Alexa

জাপার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে!

জাপার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে!

এরশাদ-রওশন-জিএম কাদের/ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: জিএম কাদের পুনর্বহাল হওয়ার পর জাতীয় পার্টির (জাপা) পরিস্থিতি নাকি অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। অনেক সিনিয়র নেতাই এখন জিএম কাদেরের প্রতি সমর্থন জানান দিচ্ছেন।

কেউ ফোনে যোগাযোগ করছেন, আবার কেউ কেউ জিএম কাদেরের উত্তরার বাসায় হাজির হয়ে নিজেদের সমর্থন জানান দিচ্ছেন। জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুর রহমান জয় এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, জিএম কাদের কো-চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পদ ফিরে পাওয়ার পর পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে। সিনিয়র নেতারা অনেকেই এখন তাকে সমর্থন দিচ্ছেন। আবার জিএম কাদের নিজেও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা মনে করছি, জাতীয় পার্টি জিএম কাদেরের পেছনেই ঐক্যবদ্ধ থাকবে। এতোদিন যারা অন্যগ্রুপে ছিলেন তারাও এখন কাদের ভাইয়ের পেছনে আসতে শুরু করেছেন।

স্বপদে বহাল হওয়ার পর জিএম কাদেরও এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। বলেছিলেন, সব বড় দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকে। আমাদের দলেও রয়েছে। তবে এর শিকড় খুব গভীরে নয়। ক্ষমতা পেলে এসব গ্রুপিং ধীরে ধীরে কমে যাবে।

মধ্যম সারির নেতারা বলেন, জিএম কাদের পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে এখনও পর‌্যন্ত পার্টির কোনো বড় কর্মসূচি দেখা যায়নি। হলে হয়তো অনুমান করা যেতো কি হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে সিনিয়র নেতাদের অবস্থান পরিষ্কার হতো।

তবে কাদের বিরোধী বলে পরিচিতরা এরশাদের এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে মনে করছেন না। তারা আবার পরিবর্তনের আশা করছেন। তারা মনে করছেন, দলকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে জিএম কাদেরের সফল হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এক রংপুরকে দিয়ে দল চলবে না। সে কারণে দায়িত্ব পেলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। যে কারণে জিএম কাদেরকে আবার সরিয়ে দেবেন এরশাদ।

কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ১১ এপ্রিল গিয়েছিলাম স্যারের (এরশাদ) সঙ্গে দেখা করতে। দুপুরে প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়। সে সময় জিএম কাদের সম্পর্কে হতাশা ব্যক্ত করেছেন স্যার। স্যার বললেন, কাদেরকে দায়িত্ব দিলাম, যাতে সে সবাইকে নিয়ে কাজ করে। কিন্তু দলের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি করছে। আমার মনে হচ্ছে না ও দল চালাতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, স্যার বললেন, সবাই দল থেকে বেনিফিট নিয়েছে। সবাই এমপি হতে চায়, কিন্তু আমার মামলার বিষয়ে কেউ কথা বলে না। তোমরা কাদেরকে দেখো, কাদের যেনো সবার সঙ্গে ভালোভাবে চলে। সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে। দলটা চালাতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।

অসুস্থ এরশাদ এমন হতাশার কথা আরও দু’একজনের কাছেও নাকি ব্যক্ত করেছেন। সে কারণে পরিস্থিতি পুরোপুরি জিএম কাদেরের অনুকূলে এমনটা মানতে নারাজ অনেকেই। তারা মনে করছেন, সংখ্যাধিক্য এমপি এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদের পক্ষে একাট্টা। তাদের কারণে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বিশেষ ক্ষমতাও অসহায় হয়ে পড়তে পারে।

পার্লামেন্টারি পার্টি বিগড়ে গেলে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে। যেমনটি হয়েছিল বিগত সংসদে, তখন এরশাদ নিজে বিরোধীদলীয় নেতা হতে চাইলেও রওশন বেকে বসায় পুরো সময় জুড়ে বিরোধীদলীয় নেতার চেয়ারে থাকেন রওশন।

আবার জাতীয় পার্টির অস্তিত্বের প্রতীক লাঙ্গলও কিন্তু রওশনের দিকে ঝুঁকে থাকবে। কারণ, সপ্তম সংসদে যখন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে টান দেন। তখন বিষয়টি আদালত পর‌্যন্ত গড়ায়। তখন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কারাবন্দি থাকায় মামলায় স্বাক্ষর করেছিলেন রওশন এরশাদ। রওশন পক্ষকেই লাঙ্গল প্রতীক দেন আদালত। এ কারণে অনেকে মনে করেন রওশনের নামেই লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ রয়েছে।

পরিস্থিতি যাই থাকুক দুই পক্ষই মনে করছেন, শেষ সময়ে তারাই বিজয়ী হবেন। একপক্ষের শক্তি তৃণমূল। আরেক পক্ষের শক্তি সিনিয়র প্রভাবশালী নেতারা। কিন্তু একটি ছাড়া যে অপরটি অচল তারা কেউই অন্তরে লালন করছেন বলে দৃশ্যপটে অনুমিত হয় না। সিনিয়র নেতারা অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করলেও তাদের অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সরব।

বিশেষ করে জিএম কাদেরের আশপাশে থাকা কিছু তৃতীয় সারির নেতার কর্মকাণ্ডে সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অনেকে। জিএম কাদেরকে যখন পুনর্বহাল করা হয়, তখন তার ব্যক্তিগত সহকারী আবু তৈয়ব ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, যারা আন্দোলন করে সফল হলেন, তাদের অভিনন্দন। যারা এ বিজয়ে কষ্ট পেলেন তাদের জন্য শুভ কামনা রইল।

একজন বেতনভোগী স্টাফের এমন খোঁচা দেওয়া স্ট্যাটাস কেউই স্বাভাবিকভাবে দেখছেন না।

এমন অনেকে স্ট্যাটাস দিয়ে সিনিয়র নেতাদের বিষদগার করছেন, যাদের না আছে পোস্ট না আছে পদবি। তাদের এসব বিভ্রান্তিকর পোস্টের দায়ও গিয়ে পড়ছে জিএম কাদেরের ঘাড়ে। অনেকে মনে করছেন জিএম কাদেরের আশকারা পেয়ে তারা এমন কাজ করছেন।

উদারপন্থী নেতারা মনে করেন, এতে পার্টিতে বিভেদ বাড়তে পারে। কাদের ভাইয়ের এমন বিতর্ক এড়ানো উচিত। যেভাবেই হোক তিনি ফিরে এসেছেন। এতে তার প্রাথমিক বিজয় হয়েছে। এখন বিভেদ না বাড়িয়ে সবাইকে নিয়ে পথ চলতে হবে তাকে। না হলে এখন রক্ষা হলেও এরশাদের অবর্তমানে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা কঠিন হবে।

আপনার মতামত লিখুন :