যারা তাদের মধ্যে সমস্যা দৃশ্যমান। আমাদের মধ্যেও কিছু সমস্যা আছে যা কাটিয়ে উঠতে পারি নাই। এর মধ্যে আবার দেশে অনেক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যদি দেরিও হয় তবুও আমরা দেখি কর্মসূচির বিষয়টি কী করা যায়।’

১০ জুনের বৈঠকে আ স ম রব জানিয়েছিলেন, জোটের পরিধি বাড়ানো হবে। পরে ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, জোটের পরিধি বাড়াতে বাম দলগুলোকে জোটে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কেউ কেউ এসে ইতিবাচক সাড়াও দিয়েছে।

কিন্তু এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কিছুই জানেন না। বার্তা২৪.কমকে তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টে এখন কিছু হচ্ছে না। জোট বড় করার পরিকল্পনা আমাদের কোনদিন ছিল না। রব ভাই বলেছেন, কিভাবে বলেছেন সেটা আমি জানি না। আমি ওই বৈঠকে ছিলাম না। আমাদের জোট তো আছেই। আর কার সঙ্গে জোট করব আমরা? গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে ঐক্যফ্রন্টের কোন কর্মসূচি নেই। আমরা মানববন্ধন করেছি। বামদলের হরতাল সমর্থন করব। জেএসডি’র সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও কর্মসূচি নিচ্ছে। বিএনপিও আলাদা কর্মসূচি দিচ্ছে।’

নির্বাচন ও সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো নিয়ে জোটের কোন কর্মসূচি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। বিভিন্ন সভায় দেওয়া বক্তব্যে তা প্রকাশও পেয়েছে।

ঐক্যফ্রন্টে সমন্বয়হীনতার বিষয়ে জানতে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে মোবাইল ফোনে বার বার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন
জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান নন বলে বিবৃতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ সহ দলের কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। সোমবার (২২ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই দাবি করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতামত না নিয়ে তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।  

বিবৃতির বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম।

বিবৃতিতে রওশন এরশাদ সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, জিএম কাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছেন। তিনি দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু হুট করে আলাপ-আলোচনা ছাড়া তাকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা হঠকারিতা। কারণ, তাকে জাপার চেয়ারম্যান করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জিএম কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা থেকে বিরত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি রওশনপন্থি নেতারা আহ্বান জানান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ঘোষণার পর থেকেই বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এরশাদের নির্ধারিত কক্ষে বসতে দেখা গেছে জিএম কাদেরকে। তিনি সে সময় উপস্থিত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

জাতীয় পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে নিজের অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এরশাদ। পরবর্তীতে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন তিনি নিজেই।

JAPA

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন নির্দেশনার পর থেকে এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জিএম কাদের পালন করে আসছিলেন।

জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত বাতিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম সোমবারের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরদিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বিরোধী দলীয় উপনেতা ঘোষণা করা হয় রওশন এরশাদকে।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশনপন্থিদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন তিনি।

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
প্রতীকী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত দেশব্যাপী আবারও নতুন কোন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সরকার বিরোধীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বার্তাটোয়ন্টিফোর.কমকে বলেন, সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে বর্তমানে বড় কোন ইস্যু নেই। তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের মেগা প্রকল্প জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পকে ঘিরে গুজব ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে বলে ফেসবুকে যারা গুজব ছড়িয়েছে তারা কোন সাধারণ নাগরিক নয়। এদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো বিএনপি-জামায়াত চক্র সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো ঘিরে গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। এই চক্রটি আবার ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দিয়ে গণপিটুনির নামে নিরীহ মানুষকে খুন করাচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশের চলমান ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ষড়যন্ত্রের নতুন জাল বিস্তার শুরু করেছে। এরা আবারও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়।

এই পর্যন্ত গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির তদন্ত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এদের ইন্ধনদাতা বা সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রদোহের শামিল। তাছাড়া গণপিটুনির নামে কাউকে হত্যা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যারা এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রক্ষা পাবে না।

সন্দেহের তালিকায় কারা আছে, এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গোয়ন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন সময়মত সব জানানো হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার (২২ জুলাই) নেত্রকোনায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশজুড়ে ছেলেধরা গুজবে মানুষকে যেভাবে পেটানো হচ্ছে তা আইনের মধ্যে পড়ে না। আপনারা জানেন যে, পদ্মা সেতুতে মাথা চাই—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করেই এসব ঘটনা ঘটছে।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব রটানো হয়। এর পরই নেত্রকোনা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে এক শিশুর মাথা পাওয়ার পর তাকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়।

এর পরই ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ছেলেধরা আতঙ্ক ও গণপিটুনি। এই গুজবে গত চারদিনে প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যেই পুলিশের সব ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র