Alexa

দর-কষাকষির ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের: রিজভী

দর-কষাকষির ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের: রিজভী

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী, ছবি:বার্তা২৪.কম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, 'অগণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি ও দেন দরবারের ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের, বিএনপির নয়। দর-কষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে না জানলে, সেটি আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন।'

'কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির বিজয়ী এমপিদের সংসদে যোগ দেওয়ার বিষয়ে দর-কষাকষি করা বাজে দৃষ্টান্ত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের এমন বক্তব্যের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। 

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন। এসময় আওয়ামী লীগের ব্যাপক সমালোচনা করেন তিনি।

রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন নেত্রী হিসেবেই জনগণের নিকট প্রতিষ্ঠিত। তিনি কখনোই কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি, কোনো স্বৈরাচারের কাছেই আত্মসমর্পণ করেননি। দর-কষাকষির দৃষ্টান্ত কার আছে? সেটি আওয়ামী লীগ নেতারা নিজেরাই জানেন। আর না জানলে আপনাদের নেত্রীকে জিজ্ঞেস করুন।

তিনি বলেন, ‘এরশাদের নির্বাচনে যে যাবে সে জাতীয় বেঈমান হবে বলে আপনার নেত্রী দর-কষাকষি করে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাতীয় বেঈমানের মুকুট তিনি নিজেই নিজের মাথায় পরে ক্ষমতার হালুয়া মোরব্বার ভাগ পেয়েছিলেন।’

‘কীভাবে একটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিন সরকারের সঙ্গে দরকষাকষি করে ক্ষমতায় এসেছিলেন সেটিও নিশ্চয়ই আপনি ভুলে যাননি। অগণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে দর-কষাকষি ও দেন-দরবারের ঐতিহ্য আওয়ামী লীগের, বিএনপির নয়।’

তিনি বলেন, রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে নির্দোষ বেগম খালেদা জিয়াকে যেভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে সেটিই ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় হিসেবে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আজ গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার কারাগারে বন্দী। দেশের প্রতিটি মানুষ জানে এবং বিশ্বাস করে খালেদা জিয়া নির্দোষ। দেশ থেকে আইনের শাসনকে সমাহিত করে পুলিশি শাসন কায়েম করা হয়েছে।

বিএনপি নেতা রিজভী বলেন, ‘সারাদেশে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, খুন, দখল ও গুমের উৎসবে মেতে উঠেছে। দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিনা ভোটের সরকার কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সোনাগাজীর নুসরাতের হত্যার ঘটনায় সেখানকার আওয়ামী লীগের মিডনাইট এমপি, আওয়ামী সভাপতি থেকে শুরু করে বড় বড় নেতারা জড়িত। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে এসপি থেকে থানার ওসি পর্যন্ত। ফলে তাদের এমপি, নেতা ও পুলিশ প্রশাসনকে জনরোষ থেকে বাঁচানোর জন্য এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহিদা রফিক, নাজমুল হক নান্নুসহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

আপনার মতামত লিখুন :