Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

জোটের শরিকদের সান্ত্বনা দিল বিএনপি

জোটের শরিকদের সান্ত্বনা দিল বিএনপি
২০ দরীয় জোটের বৈঠক / ছবি: সংগৃহীত
শিহাবুল ইসলাম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের কেউ বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কোনো বিষয় নেই। জোট আছে থাকবে বলে শরিকদের সান্ত্বনা দিয়েছে বিএনপি। একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোট পাশাপাশি থেকে আন্দোলন করবে বলে জানা গেছে।

সোমবার (৮ এপ্রিল) রাতে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের বৈঠক হয়।

বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শরিকদের কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে না। বৃহত্তর ও গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। এতে করে বিএনপির পুরনো মিত্রদের ভুলে যায়নি, তাদের মূল্যায়ন আগের মতই রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ২০ দলীয় জোটের নেতাদের আলাদা আলাদা বক্তব্যে প্রকাশ পায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বিএনপি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে বিএনপির ওপর তারা নাখোশ।

তবে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্ময়ক নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘জোটের মধ্যে কোনো টানাপোড়েন নেই। ২০ দলীয় জোট আগে হয়েছে, আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট পরে হয়েছে। জোটের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে মির্জা ফখরুল ফ্রন্টের মুখপাত্র হয়েছেন। এই দুই জোট পাশাপাশি খালেদা জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্রের মুক্তিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এখানে কেউ বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার কোনো বিষয় নেই।’

অপরদিকে ডেমোক্রেটিক লীগের নেতা সাইফুদ্দিন মুনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে সবাই একটু নাখোশ ছিল, তবে এখন সেরকম নেই। মহাসচিব আমাদের বলেছেন, আমরা সবাই জোটে আছি, থাকব।’

বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) মহাসচিব আব্দুল সাঊদ মতিন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গণতন্ত্র ও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন বিএনপি শুরু করেছে। এখন ২০ দলেরও নামতে হবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সান্ত্বনার আর শেষ নাই, আমাদের দলে মাত্র একটা নমিনেশন দেওয়া হয়েছিল, দুঃখ তো মনে আছেই। মহাসচিব আমাদের বুঝাইলেন।’

বৈঠকে ২০ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিমসহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :

এরশাদের অবর্তমানে জাপার কী হবে, জানালেন জিএম কাদের

এরশাদের অবর্তমানে জাপার কী হবে, জানালেন জিএম কাদের
জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ছবি: সংগৃহীত

‘বড় গাছের নিচে ছোট গাছ কত দিন বাঁচবে! হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির (জাপা) ভবিষ্যৎ কী হবে? পার্টির পদোন্নতি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন। আমি আগেই আপনাদের সেসব প্রশ্নের জবাব দিচ্ছি।’

দলটির বিগত দু'দিনের সাংগঠনিক সভায় এমন প্রশ্ন উঠেছে। এসব প্রশ্ন যাতে আর না করতে হয় সেজন্য এসব কথা বলেন জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

বুধবার (২৬ জুন) মতিঝিল এজিবি কলোনি কমিউনিটি সেন্টারে জাপার সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সাংগঠনিক সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জিএম কাদের বলেন, আপনাদের প্রথম প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে- আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে একমাত্র জাতীয় পার্টি স্বকীয় রাজনীতি করছে। অন্যদের তেমন অবস্থান নেই। এটা ঠিক যে, দেশে জোটের রাজনীতি চলছে। আমরাই কোনো সময়ে জোটের নেতৃত্ব দিতে পারব। আমাদের সামনে সেই সুদিন আসছে। জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে কেউ ক্ষমতায় যেতে পারবে না।

অনেকের মনেই প্রশ্ন আছে, এরশাদের অবর্তমানে পার্টির কী হবে। এরশাদ পরিণত বয়সে উপনীত হয়েছেন, বুধবার (২৬ জুন) সকালে হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন। খোদা না করুক, তার কিছু হয়ে গেলে কী হবে? আমি বলি এরশাদের নির্দেশিত পথে, নেতাকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিকভাবে জাতীয় পার্টি চলবে।

জাপা নেতা বলেন, আমি পারিবারিক পরিচয়ে দলের নেতৃত্ব দিতে চাই না। আপনারা না চাইলে আমি নেতৃত্ব দেব না। আমি চাই এই পার্টির মালিক হবেন আপনারা সকলে। আমি পার্টির সকল কার্যক্রমে আপনাদের সম্পৃক্ত করতে চাই। আমি ক্ষমতার লোভী নই, অর্থলোভী নই। দলকে কাউকে বিক্রি করতে দেওয়া যাবে না। কেউ করার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হবে।

japa

‘হ্যাঁ, এরশাদের অবর্তমানে কিছু সমস্যা হতে পারে। এখন তার নামে যা হচ্ছে, তখন সেটা হবে না, অর্জন করে নিতে হবে।’

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্নের বিষয়ে উত্তর হচ্ছে- কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া কোথাও এটা হচ্ছে না। স্থানীয় পর্যায়ে সব জায়গায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নেতা নির্বাচিত হবেন। কেন্দ্রীয় কমিটি হচ্ছে পার্টির চেয়ারম্যানের টিম, তিনি যাকে ভালো মনে করবেন তাকে নেবেন। কাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করবেন, সেটা তার বিষয়। এভাবেই কাউন্সিলে তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয়। যেমন প্রধানমন্ত্রী কাকে মন্ত্রিসভায় নেবেন, এটা তার বিষয়। কেউ বাদ গেলে তার জায়গায় কাকে নেবেন সেটাও তার বিষয়।

তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে পার্টির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আমার মনে হয় নির্বাচনকালীন সময় যারা ছিলেন তাদের কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল না পরিস্থিতির কারণে। মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছিল। কথা দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এই সুযোগ থাকবে না। আমরা সবাইকে নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সামনে বিভিন্ন দল থেকে লোকজন আসবে, তাদের জায়গা দিতে হবে। তবে ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হবে না। আপনারা মতামত দিলে এক নেতার একপদ নীতি ফলো করতে পারি।

সভায় সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলা, মহানগর, উপজেলা, শহর কমিটির নেতারা অংশ নেন। এর আগে ২৪ ও ২৫ জুন যথাক্রমে ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের নেতারা মতামত দেন।

পাকিস্তানপন্থি সাম্প্রদায়িক শক্তি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে: কাদের

পাকিস্তানপন্থি সাম্প্রদায়িক শক্তি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে: কাদের
বক্তব্য রাখছেন ওবায়দুল কাদের, ছবি: বার্তা২৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে চর্তুথবারের মতো ক্ষমতায় আসায় পাকিস্তানপন্থি সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি মেনে নিতে পারছে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, এই অশুভ শক্তি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে। ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, বড় ধরনের ভয়ঙ্কর কোনো হামলা পরিচালনার জন্য।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে দলের ৭০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার উদ্বোধন করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন হয়েছে। সেই সময়কার চেতনা বিরোধী শক্তি এখন খুবই দুর্বল এ কথা বলার কোন কারণ নেই। এখন সাম্প্রদায়িক মানবতাবাদী চেতনাকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি। এই সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি জঙ্গিবাদে আজও আর্বিভূত হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘হলি আর্টিজেন, শোলাকিয়ার সেই ট্রাজিডির পর আমরা যদি মনে করি- এই সাম্প্রদায়িক শক্তির পতন হয়েছে তাহলে আমরা শ্রীলঙ্কার মতোই ভুল করব। আমাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে, এখনও ষড়যন্ত্র আছে।’

কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার আজকে নির্বাচনে বিপুলভাবে বিজয়ী হয়ে চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে। এটা পাকিস্তানপন্থি

কিছু সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি এটা মেনে নিতে পারছে না।’

‘এই অশুভ শক্তি সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে, সাম্প্রদায়িক শক্তি ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি নিচ্ছে, বড় ধরনের ভয়ঙ্কর কোনো হামলা পরিচালনার জন্য।’

এসময় সবাইকে সর্তক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে নিয়ে অসম্প্রদায়িক শক্তিকে নিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী এ্যালায়েন্স নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভ্রান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংস্কৃতি অঙ্গনে একটা বিভ্রান্তি আছে যে- ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনী এ্যালায়েন্সের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার যে চেতনার পরিপন্থী কাজ করছে।’

‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই- ‘কৌশলগত কারণে পলিসির পরিবর্তন ঘটে। কিন্তু আদর্শিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের চেতনা থেকে এক চুলও সরিনি। আমরা শিকড়ের সঙ্গে আছি, থাকব।’

অনুষ্ঠানের উপ কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর খান, সদস্য সচিব আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সদস্য রিয়াজুল কবির কাওছার ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফাহমিদা নবী, বাপ্পা মজুমদার ও তার দল দলছুট, কিরণ চন্দ্র রায়, বাউল শিল্পী রিজু বাউল, আবৃত্তি শিল্পী ভাস্কর বন্দোপাধ্যানসহ আরও অনেকে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র