Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ ‘রাজনৈতিক’ নাকি ‘সৌজন্যতা’?

বিরোধীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপ ‘রাজনৈতিক’ নাকি ‘সৌজন্যতা’?
ছবি: সংগৃহীত
রেজা-উদ্-দৌলাহ প্রধান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দলীয় সরকারের অধীনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে ধন্যবাদ জানাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে যৌথসভায় প্রধানমন্ত্রী তার এই ইচ্ছার কথা জানান।

নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর এমন ইচ্ছা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও বিরল বলে মনে করছেন অনেকে। ফলে এটা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ইচ্ছা শুধুই ‘সৌজন্যতা’ নাকি ‘রাজনৈতিক কৌশল’ সেটাও বুঝতে চান অনেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই জানেন না এটার মূল উদ্দেশ্য কী। তবে প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াতের অপেক্ষায় আছেন অনেক দলের নেতা।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের শুভেচ্ছা বার্তায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন তিনি দেশ গঠনে অনেকটা নির্ভার। রোববার প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অফিসও করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলগুলোর আপত্তি ও দাবি ততটা আমলে না নিলেও তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। যেটাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উদ্যোগের ফলে রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে যেমন দেখা সাক্ষাৎ হবে তেমনি মতপার্থক্যগুলো পরিস্কার হবে। অনেক কঠিন বিষয়ও সহজেই সমাধান হতে পারে।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ একাধিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে দলীয় সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। এই অর্জন সবার। এজন্য চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রী গণভবনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসতে চান, ধন্যবাদ দিতে চান। তবে ধন্যবাদের আড়ালে বিভিন্ন আলাপ-আলোচনাও হবে। কেননা দেশকে এগিয়ে নিতে বিরোধীপক্ষের চিন্তা-ভাবনাগুলোও জানতে চান প্রধানমন্ত্রী।

তারা আরো জানান, নির্বাচনের আগে সংলাপে শুধু রাজনীতি নয়, দেশ গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে তাদের ভুলে যাননি, তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার আগ্রহ যে তার আছে, সেই বিষয়টাই মুখ্য।

এদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থীদের বিজয়ের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। ফলে দেশে পুনরায় নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। এমনকি বিএনপি’র বিজয়ী প্রার্থীরা শপথও নেননি।

রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে দেখছে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ডাকবেন সংলাপে, একটু তো ইঙ্গিত থাকবে কী কী বিষয় নিয়ে এই সংলাপ। যদি সেটা আমাদের কাছে বিবেচনাযোগ্য হয়, তখন আমরা কমিটিতে সিদ্ধান্ত নেবো।’

প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় নিয়ে ড. কামাল হোসেনের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘ওনাদের প্রত্যাশা অনেক কিছু, সেটা থাকতেই পারে। এখন অপেক্ষা করতে হবে যে কী প্রক্রিয়ায় শুরু হয়। দাওয়াতটা কী প্রক্রিয়ায় হয় সেটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদেরকে দাওয়াত দেওয়া হবে। দাওয়াত যখন দেওয়া হবে সেখানে কথাবার্তা হবে। এটাই এক ধরনের সংলাপ।’

অন্যদিকে ‘সংলাপের’ বিষয় নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল-আলম হানিফ বার্তা২৪.কম’কে বলেন, ‘সংলাপের কথা তো বলা হয়নি। নির্বাচনের আগে যেসব রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়েছিলেন তাদেরকে গণভবনে চা-পানির দাওয়াত দেওয়া হবে। যার ইচ্ছে হবে সে চা-পানি খেতে আসবে। তবে আমরা আশা করি সবাই আসবে।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি

অ্যাড. মনিরের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিল বিএনপি
অ্যাড. মনির হোসেন/ ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট শাখার সহ-সভাপতি অ্যাড. মনির হোসেনের বহিষ্কারাদেশ তুলে নিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠির অনুলিপি হাতে পেলেও গত ১১ জুলাই বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী এতে স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলের গঠনতন্ত্রের ৫ (গ) ধারা মোতাবেক মনির হোসেনকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। মহাসচিবের নির্দেশক্রমে এ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।’

প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির গত ১৩ ও ১৪ মার্চের নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের বাইরে স্বতন্ত্র সম্পাদক প্রার্থী হন অ্যাড. মনির হোসেন। দলের সমর্থিত প্যানেলের বাইরে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় গত ১২ মার্চ আইনজীবী মনির হোসেনকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

গৌরীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের অবস্থান

গৌরীপুরে ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের অবস্থান
গৌরিপুর ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির অবস্থান, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা ও পৌরশাখা ছাত্রলীগের নতুন দুটি কমিটি বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সদ্য সাবেক হওয়া কমিটির নেতাকর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বিকালে পৌর শহরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক বিজয় একাত্তর প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সদ্য সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জিল্লুর রহমান।

এর আগে দুপুরে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের দাবিতে গৌরীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি ওয়াসিকুল ইসলাম রবিনের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগের একাংশ।

উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, 'গঠনতন্ত্র অমান্য করে বয়স্ক, বিবাহিত, ইউনিয়নের বাসিন্দাকে পৌর কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি ও হত্যা মামলার আসামি দিয়ে ছাত্রলীগের উপজেলা ও পৌর শাখার দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছি। অচিরেই কমিটি বাতিল না হলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব আমরা।'

উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন সভাপতি আল মুক্তাদির বলেন, 'নতুন কমিটি ঘোষণার পর দলের ৯০ ভাগ নেতাকর্মী আমাদের সাধুবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। অথচ সাবেক কমিটির একটি পক্ষ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে কমিটি নিয়ে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালাচ্ছে।'

প্রসঙ্গত, গত ৯ জুলাই গৌরীপুর উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আল মুক্তাদির ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইমতিয়াজ সুলতান জনি, পৌরশাখা ছাত্রলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি পদে আল হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক পদে মোফাজ্জল হোসেন মনোনীত করে কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র