Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

রাজপথে থাকার ঘোষণা রংপুর বিএনপির

রাজপথে থাকার ঘোষণা রংপুর বিএনপির
রাজপথে থাকার ঘোষণা রংপুর বিএনপির। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুর: আর দলীয় কার্যালয়ে নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে রাজপথে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতারা। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় দলীয় প্রধানকে কারাগারে বন্দী করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়ার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। কারাবন্দী খালেদা জিয়াকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর গ্রান্ড হোটেল মোড়স্থ দলীয় কার্যালয় থেকে নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী রংপুরের ছাত্রনেতা, মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আনিছুর রহমান লাকুর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মূল সড়কে বের হতে চাইলে পুলিশি বাধায় কার্যালয়ের সম্মুখেই আটকে পড়েন তারা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশি বেষ্টনীতে কার্যালয়ের ভেতরের গলিতে সমাবেশ করেন দলটির নেতারা।

সমাবেশে বিএনপি নেতারা বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে আগামী দিনে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে রাজপথ দখল করা হবে। আর দলের কার্যালয়ে নয়, এখন থেকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অলিগতিতে মিছিল সমাবেশ হবে। দলীয় প্রধানের মুক্তি ছাড়া দেশে আর কোনো জাতীয় নির্বাচন করতে দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে মামলা প্রত্যাহার ও বিএনপি কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের সকল রাজবন্দী নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবি জানান।

এর আগে রংপুরের আট উপজেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে কার্যালয়ে আসে। এ সময় কার্যালয়ের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সামসুজ্জামান সামুর সভাপতিত্বে ও আনিছুর রহমান লাকুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন- রংপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক পরিতোষ চক্রবর্তী, পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আফসার আলী, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাঙ্গা, বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাহান, স্পেন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, তারাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ পাটোয়ারী, বদরগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও মিঠাপুকুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদুর রহমান রানা, জেলা যুবদল সভাপতি নাজমুল আলম নাজু, মহানগর যুবদল সাধারণ সম্পাদক লিটন পারভেজ, জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক সামসুল হক ঝন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ জিল্লুর রহমান জেমস, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নেওয়াজ জোহা, মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব চৌধুরী, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান শ্রাবণ প্রমুখ।

আপনার মতামত লিখুন :

আ'লীগ জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে: দুদু

আ'লীগ জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে: দুদু
মানববন্ধনে বিএনপির নেতাকর্মীরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, 'খা‌লেদা জিয়া‌কে মুক্ত কর‌তে হ‌লে জেলের তালা ভাঙতে হবে। আন্দোলন করতে হবে। এটা ছাড়া কোনো পথ নেই। আওয়ামী লীগও জেলের তালা ভেঙেছে বিএনপিকেও ভাঙতে হবে। এটাই রাজনীতি, এটাই এখন আমাদের লক্ষ্য, জেলখানা যারা নিয়ন্ত্রণ করছেন তারা গণতন্ত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন।'

বুধবার (২১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে 'দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি' শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। মানববন্ধনের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন নামের একটি সংগঠন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু ব‌লেন, 'আইন-আদালত করে কোনো লাভ হবে না, যারা সিনিয়র আইনজীবী আছেন তারা স্পষ্ট করে এ কথা বলেছেন। যদি তাকে (খালেদা জিয়াকে) বের করতে হয় তাহলে এই স্লোগান আমাদেরকে দিতে হবে। অতীতে যেমন শেখ মুজিবকে বের করার জন্য স্লোগান দিয়েছে মানুষ। ঠিক তেমনি স্লোগান দিতে হবে, জেলের তালা ভাঙবো বেগম জিয়াকে আনব। পাকিস্তান আমলে স্লোগান ছিল- জেলের তালা ভাঙবো শেখ মুজিবকে আনব। জেলের তালা ভাঙতে হবে।'

তিনি বলেন, 'বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের প্রত্যাশা করে, বিএনপি হত্যাকাণ্ড, নৈরাজ্য পছন্দ করে না। বিএনপি রাজপথের আন্দোলন, নির্বাচন, গণঅভ্যুত্থানে বিশ্বাস করে। সেজন্য আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। এক কাতারে শামিল হই। দেশ রক্ষা করি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি। আন্দোলনে আমাদের ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। এছাড়া কোনো বিকল্প নেই। খালেদা জিয়া যদি এখন জেলের বাইরে থাকতেন, তাহলে তিনি কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেন, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতেন, ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেন, ঢাকা শহরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মানুষ যে অসহায় জীবন যাপন করছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন, কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে ধান ক্ষেতে আগুন দিয়েছে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতেন।'

তি‌নি আরও ব‌লেন, 'ব্যাংক ও শেয়ার মার্কেটে যে টাকা লুট হয়েছে তার বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করতেন। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য লড়াই করতেন, রাজপথে নেমে আসতেন। কিন্তু তাকে জেলে আটকে রাখা হয়েছে, যাতে তিনি দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে না পারেন, অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে না পারেন।'

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ছাত্রদ‌লের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, কৃষক দ‌লের সদস্য লায়ন মিয়া মো. আনোয়ার, মৎস্যজীবী দ‌লের নেতা ইসমাঈল হো‌সেন সিরাজী, জাগপার সহ সভাপতি, আবু মোজ্জাফর মোহাম্মদ আনাস প্রমুখ।

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব: আইনমন্ত্রী
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

২১ আগস্ট মামলায় পলাতকদের রায় কার্যকর সম্ভব বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট মামলায় পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের রায় কার্যকর করা আমাদের পক্ষে সম্ভব। আমরা তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছি।

বুধবার (২১ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গ্রেনেড হামলা মামলায় পলাতক তারেক রহমানসহ বাকি আসামিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পলাতকদের ফিরিয়ে আনার পথে কিছুটা জটিলতা ছিল আজও আছে, সেটাও সমাধানের চেষ্টা করছি। আমরা আশা করি, এই রায় কার্যকর করার জন্য তাদেরকে ফিরিয়ে আনা আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে।

মামলার রায় পরবর্তী কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিচারিক আদালত যদি কাউকে ফাঁসি দেয় তাহলে ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭০ ধারা অনুযায়ী সেই মামলা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্ট ডিভিশনে চলে যায়। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার রায়ে কিছু সংখ্যক লোকের ফাঁসি হয়েছে, কিছু আসামির যাবজ্জীবন হয়েছে। ফাঁসি হওয়ার কারণে তা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে চলে গেছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যারা যাবজ্জীবন পেয়েছেন তারাও হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করছেন। হাইকোর্ট বিভাগের নিয়ম হচ্ছে, ডেথ রেফারেন্স ও যাবজ্জীবন সাজাটাকে একসঙ্গে ট্যাগ করে তারা শুনানি করেন। সেই ক্ষেত্রে কিছু ফরমালিটিজ আছে সেগুলো কম্পিলিট করতে হয়।

'এক্ষেত্রে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের পেপারবুক সরকারের তৈরি করে দিতে হয় বিজি প্রেসের মাধ্যমে। এ পেপারবুকের মধ্যে মামলার যাবতীয় কাগজপত্র থাকে। এটা তৈরি করে মামলাটি শুনানির জন্য প্রস্তুত এবং শুনানি হয়।'

তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি এ মামলার পেপারবুক তৈরি হওয়ার জন্য যে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম সেটা শুরু হয়ে গেছে। যেমন কাগজপত্র আসার পরে সেটা সটিং হয়, তারপরে এটা বিজি প্রেসে চলে যায়। আমি এটুকু বলতে পারি একাজ শুরু হয়ে গেছে।

আনিসুল হক বলেন, আমরা প্রসিকিউশন থেকে দেখবো এ পেপারবুক তৈরির কাজটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যেন শেষ হয়। এ মামলার মোট সাক্ষী ২২৫ জন, ফলে পেপারবুক অনেক বড় হবে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত মামলাটির শুনানি শুরু করব।

রায়ের ১০ মাস পার হলেও হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি হচ্ছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা বেশি সময় নয় আমরা বলতে পারি আগামী ২ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মামলাটির পেপারবুক তৈরি হয়ে যাবে, তখন শুনানি হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র