Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘ঘরের বাইরে গিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন’

‘ঘরের বাইরে গিয়ে জ্বালাময়ী বক্তব্য দেন’
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে করা প্রতিবাদ সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের একাংশ / ছবি: সৈয়দ মেহেদী হাসান, বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘ঘরের মধ্যে জ্বালাময়ী বক্তব্য না দিয়ে, ঘরের বাইরে গিয়ে দেন। তাহলেই গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব হবে।’

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মওলানা আকরাম খাঁ হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ কারাবন্দি সব নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে করা প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভার আয়োজন করে জিয়া আদর্শ একাডেমি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, '২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে আর্মির অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আমরা আর্মির সঙ্গে লড়াই করেছিলাম। ঢাকায় মিছিল হয়েছিল- ‘জয়দেবপুরের পথ ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো', আজকে ৭২ বছর বয়সে আমাকেই সেই কাজ করতে বলেন? না আপনাদেরও দায়িত্ব আছে? তারপরও বলছি, আছি আপনাদের সঙ্গে। শুধু সঙ্গে না, আপনাদের সামনেই থাকবো। খালেদা জিয়ার মুক্তির লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিন। সবাই এক সঙ্গে লড়াইয়ে নামি।’

বিশ্বের কোনো স্বৈরাচারি সরকার জনগণের আন্দোলনের মুখে টিকে থাকতে পারেনি উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ফিলিপিন্স মার্কোসের দমননীতির বিরুদ্ধে জনগণ যখন রাজপথে ট্যাংকের সামনে শুয়ে পড়েছিল, তখনই মার্কোসের পতন হয়েছিল।’

শ্রমিকদলের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে যদি মুক্ত আলো বাতাসে আনা না যায়। যদি তার সঠিক চিকিৎসা করা না যায়, তাহলে তাকে আমরা হারাবো। তাকে হারালে আপনার আমার কার কত দাম সেটা আমাদের জানা আছে। খালেদা জিয়াসহ কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করার জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিন।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজম খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিয়া মোহাম্মদ আনোয়ার, কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ অনেকে।

আপনার মতামত লিখুন :

শেখ হাসিনার মতো প্রাপ্তি আর নেই: আমু

শেখ হাসিনার মতো প্রাপ্তি আর নেই: আমু
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, ছবি: বার্তা২৪

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা ও জাদুকরী নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাওয়া দেখে বিশ্ব নেতারা বিস্ময় প্রকাশ করেছে। তিনি ধাপে ধাপে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিচক্ষণতায় দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। এর চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি বাংলার কারও নেই।’

এমন অগ্রযাত্রাকে ধারাবাহিক রুপ দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউটে দলের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সাবেক শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র ধরা দিয়েছে। বিশাল জনসংখ্যার দেশে অল্প সময়ে জীবন মানের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে অনেক দেশ ব্যর্থ হয়েছে। নদীর তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ করা হবে এমনটা কেউ চিন্তা করেনি, নতুন নতুন শিল্প অঞ্চলের পরিকল্পনা কারও মাথায় আসেনি। প্রধানমন্ত্রী কেবল স্বপ্ন দেখাননি, তিনি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বরাবরই অগ্রযাত্রাকে থামানোর অপপ্রয়াস হয়েছে। সত্যিকারের নাগরিক হিসেবে আমাদের দেশপ্রেমী হতে হবে। কেবল নিজের নয়, সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করে যেতে হবে।’

দলে অনুপ্রেবশ ঠেকাতে আওয়ামী লীগের এই উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বলেন, ‘আমরা চাই দল সুসংগঠিত ও সাংগঠনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে। যে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে মনোবল ঠিক রেখে অভিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করে যেতে হবে। কোনো অনুপ্রবেশকারী, সুবিধাবাদী দিয়ে দল ভারী হোক, দলের ভাবমূতি ক্ষুণ্ন হোক এমনটা মেনে নেওয়া হবে না। এদের চিহ্নিত করতে হবে।’


কেন্দ্রীয় কমিটির উপদফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীরে বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে বাংলাদেশ শক্তিশালী দেশে পরিণত হবে। এ জন্যই বার বার আওয়ামী লীগকে ধ্বংসের পায়তারা হয়েছে, চলছে। কিন্তু দলের প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের স্পৃহার কারণে দল মানুষের ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতেও যদি দল সংকট মুহূর্তে আসে তখনো নেতাকর্মীদের রাজপথে নামতে হবে।’

দলের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন বলেন, ‘এক সময় মুক্তিযোদ্ধারাও নিজের পরিচয় দিতে ভয় পেতেন। তার সন্তানদের ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা দেওয়া হয়নি। নাগরিকরা নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারতেন না। আওয়ামী লীগ সরকার থাকার কারণেই বিশ্ব ব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ চলছে।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল রহমানের সঞ্চালনা ও সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ। আলোচনা সভা শেষে দলের বিভিন্ন সময় অবদান রাখা নেতাকর্মীদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

জাপাকে তরুণরা গ্রহণ করছে না: জিএম কাদের

জাপাকে তরুণরা গ্রহণ করছে না: জিএম কাদের
ছবি: বার্তা২৪

জাতীয় পার্টিকে (জাপা) তরুণ সমাজ সেভাবে গ্রহণ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের। বুধবার (২৬ জুন) মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে জাপা’র সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সভার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, আজকের সভায় তরুণদের উপস্থিতি কম। তরুণরা আমাদের সেভাবে গ্রহণ করছে না। আমরা সেভাবে সংগঠিত করতে পারিনি। এমন কর্মসূচি দেব যাতে তরুণ সমাজকে আকৃষ্ট করতে পারি। এর নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণ সমাজকেই। দৃঢ় প্রত্যয় থাকলে সাহায্য পাওয়া যাবে, মানুষ গ্রহণ করবেই।

তিনি বলেন, বিএনপি থেকে অনেকে জাতীয় পার্টিতে আসতে চাইছেন। বিশেষ করে যারা জাতীয় পার্টি থেকে চলে গিয়েছিলেন, তারা ফিরতে চান। ফিরে তারা বড় পদ চাইতে পারে। দরকষাকষির বিষয় রয়েছে। তাদেরকে জায়গা দিতে হবে। তবে আমি জাতীয় পার্টিতে যারা ত্যাগী আছেন, যতদূর সম্ভব তাদের মূল্যায়ন করতে চাই।

জাপা নেতা বলেন, একজন বক্তৃতা দিয়েছেন হঠাৎ হঠাৎ কমিটি, প্রার্থী আবিষ্কার ও প্রার্থী বহিস্কার করা যাবে না। এই কথার মধ্যে সুর আছে যুক্তিও আছে। এটা পার্টির জন্য অনেক ক্ষতি করেছে। কথা দিচ্ছি আমি প্রার্থী আবিষ্কার ও বহিষ্কার করব না। কমিটি করা হবে তৃণমূলের সুপারিশ অনুযায়ী। কমিটি নিয়ে বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না। আমি ভাড়া করা লোক দিয়ে লোকসমাগম দেখাতে চাই না। সেই রাজনীতি করব না।

গত নির্বাচনের আগে আমাদের অনেক নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন। আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি উঠেছে। আমি বলব- গত নির্বাচনে কেউ কেউ কনফিউজড ছিলেন, কোথাও মহাজোট হয়েছে, কোথাও উন্মুক্ত। এ কারণে বিভ্রান্তি ছিল, সেন্ট্রালের কন্ট্রোলিংয়ে সমস্যা ছিল। চেয়ারম্যান অসুস্থ ছিল, আমি কোনো দায়িত্বে ছিলাম না। এ কারণে বিষয়টি ছাড় দিতে হবে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, সব সময় পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না। আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেব। প্রার্থী যারা আছেন তাদের উৎসাহ দিতে চাই। রাজনীতি শিখতে গেলে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

সভায় বক্তৃতা দেওয়া নিয়ে বেশ কয়েক দফা হট্টগোল হয়। এর রেশ ধরে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, শুধু মানুষ থাকলেই হবে না, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা থাকতে হবে। নেতৃত্বের প্রতি আস্থা থাকতে হবে এবং নির্দেশনা মানতে হবে। দলে শৃঙ্খলা রাখা দরকার ঐক্যের জন্য।

মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, একজন বক্তৃতা করতে ধরলে আপনারা হৈ চৈ করছেন। কেন রে ভাই! হৈ চৈ করেন! তিনি তো কথাই বলবে, আর তো কিছু না। শামসুল আলম বক্তৃতা দিয়েছেন, তা কি খুব বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমি শ্রমিকের সংগঠন করি, সেখানে অনেক গোলমাল হয়, ট্যাঙ্ক-কামান ছাড়া সবই বের করে। এখানে তো কিছুই নেই।

রাঙ্গা বলেন, কথা দিচ্ছি রাস্তা-বাজারের লোক দিয়ে কারো পকেট কমিটি করতে দেওয়া হবে না। কার কতো ক্ষমতা আছে, কাউন্সিলে দেখাবেন। ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা তারপর জেলা কমিটির কাউন্সিল হবে। কাউন্সিলর কারা হবেন, কেন্দ্র থেকে অনুমোদন দেওয়া হবে। জেনুইন ছাড়া কেউ কমিটি করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, আজকের সাংগঠনিক সভায় যাদের ডাকা হয়েছিল কিন্তু আসেনি, যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেউ অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোকজ করা হবে। নেতাকর্মীদের বলি, আপনারা অন্যায় করবেন না। আওয়ামী লীগের লোকজন যদি হয়রানি করে নির্যাতন করে আমরা প্রতিহত করব। আপনাদের পাশে দাঁড়াব, প্রয়োজনে হরতাল-অবরোধ পালন করা হবে।

বৈঠকে জেলা ও উপজেলার নেতারা সংসদে জাতীয় পার্টিকে প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা পালনের দাবি জানান। এক্ষেত্রে এমপিদের সামলোচনাও করেন অনেক নেতা।

আরও পড়ুন: এরশাদের অবর্তমানে জাপার কী হবে, জানালেন জিএম কাদের

আরও পড়ুন: ‘চিকিৎসা নেওয়ার পয়সা নেই এরশাদের’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র