Alexa

শপথ, নাকি উপনির্বাচন

শপথ, নাকি উপনির্বাচন

সংসদ অধিবেশন, পুরনো ছবি

একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ এপ্রিল। গেল বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক একমাস পর শুরু হয় প্রথম অধিবেশন। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ নিবন্ধিত সব দল অংশ নেয়। তবে বিজয়ী হয়েও সংসদে যাননি বিএনপির প্রার্থীরা।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে কেউ যদি শপথ গ্রহণ না করেন তাহলে তার ওই আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করে থাকে। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। যদিও ঐক্যফ্রন্টের দুইজন আলাদা দিনে শপথ নিয়ে এরইমধ্যে সংসদ সদস্যদের তালিকায় নিজেদের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন।

এখন বাকি রয়েছে বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন সদস্য। বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই চাইছেন সংসদে যেতে। তবে দল থেকে সবুজ সংকেত না মেলায় কেউ সাহস দেখাচ্ছেন না।

এদিকে সরকারও চায় বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে আসুক। সংসদে এসে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সংসদে আসবেন নাকি উপনির্বাচনের সুযোগ করে দেবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। শপথ গ্রহণ করুক আর না করুক, আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত ওই ছয়জনের আসন শূণ্য হয়ে যাবে। তবে যদি তারা যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আরও কিছু দিন সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি লেখেন, তাহলে সময় বাড়তেও পারে।

বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন শপথ গ্রহণের বিষয়ে গত ১৫ এপ্রিল নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। দলের হাই কমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন তারা।

অন্যদিকে সংসদে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে অনেকেই কৌশলে কথা বলে যাচ্ছেন। সোমবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিজ বাসভবেন এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, ‘‘শপথ নেওয়ার ব্যাপারে জনগণের অব্যাহত চাপ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ চায়- জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে এলাকার প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখি। তবে শপথের ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’’

একাদশ সংসদে বিএনপির নির্বাচিতরা হলেন- বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ নেওয়া না নেওয়া প্রসঙ্গে সুশাসনে জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তাদের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তারা যদি সংসদে যান তাহলে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হয়ে যাবে, এই ইস্যুতে তারা যেতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে সরকার চায় তারা সংসদে আসুক। আসলে গোটা বিষয়টা রাজনীতির জন্য সংকট। আর এই সংকট পুরো জাতির জন্যই অশনিসংকেত।”

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভালো না। তারা সংসদে আসলেও বিভিন্ন ভাবে ঠাট্টা মশকরা করা হতে পারে। এখন না আসলে তো সংবিধানের বিধান অনুযায়ী যেটা সেটাই হয়ে যাবে।’’

আপনার মতামত লিখুন :