Alexa

কী আছে ফখরুলের ভাগ্যে?

কী আছে ফখরুলের ভাগ্যে?

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পুরনো ছবি

বহু সমীকরণের হিসাব নিকাশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর হিসাবের খাতা খালি দেখে বাগড়ে বসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। নির্বাচন প্রত্যাখান করে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রামের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন মোর্চাটির নেতারা। নির্বাচনে তাদের মাত্র আটজন বিজয়ী হন। এর মধ্যে গণফোরামের দুইজন এবং বিএনপির ছয়জন।

সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না, এই গো ধরে সাংবিধানিক সময় সীমার শেষ পর্যন্ত বসেছিলেন বিএনপির বিজয়ীরা। অবশেষে সোমবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটে। বিএনপি মহাসচিব বাদে বাকি সবাই শপথ নেন।

এখন কথা হচ্ছে- ৯০ দিন তো শেষ, তাহলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কী হবে? এ নিয়ে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে সর্বমহলে আলোচনা শুরু। তাহলে কি বগুড়া-৬ আসনে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে? না-কি স্পিকারের কাছে সময় চেয়ে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল।

সংবিধানের ৬৭ অনুচ্ছেদের ১ (ক) বিধি অনুযায়ী সদস্যদের আসন শূণ্য হওয়ার বিষয়ে বলা আছে- কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে, যদি তার নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে তিনি তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করতে ও শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করতে অসমর্থ হন। তবে শর্ত থাকে যে- অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার আগে স্পিকার যথার্থ কারণে তা বাড়াতে পারবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/30/1556608915026.jpg

তবে সেই যথার্থ কারণটা কী, সেটা সংবিধানে কোথাও উল্লেখ নেই। অর্থাৎ ধরেই নেওয়া যায়, স্পিকারের একক ক্ষমতাবলে যে সময়টুক দেবেন, সেটুকই পাবেন ওই সদস্য।

একাদশ সংসদ গঠনের পর প্রথম অধিবেশন শুরু হয় ৩০ জানুয়ারি। সেই হিসেবে ২৯ এপ্রিল ছিল ৯০ দিনের সময়সীমা। সেই সময়ের ভেতর যেহেতু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শপথ গ্রহণ করেননি, কাজেই বিধান অনুযায়ী- তার আসনটি নিয়ে ধুম্রজাল দেখা দিয়েছে।

যখন কোনো সদস্য শপথ গ্রহণ করেন না, তখন সংসদ সচিবালয় স্পিকারের অনুমতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেন- অমুক সদস্য শপথ নেননি। পরে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। সেক্ষত্রে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে পুনরায় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেন। যেহেতু শপথ নেননি, তাই আসনটি শূন্যও বলা যায় না। ওখানে পুনরায় ভোট করার সুযোগ থাকে।

সংবিধানের বিধানগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, বগুড়া-৬ আসনে পুনঃভোটের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও আলোচনা আছে. বিএনপি মহাসচিব ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় স্পিকারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংসদ সচিবালয়ে কোনো চিঠি পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। কাজেই মির্জা ফখরুলের ভাগ্যে আসলে কী আছে, সেটা স্পিকার এবং তিনিই জানেন।

আরও পড়ুন: কার নির্দেশে শপথ নিলেন না ফখরুল?

আপনার মতামত লিখুন :