Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

খালেদাকে মুক্তি দিয়ে একটি ভালো কাজ করুন, সরকারকে দুদু

খালেদাকে মুক্তি দিয়ে একটি ভালো কাজ করুন, সরকারকে দুদু
মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে একটি ভালো কাজ করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।

তিনি বলেছেন, 'সরকার যদি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও জামিনের পথে বাধা না হয় তাহলে তিনি মুক্তি পাবেন।'

মঙ্গলবার (১৮ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গরিবের বাজেট চাই' শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন। 'দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন'-এর পক্ষ থেকে মানববন্ধনের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদু বলেন, 'বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন না, এটা আরেকবার প্রমাণ হলো। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের পরশুদিন বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে যদি ‌কোর্ট জামিন দেয় তাহলে সরকারের আপত্তি থাকবে না। তাহলে ধরে নেওয়া যায়, এতদিন সরকারের আপত্তির কারণেই কোর্ট তাকে জামিন দেয়নি।'

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে উদ্দেশে কৃষক দলের এই আহ্বায়ক বলেন, 'খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, আর তাকে মুক্তি দিয়ে আপনারা যে এত খারাপ কাজ করেছেন, তার মধ্যে একটি ভালো কাজ করুন। খালেদা জিয়াকে জামিনে মুক্তি দেয়া হলে দেশবাসী এটাকে আপনাদের অনেক খারাপ কাজের মাঝে একটা ভালো কাজ বলে মনে করবে।'

তিনি বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজ কোর্টের বিচারপতিদের আমি দোষারোপ করব না। বর্তমান পরিস্থিতির কারণেই বেগম জিয়াকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না।'

২০১৯-২০ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পর্কে বিএনপির এই নেতা বলেন, 'যে বাজেট দেয়া হয়েছে তা পুরোটাই বড়লোকের, গ‌রি‌ব-সাধারণ মানু‌ষের না। কিছুদিন আগেও কৃষক ধান ক্ষেতে আগুন দিয়েছে, দাম না পাওয়ার কারণে। ধানের উৎপাদনে যেখানে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা খরচ, সেখানে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। অথচ বাজেটে কৃষকের জন্য কোন ছাড় দেওয়া হয়নি । ছাড় দেওয়া হ‌য়ে‌ছে যারা ব্যাংক লুট করেছে, শেয়ার বাজার লুট করেছেন তাদের জন্য। সরকার ও দেশের জনগণকে যারা বাঁচিয়ে রেখেছেন সেই কৃষক-শ্রমিকদের নিয়ে বাজেটে কোন সুনির্দিষ্ট কথা নেই।'

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, আয়োজক সংগঠনের প্রচার সম্পাদক গোলাম সরোয়ার সরকারের, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম দলের প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সেকুল প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নন: রওশন

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নন: রওশন
জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) কেউ নন বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন রওশন এরশাদ সহ দলের জ্যেষ্ঠ একাধিক। সোমবার (২২ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি করেন তারা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতামত না নিয়ে তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে।  

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
প্রতীকী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত দেশব্যাপী আবারও নতুন কোন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সরকার বিরোধীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বার্তাটোয়ন্টিফোর.কমকে বলেন, সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে বর্তমানে বড় কোন ইস্যু নেই। তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের মেগা প্রকল্প জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পকে ঘিরে গুজব ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে বলে ফেসবুকে যারা গুজব ছড়িয়েছে তারা কোন সাধারণ নাগরিক নয়। এদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো বিএনপি-জামায়াত চক্র সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো ঘিরে গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। এই চক্রটি আবার ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দিয়ে গণপিটুনির নামে নিরীহ মানুষকে খুন করাচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশের চলমান ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ষড়যন্ত্রের নতুন জাল বিস্তার শুরু করেছে। এরা আবারও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়।

এই পর্যন্ত গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির তদন্ত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এদের ইন্ধনদাতা বা সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রদোহের শামিল। তাছাড়া গণপিটুনির নামে কাউকে হত্যা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যারা এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রক্ষা পাবে না।

সন্দেহের তালিকায় কারা আছে, এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গোয়ন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন সময়মত সব জানানো হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার (২২ জুলাই) নেত্রকোনায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশজুড়ে ছেলেধরা গুজবে মানুষকে যেভাবে পেটানো হচ্ছে তা আইনের মধ্যে পড়ে না। আপনারা জানেন যে, পদ্মা সেতুতে মাথা চাই—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করেই এসব ঘটনা ঘটছে।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব রটানো হয়। এর পরই নেত্রকোনা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে এক শিশুর মাথা পাওয়ার পর তাকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়।

এর পরই ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ছেলেধরা আতঙ্ক ও গণপিটুনি। এই গুজবে গত চারদিনে প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যেই পুলিশের সব ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র