Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

ফলাফলের পর সরকার গঠনও প্রত্যাখ্যান বিএনপির

ফলাফলের পর সরকার গঠনও প্রত্যাখ্যান বিএনপির
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

একাদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ও পার্লামেন্ট গঠনের পর এবার সরকার গঠনকে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের পর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি, পার্লামেন্ট গঠন প্রত্যাখ্যান করেছি। এবার সরকার গঠন পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ এ নির্বাচনের ফলাফল কখনোই মেনে নেয়নি৷ সে নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো পার্লামেন্ট গঠন বা সরকার গঠন, এটা নিয়ে মন্তব্য করা তো হাস্যকর ছাড়া কিছু না। আমরা বিশ্বাস করি এ সরকারের কোনো অধিকার নেই যে বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ওপর তাদের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার৷'

বিএনপির এ মহাসচিব বলেন, ‘যে নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি সে নির্বাচনের সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণ পুরোপুরিভাবে এটাকে বর্জন করেছে বলা যেতে পারে। কারণ এটা (সরকার) কখনোই জনগণের ভোটে হয় নাই, জনগণ ভোট দিয়ে এদেরকে নির্বাচিত করে নাই।’

বিএনপি এখন কি করবে এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি এখন যা করার তাই করবে৷ বিএনপি জনগণের দল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। গণতান্ত্রিক আন্দোলন করবে, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম করবে, জনগণের সরকারের জন্য।'

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে এই প্রেক্ষাপটই ছিল এবং এরপরও পাঁচ বছর তারা শাসন করেছে। পাকিস্তান থাকে নাই? থাকছে তো। বিভিন্ন জায়গায় থাকছে না? জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক নাই কিন্তু সরকার আছে। সরকার তো থাকেই, একটা কিছু না কিছু থাকতে হবে। তার সঙ্গে এটাকে মিলিয়ে লাভ নাই।'

সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী) এটা চিন্তা করেন না কেনো যে, আপনার গোটা জাতি বঞ্চিত হয়ে গেছে। একবারও ভাবেন না, গোটা বাঙালি জাতিটাকে আজকে প্রতারণা করলেন। একবারও ভাবেন না, মনের মধ্যে আবেগ আসে না? যে আমরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছি‌ যে চেতনার ভিত্তিতে, সেই চেতনাকে আমি (প্রধানমন্ত্রী) ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছি কিছু লোকের দখলদারিত্বের জন্য।'

হেয় স্বরে তিনি বলেন, ‘আপনি সরকার গঠন করেছেন দেশ পরিচালনার জন্য। আবার আপনারা রেফারেন্স টানবেন।'

আপনার মতামত লিখুন :

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি

খালেদার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাবে বিএনপি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দলগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয় গুলশানে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করেন। বৈঠতে স্কাইপে যুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ঈদের আগে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার যে জামিনের বিষয়টা এসছিল হাইকোর্টে, সেখানে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর থেকেই আমাদের ধারণা দৃঢ় হয়েছে যে, বিচার বিভাগ স্বাভাবিক বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। সে ক্ষেত্রে আইনিভাবে এটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে যে, আমরা ন্যায়বিচার পাব কিনা!

তিনি বলেন, আমরা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত ব্যাপারে এবং তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে, আমরা তাদের অবহিত করব এবং অন্যায়ভাবে যে খালেদা জিয়াকে আটক করে রাখা হয়েছে—সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে ব্যাপক ধস নামা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতায় এ রকম হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এখনও বিদেশ থেকে ওষুধ আসেনি দাবি করে রোগীদের বিনা খরচে চিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ইকবাল ও হাসান মাহমুদ টুকু।

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল

বস্তির মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল: মির্জা ফখরুল
ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শনে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

মিরপুরে বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত গরিব মানুষগুলো একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (১৭ আগস্ট) ‍দুপুরে পুড়ে যাওয়া ঝিলপাড় বস্তি পরিদর্শন করতে যান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল।

তিনি বলেন, বস্তির গরিব মানুষগুলো একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেল! এমন নিদারুণ ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে এ ঘটনায় সমবেদনা জানাচ্ছি।

ক্ষতিগ্রস্ত বস্তিবাসীর উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের সীমিত শক্তি ও সামর্থ্যের মধ্যে আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াব।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, রাজধানীতে বছরের শুরু থেকে কেন একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে? আমি জানি না বস্তি সরিয়ে দেওয়ার জন্য অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কিনা। এজন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে কর্তৃপক্ষকে আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, কেন বারবার আগুন লাগছে? এই মিরপুরে কালশিতে ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড হলো। মানুষ মরল, দগ্ধ হলো। এর আগেও আগুন লেগেছে। এগুলোর সঠিক কারণ বের করা দরকার।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বস্তিগুলোতে যে বারবার আগুন লাগে তার পেছনে কোন না কোন কারণ থাকে। আমি বলছি না কোন উদ্দেশে বস্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। এটা মানুষের মধ্যে সন্দেহের তৈরি করে, তাই এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঝিলপাড় বস্তিতে আগুন লাগে। ৩ ঘণ্টা ধরে চলা আগুনের লেলিহান শিখায় বস্তির প্রায় ৩ হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র