Barta24

সোমবার, ২২ জুলাই ২০১৯, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

জাপার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে!

জাপার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে!
এরশাদ-রওশন-জিএম কাদের/ছবি: সংগৃহীত
সেরাজুল ইসলাম সিরাজ
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: জিএম কাদের পুনর্বহাল হওয়ার পর জাতীয় পার্টির (জাপা) পরিস্থিতি নাকি অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। অনেক সিনিয়র নেতাই এখন জিএম কাদেরের প্রতি সমর্থন জানান দিচ্ছেন।

কেউ ফোনে যোগাযোগ করছেন, আবার কেউ কেউ জিএম কাদেরের উত্তরার বাসায় হাজির হয়ে নিজেদের সমর্থন জানান দিচ্ছেন। জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুর রহমান জয় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, জিএম কাদের কো-চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার পর পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। সিনিয়র নেতারা অনেকেই এখন তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। আবার জিএম কাদের নিজেও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা মনে করছি, জাতীয় পার্টি জিএম কাদেরের পেছনেই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এতোদিন যারা অন্যগ্রুপে ছিলেন তারাও এখন কাদের ভাইয়ের পেছনে আসতে শুরু করেছেন।

স্বপদে বহাল হওয়ার পর জিএম কাদেরও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, সব বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকে। আমাদের দলেও রয়েছে। তবে এর শিকড় খুব গভীরে নয়। ক্ষমতা পেলে এসব গ্রুপিং ধীরে ধীরে কমে যাবে।

মধ্যম সারির নেতারা বলেন, জিএম কাদের পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে এখনও পর‌্যন্ত পার্টির কোনো বড় কর্মসূচি দেখা যায়নি। হলে হয়তো অনুমান করা যেতো কি হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিনিয়র নেতাদের অবস্থান পরিষ্কার হতো।

তবে কাদের বিরোধী বলে পরিচিতরা এরশাদের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে মনে করছেন না। তারা আবার পরিবর্তনের আশা করছেন। তারা মনে করছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জিএম কাদেরের সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এক রংপুরকে দিয়ে দল চলবে না। সে কারণে দায়িত্ব পেলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। যে কারণে জিএম কাদেরকে আবার সরিয়ে দেবেন এরশাদ।

কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ১১ এপ্রিল গিয়েছিলাম স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে দেখা করতে। দুপুরে প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়। সে সময় জিএম কাদের সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্যার। স্যার বললেন, কাদেরকে দায়িত্ব দিলাম, যাতে সে সবাইকে নিয়ে কাজ করে। কিন্তু দলের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করছে। আমার মনে হচ্ছে না ও দল চালাতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, স্যার বললেন, সবাই দল থেকে বেনিফিট নিয়েছে। সবাই এমপি হতে চায়, কিন্তু আমার মামলার বিষয়ে কেউ কথা বলে না। তোমরা কাদেরকে দেখো, কাদের যেনো সবার সঙ্গে ভালোভাবে চলে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে। দলটা চালাতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

অসুস্থ এরশাদ এমন হতাশার কথা আরও দু’একজনের কাছেও নাকি ব্যক্ত করেছেন। সে কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি জিএম কাদেরের অনুকূলে এমনটা মানতে নারাজ অনেকেই। তারা মনে করছেন, সংখ্যাধিক্য এমপি এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের পক্ষে একাট্টা। তাদের কারণে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ ক্ষমতাও অসহায় হয়ে পড়তে পারে।

পার্লামেন্টারি পার্টি বিগড়ে গেলে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। যেমনটি হয়েছিল বিগত সংসদে, তখন এরশাদ নিজে বিরোধীদলীয় নেতা হতে চাইলেও রওশন বেকে বসায় পুরো সময় জুড়ে বিরোধীদলীয় নেতার চেয়ারে থাকেন রওশন।

আবার জাতীয় পার্টির অস্তিত্বের প্রতীক লাঙ্গলও কিন্তু রওশনের দিকে ঝুঁকে থাকবে। কারণ, সপ্তম সংসদে যখন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে টান দেন। তখন বিষয়টি আদালত পর‌্যন্ত গড়ায়। তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কারাবন্দি থাকায় মামলায় স্বাক্ষর করেছিলেন রওশন এরশাদ। রওশন পক্ষকেই লাঙ্গল প্রতীক দেন আদালত। এ কারণে অনেকে মনে করেন রওশনের নামেই লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ রয়েছে।

পরিস্থিতি যাই থাকুক দুই পক্ষই মনে করছেন, শেষ সময়ে তারাই বিজয়ী হবেন। একপক্ষের শক্তি তৃণমূল। আরেক পক্ষের শক্তি সিনিয়র প্রভাবশালী নেতারা। কিন্তু একটি ছাড়া যে অপরটি অচল তারা কেউই অন্তরে লালন করছেন বলে দৃশ্যপটে অনুমিত হয় না। সিনিয়র নেতারা অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করলেও তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব।

বিশেষ করে জিএম কাদেরের আশপাশে থাকা কিছু তৃতীয় সারির নেতার কর্মকাণ্ডে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। জিএম কাদেরকে যখন পুনর্বহাল করা হয়, তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী আবু তৈয়ব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যারা আন্দোলন করে সফল হলেন, তাদের অভিনন্দন। যারা এ বিজয়ে কষ্ট পেলেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইল।

একজন বেতনভোগী স্টাফের এমন খোঁচা দেওয়া স্ট্যাটাস কেউই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না।

এমন অনেকে স্ট্যাটাস দিয়ে সিনিয়র নেতাদের বিষদগার করছেন, যাদের না আছে পোস্ট না আছে পদবি। তাদের এসব বিভ্রান্তিকর পোস্টের দায়ও গিয়ে পড়ছে জিএম কাদেরের ঘাড়ে। অনেকে মনে করছেন জিএম কাদেরের আশকারা পেয়ে তারা এমন কাজ করছেন।

উদারপন্থী নেতারা মনে করেন, এতে পার্টিতে বিভেদ বাড়তে পারে। কাদের ভাইয়ের এমন বিতর্ক এড়ানো উচিত। যেভাবেই হোক তিনি ফিরে এসেছেন। এতে তার প্রাথমিক বিজয় হয়েছে। এখন বিভেদ না বাড়িয়ে সবাইকে নিয়ে পথ চলতে হবে তাকে। না হলে এখন রক্ষা হলেও এরশাদের অবর্তমানে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা কঠিন হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

দুঃশাসনের জবাবদিহিতার সময় সন্নিকটে: মির্জা ফখরুল

দুঃশাসনের জবাবদিহিতার সময় সন্নিকটে: মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, 'সকল অপকর্ম ও দুঃশাসনের জন্য জনগণের নিকট সরকারের জবাবদিহি করার সময় অত্যন্ত সন্নিকটে।'

সোমবার (২২ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছেন তিনি। বান্দরবান পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেন বিএনপির মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আওয়ামী সরকার ফ্যাসিবাদী আচরণের আশ্রয় নিয়ে, দেশকে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সরকার মানুষের ভোটের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক অধিকারকে পাত্তা না দিয়ে বাকশালী কায়দায় বিরোধী দল ও মত দমনে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরামহীন গতিতে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা-কাল্পনিক কাহিনী তৈরি করে মামলা দিচ্ছে। একই সঙ্গে কারান্তরীণ করা হচ্ছে।'

মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার সরকারের ধারাবাহিক অপকর্ম ছাড়া বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। যা তাদের চলমান দমন নীতিরই ধারাবাহিকতা বলেও জানান তিনি।

৫ বিভাগে বিএনপির ত্রাণ কমিটি গঠন

৫ বিভাগে বিএনপির ত্রাণ কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যায় কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পাঁচটি পৃথক ত্রাণ কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর বিভাগে গঠিত এসব কমিটি আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) থেকেই কার্যক্রম শুরু করবে।

সোমবার (২২ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকের পর বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এসব তথ্য জানান।
বৈঠকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল এবং লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যথাযথভাবে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ময়মনসিংহে, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মিজানুর রহমান মিনুকে রাজশাহী ও খন্দকার মোক্তাদিরকে সিলেটে, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে রংপুরে ও খায়রুর কবির খোকনকে ফরিদপুর বিভাগের বিভাগীয় ত্রাণ কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘প্রতিটি বিভাগের ত্রাণ পরিচালনার জন্য একটি করে কমিটি গঠন করেছি। কমিটিগুলোর নেতৃত্ব দেবেন দলের সিনিয়ন নেতৃবৃন্দ এবং তাদের সঙ্গে সমন্বয়কারী হিসেবে থাকবেন সাংগঠনিক সম্পাদকবৃন্দ। এছাড়া প্রতিটি জেলায় একটি করে ত্রাণ কমিটি থাকবে। আগামী মঙ্গলবার থেকে রিলিফ কমিটি কাজ শুরু করবে। এই টিমের সঙ্গে একটি করে মেডিকেল টিম থাকবে, আমরা ভ্রামমাণ মেডিকেল ক্যাম্প করব।’

কেন্দ্রীয় ত্রাণ কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মজিবুর রহমান সারোয়ার, হারুনুর রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আসাদুল হাবিব দুলু, সাখাওয়াত হাসান জীবন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিলকিস জাহান শিরিন, শামা ওবায়েদ, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, আবদুল লতিফ জনি, হালিমা নেওয়াজ আরলি, রফিকুল ইসলাম, আমিরুল ইসলাম আলীম, মইনুল হাসান সাদী, আমিনুল ইসলাম, তাজভীরুল ইসলাম, রিয়াজউদ্দিন নসু, আবদুল খালেক, জাকির হোসেন বাবু, রাবিকুল করীম পাপু প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র