Barta24

মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ৫ ভাদ্র ১৪২৬

English

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে বিএনপি?

উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে বিএনপি?
জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দিকভ্রান্ত, পথহারা উটের দশা হয়েছে বিএনপির। বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল বিএনপি তার জন্মের পর এতোটা অসহায় আর কখনোই হয়নি। কে চালাচ্ছে বিএনপি? কোন নীতিতে চলছে দল? কে কাকে মানছে? এসব প্রশ্নের সদুত্তর পাচ্ছে না দলের লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থক।

একের পর এক দ্বিধা ও দোদুল্যমানতা নিয়ে বিএনপি এসে দাঁড়িয়ে খাদের কিনারে। পুতুলের মতো লক্ষ লক্ষ কর্মী-সমর্থক তাকিয়ে আছে এক অদৃশ্য শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে। যে নেতৃত্ব ঢাকায় অবস্থানকারী বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের কাছেও অস্পষ্ট ও অধরা।

দলের কোনও কোনও নেতার পক্ষ থেকে বলা হলো, ‘তারেকের কথায় বিএনপি চলে না।’ আবার আরেক দলের মুখ দিয়ে বলানো হলো ‘তারেকের কথাতেই বিএনপি চলে'। ‘তারেকের কথাতেই সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়ে অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন।’ সেই যোগদানে সবাই এলেও এলেন না মহাসচিব মির্জা ফখরুল! তিনি তবে কার কথায় চলছেন?

শুধু শপথ বা সংসদে যোগদান প্রসঙ্গেই নয়, সামান্য যে কোনও বিষয়েও বিএনপিতে ঐক্য নেই, পরিষ্কার কর্মসূচি নেই, সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই। এখন ‘এইমত’ তো তখন ‘আরেক মত’ গ্রহণ করে বিএনপি অসংখ্য নেতা-কর্মী-সমর্থকদের চরম হতাশা ও দিকভ্রষ্টতার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। মনে হচ্ছে, রাজনীতির কঠিন পথ নয়, বিএনপি চলছে বিনোদনের পুতুলনাচের পুতুলের মতো। অদৃশ্য সুতার টানে এলোমেলো নেচেই যাচ্ছে দলটি।

দলের চরম হতাশাজনক পরিস্থিতি সম্পর্কে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একজন বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বিএনপির দুরবস্থার জন্য আমরা সরকারকে দোষ দিই। কিন্তু নিজেদের অযোগ্যতার জন্য কোনও আত্ম-সমালোচনা করতে পারি না। জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত ও বহুবার ক্ষমতায় থাকা দলটি আদর্শহীন হওয়ার পেছনে কে দায়ী? অযোগ্য নেতৃত্বের বোঝা বৃদ্ধি করার দায়িত্ব কার? এসব প্রশ্নের উত্তর একদিন দিতে হবে।'

তবে এই বুদ্ধিজীবী মনে করেন, 'হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দেওয়ার কিছু নেই। যদি বিএনপি বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুধাবন করে পদক্ষেপ নিতে পারে, তবে অচিরেই দলটি মাথা তুলে দাঁড়াবে।'

‍কিন্তু তিনি এ সংশয়ও প্রকাশ করেন যে, 'তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কহীন, বাক্যবাগীশ ও অবিশ্বস্ত নেতাদের দিয়ে যে কাজের কাজ হবে না, লন্ডনে অবস্থান করে দলের বর্তমান শীর্ষ নেতা তারেক রহমান তা বুঝতে পারছেন না।'

ঢাবির এই শিক্ষক আশঙ্কা প্রকাশ করেন, 'তারেক রহমানের কথাকে দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা সুবিধাবাদী মহল নিজ নিজ স্বার্থে ভুলভাবে তুলে ধরছে। কিংবা তাকে ভুল ধারণা দিয়ে বিপথে চালানো হচ্ছে। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এসব সমস্যার সমাধান করা না হলে বিএনপির অচলাবস্থা ও দিকভ্রান্তি চলতেই থাকবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন

জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন
জাতীয় পার্টির পতাকা

জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম বেগবান ও গতিশীল করতে পৃথক বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংগঠনিক আদেশে এসব টিমের অনুমোদন দিয়েছেন।

টিমগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগের অন্তর্গত সব জেলা সফর করে জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, বেগবান ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ভূমিকা পালন করবে।

কমিটির কার্যভার গ্রহণের এক মাসের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যাদি সম্পন্ন করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার সাংগঠনিক অবস্থান অবগত করবে কেন্দ্রকে। এ ছাড়া জেলা-উপজেলা পর্যায়ে পার্টির গ্রুপিং নিরসনকে মুখ্য দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা বিভাগীয় টিম
ঢাকা বিভাগের কমিটির আহ্বায়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক ভিপি আলমগীর সিকদার লোটন। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, শফিকুল ইসলাম সেন্টু, ভাইস চেয়ারম্যান জহিরুল আলম রুবেল।

রাজশাহী বিভাগীয় টিম
প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. শেখ সিরাজুল ইসলামকে আহ্বায়ক, সদস্য সচিব করা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রশিদ সরকারকে। এ টিমের সদস্যরা হলেন—ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান আহসান আদেলুর রহমান এমপি, যুগ্ম মহাসচিব এস.এম. ইয়াসির।

বরিশাল বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক করা হয়েছে লঞ্চ মালিক সমিতির নেতা প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এমরান হোসেন মিয়া। সদস্যরা হলেন—নাসরিন জাহান রতনা এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মহাসিনুল ইসলাম হাবুল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফখরুল আহসান শাহজাদা।

রংপুর বিভাগীয় টিম
জাপার দুর্গখ্যাত এই বিভাগের টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের সন্তান প্রেসিডিয়াম সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মো. আজম খান। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, প্রেসিডিয়াম সদস্য শিল্পপতি এস এম ফখর উজ জামান জাহাঙ্গীর, কেন্দ্রীয় সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদ এমপি।

খুলনা বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা, সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভ রায়। সদস্যরা হলেন—প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ দিদার বখ্ত, উপদেষ্টা হাসান সিরাজ সুজা, যুগ্ম মহাসচিব মনিরুল ইসলাম মিলন।

সিলেট বিভাগীয় টিম
আহ্বায়ক করা হয়েছে প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপিকে। সদস্য সচিব প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশীদ, সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, নির্বাহী সদস্য পীর ফজলুর রহমান মেজবাহ এমপি।

অন্যান্য সব বিভাগে সাংগঠনিক টিম ঘোষণা দেওয়া হলেও চট্টগ্রাম বিভাগের টিম ঘোষণা দেওয়া হয়নি। গত জুনের শেষ সপ্তাহে জাতীয় পার্টির বিভাগীয় সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বেশির ভাগ নেতা সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠনের প্রস্তাব দেন। নেতারা তখন অনেকেই পার্টির তৃণমূলের নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলেন। তারা বলেছিলেন, ‘হায়ার ফায়ারে পার্টি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা টাকা শ্রম দিয়ে দল পরিচালনা করি। আর ভোটের সময় নেতা হায়ার করে প্রার্থী করা হয়। আমরা চাই এখনই প্রার্থী চুড়ান্ত করে দেওয়া হোক। তারা তাদের নির্বাচনী এলাকায় দলকে সংগঠিত করবে।’

ওই সভাতেই পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সাংগঠনিক টিম গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মাঝে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যূতে বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। যারা পার্টির নির্দেশনা না মেনে সভায় অনুপস্থিত আছেন তাদের বিরুদ্ধে ওই সভায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যৌক্তিক কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হবে বলেও হুঁশিয়ার করা হয়। কিন্তু সেই ঘোষণা ঘোষণাই থেকে যায়। এমনকি সভায় অনুপস্থিত একাধিক নেতা সাংগঠনিক টিমের দায়িত্ব পেয়েছেন।

দেশে কি কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন দুদুর

দেশে কি কোনো সরকার আছে, প্রশ্ন দুদুর
প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন শামসুজ্জামান দুদু, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, চামড়া শিল্পের বিপর্যয়ের পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দেশে কোনো সরকার আছে কিনা? প্রধানমন্ত্রী আছে কি নেই? সরকার আছে কি নেই? এটা একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে সরকার থাকলে চামড়া শিল্পের এমন বিপর্যয় হতো না। 

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'আমার দেশ আমার শিল্প' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টার (এনআরসি) নামে একটি সংগঠন।

সভায় দুদু আরও বলেন, 'দেশে সরকার থাকলে তো ডেঙ্গুতে এতো মানুষের মৃত্যু হতো না? ব্যাংকের টাকা চুরি হওয়ার কথা না। সরকার প্রধান থাকলে নিশ্চয়ই একটি তদারকির ব্যবস্থা করতেন।'

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566293116575.jpg

 

ছাত্রদলের সাবেক এ নেতা বলেন, '৭১ সালে যে দেশ রক্ত দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, সেই দেশটা একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এখন দেশে আইন-শৃঙ্খলা বলতে আর কিছু নেই। দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর মানুষ এখন আস্থাহীন। স্বাস্থ্য খাত এখন বিলুপ্তির পথে। ডেঙ্গুতে এখন শুধু ঢাকাতে নয় সারা দেশের মানুষ অসহায়। কখন সে মৃত্যুবরণ করবে সে নিজেও জানে না। চামড়া শিল্প এখন মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন। এতটা বিপর্যয় বাংলাদেশ এর আগে কখনো দেখা যায়নি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ের এতিম অসহায় শিশুরা।

আয়োজক সংগঠনের পরিচালক বাবুল তালুকদারের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ডি এম আমিরুল ইসলাম অমরের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুক ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র