Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জাপার ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম সভার সদস্য ৫৪ জন!

জাপার ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়াম সভার সদস্য ৫৪ জন!
ছবি: সংগৃহীত
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির (জাপা) ৪১ সদস্যের প্রেসিডিয়ামের সভায় আগে থেকেই রয়েছে ৪৬ জন। বৃহস্পতিবার (৯ মে) নতুন করে আরও আটজনকে পদোন্নতি দেওয়ায় তা ৫৪ -তে গিয়ে ঠেকলো।

যাদেরকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে একজন ছাড়া আর সবার বিষয়ে তৃণমূল কর্মীদের আপত্তি রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত (সাতক্ষীরা) ছাড়া অন্যদের প্রমোশন যথাযথ হয়নি বলে মনে করেন অনেকে। সিনিয়র নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রেসিডিয়াম সভার আর কোনো মানইজ্জত থাকলো না। আমার পাশে কাকে দেখব এখন! আলু পটল ব্যবসায়ীকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়েছে। সর্বোচ্চ পরিষদ এখানে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও অভিজ্ঞদের মূল্যায়ন করা উচিৎ ছিল।

এরই মধ্যে এই গণপ্রমোশনের প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রমোশনের চিঠি ইস্যুর ঘণ্টা খানেকের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন নারায়নগঞ্জ-৩ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা। যদিও তিনি বিষয়টি খোলাশা করেননি।

জাতীয় পার্টির আগে প্রতিষ্ঠিত হয় যুব ও ছাত্র সংগঠন। সেই নতুন বাংলা ছাত্র সমাজের নারায়নগঞ্জ জেলার সভাপতি ছিলেন লিয়াকত হোসেন খোকা। পরে জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় কমিটি ও যুব সংহতির শীর্ষপদে দায়িত্ব পালন করেন। তার এই পদত্যাগের বিষয়টি টক অব দ্য পার্টিতে পরিণত হয়েছে।

লিয়াকত হোসেন খোকা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ত্যাগী নেতাকর্মীদের যথাযথ মুল্যয়ন করা উচিৎ। আরও স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রমোশন দেওয়া উচিৎ ছিল। স্যারের (হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ) এই অসুস্থতার সুযোগ একটি চক্র দলটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

প্রমোশনের সঙ্গে পদত্যাগ সম্পর্কিত কি-না, জানতে চাইলে জবাবে সরাসরি হ্যাঁ বা না, কোনটাই বলেননি তিনি। বলেছেন, পার্টিতে যা হচ্ছে তাতে অনেকের মতো আমিও হতাশ। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা প্রভাব পড়বে। ভোটের আগে থেকেই, যেভাবে দলটাকে এগিয়ে নেওয়া উচিৎ ছিল, সেভাবে হয়নি। অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাজোট থেকে আমাদের ৪০-৪৫টি আসন পাওয়ার কথা। কিন্তু কেন পেলাম না।

দলের যুব বিষয়ক যুগ্ম সম্পাদক আবু সাঈদ স্বপন সন্ধ্যার পর পদত্যাগ করেন। অসম প্রমোশনের কারণে এই পদত্যাগ বলে বার্তা২৪.কমকে জানান তিনি। বলেন, ‘দেখেন কাদের প্রমোশন দেওয়া হয়েছে! আরতো মেনে নেওয়া যায় না। আরও অনেকে পদত্যাগের লাইনে আছে।’

এছাড়া যুব বিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেনও পদত্যাগ করেছেন।

নেতাকর্মীরা বলেছেন, জাতীয় পার্টির ভেতরে গণতন্ত্র বলতে কিছুই নেই, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কথাই শেষ কথা। তিনি যখন যাকে খুশি শোকজ-বহিষ্কার করেন, যখন যাকে খুশি প্রমোশন দেন।

গঠনতন্ত্রে সেই পদ থাকুক আর নাই থাকুক, তাতেও কিছুই যায় আসে না। একই ব্যক্তিকে এক মাসের ব্যবধানে দু’বার প্রমোশন দিয়েছেন এরশাদ। পার্টিতে যোগদানের আগেই সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে, এমন হাস্যকর নজিরও রয়েছে জাপায়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রেসিডিয়ামের সভায় ৪১ জন সদস্য রাখার বিধান রয়েছে। গত নির্বাচনের আগে পরে পাঁচজনকে প্রমোশন দিয়ে প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়। নতুন করে আটজনকে প্রমোশন দেওয়ায় এখন সদস্য সংখ্যা হলো ৫৪ জনে।

অবশ্য পার্টির গঠনতন্ত্রে এরশাদকে অনেকটাই স্বেচ্ছাচারী ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ২০ এর উপধারা (১) বলা হয়েছে, ‘গঠনতন্ত্রের অন্যধারায় যাহাই উল্লেখ থাকুক না কেন-জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বিশেষ ক্ষমতাপ্রাপ্ত থাকবেন। এ ক্ষমতাবলে তিনি প্রয়োজন বোধে প্রতিটি স্তরের কমিটি গঠন, পুনর্গঠন, বাতিল, বিলোপ করতে পারবেন। তিনি যেকোনো পদ সৃষ্টি বা অবলুপ্ত করতে পারবেন। চেয়ারম্যান জাতীয় পার্টির যেকোনো পদে যেকোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ, যেকোনো পদ থেকে যেকোনো ব্যক্তিকে অপসারণ ও যেকোনো ব্যক্তিকে তার স্থলাভিষিক্ত করতে পারবেন।’

জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান করা হয় ২০১৬ সালে জানুয়ারি মাসে। তখন গঠণতন্ত্রে এই পদ ছিলো না। রংপুরের এক জনসভায় ছোট ভাই জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন। এর অল্পদিনের মাথায় রওশন পন্থীদের চাপে রওশনকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করা হয়। সেই পদও কিন্তু গণতন্ত্র মোতাবেক ছিলো না। পরে কাউন্সিলে (১৪ মে, ২০১৬) গঠনতন্ত্রের সংশোধনী এনে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ সংযোজন করা হয়।

জাপায় কখন কার প্রমোশন হয়, আর কখন কাকে বহিষ্কার করা হয় তারও কোনো ঠিক ঠিকানা নেই। স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই জিএম কাদেরও এই শোকজের হাত থেকে রক্ষা পাননি। কাউন্সিলের বাইরে গিয়ে কয়েক বছরে তিন দফায় শুধু মহাসচিব পদেই রদবদল করেছেন।

প্রথমে হাওলাদারকে সরিয়ে জিয়াউদ্দিন বাবলুকে, পরে বাবলুকে সরিয়ে আবার হাওলাদার জাতীয় পার্টির মহাসচিব করেন। সর্বশেষ গত নির্বাচনের কয়েকদিন আগে হাওলাদারকে সরিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে মহাসচিব করেছেন। আবার হাওলাদারকে কয়েকদিনের মাথায় সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী করেছেন।

এরশাদের স্বেচ্ছাচারী এই মনোভাবের কারণে এখন বহুধাভাগে বিভক্ত জাপা। এরশাদের নেতৃত্বে ‍মূলধারা জাপাসহ জাতীয় পার্টি জেপি, বিজেপি ও জাতীয় পার্টি (জাফর) নামে চারটি ধারা সক্রিয়। দু’টি ধারা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে, দু’টি ধারা বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত রয়েছে। আবার অনেকে লাঙ্গল ছেড়ে ধানের শীষ ও নৌকার হাল ধরেছেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ শারীরিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। বয়সগত কারণে তার রাজনীতি সক্রিয় হওয়া বেশ কঠিন। এই মুহূর্তে এমন প্রমোশন পার্টিতে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ব্যাখ্যা দাবি করেন।  বৈঠক লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি হজ দলের সদস্য হয়েছেন। যে দলের প্রধান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন-সংবিধানকে একেবারেই তোয়াক্কা করে না। সংবিধানের আশে-পাশ দিয়েও যায় না এবং একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন।'

তিনি বলেন, 'সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোই নেই। সেখানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কোন আইনে, কোন ক্ষমতা বলে একটা হজ ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনার প্রদানের জন্যে হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন? চিন্তা করা যায় না তিনি এরকম কমিটিতে তিনি সৌদি আরব যাচ্ছেন। উনি যদি হজ করতে চাইতেন, তাহলে বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন।  এমন আত্মসন্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে, আর এরাই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তলিয়ে দিচ্ছেন।'

এ সময় বিএনপি মহাসচিব সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব, কর্মকাণ্ড ও হজ কমিটির গঠনের গ্যাজেটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে এবং একের পর এক জেলা বন্যা কবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা আমরা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে, তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। সাধারণত এরকম পরিস্থিতিতে যে উদ্যোগ-সহায়তা নেওয়ার কথা সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রী কোথাও ঘুরে আসেননি। সরকারের পদক্ষেপগুলো মানুষ দেখতে চায়। সরকারের দায়িত্ব বন্যা কবলিত মানুষকে রক্ষা করা, যেটা সরকার করছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন্যার্তদের সহায়তায় ২১ সদস্যের একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। ত্রাণ কমিটি খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করবে বরেও জানান ফখরুল।

ডেঙ্গু ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত নাকি কিছুই হয় নাই। ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারির নিচে রাখছেন। বড়রা মোজা পরে থাকেন-কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোন উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি, এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ দেখতে পাইনি, এটাই বাস্তবতা।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র