Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

শপথ, নাকি উপনির্বাচন

শপথ, নাকি উপনির্বাচন
সংসদ অধিবেশন, পুরনো ছবি
শাহজাহান মোল্লা
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
ঢাকা
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ২৪ এপ্রিল। গেল বছরের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক একমাস পর শুরু হয় প্রথম অধিবেশন। ওই নির্বাচনে বিএনপিসহ নিবন্ধিত সব দল অংশ নেয়। তবে বিজয়ী হয়েও সংসদে যাননি বিএনপির প্রার্থীরা।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে কেউ যদি শপথ গ্রহণ না করেন তাহলে তার ওই আসনটি শূণ্য ঘোষণা করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন ওই আসনে উপনির্বাচনের আয়োজন করে থাকে। এবার একাদশ সংসদ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা। যদিও ঐক্যফ্রন্টের দুইজন আলাদা দিনে শপথ নিয়ে এরইমধ্যে সংসদ সদস্যদের তালিকায় নিজেদের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন।

এখন বাকি রয়েছে বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন সদস্য। বিএনপির নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে অনেকেই চাইছেন সংসদে যেতে। তবে দল থেকে সবুজ সংকেত না মেলায় কেউ সাহস দেখাচ্ছেন না।

এদিকে সরকারও চায় বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদে আসুক। সংসদে এসে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সংসদে আসবেন নাকি উপনির্বাচনের সুযোগ করে দেবেন, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। শপথ গ্রহণ করুক আর না করুক, আগামী ৩০ এপ্রিলের পর সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচিত ওই ছয়জনের আসন শূণ্য হয়ে যাবে। তবে যদি তারা যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আরও কিছু দিন সময় চেয়ে স্পিকারকে চিঠি লেখেন, তাহলে সময় বাড়তেও পারে।

বিএনপির নির্বাচিত ছয়জন শপথ গ্রহণের বিষয়ে গত ১৫ এপ্রিল নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। দলের হাই কমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন তারা।

অন্যদিকে সংসদে যাওয়ার ইচ্ছা ব্যক্ত করে অনেকেই কৌশলে কথা বলে যাচ্ছেন। সোমবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিজ বাসভবেন এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী হারুন-অর-রশিদ বলেছেন, ‘‘শপথ নেওয়ার ব্যাপারে জনগণের অব্যাহত চাপ রয়েছে। স্থানীয় জনগণ চায়- জাতীয় সংসদে যোগ দিয়ে এলাকার প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখি। তবে শপথের ব্যাপারে দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি।’’

একাদশ সংসদে বিএনপির নির্বাচিতরা হলেন- বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বগুড়া-৪ আসনে মোশাররফ হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে মো. হারুন অর রশীদ, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে জাহিদুর রহমান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া।

বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ গ্রহণ নেওয়া না নেওয়া প্রসঙ্গে সুশাসনে জন্য নাগরিক- সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘‘একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে তাদের ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। তারা যদি সংসদে যান তাহলে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হয়ে যাবে, এই ইস্যুতে তারা যেতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে সরকার চায় তারা সংসদে আসুক। আসলে গোটা বিষয়টা রাজনীতির জন্য সংকট। আর এই সংকট পুরো জাতির জন্যই অশনিসংকেত।”

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশের রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভালো না। তারা সংসদে আসলেও বিভিন্ন ভাবে ঠাট্টা মশকরা করা হতে পারে। এখন না আসলে তো সংবিধানের বিধান অনুযায়ী যেটা সেটাই হয়ে যাবে।’’

আপনার মতামত লিখুন :

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় বিএনপির নতুন সংগঠন
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন

নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় নতুন একটি সংগঠন গঠন করেছে বিএনপি। ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ নামে নবগঠিত এ সংগঠনের আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমানকে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সেলিমা রহমান বলেন, এটা একটি সামাজিক সংগঠন। বিএনপি গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ রাজনৈতিক দল, সামাজিক অধঃপতনের অরাজক পরিস্থিতির সময় নির্বিকার বসে থাকতে পারে না। খুন-ধর্ষণের পৈশাচিক বিকৃতি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজকে গ্রাস করে ফেলেছে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে রাষ্ট্র ও সমাজের সর্বত্র ঘৃণা ছড়ানোর ফলে ক্ষমতাঘনিষ্ঠ সমাজবিরোধীরা আশকারা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশব্যাপী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের পরিস্থিতি জনমনে গভীর উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে। ধর্ষণ ও ধর্ষণ প্রচেষ্টার কারণে শিশু হত্যার ঘটনা এখন সংবাদপত্রের উল্লেখযোগ্য সংবাদ। অভিভাবকরা মেয়ে ও শিশু সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। আইনের প্রয়োগ নেই বলেই সমাজবিরোধীরা ধর্ষণ-নিপীড়নে উৎসাহিত হচ্ছে। আইনের শাসনের অভাবে মাদকের বিস্তার এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ বিভিন্ন কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন বাড়ছে। আমরা মনে করি, এই কারণগুলো সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হবে।

নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জানাতে সেলিমা রহমান বলেন, নারী ও শিশু অধিকার রক্ষার যাবতীয় কার্যক্রমকে শক্তিশালী এবং বেগবান করা; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা; এই জনগোষ্ঠীর জীবন সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ, এদের মধ্যে যারা ভিক্টিম হচ্ছে তাদের আইনগত ও চিকিৎসাগত সহায়তা দেয়ার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা; বিশেষভাবে দুস্থ ভিক্টিমদের শারীরিক ও মানসিক চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য আইনগত সহায়তা দেওয়া; ভিক্টিম নারী ও শিশুদের মানবাধিকার সমুন্নত রাখা; ‘নারীকে নির্যাতন করা অন্যায়’ এটি পরিবার থেকে শিশুকে শেখানো। এ সংগঠনের লক্ষ্য নারীর বর্তমান অবস্থা থেকে আরও বেশি ক্ষমতায়নে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দান; নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সচেতন যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করা; যেকোন গণমাধ্যমে আলাপচারিতা ও পারস্পরিক কথাবার্তায় যাতে নারীবিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার না পায়, সেক্ষেত্রে কার্যকর উদ্যোগ গড়ে তোলা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সব পেশার মানুষ এ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। পরে তিনি সংগঠনের সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

সংগঠনের উল্লেখযোগ্যরা হলেন—প্রধান উপদেষ্টা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, উপদেষ্টা: খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জয়নুল আবেদীন, রুহুল কবির রিজভী। সদস্য সচিব: নিপুন রায়।

সদস্য: আজিজুল বারী হেলাল, আমিনুল হক, রাশেদা বেগম হিরা, মীর সরাফত আলী সপু, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, আফরোজা আব্বাস, বেবী নাজনীন।

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল

শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পুরনো ছবি

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মের সকল মানুষকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন। বাংলাদেশেও অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে গণতন্ত্রের শুভ শক্তির উত্থান ঘটাতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন, শুভ জন্মাষ্টমী অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। সকল ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসবের মূলবাণী, মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শুভেচ্ছাবোধ। সকল কালে, যুগে বিভিন্ন ধর্মের প্রবক্তাগণ মানুষকে সত্য, ন্যায় ও কল্যানের পথে চালিত হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণও একই উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়ে জনসমাজে বিরাজমান অন্যায়কে পরাস্ত করে শান্তি ও কল্যাণ স্থাপন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ হিসেবে সকল ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে বিশ্বাসী।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র