Barta24

মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি: জিএম কাদের

কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি: জিএম কাদের
সবার মাঝে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, ছবি: বার্তা২৪
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেছেন, আমি কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি, জাপার সেবা করার জন্য এসেছি। এককভাবে দল চালাতে চাই না,সবার মতামতের ভিত্তিতে জাপাকে এগিয়ে নিতে চাই।

সোমবার (৬ মে) জাপার বনানী কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। জিএম কাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

জিএম কাদের বলেন, ‘যারা ত্যাগ স্বীকার করে এই ধরণের মানুষগুলোকে নিয়ে দল চালাতে চাই। হঠাৎ করে কেউ এলো, দলে বড় পদ দেওয়া হলো। আমি মনে করি এটা দেশ ও দলের জন্য মঙ্গল হতে পারে না। অনেক ক্ষেত্রে যেটা লক্ষ্য করেছি। কিন্তু বিশেষ সময়ে বিশেষ কিছু হতে পারে। এটা প্রচলিত নিয়ম হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসার মতো হয়েছে, অনেকটা জমিদারীর মতো বংশ পরম্পরে। আমি কিন্তু সেভাবে দেখি না। বড় জায়গায় যাওয়া মানে মানুষের জন্য ততবেশি কাজ করার সুযোগ। ততবেশি সেবা করার সুযোগ। আমি রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে চাই। ত্যাগ স্বীকার মানসিকতা নিয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে।'

জিএম কাদের বলেন, 'পরিবার থেকে নেতৃত্ব আসা আমাদের দেশের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। আমার বিশ্বাস অনেকে আমাকে পছন্দ করে, আমার গুণাগুণের কারণে আমাকে নেতৃত্বে দেখতে চায়। আমিও দলের স্বার্থে কাজ করে যাব। সঠিকভাবে দল চালানোর জন্য আপনারদের সঙ্গে আলোচনা করব।'

জিএম কাদের বলেন, 'আমি জাপার দুঃসময়ে ১৯৯০ সালে রাজনীতিতে এসেছি। তখন আমার ভাই পার্টির চেয়ারম্যান জেলে ছিলেন। অনেক প্রতিকূল অবস্থায় রাজনীতি করেছি। আমার মন্ত্রণালয় চালানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। জাতীয় পার্টিকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এসেছি।'

জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, ‘কোথায় থেকে কি হয়েছে, কোথায় পয়সা এসেছে, মহাসচিবের খুব বেশি ভূমিকা পালনের সুযোগ ছিলনা। পার্টির চেয়ারম্যান সিদ্ধান্তে একমত আছি। নিজেদের মধ্যে কানামাছি খেলার সুযোগ নেই।’

আগামীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হতে পারে জাপা। সম্ভাবনাময় দল হচ্ছে জাপা। আমাদের কোনো বিতর্ক থাকলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করব। কিন্তু এরশাদের সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। কাউকে বাদ দিয়ে নয় সবাইকে নিয়ে দল করতে হবে বলে মন্তব্য করেন রাঙ্গা।

জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় একদিন হাজত খাটতে হয়েছে। হাজত মানে কারাগার নয়, ধরেন আমাকে বলা হলো এখানে বসে থাকতে হবে। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে যেতে হয়েছে।’

প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘জাপার নেতাকর্মীরা এরশাদের সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমার বিশ্বাস জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ বেশি শক্তিশালী হবে। সে কারণে অন্যকিছু ভাববার সুযোগ নেই।’

যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটনের সভাপতির বক্তব্যে বলেন, ‘যারা পার্টির সাইনবোর্ড বিক্রি করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার সময় এসেছে। হঠাৎ এসে একটা লোক প্রেসিডিয়াম সদস্য হবে, হঠাৎ এমপি হবে এটা ঠেকাতে হবে।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সরদার শাজাহান, উপদেষ্টা নাজমা আক্তার, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, কেন্দ্রীয় নেতা সোলায়মার সানি প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন

জিএম কাদের জাপা’র চেয়ারম্যান নন: রওশন
জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান নন বলে বিবৃতি দিয়েছেন রওশন এরশাদ সহ দলের কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য। সোমবার (২২ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এই দাবি করেন তারা।

বিবৃতিতে বলা হয়, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বেশিরভাগ প্রেসিডিয়াম সদস্যের মতামত না নিয়ে তাকে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি এই পদে থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন।  

বিবৃতির বিষয়টি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে নিশ্চিত করেছেন পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম।

বিবৃতিতে রওশন এরশাদ সহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, জিএম কাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আছেন। তিনি দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু হুট করে আলাপ-আলোচনা ছাড়া তাকে নতুন চেয়ারম্যান ঘোষণা হঠকারিতা। কারণ, তাকে জাপার চেয়ারম্যান করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় জিএম কাদের জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে নতুন চেয়ারম্যানের ঘোষণা থেকে বিরত থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি রওশনপন্থি নেতারা আহ্বান জানান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান ঘোষণার পর থেকেই বনানীতে অবস্থিত জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে এরশাদের নির্ধারিত কক্ষে বসতে দেখা গেছে জিএম কাদেরকে। তিনি সে সময় উপস্থিত প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

জাতীয় পার্টির ভেতরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব অনেক পুরনো। গত ১৬ জানুয়ারি জিএম কাদেরকে নিজের অবর্তমানে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন এরশাদ। পরবর্তীতে ২২ মার্চ আরেক সাংগঠনিক নির্দেশনায় ১৬ জানুয়ারির নির্দেশনা বাতিল করেন তিনি নিজেই।

JAPA

এরপর কাদেরকে বহালে আন্দোলনে নামেন রংপুরের নেতারা। অনেকটা বাধ্য হয়ে ২২ মার্চের নির্দেশনা বাতিল করে কাদেরকে পুনর্বহাল করেন এরশাদ। নতুন নির্দেশনার পর থেকে এরশাদের অবর্তমানে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব জিএম কাদের পালন করে আসছিলেন।

জিএম কাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত বাতিলের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ২২ মার্চ যে সাংগঠনিক নির্দেশ দিয়েছিলাম সোমবারের চিঠির মাধ্যমে আগের আদেশটি বাতিল ঘোষণা করছি।

জিএম কাদেরকে ব্যর্থ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কো-চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরদিন ২৩ মার্চ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বিরোধী দলীয় উপনেতা ঘোষণা করা হয় রওশন এরশাদকে।

গঠনতন্ত্রে পদ না থাকলেও ২০১৬ সালে জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যান ঘোষণা করেছিলেন এরশাদ। এরপর রওশনপন্থিদের চাপে রওশন এরশাদকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান করেছিলেন তিনি।

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র

ছেলেধরা গুজব ও গণপিটুনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
প্রতীকী

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মত দেশব্যাপী আবারও নতুন কোন অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সরকার বিরোধীরা বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

দলের একাধিক শীর্ষ নেতা বার্তাটোয়ন্টিফোর.কমকে বলেন, সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিএনপি-জামায়াত জোটের কাছে বর্তমানে বড় কোন ইস্যু নেই। তাই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের মেগা প্রকল্প জড়িয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য মেগা প্রকল্পকে ঘিরে গুজব ছড়ানোর ষড়যন্ত্র চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গুজব রটিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে ছেলেধরা গুজব যারা ছড়াচ্ছে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে বলেও অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য বলেন, পদ্মাসেতুতে মাথা লাগবে বলে ফেসবুকে যারা গুজব ছড়িয়েছে তারা কোন সাধারণ নাগরিক নয়। এদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো বিএনপি-জামায়াত চক্র সরকারি মেগা প্রকল্পগুলো ঘিরে গুজব ছড়াতে শুরু করেছে। এই চক্রটি আবার ছেলেধরা আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে দিয়ে গণপিটুনির নামে নিরীহ মানুষকে খুন করাচ্ছে।

যোগাযোগ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, দেশের চলমান ধারাবাহিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিপাকে ফেলতে বিরোধী ষড়যন্ত্রকারী চক্র নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ষড়যন্ত্রের নতুন জাল বিস্তার শুরু করেছে। এরা আবারও দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়।

এই পর্যন্ত গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে যত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে তার প্রত্যেকটির তদন্ত হয়েছে। জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এদের ইন্ধনদাতা বা সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করা হবে বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, গুজব ছড়িয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রদোহের শামিল। তাছাড়া গণপিটুনির নামে কাউকে হত্যা গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। যারা এসব গুজব ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ রক্ষা পাবে না।

সন্দেহের তালিকায় কারা আছে, এ প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গোয়ন্দা সংস্থার সদস্যরা তদন্ত করছেন সময়মত সব জানানো হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সোমবার (২২ জুলাই) নেত্রকোনায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশজুড়ে ছেলেধরা গুজবে মানুষকে যেভাবে পেটানো হচ্ছে তা আইনের মধ্যে পড়ে না। আপনারা জানেন যে, পদ্মা সেতুতে মাথা চাই—এমন গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আর এ গুজবের ওপর ভিত্তি করেই এসব ঘটনা ঘটছে।

আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন। তা না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে মানুষের মাথা লাগবে বলে সম্প্রতি ফেসবুকে গুজব রটানো হয়। এর পরই নেত্রকোনা শহরে এক যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করে এক শিশুর মাথা পাওয়ার পর তাকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলা হয়।

এর পরই ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে ছেলেধরা আতঙ্ক ও গণপিটুনি। এই গুজবে গত চারদিনে প্রাণ গেছে অন্তত পাঁচজনের এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যেই পুলিশের সব ইউনিটকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র