Barta24

বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৯, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ঐক্যফ্রন্টে যেতে অনীহা বাম জোটের

ঐক্যফ্রন্টে যেতে অনীহা বাম জোটের
পৃথক সময়ে ঐক্যফ্রন্ট (বাঁয়ে) ও বাম জোটের সংবাদ সম্মেলন, ছবি: বার্তা২৪.কম
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

দাবি একই হলেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের দলগুলো। যদিও উভয় জোটের একমাত্র দাবি, সরকারের কাছ থেকে নিরপেক্ষ-সুষ্ঠু নির্বাচন আদায়।

উভয় জোট নেতাদের দাবি, বর্তমান সরকার কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে। এজন্য তারা রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলে মানুষের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট সরকার বিরোধী বাম জোট ও ইসলামিক দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জোটের পরিধি বাড়াতে চায়। কিন্তু বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আন্দোলনে যেতে চান না। তাদের দাবি, ঐক্যফ্রন্টই বাম জোটে আসুক। যদি সেটা না হয় তাহলে ঐক্যফ্রন্টের বাইরে থেকেই বাম জোট আন্দোলনে চালিয়ে যাবে।

জানা গেছে, বিএনপি, গণফোরাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এই পাঁচটি দল নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে। আর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোট গঠিত।

অভিযোগ আছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর কোনো সফল কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এমনকি জোটগতভাবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল প্রত্যাখ্যান করা হলেও বিজয়ীরা ঠিকই সংসদে গেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আগে ঐক্যফ্রন্টকে শক্তিশালী হতে হবে। তারপর যদি জোটের পরিধি বাড়ানো হয়, তাহলেই তারা কার্যকর আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে।

গত ১০ জুন উত্তরায় জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রবের বাসায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে আ স ম আব্দুর রব সাংবাদিকদের জানান, ঐক্যফ্রন্টের আকার বাড়িয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলন শুরু করা হবে।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র, ধর্ম নিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিতে বিশ্বাসীদের একত্রিত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা উচিত। আমাদের শ্রেষ্ঠ ঐক্য হয়েছিল ১৯৭২ সালে। তবে এই ঐক্যে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থাকবে না। কারণ তারা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি থেকে দূরে চলে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি জোটের মধ্যেই আছি। তবে গণফোরামের সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা কামাল হোসেন এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি বাম জোটে আসতে চান তাহলে একটা বৃহত্তর ঐক্য হতে পারে।’

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে জোটে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। রমজানে বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা জানিয়েছি, আমরা তো রাজপথেই আছি। আপনারা নিজেদের মধ্যে আগে বিভ্রান্তি দূর করেন। এরপর রাজপথে আসেন। আমরা চাই সব অগ্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক শক্তি নিয়ে রাজপথে যুগপৎ আন্দোলন করতে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংসদ বাতিল করা, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা সংস্কার করা। তবে এসব দাবি আদায়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে এক মঞ্চে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।’

এদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বাম দলগুলোর সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের জোট হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা সিপিবি। আমরা বাম দলের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী। তাদের দুই একজন আগ্রহ দেখালেও সিপিবির কোনো আগ্রহ নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল

এরিকের সুরা পাঠে এরশাদের দোয়া মাহফিল
বাবার জন্য দোয়া করছে এরিক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বারিধারার বাসায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে সুরা পাঠ করলেন ছেলে এরিক এরশাদ।

তার দোয়া পাঠের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) বাদ আছর প্রেসিডেন্ট পার্কে পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল শুরু হয়।

দোয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, ‘ওনার (এরশাদ) চারটি জানাজায় যে লোক সমাগম হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। যেখানে যে জানাজা হয়েছে, সেখানকার লোক সেটাকে রেকর্ড বলেছেন। এটা ওনার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি দিয়ে শোক প্রকাশ করেছেন। মোদি লিখেছেন, এরশাদ আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের জন্য যা করে গেছেন, দেশের মানুষ ওনাকে চিরকাল স্মরণ রাখবে। আরো অনেক দেশ থেকে প্রশংসাসূচক চিঠি এসেছে।’

শুধু দেশে নয়, বিদেশেও সম্মান পেয়েছেন তিনি। শুধু গরিব নয়, বিত্তশালীরাও ওনার জন্য চোখের জল ফেলেছেন বলে মন্তব্য করেন জিএম কাদের।

দোয়া মাহফিলে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ছাড়াও তার প্রতিবেশীরা অংশ নেন। মোনাজাতের প্রায় পুরোটা সময় ধরে চোখের জল ফেলেন এরিক।

সিনিয়র নেতাদের মধ্যে এ মাহফিলে অংশ নেন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, সাবেক মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, আব্দুস সাত্তার, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সালমা ইসলাম এমপি, মেজর (অব.) খালেদ আখতার, ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর সৈয়দ দিদার বখত, রেজাউল ইসলাম ভুইয়া প্রমুখ।

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের

রওশনের চিঠিকে উড়ো বললেন জিএম কাদের
রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্বের প্রশ্নে রওশন এরশাদের বিবৃতিকে উড়ো চিঠি বলে মন্তব্য করেছেন পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

যেহেতু অফিসিয়ালি এ ধরনের কোনো চিঠি আমরা পাইনি, তাই এ বিষয়ে এখনই কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছি না। কোনো প্রতিক্রিয়া থাকলে মিডিয়া ডেকে জানানো হবে বলেও মন্তব্য করেছেন এরশাদের এই সহোদর।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সোমবার (২২ জুলাই) দিনগত রাতে জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদসহ ১০ জন প্রেসিডিয়াম সদস্য এক যৌথ বিবৃতি দেন। সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা রওশন এরশাদের প্যাডে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি, জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যা আদৌ কোনো যথাযথ ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালনকালে পার্টির গঠনতন্ত্রের ধারা ২০(২) এর খ ধারা প্রয়োগ করতে পারবেন। (মনোনীত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রেসিডিয়ামের সংখ্যাধিক্যের মতামতের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবেন। চেয়ারম্যানের অবর্তমানে ধারা ২০(২) এর ক উপেক্ষা করা যাবে না)। আশা করি, তিনি (জিএম কাদের) পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী পরবর্তী চেয়ারম্যান না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

রওশন এরশাদের ওই হাতে লেখা চিঠির সত্যতা এবং এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কাদের পন্থীরা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছেন জিএম কাদেরকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। আবার সংখ্যাধিক্য সিনিয়র নেতাসহ পার্টির তৃণমূলের পূর্ণাঙ্গ সমর্থন রয়েছে জিএম কাদেরের প্রতি।

জীবিত এরশাদের একটি নির্দেশনার বলে জিএম কাদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যান হয়ে গেছেন, ১৮ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেন পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা। জাতীয় পার্টির মহাসচিবের এমন ঘোষণার চার দিনের মাথায় রওশন গ্রুপ এমন প্রতিক্রিয়া দেখাল।

জাতীয় পার্টির এ নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। এরশাদ জীবিত থাকা অবস্থায় গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে তার অবর্তমানে পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। পরে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন এরশাদ।

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন করে নির্দেশনা জারি করা হয়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জিএম কাদের।

চিঠিতে এরশাদ লিখেছেন, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম আজকের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। বিরোধী দলীয় উপনেতা করেন রওশন এরশাদকে।

এর আগে ছোট ভাই জিএম কাদেরকে ১৮ জানুয়ারি এক সাংগঠনিক আদেশে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং ভবিষ্যৎ চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশন পন্থীদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন এরশাদ।

এরশাদ মারা যাওয়ার পর থেকেই শঙ্কা ছিল নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব নিয়ে। জিএম কাদের চেয়ারম্যান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার পর রওশন পন্থীদের প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকে উদ্বিগ্ন ছিলেন। শনিবার (২০ জুলাই) রওশনের বাসায় গিয়েছিলেন জিএম কাদের। তখন কথা রটে যায়, রওশন এরশাদ দেবর কাদেরকে চেয়ারম্যান হিসেবে আশির্বাদ করে দিয়েছেন। আর রওশন সংসদীয় দলের নেতা হবেন। এ খবরে পার্টির নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি নেমে এসেছিল। কিন্তু নতুন প্রতিক্রিয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র