Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

বগুড়ায় বিএনপির পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা

বগুড়ায় বিএনপির পাল্টাপাল্টি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
বগুড়ায় সন্ধ্যায় ঘোষিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবুর রহমান ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বগুড়া
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় পাল্টা আর একটি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছেন জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাল্টা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সাংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।

সোমবার সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের রিয়াজ কাজী লেনে সাবেক সাংসদ হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর বাসভবনে পরামর্শ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। হেলালুজ্জামান ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমানকে।

এছাড়াও এই কমিটির অপর চারজন যুগ্ম-আহ্বায়করা হচ্ছেন ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, আলী আজগর তালুকদার হেনা এবং ডা. শাহ মো. শাজাহান আলী।

আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণাকালে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, কেন্দ্র কমিটি থেকে নির্দেশনা ছিল জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের।কিন্তু সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে জেলা বিএনপি অফিসে সাধারণ সভা করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। এ কারণে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের নিয়ে পরামর্শ সভা করে প্রস্তাবিত কমিটি ঘোষণা দেয়া হলো।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত পাঁচ সদস্যের এই কমিটি ঢাকায় পাঠানো হবে। কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ যেভাবে নির্দেশনা দেবেন সেভাবেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। সভায় পাল্টা কমিটির আহ্বায়ক একেএম মাহবুবর রহমান ছাড়া অপর চারজন যুগ্ম আহ্বায়ক উপস্থিত ছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/29/1556548772566.jpg

এদিকে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপি কার্যালয়ে সাধারণ সভার মাধ্যমে আট বছর আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে পূর্বের কমিটির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁনকে যুগ্ম-আহ্বায়ক করে ৪৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। দুপুরে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় পাল্টা ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

সোমবার দুপুরে ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক ভিপি সাইফুল ইসলাম বার্তা ২৪.কমকে বলেন, জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সাধারণ সভার মাধ্যমে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পর আর কোনো কমিটি ঘোষণার সুযোগ নাই।

তিনি বলেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী, তাকে মুক্ত করতে আন্দোলনের বিকল্প নাই। এমন সময় বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

 আরও পড়ুন:>> ৮ বছর পর বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি

আপনার মতামত লিখুন :

শেখ হাসিনার মতো প্রাপ্তি আর নেই: আমু

শেখ হাসিনার মতো প্রাপ্তি আর নেই: আমু
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, ছবি: বার্তা২৪

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও জাদুকরী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়া দেখে বিশ্ব নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তিনি ধাপে ধাপে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচক্ষণতায় দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি বাংলার কারও নেই।’

এমন অগ্রযাত্রাকে ধারাবাহিক রুপ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র ধরা দিয়েছে। বিশাল জনসংখ্যার দেশে অল্প সময়ে জীবন মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অনেক দেশ ব্যর্থ হয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হবে এমনটা কেউ চিন্তা করেনি, নতুন নতুন শিল্প অঞ্চলের পরিকল্পনা কারও মাথায় আসেনি। প্রধানমন্ত্রী কেবল স্বপ্ন দেখাননি, তিনি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বরাবরই অগ্রযাত্রাকে থামানোর অপপ্রয়াস হয়েছে। সত্যিকারের নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশপ্রেমী হতে হবে। কেবল নিজের নয়, সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।’

দলে অনুপ্রেবশ ঠেকাতে আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘আমরা চাই দল সুসংগঠিত ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে। যে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে মনোবল ঠিক রেখে অভিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কোনো অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী দিয়ে দল ভারী হোক, দলের ভাবমূতি ক্ষুণ্ন হোক এমনটা মেনে নেওয়া হবে না। এদের চিহ্নিত করতে হবে।’


কেন্দ্রীয় কমিটির উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীরে বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। এ জন্যই বার বার আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের পায়তারা হয়েছে, চলছে। কিন্তু দলের প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের স্পৃহার কারণে দল মানুষের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি দল সংকট মুহূর্তে আসে তখনো নেতাকর্মীদের রাজপথে নামতে হবে।’

দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘এক সময় মুক্তিযোদ্ধারাও নিজের পরিচয় দিতে ভয় পেতেন। তার সন্তানদের ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। নাগরিকরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারতেন না। আওয়ামী লীগ সরকার থাকার কারণেই বিশ্ব ব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল রহমানের সঞ্চালনা ও সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ। আলোচনা সভা শেষে দলের বিভিন্ন সময় অবদান রাখা নেতাকর্মীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

জাপাকে তরুণরা গ্রহণ করছে না: জিএম কাদের

জাপাকে তরুণরা গ্রহণ করছে না: জিএম কাদের
ছবি: বার্তা২৪

জাতীয় পার্টিকে (জাপা) তরুণ সমাজ সেভাবে গ্রহণ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বুধবার (২৬ জুন) মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে জাপা’র সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, আজকের সভায় তরুণদের উপস্থিতি কম। তরুণরা আমাদের সেভাবে গ্রহণ করছে না। আমরা সেভাবে সংগঠিত করতে পারিনি। এমন কর্মসূচি দেব যাতে তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করতে পারি। এর নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণ সমাজকেই। দৃঢ় প্রত্যয় থাকলে সাহায্য পাওয়া যাবে, মানুষ গ্রহণ করবেই।

তিনি বলেন, বিএনপি থেকে অনেকে জাতীয় পার্টিতে আসতে চাইছেন। বিশেষ করে যারা জাতীয় পার্টি থেকে চলে গিয়েছিলেন, তারা ফিরতে চান। ফিরে তারা বড় পদ চাইতে পারে। দরকষাকষির বিষয় রয়েছে। তাদেরকে জায়গা দিতে হবে। তবে আমি জাতীয় পার্টিতে যারা ত্যাগী আছেন, যতদূর সম্ভব তাদের মূল্যায়ন করতে চাই।

জাপা নেতা বলেন, একজন বক্তৃতা দিয়েছেন হঠাৎ হঠাৎ কমিটি, প্রার্থী আবিষ্কার ও প্রার্থী বহিস্কার করা যাবে না। এই কথার মধ্যে সুর আছে যুক্তিও আছে। এটা পার্টির জন্য অনেক ক্ষতি করেছে। কথা দিচ্ছি আমি প্রার্থী আবিষ্কার ও বহিষ্কার করব না। কমিটি করা হবে তৃণমূলের সুপারিশ অনুযায়ী। কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না। আমি ভাড়া করা লোক দিয়ে লোকসমাগম দেখাতে চাই না। সেই রাজনীতি করব না।

গত নির্বাচনের আগে আমাদের অনেক নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি উঠেছে। আমি বলব- গত নির্বাচনে কেউ কেউ কনফিউজড ছিলেন, কোথাও মহাজোট হয়েছে, কোথাও উন্মুক্ত। এ কারণে বিভ্রান্তি ছিল, সেন্ট্রালের কন্ট্রোলিংয়ে সমস্যা ছিল। চেয়ারম্যান অসুস্থ ছিল, আমি কোনো দায়িত্বে ছিলাম না। এ কারণে বিষয়টি ছাড় দিতে হবে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, সব সময় পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেব। প্রার্থী যারা আছেন তাদের উৎসাহ দিতে চাই। রাজনীতি শিখতে গেলে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

সভায় বক্তৃতা দেওয়া নিয়ে বেশ কয়েক দফা হট্টগোল হয়। এর রেশ ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শুধু মানুষ থাকলেই হবে না, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকতে হবে। নেতৃত্বের প্রতি আস্থা থাকতে হবে এবং নির্দেশনা মানতে হবে। দলে শৃঙ্খলা রাখা দরকার ঐক্যের জন্য।

মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, একজন বক্তৃতা করতে ধরলে আপনারা হৈ চৈ করছেন। কেন রে ভাই! হৈ চৈ করেন! তিনি তো কথাই বলবে, আর তো কিছু না। শামসুল আলম বক্তৃতা দিয়েছেন, তা কি খুব বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি শ্রমিকের সংগঠন করি, সেখানে অনেক গোলমাল হয়, ট্যাঙ্ক-কামান ছাড়া সবই বের করে। এখানে তো কিছুই নেই।

রাঙ্গা বলেন, কথা দিচ্ছি রাস্তা-বাজারের লোক দিয়ে কারো পকেট কমিটি করতে দেওয়া হবে না। কার কতো ক্ষমতা আছে, কাউন্সিলে দেখাবেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা তারপর জেলা কমিটির কাউন্সিল হবে। কাউন্সিলর কারা হবেন, কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে। জেনুইন ছাড়া কেউ কমিটি করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আজকের সাংগঠনিক সভায় যাদের ডাকা হয়েছিল কিন্তু আসেনি, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোকজ করা হবে। নেতাকর্মীদের বলি, আপনারা অন্যায় করবেন না। আওয়ামী লীগের লোকজন যদি হয়রানি করে নির্যাতন করে আমরা প্রতিহত করব। আপনাদের পাশে দাঁড়াব, প্রয়োজনে হরতাল-অবরোধ পালন করা হবে।

বৈঠকে জেলা ও উপজেলার নেতারা সংসদে জাতীয় পার্টিকে প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের দাবি জানান। এক্ষেত্রে এমপিদের সামলোচনাও করেন অনেক নেতা।

আরও পড়ুন: এরশাদের অবর্তমানে জাপার কী হবে, জানালেন জিএম কাদের

আরও পড়ুন: ‘চিকিৎসা নেওয়ার পয়সা নেই এরশাদের’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র