Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘সংসদে যাবেন’ বিএনপির বিজয়ীরা?

‘সংসদে যাবেন’ বিএনপির বিজয়ীরা?
বিএনপি/ ছবি: সংগৃহীত
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিজয়ী সদস্যদের শপথ না নেওয়ার আগের সিদ্ধান্তেই রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এদিকে গত ৩০ ডিসেম্বরের এ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপির ছয় সদস্যের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমপি হিসেবে শপথ নিতে আগ্রহী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

শপথ নিতে আগ্রহীরা আরও কয়েকদিন দলের হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবেন। এরপরও যদি দল থেকে নেতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে, তখন নির্বাচিতদের কেউ কেউ শপথ নিতে পারেন।

এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে যে, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিনিময়ে বিএনপি সংসদে যাবে। আওয়ামী লীগের নেতারাও বলেছেন, খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি চাইলে সরকার তা বিবেচনা করবে।

গতকাল (সোমবার ২২ এপ্রিল) রাতে গুলশানে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে লন্ডন থেকে তারেক রহমানও স্কাইপিতে সংযুক্ত ছিলেন। সেখানে আলোচনার এক পর্যায়ে তারেক রহমানকে জানানো হয়, বিএনপি সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্তেই রয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো কথাই আসেনি। বিএনপি সংসদে যাবে না- এই সিদ্ধান্ততো আগেই নেওয়া আছে। আমাদের সেই সিদ্ধান্তের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আগের সিদ্ধান্তই বহাল আছে। তবে কথা উঠেছিল যে, কোনো কোনো এমপি ব্যক্তিগতভাবে কিছু মন্তব্য করছেন। সেটা করা উচিৎ না।’

অপর দিকে চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. হারুন উর রশীদ বলেন, 'এখনো পর্যন্ত দলের সিদ্ধান্ত সংসদে না যাওয়ার, এর পরেও দেখা যাক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী নেয়। কাল বা পরশু পর্যন্ত দেখি, কী অবস্থা হচ্ছে।’

এর পরও যদি দল থেকে বলে সংসদে যাওয়া যাবে না, তখন কী করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'তারপর না হলে তখন দেখা যাবে। কালকে বা পরশুদিনের খবর তো  আজকে বলা যায় না। এটা একার কোনো ব্যাপার না, আরও পাঁচ-ছয় জন আছেন, তারা কী করবেন সেটা তো বলতে পারছি না। কেউ একা সংসদে যোগ দিতেও পারে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে সবাই একসাথে কিছু করবো এটা বলা যাচ্ছে না।’

'খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে দরকষাকষি বাজে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে' আওয়ামী লীগের এক নেতার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, 'খালেদা জিয়া আপোষহীন নেত্রী হিসেবেই জনগণের নিকট প্রতিষ্ঠিত। তিনি কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি, কোনো স্বৈরাচারের কাছেই আত্মসমর্পণ করেননি।’

বিএনপির নেতারা বর্তমান সরকারকে ভোট ডাকাতি, বিনা ভোটের ও স্বৈরাচারী হিসেবে অভিহিত করে থাকে। এক্ষেত্রে যদি বিএনপি সংসদে যোগ দেয় তাহলে তাদের এই অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তিই থাকবে না বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত উকিল আবদুস সাত্তারের সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি সংসদে যাওয়ার পক্ষে। তিনি বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘দলের নীতিনির্ধারক যারা রয়েছেন দেখি তারা কী সিদ্ধান্ত নেন। দলের ফাইনাল সিদ্ধান্ত জানার অপেক্ষায় আছি। আর সংসদে যাওয়ার ক্ষেত্রে জনগণের চাপ রয়েছে আমাদের উপর। আমরা যে নির্বাচিত হয়েছি এটা তো মিথ্যা নয়।’

আপনার মতামত লিখুন :

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় নতুন একটি সংগঠন গঠন করেছে বিএনপি। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ নামে নবগঠিত এ সংগঠনের আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানকে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিমা রহমান বলেন, এটা একটি সামাজিক সংগঠন। বিএনপি গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক দল, সামাজিক অধঃপতনের অরাজক পরিস্থিতির সময় নির্বিকার বসে থাকতে পারে না। খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি জনমনে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। ধর্ষণ ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা এখন সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য সংবাদ। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আইনের প্রয়োগ নেই বলেই সমাজবিরোধীরা ধর্ষণ-নিপীড়নে উৎসাহিত হচ্ছে। আইনের শাসনের অভাবে মাদকের বিস্তার এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। আমরা মনে করি, এই কারণগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানাতে সেলিমা রহমান বলেন, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী এবং বেগবান করা; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; এই জনগোষ্ঠীর জীবন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ, এদের মধ্যে যারা ভিক্টিম হচ্ছে তাদের আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা; বিশেষভাবে দুস্থ ভিক্টিমদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য আইনগত সহায়তা দেওয়া; ভিক্টিম নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা; ‘নারীকে নির্যাতন করা অন্যায়’ এটি পরিবার থেকে শিশুকে শেখানো। এ সংগঠনের লক্ষ্য নারীর বর্তমান অবস্থা থেকে আরও বেশি ক্ষমতায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দান; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা; যেকোন গণমাধ্যমে আলাপচারিতা ও পারস্পরিক কথাবার্তায় যাতে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার না পায়, সেক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সব পেশার মানুষ এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। পরে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সংগঠনের উল্লেখযোগ্যরা হলেন—প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা: খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদীন, রুহুল কবির রিজভী। সদস্য সচিব: নিপুন রায়।

সদস্য: আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, রাশেদা বেগম হিরা, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আফরোজা আব্বাস, বেবী নাজনীন।

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পুরনো ছবি

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন। বাংলাদেশেও অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে গণতন্ত্রের শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন, শুভ জন্মাষ্টমী অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের মূলবাণী, মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শুভেচ্ছাবোধ। সকল কালে, যুগে বিভিন্ন ধর্মের প্রবক্তাগণ মানুষকে সত্য, ন্যায় ও কল্যানের পথে চালিত হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণও একই উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র