Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

বিএনপির সংসদে যাওয়ার কারণ জানালেন ফখরুল

বিএনপির সংসদে যাওয়ার কারণ জানালেন ফখরুল
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর / ছবি: বার্তা২৪
শিহাবুল ইসলাম স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

সব জল্পনা কল্পনা শেষে সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সংসদ ভবনে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত চারজন প্রার্থী। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে (এমপি) তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। তবে শপথ নেননি দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শপথ নেওয়া বিএনপির এই চারজন হলেন- বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে শপথ নিয়েছেন। যদিও পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির সংসদে যাওয়ার বিষয়ে সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে একা সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশেই তারা শপথ নিয়েছেন। কথা বলার যে সীমিত সুযোগ আছে, তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে গেছেন। যা সরকারের বৈধতা দেওয়া নয়।’

তবে তিনি কবে সংসদে যোগ দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘অপেক্ষা করুন জানতে পারবেন।’

সংসদ সদস্য হিসবে শপথ নেওয়ার আজকেই শেষ দিন হওয়ায় আপনি সময় চেয়ে স্পিকারের কাছে আবেদন করেছেন কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, ‘আমি তো বললাম সময় আসুক জানতে পারবেন। আমি কী করেছি না করেছি আপনারা সময় হলেই জানতে পারবেন।’

সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বৈধতা দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না। আমরা স্পষ্ট করে বলেছি যে, আমাদের কথা বলার সীমিত যে সুযোগ আছে, তার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে সংসদে যাচ্ছি। আমরা এই সংসদ বৈধতা দিচ্ছি না। আমরা শুধু ব্যবহার করছি গণতান্ত্রিক স্পেসটুকু। কারণ, প্রথমটি গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে এবং দ্বিতীয়টা কৌশলগত কারণে। আমরা দলের সর্বস্তরে নেতা-কর্মী ও বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘পলিটিক্সে আজকে যেটা হবে, কালকে সেটা হবে এমন তো মানে নেই। আমি বলেছি যে, অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন তো করতে হতে পারে, সেটাই পলিটিক্স। আমাদের যেটার প্রয়োজন দলের জন্য, রাজনীতির জন্য, দেশের জন্যে, আমরা সেটাই করছি।’

কোনো চাপে সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না কোনো চাপে নয়।’

সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় আপনারা সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি-না এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘সমঝোতার প্রশ্ন কোথায় দেখলেন আপনারা। আমরা বলছি যে, সংসদের ভেতরে ও বাইরে দুইখানে আমরা খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসা, পুনরায় নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়ে যেতে চাই। সংসদ এমন একটা জায়গা, যেখানে একটা স্পেস আছে টিল-টুডে। যেখানে কিছু কথা বলা যায়। সেই কথা বলার জন্য আমাদের যারা নির্বাচিত তারা শপথ নিয়েছেন।’

বিকেলে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সরকারের চাপে শপথ গ্রহণ করেছেন এমপিরা।’

এ বিষয়ে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা শপথ গ্রহণের আগের বক্তব্য ছিল।’

তাহলে কী আপনাদের ওপর কোনো চাপ নেই? জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমরা মহাচাপে আছি। গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, আমাদের কথা বলতে দেওয়া হয় না। এই চাপ তো আছেই। আমাদের নেত্রী জেলে। এসব সরকারের চাপ নয় কী?’

ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাংসদ জাহিদুর রহমান দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে শপথ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখন কি তার বহিষ্কারদেশ প্রত্যাহার করা হবে এমন প্রশ্নে ফখরুল বলেন, ‘সেটা সময় মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন: শপথ নিলেন ফখরুল বাদে বিএনপির বাকিরা

আরও পড়ুন: সংসদ অধিবেশনে যোগ দিলেন বিএনপির ৫ এমপি

আরও পড়ুন: তারেকের নির্দেশেই বিএনপির এমপিরা শপথ নিয়েছেন: ফখরুল

আপনার মতামত লিখুন :

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির মহানগর কমিটি অনুমোদন

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির মহানগর কমিটি অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত

জহিরুল ইসলাম মিন্টুকে আহ্বায়ক ও রবিউল ইসলাম রিপনকে সদস্য সচিব করে জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি ঢাকা মহানগর উত্তরের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টির সভাপতি মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল খানের সুপারিশক্রমে ওই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কমিটিতে যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন এএকেএম দেলোয়ার হোসেন (আশিক খান), জেসমিন কামাল, তামান্না হক।

সদস্য করা হয়েছে- মো. সাজিউল ইসলাম রকি, এসআই শফিক, অ্যাডভোকেট আইরিন পারভীন মনিশা, আবুল কালাম আজাদ, রেনু খান, আমির হোসেন খান, সাইফুল্লা জামান চৌধুরী, লেহাজ উদ্দিন, শাহজাহাল সরকার, সোনিয়া সরকার, আবুল দেওয়ান, শাহারিয়া সরকার, সাদ্দামুল ইসলাম ড্যানি, শেখ মামুন, আরিফ আহম্মেদ, ফুল বক্স, আব্দুস ছামাদ, গিয়াস উদ্দিন, আব্দুল হাদী।

এছাড়া আরও আছেন- সামছুন্নাহার বেগম, নিলুফা ইয়াসমিন নিলা, ডা. খলিলুর রহমান, মাসুদুর রহমান, মো. লিটন, মাফাতুল্লাহ, জনি আকন্দ, মামুন হোসেন, সুজন সাধক, আনিসুর রহমান, শাহিনুর আলম, আমিনুল ইসলাম, মোঃ স্বপন, কিসমত আলী, রোকেয়া কেয়া, শ্রীমতি লক্ষ্মী রানী রায়, ইয়াসমিন সুলতানা রকু, মোঃ কামাল হাসেন, শিশির হোসেন, আরিফ হোসেন, সবুজ সরকার, অনামিকা ভট্টাচার্য, হেলাল উদ্দিন, সৈয়কত মাহমুদ, সোনিয়া আক্তার, নুরুল ইসলাম, ধনিরাম বাবু।

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দলগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন। বৈঠতে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ঈদের আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে জামিনের বিষয়টা এসছিল হাইকোর্টে, সেখানে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর থেকেই আমাদের ধারণা দৃঢ় হয়েছে যে, বিচার বিভাগ স্বাভাবিক বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সে ক্ষেত্রে আইনিভাবে এটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে যে, আমরা ন্যায়বিচার পাব কিনা!

তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে এবং তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে, আমরা তাদের অবহিত করব এবং অন্যায়ভাবে যে খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে—সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে ব্যাপক ধস নামা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতায় এ রকম হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনও বিদেশ থেকে ওষুধ আসেনি দাবি করে রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ইকবাল ও হাসান মাহমুদ টুকু।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র