Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

প্রতিবাদ করতে না পারলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট: আসিফ নজরুল

প্রতিবাদ করতে না পারলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট: আসিফ নজরুল
আসিফ নজরুল, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একটা জঘন্যতম নির্বাচন হলো, কিন্তু পরের দিন একটা প্রতিবাদ বা হরতালও ডাকতে পারলো না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজ পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দিতে পারলেন না। প্রতিবাদ করতে যদি না পারেন তাহলে কিসের ঐক্যফ্রন্ট?

শনিবার (২৩ মে) সুপ্রিমকোর্ট বার এসোসিয়েশনের মিলনায়তনে 'মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়নে, মুক্তির লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হোন, কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলুন' শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন নাগরিক ঐক্য।

আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা একটা জিনিস দেখে বড় হয়েছি। দেশে যখন একটা দুইটা লোক হত্যা হতো, তখনই দেখলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ চাওয়া হতো। যখন একটা ইলেকশনে ব্যাপক কারচুপি হতো তখন পুরা সরকারের পদত্যাগ দাবি করা হতো। আমরা দেখতাম এরশাদের বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই লেখা যেতো। আমরা দেখতাম তারেক রহমান, কোকো'র সম্পর্কে যা ইচ্ছে লেখা যেতো। আমরা দেখতাম রাজপথে প্রতি সপ্তাহে আন্দোলন করা যেতো।

তিনি বলেন, ‘এখন এতো মানুষ হত্যা হয়, গুম হয়, কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি করার সাহস পাচ্ছে না। এই কথাটা বলার মতো মানুষের সাহস পর্যন্ত নাই। যখন একটা দেশের নির্বাচনে আগের রাতে ভোট গুম হয়ে যায়, কিন্তু মানুষের কথা বলার সাহস নাই। এখন গুম হয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, গুম হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্র।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের কঠোর সমালোচনা করে এই বুদ্ধিজীবী বলেন, ‘আপনাদের কিছু কিছু জিনিস আমাদের খুব কষ্ট দেয়। এরকম একটা জঘন্যতম নির্বাচন হলো, কিন্তু আপনারা পরের দিন একটা হরতালও ডাকতে পারলেন না। আজ পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি ডাকতে পারলেন না। আশ্চর্য লাগে এটা একটা পলিটিক্স। যার সাক্ষী বাংলাদেশের সকল জনগণ।’

তিনি বলেন, 'আমরা নির্বাচনের দিন সকালে মির্জা ফখরুলকে বলতে দেখি নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে। তাঁর লজ্জা থাকা উচিৎ। আমরা নির্বাচনের দুই তিন দিন আগে থেকে জানি নির্বাচনে কি হচ্ছে। আর উনি জানেন না ইলেকশনে কি হচ্ছে? উনি এখানে থাকলে ভাল হতো, উনাকে বলবেন তাঁর লজ্জা হওয়া উচিৎ। এরকম যদি ঐক্যফ্রন্ট হয়, বিরোধী দল হয় তাহলে আমাদের দেশের ভোটাধিকার ফিরে পাব না। সরকারের অনেক দোষ আছে, তাদের দোষ যতো থাকবে বিরোধী দলকে আরও স্মার্ট, শক্তিশালী হবে। আপনারা তা করতে না পারলে আপনাদের কাছ থেকে কিছু আশা করার নাই।'

আসিফ নজরুল বক্তব্য দেওয়ার সময় মির্জা ফখরুল উপস্থিত হতে পারেননি। পরে তিনি উপস্থিত হন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ঢাবি আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুল, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার পার্টি নেতা সাইফুল হক, জে এস ডি'র নেতা আব্দুল মালেক রতন, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপি চেয়ারপারনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ব্যাখ্যা দাবি করেন।  বৈঠক লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি হজ দলের সদস্য হয়েছেন। যে দলের প্রধান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন-সংবিধানকে একেবারেই তোয়াক্কা করে না। সংবিধানের আশে-পাশ দিয়েও যায় না এবং একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন।'

তিনি বলেন, 'সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোই নেই। সেখানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কোন আইনে, কোন ক্ষমতা বলে একটা হজ ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনার প্রদানের জন্যে হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন? চিন্তা করা যায় না তিনি এরকম কমিটিতে তিনি সৌদি আরব যাচ্ছেন। উনি যদি হজ করতে চাইতেন, তাহলে বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন।  এমন আত্মসন্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে, আর এরাই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তলিয়ে দিচ্ছেন।'

এ সময় বিএনপি মহাসচিব সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব, কর্মকাণ্ড ও হজ কমিটির গঠনের গ্যাজেটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে এবং একের পর এক জেলা বন্যা কবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা আমরা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে, তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। সাধারণত এরকম পরিস্থিতিতে যে উদ্যোগ-সহায়তা নেওয়ার কথা সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রী কোথাও ঘুরে আসেননি। সরকারের পদক্ষেপগুলো মানুষ দেখতে চায়। সরকারের দায়িত্ব বন্যা কবলিত মানুষকে রক্ষা করা, যেটা সরকার করছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন্যার্তদের সহায়তায় ২১ সদস্যের একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। ত্রাণ কমিটি খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করবে বরেও জানান ফখরুল।

ডেঙ্গু ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত নাকি কিছুই হয় নাই। ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারির নিচে রাখছেন। বড়রা মোজা পরে থাকেন-কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোন উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি, এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ দেখতে পাইনি, এটাই বাস্তবতা।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র