Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ওহে জাপা, তুমি কি কাক হয়ে গেলে!

ওহে জাপা, তুমি কি কাক হয়ে গেলে!
অডিটরিয়ামের ভিতরে চলছে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সভা, বাইরে যুক্ত আছে সাউন্ড সিস্টেম
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

কাক নিজের চোখ বন্ধ করে রেখে বাসায় খাবার লুকিয়ে রাখার সময় ভাবে—আমি যখন দেখি নাই তখন অন্য কেউও দেখে নাই। জাতীয় পার্টিও কি সেই কাকের মতো হয়ে গেল!

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রাজধানীর এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা নিয়ে এমন হাস্যকর মন্তব্য করেছেন অনেকে।

‘ক্লোজ ডোর’ ওই সভায় অডিটরিয়ামের ভেতরে সাউন্ড সিস্টেম, বাইরেও বেশ কয়েকটি লাউড স্পিকার দেওয়া। এতে বাইরে থেকে বক্তব্য শুনতে কোন বেগ পেতে হচ্ছে না। মাইকের শব্দ মাঠ ছাড়িয়ে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সামনের প্রধান সড়ক থেকে বেশ স্পষ্টই শোনা যাচ্ছিল। অথচ ওই সভাটি ‘ক্লোজ ডোর’ সভা। গেটে কড়া পাহারা বসানো। পরিচয়পত্র নিশ্চিত হয়ে তবেই আগতদের প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বেলা সাড়ে ১১টায় উদ্বোধন শেষে জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের সাবেক ভিপি গোলাম মোহম্মদ রাজু বলেন, এবার আমাদের পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনা সভা হবে। পার্টির নেতাকর্মীরা আলোচনা করবেন। সাংবাদিক ভাই-বোনদের হলরুমের বাইরে যাওয়ার অনুরোধ করছি।

শুধু বলেই ক্ষান্ত হননি। মাই টিভির ক্যামেরাপার্সন একজনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করলে স্বেচ্ছাসেবকরা তাকে বিরত থাকতে বাধ্য করেন। এক সাংবাদিক তো বলেই বসলেন—বাইরে লাউড স্পিকার দিয়ে ক্লোজ ডোর হয়, এখানে না এলে জানা হতো না!

এ বিষয়ে গোলাম মোহাম্মদ রাজু বার্তা২৪.কমকে বলেন, সাংবাদিকদের বাইরে যেতে বলার বিষয়টি আসলে কথার কথা। বলতে হয় সে কারণে বলেছি। আজকাল কি আর কোনো জিনিস ঢাকা থাকে! এটা বাচনভঙ্গি, আপনি কিভাবে নেবেন সেটাই বিষয়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/25/1561472220789.jpg
সাংগঠনিক সভা উপলক্ষে হলরুম ও প্রধান সড়ক জাতীয় পার্টির দলীয় পতাকা ও রংবেরঙের ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়। সকাল থেকেই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নেতারা মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান নেন। তারা স্লোগানে স্রোগানে আশপাশের এলাকা মুখর করে তোলেন।

সভার শুরুতে কোরআন তেলাওয়াতের পরে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে মোনাজাত করা হয়। জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা ও পৌর কমিটির নেতারা বক্তব্য রাখেন।

বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সাংগঠনিক সভার শুরুতে জিএম কাদের বলেন, আমরা সবার কথা শুনতে চাই, সে কারণে প্রত্যেকে তিন মিনিটের মধ্যে বক্তব্য শেষ করতে পারলে ভালো। আপনারা যতক্ষণ কথা বলতে চান, আমি ততক্ষণ আছি। প্রয়োজন হলে বিকেল পর্যন্ত চলবে।

জিএম কাদেরের এই বক্তব্যের প্রতিফলন পাওয়া যায় কাজেও। সবার বক্তব্য মনযোগ সহকারে শোনেন তিনি। কিছু কিছু নোটও করেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কখনই এতো দীর্ঘ সময় ধরে পার্টির নেতাদের বক্তব্য শোনেননি। যে কারণে নেতাকর্মীরা বেশ উৎফুল্ল তাদের আক্ষেপ ঝাড়তে পেরে। বুধ, বৃহস্পতিবারও একই স্থানে পৃথক ৪ বিভাগের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সিনিয়র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূইয়া, ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, আলমগীর সিকদার লোটন, মো. এমরান হোসেন মিয়া ও জাফর ইকবাল সিদ্দিকী প্রমুখ।

চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর (অব.) আশরাফ উদ দৌলা, ড. নুরুল আজহার শামীম, নুরুল ইসলাম তালুকদার এমপি, পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ এমপি, শওকত চৌধুরী, সরদার শাহজাহান, জহিরুল আলম রুবেল, নিগার সুলতানা রানী, শফিকুল ইসলাম শফিক, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, অ্যাডভোকেট তোফাজ্জেল হোসেন প্রমুখ।

চার দিনব্যাপী এই সাংগঠনিক সভা ২৪ জুন শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতারা অংশ নেন। দ্বিতীয় দিনে রংপুর ও রাজশাহী, তৃতীয় দিন ২৬ জুন সিলেট চট্টগ্রাম বিভাগ, শেষ দিন ২৭ জুন অংশ নেবেন খুলনা-বরিশাল বিভাগের নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ব্যাখ্যা দাবি করেন।  বৈঠক লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি হজ দলের সদস্য হয়েছেন। যে দলের প্রধান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন-সংবিধানকে একেবারেই তোয়াক্কা করে না। সংবিধানের আশে-পাশ দিয়েও যায় না এবং একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন।'

তিনি বলেন, 'সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোই নেই। সেখানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কোন আইনে, কোন ক্ষমতা বলে একটা হজ ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনার প্রদানের জন্যে হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন? চিন্তা করা যায় না তিনি এরকম কমিটিতে তিনি সৌদি আরব যাচ্ছেন। উনি যদি হজ করতে চাইতেন, তাহলে বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন।  এমন আত্মসন্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে, আর এরাই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তলিয়ে দিচ্ছেন।'

এ সময় বিএনপি মহাসচিব সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব, কর্মকাণ্ড ও হজ কমিটির গঠনের গ্যাজেটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে এবং একের পর এক জেলা বন্যা কবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা আমরা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে, তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। সাধারণত এরকম পরিস্থিতিতে যে উদ্যোগ-সহায়তা নেওয়ার কথা সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রী কোথাও ঘুরে আসেননি। সরকারের পদক্ষেপগুলো মানুষ দেখতে চায়। সরকারের দায়িত্ব বন্যা কবলিত মানুষকে রক্ষা করা, যেটা সরকার করছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন্যার্তদের সহায়তায় ২১ সদস্যের একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। ত্রাণ কমিটি খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করবে বরেও জানান ফখরুল।

ডেঙ্গু ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত নাকি কিছুই হয় নাই। ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারির নিচে রাখছেন। বড়রা মোজা পরে থাকেন-কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোন উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি, এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ দেখতে পাইনি, এটাই বাস্তবতা।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র