Alexa

কী অপেক্ষা করছে বিএনপির নির্বাচিতদের ভাগ্যে?

কী অপেক্ষা করছে বিএনপির নির্বাচিতদের ভাগ্যে?

একাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত বিএনপির ছয় সংসদ সদস্য/ ছবি: সংগৃহীত

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শপথ নিতে হবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যকে। এর মধ্যে শপথ না নিলে ঐ সংসদীয় আসনগুলো শূন্য হবে এবং পরবর্তীতে সেখানে উপ-নির্বাচন হবে।

সময় যত গড়াচ্ছে বিএনপির থেকে নির্বাচিতদের শপথ নেওয়া না নেওয়া নিয়ে এক ধরণের ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিএনপির কোনো প্রতিনিধি শপথ নেবে না। এমনকি এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনেরও সুযোগ নেই।

পর্দার আড়ালে দলের শীর্ষ তিন নেতা সরকারের একটি মহলের সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্যারোলের বিনিময়ে নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্যের শপথের বিষয়ে আলোচনা করে চলেছেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে। যদিও বিএনপির নেতারা এগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে না আসলেও অনেকেই শপথের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এমন আভাস দিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) এক প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘বিএনপির নির্বাচিতরা বলছেন সংসদে যেতে তাদের উপর এলাকার জনগণের চাপ আছে। সুতরাং দল বললে তারা প্রস্তুত এবং তাদের কাপড়-চোপড়ও প্রস্তুত রয়েছে।’

সুশাসনের জন্য নাগরিকের(সুজন)সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমাদের দেশে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া আকর্ষণীয় বিষয়। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে নানা সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়, ব্যবসা বাণিজ্য বাড়ানো যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কবিতার মতো, তোরা যে যা বলিস ভাই, আমার এমপি হওয়া চাই। যার কারণে কেউ এ সুযোগকে হাতছাড়া করতে চান না।’

চাপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘এখনও দলের সিদ্ধান্ত শপথ না নেওয়া। তবে এলাকাবাসী চাচ্ছে (যেন আমরা শপথ নিই), তারা তো চাইবেই। যেহেতু তারা ভোট দিয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস সাত্তার বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আর ও তো ১০দিন আছে, আশা করবো দল ভালো সিদ্ধান্ত নেবে। যেহেতু দল করি, দলের সিদ্ধান্তে সবকিছু হবে।’

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে দলীয় স্বার্থ আছে বলে মনে করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘বিএনপি মনে করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। আগের রাতে ভোট হয়ে গেছে, এই সরকারের বৈধতা নেই। তাদের মতে, এখন শপথ নিয়ে সংসদে গেলে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে। তারা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল সাদা দলের নেতা অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘যে নির্বাচনকে বিএনপি প্রত্যাখ্যান করেছে সেই ফল নিয়ে সংসদে যাওয়ার তো প্রশ্নই উঠে না। দলীয় সিদ্ধান্ত তাদের প্রতিনিধিরা শপথ নেবে না।’

দলের প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কেউ শপথ নিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত যদি বহিষ্কার হয়, তবে সেক্ষেত্রেও সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি হবে। কারণ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা আছে- নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রূপে মনোনীত হয়ে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি যদি উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে।

আসন শূন্য হওয়া নিয়ে সংবিধানের ৬৭ এর (১) ধারায় বলা হয়েছে- কোনো সংসদ-সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি তিনি নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হতে নব্বই দিনের মধ্যে তৃতীয় তফসিলে নির্ধারিত শপথ গ্রহণ না করেন। তবে এ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্পিকার যথার্থ কারণে তা বাড়াতে পারবেন।

বিএনপির নির্বাচিতরা: বিএনপির নির্বাচিত ছয় সংসদ সদস্য হলেন- বগুড়া-৬ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বগুড়া-৪ থেকে মোশারফ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ থেকে জাহিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ থেকে আমিনুল ইসলাম ও চাপাইনবাবগঞ্জ-৩ থেকে হারুনুর রশিদ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে উকিল আব্দুস সাত্তার।

শপথ নেওয়া না নেওয়া প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এক অনুষ্ঠানে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘বিএনপি থেকে নির্বাচিত ছয় জনের সংসদে যাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।’

আপনার মতামত লিখুন :