Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সংসদে দলের এমপিদের ভূমিকায় বিএনপিতে স্বস্তি!

সংসদে দলের এমপিদের ভূমিকায় বিএনপিতে স্বস্তি!
সংসদে বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা
মুজাহিদুল ইসলাম
বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সংসদে যোগ না দেওয়ার নির্দেশনা ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু তাদের অধিকাংশই দলের সেই নির্দেশনা ভঙ্গ করে সংসদে যোগ দেন। এরপর তাদের সহ্য করতে হয়েছে নানা কটু সমালোচনা।

দলের কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে তৃণমূলের অনেক নেতাই তাদের সমালোচনা করেছেন। তবে সংসদে যোগ দেওয়া নির্বাচিত নেতাদের সাম্প্রতিক ভূমিকায় স্বস্তি ফিরেছে বিএনপিতে। দলের নেতারা মনে করছেন, এতে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জোরদার হবে।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিয়েই খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান গণফোরাম নেতা মোকাব্বির খান। তার আগে শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তাদের সংসদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রথমে ভলো চোখে দেখেননি বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। এমনকি তাদের দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। পরবর্তীতে একে একে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিতরাও।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সংসদে দলের প্রতিনিধিদের ভূমিকায় আড়ষ্টতা কাঠিয়ে উঠতে শুরু করেছে দলের হাইকমান্ড ও তৃণমূল। সবার দৃষ্টি এখন সংসদ অধিবেশনে। কারণ কয়েকজন সংসদ সদস্য গোটা সংসদে হইচই তুলে দিয়েছেন। তুলে ধরছেন দলের ও নিজেদের চাপা ক্ষোভ। অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, বিএনপির সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।

গত ১২ জুন জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে দুই মিনিটের বক্তব্য দেন বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ওইদিন তিনি বর্তমান সংসদকে অবৈধ বলায় সংসদে হইচই পড়ে যায়। আর গত ১৬ জুন তিনি বলেন, সংসদের ৩০০ আসনের কেউ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হননি। সঙ্গে সঙ্গে তার এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান সরকার দলের এমপিরা। এমনকি ডেপুটি স্পিকার তাকে বসতে বলেন। কিন্তু তিনি টানা ১০ মিনিট বক্তব্য রাখেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও সংসদে যাওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের হাইকমান্ড মনে করছে, সরকারকে চাপে রাখতে সংসদের ভেতর এবং বাইরে থেকে কথা বলা প্রয়োজন। একইভাবে রাজপথে সরব থাকতে পারলেই দ্রুত খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান বার্তা২৪.কমকে বলেন, এই সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। এমনকি সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র, নির্বাচন এবং ভোটাধিকারে বিশ্বাস করে না। তাই এখানে ভালোমন্দ বলা না বলা সমান। তারপরও বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে কথা বলছেন। দেশের সাধারণ মানুষ সেটা শুনছেনও। কিন্তু এটা থেকে কিছু প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তারা যতটুকু পারছে, চেষ্টা করছে। যেখানে সভা-সমাবেশ করা যায় না, কথা বলা যায় না— এমন পরিস্থিতিতে যেখানে যতটুকু কথা বলার স্পেস পাওয়া যায় তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ সংসদে তারা কথা বলছে এটা দলের নির্দেশনা। তাদের ভূমিকাও প্রশংসনীয়।

বগুড়া-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, দলের সিনিয়র নেতারা আমাদের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন সে অনুযায়ী আমরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। সংসদ সদস্যের ভূমিকায় সিনিয়র নেতারা সন্তুষ্ট, তারা অনেকেই বলেছেন ভালো বলছ। তাছাড়া স্থানীয় নেতাকর্মীরা যারা হতাশ ছিল তারাও অ্যাপ্রিশিয়েট করছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারীরা হলেন— মৌলভীবাজার-২ থেকে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, সিলেট-২ থেকে মোকাব্বির হোসেন খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে উকিল আব্দুস সাত্তার, বগুড়া-৪ থেকে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ থেকে আমিনুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে হারুনুর রশিদ।

এছাড়া ৫০তম সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। তবে কৌশলগত কারণে নির্বাচিত হয়েও শপথ নেননি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আপনার মতামত লিখুন :

’গুজব ও গণপিটুনিতে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে’

’গুজব ও গণপিটুনিতে জড়িতদের কঠোর হাতে দমন করা হবে’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভায় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সম্প্রতি দেশব্যাপী যারা ছেলেধরা গুজব ছড়াচ্ছে এবং গণপিটুনির নামে যারা মানুষ হত্যা করছে বা মেরে আহত করছে তাদেরকে কঠোর হাতে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বুধবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা বিশ্ব যখন জঙ্গি দমনে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ খুব সফলতার সাথে জঙ্গিদের মূল উৎপাটন করেছে। তাই যারা গুজব ছড়িয়ে মানুষ হত্যা করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান, তারা সাবধান হয়ে যান। কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশি নাগরিক প্রিয়া সাহার অভিযোগ সম্পর্কে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সর্বদা সংখ্যালঘুদের বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতরে প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে ডিসঅ্যাপেয়ার্ড শব্দটি দ্বারা কী বোঝাতে চেয়েছেন তা প্রিয়া সাহাই ভালো বলতে পারবেন।’

আব্দুর রাজাজ্জাক বলেন, ’বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে পুনরায় সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ‍ঘটে। যেমনটি হয়েছিল ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানি শাসন কায়েম হওয়ার পর। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে সাপ্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশে যখন একটি সম্প্রীতির আবহ চলছে, ঠিক তখন ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের বিদেশি মিত্রদের নিয়ে আবার মাথাচাড়া দিতে চাচ্ছে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, দলের কাউন্সিল এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে হবে। তাছাড়া দেশব্যাপী সংগঠন গোছাতে দলের আটটি টিম কাজ করছে।’

বানভাসি মানুষের পাশে সরকার নেই- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের সমালোচনা করে রাজ্জাক বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা বন্যা কবলিতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণসহ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. কামরুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনের সংসদ্ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাদারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

গুজব প্রতিরোধে সভা সমাবেশ করবে আ'লীগ

গুজব প্রতিরোধে সভা সমাবেশ করবে আ'লীগ
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সারাদেশে গুজব প্রতিরোধে সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতারা সভা সমাবেশ করবেন বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার (২৪ জুলাই) বেলা ১২টায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, 'সারাদেশে গুজব থেকে অনেক দুঃখজনক ও মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। আহত-নিহত হওয়ার মতোও ঘটনা ঘটেছে। গুজব রটিয়ে গণপিটুনির মতো ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। আমার বিশ্বাস বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আসবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-আইজিপির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে, তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে।'

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা দলীয়ভাবেও নির্দেশ দিয়েছি, দলের নেতারা যেন সতর্কতামূলক সভা সমাবেশ করে। গুজব থেকে গণপিটুনির মতো দুঃখজনক ঘটনা না ঘটতে পারে সেজন্য দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমপিরাও যার যার এলাকায় গিয়ে সভা সমাবেশ করবেন। চিফ হুইপের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। যারা গুজব সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন হাতে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। এটি অপরাধ-অপকর্ম।

তিনি আরও বলেন, জড়িদের অনেকে গ্রেফতার হয়েছে। আমি সবার প্রতি অনুরোধ জানাই কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না, গুজব ছড়াবেন না এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না।

দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, কতগুলো ঘটনা ঘটছে, সেখানে যোগসূত্র আছে কিনা সেটি দেখা হচ্ছে। সবগুলো ঘটনার যোগসূত্র মিলিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির ষড়যন্ত্র কিনা তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি। যেসব অপরাধী আটক হচ্ছে, রাতারাতি তো তাদের ফাঁসি দেওয়া যাবে না। আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক প্রত্যেককে আইনের আওতায় আসতে হবে। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র