Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

অনুমতি না পাওয়ায় র‍্যালি করতে পারেনি বিএনপি

অনুমতি না পাওয়ায় র‍্যালি করতে পারেনি বিএনপি
র‍্যালি করতে না পেরে কার্যালয়ের সামনেই ব্যানার হাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় 'নির্যাতিতদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস-২০১৯' উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি করতে পারেনি বিএনপি।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এই র‍্যালি বের হওয়ার কথা ছিল।

মঙ্গলবার (২৫ মে) রাতে দলটির দফতর থেকে র‍্যালি করার কথা জানানো হয় সাংবাদিকদের। পরে দুপুর পৌনে ১টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে প্রতিবাদ সমাবেশ করে বিএনপি নেতারা।

এ সময় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, 'বিশ্বের প্রতিটি দেশে এই দিবস পালন করেছে। বিএনপি একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল, কিন্তু আমাদের এই কর্মসূচি পালন করতে দিল না। বলল অনুমতি নেই। আমরা অনুমতির চিঠিও পাঠালাম। তার পরেও এটার অনুমতি দিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ এটা প্রচারিত হলে সরকার লজ্জা পাবে। আজকে যা ঘটছে, নিপীড়ন, নির্যাতন, উৎপীড়ন, দিনের পর দিন রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। যারা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি, জিএস ছিলেন কেউ পুলিশি নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাননি।'

তিনি বলেন, 'জনগণ সরকারের পক্ষে নেই, তাই এই প্রধানমন্ত্রীর সোনার পালঙ্ক আর অটুট থাকবে না। জনগণ যার সাথে না থাকে সেই ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হতে পারে না। এইবার তার পতনের সময় এসেছে, এবার দিক থেকে দিগন্তে পতনের আওয়াজ শুরু হয়েছে। এই আওয়াজে শেখ হাসিনার সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী। কারণ আজকে যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে, তাদের হাহাকারের বাতাসে পতন অবশ্যম্ভাবী।'

রিজভী অভিযোগ করেন, 'র‍্যালি উপলক্ষে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই, অবিলম্বে আটককৃতদের মুক্তি দাবি করছি।'

এদিকে ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি নাজমুল হাসান বার্তা২৪.কম-কে জানিয়েছেন, ৮-৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি অফিসের আশেপাশে থেকে ৮-১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-সচিব খাইরুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি মোরতাজুল করিম বাদরু, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের প্রশ্নে রওশন এরশাদের বিবৃতিকে উড়ো চিঠি বলে মন্তব্য করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

যেহেতু অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছি না। কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে মিডিয়া ডেকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এরশাদের এই সহোদর।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোমবার (২২ জুলাই) দিনগত রাতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদসহ ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এক যৌথ বিবৃতি দেন। সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০(২) এর খ ধারা প্রয়োগ করতে পারবেন। (মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০(২) এর ক উপেক্ষা করা যাবে না)। আশা করি, তিনি (জিএম কাদের) পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রওশন এরশাদের ওই হাতে লেখা চিঠির সত্যতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাদের পন্থীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন জিএম কাদেরকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবার সংখ্যাধিক্য সিনিয়র নেতাসহ পার্টির তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে জিএম কাদেরের প্রতি।

জীবিত এরশাদের একটি নির্দেশনার বলে জিএম কাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন, ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন ঘোষণার চার দিনের মাথায় রওশন গ্রুপ এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।

জাতীয় পার্টির এ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন এরশাদ।

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম আজকের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

এর আগে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ১৮ জানুয়ারি এক সাংগঠনিক আদেশে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশন পন্থীদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে। জিএম কাদের চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর রওশন পন্থীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শনিবার (২০ জুলাই) রওশনের বাসায় গিয়েছিলেন জিএম কাদের। তখন কথা রটে যায়, রওশন এরশাদ দেবর কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে আশির্বাদ করে দিয়েছেন। আর রওশন সংসদীয় দলের নেতা হবেন। এ খবরে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

‘এমন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেনি’

‘এমন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেনি’
অপরাজেয় বাংলাদেশ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শামসুজ্জামান দুদু

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সমালোচনা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, পিটিয়ে হত্যা, ধর্ষণের ঘটনাবলী আইনমন্ত্রী বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। এমন অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন শামসুজ্জামান দুদু। মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে অপরাজেয় বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন।

‘গণপিটুনি নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়, এটা বিএনপি-জামায়াতের একটি নিখুঁত পরিকল্পনা বা কৌশল’— আইনমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে দুদু বলেন, রাস্তায় বের হতে ভয় লাগে। কখন কাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আইনমন্ত্রী এসব ঘটনাবলী বিরোধী দলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন। গত এক শতাব্দীতে এরকম অযোগ্য আইনমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেনি। দেশদ্রোহীমূলক কথা বলার পরও আইনমন্ত্রী তাকে (প্রিয়া সাহাকে) সার্টিফিকেট দিয়েছেন, ওটা দেশদ্রোহীমূলক কথা নয়।

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তারা জনগণের টাকায় বেতন নেবে কেন? প্রধানমন্ত্রী যদি দুর্গত মানুষদের ফেলে লন্ডনে যান আর দেশের মধ্যে নির্বিচারে ধর্ষিত হয় আমার মা-বোনেরা, গণপিটুনিতে নিরীহ মানুষ মারা যায় তাহলে সরকারের কিসের প্রয়োজন? এই সরকার এমনিতেই অবৈধ। এই সরকার ভোটারবিহীন, দুর্নীতিগ্রস্ত। এই সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মাটি চাপা দিয়েছে, বিলুপ্ত করেছে, কবরস্ত করেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/23/1563868059003.jpg
আন্দোলন ছাড়া কোন পথ নেই উল্লেখ করে ছাত্রদলের সাবেক এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে প্রতিবাদ আর আন্দোলন ছাড়া দ্বিতীয় কোন পথ নাই। আইন আদালত, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অকার্যকারিতা, প্রশাসনের যে একচোখা নীতি প্রত্যক্ষ করেছি, তাতে স্বাভাবিকভাবে খালেদা জিয়া কোর্টের মাধ্যমে মুক্ত হবে—এটা সিনিয়র আইনজীবীরাও মনে করেন না। আন্দোলন এবং প্রতিবাদ মানুষকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখায়। ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার। সেই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার অর্জন করেছি। সেই ’৭১ ও মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগ ও তার সরকার অপমানিত করেছে। প্রতিবাদ এবং আন্দোলন ছাড়া এখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে টিকে থাকা অসম্ভব ব্যাপার। তাই আসুন গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি, রাস্তায় নেমে আসি। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ফরিদা মনি শহীদুল্লাহ, আয়োজক সংগঠনের সহ-সভাপতি আলহাজ খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন সিরাজী, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লায়ন মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র