Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে এরশাদের শোক

তিউনিসিয়ায় নৌকা ডুবিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে এরশাদের শোক
জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, ছবি: সংগৃহীত
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

লিবিয়া থেকে ইতালির উদ্দেশে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসী বোঝাই নৌকা ডুবিতে বাংলাদেশিদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

রোববার (১২ মে) এক শোক বার্তায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

শোক বার্তায় এরশাদ বলেন, 'উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশিদের এমন করুন মৃত্যু মেনে নেয়া যায় না। দুঃখজনক এমন মৃত্যু যেন আর কোন বাংলাদেশির জীবনে না ঘটে সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন থাকতে হবে।'

অনুরূপ শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি, বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান বেগম রওশন এরশাদ এমপি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি।

আপনার মতামত লিখুন :

আ’লীগে বহিষ্কার-শোকজ থেকে বাঁচতে ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ

আ’লীগে বহিষ্কার-শোকজ থেকে বাঁচতে ব্যর্থ দৌড়ঝাঁপ
আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা

গত মার্চ মাস থেকে অনুষ্ঠিত পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিজ দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধীতাকারীদের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। ১৪৩ উপজেলায় নৌকার হারের জন্য দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অভিযুক্ত নেতার সংখ্যা প্রায় হাজার খানেক।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও দলের সভাপতি শেখ হাসিনার কঠোর মনোভাবের পর শোকজ ও বহিষ্কার থেকে পরিত্রাণ এবং পদ-পদবি রক্ষায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন অভিযুক্তরা। প্রতিনিয়ত তারা দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ে ঘোরাফেরা করছেন এবং ধর্না দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক নেতাদের কাছে। তবে তাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ।

যদিও এর আগে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে পার যেয়ে গেছেন অনেক নেতা। তবে এ যাত্রায় রক্ষা পাচ্ছেন না বিদ্রোহী স্থানীয় নেতা ও তাদের মদতদাতা বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য এবং বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা।

জানা গেছে, কেন্দ্রের নির্দেশে দেশের ৮টি বিভাগে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা এ তালিকা তৈরি করছেন। শনিবার (২০ জুলাই) আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এ সভায় অভিযুক্তদের নামের তালিকা যাচাই-বাছাই করে চিঠি পাঠানোর দিন-তারিখ ঠিক করা হবে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ’এ বিষয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। অসংখ্যবার বলা হয়েছে। দলের কার্যনির্বাহী পরিষদের সবার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’

দলের সিদ্ধান্ত ও সভানেত্রীর নির্দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কারা শাস্তি পাচ্ছেন বা মোট সংখ্যা কত সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মুখ খুলতে রাজি হননি মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

সূত্রমতে, হাজার খানেকের এক তালিকায় আছে আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সব পর্যায়ের নেতা। যারা নৌকার বিরোধিতা করে অনেক উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামে বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্টদের পক্ষে কাজ করেছেন।

দেশের মোট ৮টি বিভাগে নৌকার বিরোধিতা করে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন প্রায় দুই শতাধিক নেতা। এ সব বিদ্রোহীদের সমর্থন ও মদত দিয়েছেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য। আর তাদের মদতে উৎসাহী হয়ে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের অনেক নেতা উৎসাহী হয়ে নৌকার পরাজয় ঘটান অন্তত ১৪৩টি উপজেলায়। এ ক্ষেত্রে যারা জড়িত ছিলেন সবাইকেই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

জানা গেছে, বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের অনুসরণকারী স্থানীয় নেতাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। তাছাড়া বিদ্রোহীদের মদতদাতা বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। যাদের মধ্যে অনেকেই আগামী দিনে আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচনে করতে পারবেন না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কোনও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে আমরা প্রথমে কারণ দর্শাতে বলি। তিন সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে হবে। কেন আপনার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না জানতে চাওয়া হবে অভিযুক্তদের কাছে। সহযোগীদের মধ্যে যারা বিদ্রোহে ছিল বা সহায়তা করেছেন তাদেরও সংশ্লিষ্ট সংগঠন থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গত ১২ জুলাই আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা এবং উপদেষ্টামণ্ডলীর পৃথক দুটি সভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকার বিরোধীতাকারীদের বিষয়ে আলোচনা হয়। ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয় নৌকার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা হয়েছিলেন তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। অন্যদিকে বিদ্রোহীদের মধ্যে যেসব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা মদত যুগিয়েছেন তাদের শোকজ করা হবে।

দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখব: কাদের

দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখব: কাদের
ওবায়দুল কাদের, পুরনো ছবি

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুর্নীতিকে দুর্নীতি হিসেবেই দেখব। সরল বিশ্বাস বলতে তিনি (দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ) কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমাকে জানতে হবে। তবে দুর্নীতি দুর্নীতিই। এটা অন্যভাবে দেখার উপায় নেই।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকালে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে  ‘সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরল বিশ্বাসে কোনো বড় ভুল করলেও তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না’ দুদক চেয়ারম্যানের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা দুনিয়ায় দুর্নীতি হচ্ছে। তবে কোথাও বেশি কোথাও কম। কিছু পলিটিক্যালি মোটিভিটেড হচ্ছে। কোনো নেতাকে যদি কেউ দেখতে না পারে তার বিরুদ্ধে দুনীতির ছাপটা লাগিয়ে দেয়।

জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল, সংসদে তাদের অনেকগুলো আসন আছে। জনগণ তাদের ভোট দিয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধি করে পাঠিয়েছে। এরশাদের অবর্তমানে তাদের দলীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিক রূপ কী হবে, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। রাজনীতিতে তারাই টিকে থাকবে, যারা সময়োপযোগী রাজনীতি চর্চা ও যুগোপযোগী রাজনীতি করবে।

বন্যা মোকাবিলায় দল ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার আন্তরিকভাবে বন্যা মোকাবিলায় কাজ করছে। আজকেও জামালপুর ও গাইবান্ধায় আমাদের প্রতিনিধি গিয়েছেন। আমাদের টিম বন্যাদুর্গত এলাকায় যাচ্ছে।

মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট করছে সরকার- বিএনপির এমন অভিযোগের  জবাবে কাদের বলেন, তারা তো কোনো দিন উন্নয়ন করেনি। উন্নয়নের রোল মডেলের কী বুঝবেন ফখরুল সাহেবরা? ওনারা তো কালো চশমা পরেন। আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখেন না। তারা নির্বাচনী ইশতেহারে যে ভিশন-২০৩০ ঘোষণা করেছিল, সেটা এখন ডিপ ফ্রিজে ঢুকে গেছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র