Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিএনপির শাসনামলে গবেষণার কিছুই ছিল না: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির শাসনামলে গবেষণার কিছুই ছিল না: প্রধানমন্ত্রী
গবেষণায় অবদান রাখায় গবেষকদের অনুদান দেন প্রধানমন্ত্রী/ছবি: পিআডি
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা: আওয়ামী লীগ সরকার গবেষণাকে গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপির শাসনামলে গবেষণার কিছুই ছিল না। গবেষণায় কোনো উৎসাহ দেওয়া হতো না। গবেষণার জন্য যে আলাদা অর্থ বরাদ্দ রাখতে হয়; সেটা তাদের মাথায়ই ছিল না।’

‘আমি ক্ষমতায় এসে সে সুযোগ করে দিই। আমি প্রথমেই গবেষণার জন্য একটা থোক বরাদ্দ সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছিলাম। ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছিলাম গবেষণার জন্য। এরপর ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখি গবেষণা এবং প্রযুক্তির জন্য। কেননা, আমি সব সময় গবেষণাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই’, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, বিশেষ গবেষণা অনুদান এবং এনএসটি চেক বিতরণ করা হয়।

শেখ হসিনা বলেন, ‘যে ২৯ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল না; সে সময়ের ক্ষমতাসীনরা দেশের কোনো উন্নয়নের চিহ্ন রাখতে পারেনি। তারা করবে না এটাই স্বাভাবিক। তারা তো স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না বরং বিরোধিতা করেছিল। যারা দেশের উন্নয়নই চায় না তারা উন্নয়ন করবে কী করে? ক্ষমতায় এলেই নিজের পকেট ভরতে ব্যস্ত হয়ে যায় বিএনপি। আর আজ দেশ দ্রুত উন্নয়নশীল।’

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সাল থেকেই আমরা গবেষণা শুরু করেছি। আজ তার ফলে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। আমরা গবেষণায় গুরুত্ব দিয়েছিলাম বলেই আজ অনেক ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা লাভ করতে পেরেছি। আমরা এখন গবেষণায় উচ্চ শিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের বিদেশে পাঠাচ্ছি। যেটা স্বাধীনতার পর সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও জাতির পিতা শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ এর পর সব বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

দেশের উন্নয়নে, দেশের শান্তিতে গবেষণার বিকল্প নেই মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে গবেষণা করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে আমাদের তরুণদের। সবকিছুতেই সফলতা পেতে হলে অতীত জানা প্রয়োজন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা সবারই জানা থাকা জরুরি। এমন গৌরব অতীত আমাদের চলার পথের অনুপ্রেরণা। এসব জানতে হলে গবেষণা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যুগ পরিবর্তন হচ্ছে। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বটাই হচ্ছে পরিবর্তনশীল। তথ্যপ্রযুক্তির যুগ এখন। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। আমরা কারো থেকে পিছিয়ে থাকবো না, এটাই হচ্ছে আমার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি।’

‘আমি এটা বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের মানুষ অনেক মেধাবী। তারা কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না এবং পিছিয়ে থাকবে না। কিন্তু সেই সুযোগটা আমাদের সৃষ্টি করে দিতে হবে,’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। সবার হাতে স্মার্টফোন। মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছি। মহাকাশ জয় করেছি। আরও অনেক ক্ষেত্রে ডিজিটালে এগিয়ে নিচ্ছি দেশে। এছাড়া আমাদের মহাকাশেও গবেষণা প্রয়োজন। হয়তো আমরা মহাকাশেও যেতে পারবো। এসব বিবেচনা করে আমরা বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ চালু করেছি।’

বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর কোন কোন ক্ষেত্রে উৎকর্ষতার সুযোগ আছে তা খুঁজে বের করুন। গবেষণার জন্য টাকা কোনো সমস্যা নয়। কারণ অর্থনৈতিকভাবে আগের চেয়ে এখন আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী।’

এসময় প্রধানমন্ত্রী যারা গবেষণা করে অবদান রেখেছেন, যারা অনুদান পাচ্ছেন, তাদের অভিনন্দন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতা যখন একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সবকিছু মোকাবিলা করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেদিন আমার পুরো পরিবারকে আমি হারাই। এসব আমাদের নতুন প্রজন্মের জানা দরকার। বোঝা দরকার, জাতির পিতা দেশের জন্য কী কী করে গেছেন। আমাদের যে স্বাধীনতার চেতনা-গৌরব, সে বিষয়েও গবেষণার বিকল্প নেই।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক।

আপনার মতামত লিখুন :

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি

হজ প্রতিনিধি দলে সিইসি, ব্যাখ্যা চায় বিএনপি
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হওয়ার বিষয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ব্যাখ্যা দাবি করেন।  বৈঠক লন্ডন থেকে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, 'আমরা প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশন সরকারের একটি হজ দলের সদস্য হয়েছেন। যে দলের প্রধান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। আর প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার একজন সদস্য। এটা পুরো হাস্যকর ব্যাপার। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং আমরা অবিলম্বে সরকারের কাছ থেকে একটা ব্যাখ্যা দাবি করছি। সরকার এবং নির্বাচন কমিশন-সংবিধানকে একেবারেই তোয়াক্কা করে না। সংবিধানের আশে-পাশ দিয়েও যায় না এবং একই সঙ্গে এই রাষ্ট্রকে তারা তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি মনে করেন।'

তিনি বলেন, 'সংবিধানের বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা কারোই নেই। সেখানে প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা কোন আইনে, কোন ক্ষমতা বলে একটা হজ ব্যবস্থাপনার তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনার প্রদানের জন্যে হজ প্রতিনিধি দলের সদস্য হয়ে যাচ্ছেন? চিন্তা করা যায় না তিনি এরকম কমিটিতে তিনি সৌদি আরব যাচ্ছেন। উনি যদি হজ করতে চাইতেন, তাহলে বাদশার বিশেষ মেহমান হয়ে যেতে পারতেন।  এমন আত্মসন্মান বিবর্জিত ব্যক্তিদেরকে নির্বাচন কমিশনের প্রধান করা হয়েছে, আর এরাই দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে তলিয়ে দিচ্ছেন।'

এ সময় বিএনপি মহাসচিব সংবিধানে বর্ণিত ১১৯ অনুচ্ছেদে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব, কর্মকাণ্ড ও হজ কমিটির গঠনের গ্যাজেটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না: ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সরকার বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে উদাসীন, বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে বিকেলে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবণতির দিকে যাচ্ছে এবং একের পর এক জেলা বন্যা কবলিত হচ্ছে। জনগণের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারের যে উদ্যোগ প্রয়োজন সেটা আমরা লক্ষ্য করছি না। সরকারের চরম উদাসীনতা এই বন্যার ব্যাপারে, তারা বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। সাধারণত এরকম পরিস্থিতিতে যে উদ্যোগ-সহায়তা নেওয়ার কথা সেটা দেখা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত ত্রাণমন্ত্রী কোথাও ঘুরে আসেননি। সরকারের পদক্ষেপগুলো মানুষ দেখতে চায়। সরকারের দায়িত্ব বন্যা কবলিত মানুষকে রক্ষা করা, যেটা সরকার করছে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বন্যার্তদের সহায়তায় ২১ সদস্যের একটি ত্রাণ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মির্জা ফখরুল। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে বিএনপির ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াসীনকে। ত্রাণ কমিটি খুব শিগগিরই কার্যক্রম শুরু করবে বরেও জানান ফখরুল।

ডেঙ্গু ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করেছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তিনি ডেঙ্গুর ভয়ে অফিসে যাচ্ছেন না, মশা কামড়াতে পারে। একবার তার ডেঙ্গু হয়ে গেছে। অথচ একজন মেয়র বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত নাকি কিছুই হয় নাই। ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত ২১ জন মারা গেছেন, কয়েক হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সবাই এখন দিনের বেলায় শিশুদের মশারির নিচে রাখছেন। বড়রা মোজা পরে থাকেন-কখন এডিস মশা কামড় দেবে সেই ভয়ে। সিটি করপোরেশনের কোন উদ্যোগ নাই। আমি নিজে উত্তরায় থাকি, এখন পর্যন্ত কোন উদ্যোগ দেখতে পাইনি, এটাই বাস্তবতা।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র