Barta24

শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পুরনো ও সাম্প্রতিক ছবি
ড. মাহফুজ পারভেজ


  • Font increase
  • Font Decrease

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যিনি এক সময়ের সেনাপ্রধান আর বর্তমানে 'প্রধান বিরোধী দলের নেতা', তার জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন করা একই সঙ্গে সহজ এবং কঠিন।

সহজ এ কারণে যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থান স্পষ্ট। এরশাদের ক্ষমতা দখল ও দশ বছরের স্বৈরশাসনের 'সেই' সময় সবার কাছেই প্রতিভাত। এ ব্যাপারে বিতর্ক বা তাকে বৈধতা বা ন্যায্যতা দেওয়া অসম্ভব।

কিন্তু 'এই' সময়ের এরশাদ বিশ্লেষকদের কাছে সহজে ব্যাখ্যা করার ব্যক্তি নন। তার কারাভোগ, রাজনীতিতে লেগে থাকার আগ্রহ এবং ক্রমশ প্রকাশিত বিভিন্ন মানবিক গুণাবলীর কারণে এক অন্য মাত্রার এরশাদকে দেখতে পাওয়া যায়।

এরশাদের মৃত্যুতে সবচেয়ে বিপদে যারা

অবশ্য এ কথাও পরিষ্কারভাবে বলা দরকার যে, এরশাদের ভালো কিছু কাজ থাকলেও তার খারাপ কাজগুলো জায়েজ হয়ে যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে করি না এবং লিখিতভাবেই তা উল্লেখ করেছি।

তারপরও বিস্ময় জাগে। নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশেষত আমরা যারা রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যয়ন ও চর্চায় ব্যাপৃত আছি, তাদেরকে রাজনৈতিক প্রপঞ্চ ও ব্যক্তিত্বের গতিশীলতার ওপর লক্ষ্য রাখতে হয়। তরুণ মার্কস আর পরিণত মার্কসের মধ্যে পার্থক্য রেখা টানতে হয়। একদার কট্টর সাম্প্রদায়িক নেতার জাতীয়তাবাদী-মানবতাবাদীতে রূপান্তরের কার্যকারণ নিরূপণ করতে হয়। আবার বাম, প্রগতিশীল, কমিউনিস্ট নেতার মৌলবাদী স্খলনের ব্যাখ্যাও দাঁড় করাতে হয়।

এরশাদকে এমন তুলনায় আনা হলে আমরা কেমন চিত্র পাব? স্বৈরাচার হয়েও তার কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নমূলক কিছু পদক্ষেপও আড়ালে থাকে না। সমালোচনার পরেও ওষুধ নীতি, ভূমি সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ, ধর্মীয় বিষয়ের গুরুত্ব তাকে অনেক মানুষের প্রিয়ভাজন করেছে।

যদিও এরশাদের রাজনীতির ৪০ বছরের পুরো সময়ই ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে তিনি দশ বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন এবং এখনও বিএনপির রাজনৈতিক ভুলের সুযোগ নিয়ে সামনে চলে আসতে পেরেছেন। দ্বিদলীয় রাজনীতির প্রকৃত বিকাশ হলে তার রাজনৈতিক জীবন এতদূর প্রলম্বিত হয়ে আসতে পারতো কি-না, সন্দেহ।

একজন এরশাদ

যেভাবেই হোক তিনি ক্ষমতার দশ বছর পর আরও তিরিশ বছর রাজনীতিতে থেকেছেন। এ সময়কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথেই ছিলেন। ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে ছিলেন। এবং সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যেই থেকেছেন, যদিও সেই সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।

আপত্তি বা সমালোচনা যাই থাকুক, 'স্বৈরাচারী' এরশাদ গণতান্ত্রিক নির্বাচন, সংসদীয় ব্যবস্থা ইত্যাদিকে পাশ কাটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন, এমন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না। নিজের এবং দলের স্বার্থে তিনি রাজনীতি করেছেন, এমনটি সবাই করে। ফলে এ বিষয়ে সমালোচনার কিছু থাকতে পারে না। তিনি তার ও তার দলের স্বার্থে রাজনীতি করে মহাভারত অশুদ্ধ করেননি।

আর যে কাজটি তিনি সন্তর্পণে করেছেন, তা হলো মানব কল্যাণ ও মানবসেবা। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এবং অন্যান্য গণমাধ্যমেও খবরগুলো প্রকাশ পেয়েছে, যাতে দান, সাহায্য ছাড়াও সম্পত্তি বিলি-বণ্টনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এরশাদ ব্যক্তিস্বার্থ সামনে রেখে রাজনীতি করলেও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড়ের স্তূপ করেননি। ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারের মধ্যে তাকে দেখা যাচ্ছে বিরল ব্যতিক্রম স্বরূপ।

এরশাদ আমলে আমরা যখন কিছুটা লেখালেখি ও সাংবাদিকতা করেছি, তখন তার কাছের লোকদের বরাতে জেনেছি, তিনি পারতপক্ষে কাউকে না করতে বা ফিরিয়ে দিতে পারেন না। তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে কার্যোদ্ধার সম্ভব, এমন একটি ভাষ্যও তখন ঢাকায় প্রচলিত ছিল। এ সুযোগে বহুজন চাকরি-বাকরি, প্লট, প্রমোশন নিয়েছেন। অনেক নারীও এরশাদের এই নমনীয়তার সুযোগ নিয়েছেন।

এরশাদ: জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে

শাসক হিসেবে এসব পক্ষপাত অবশ্যই মানবীয় দুর্বলতা ও নৈব্যক্তিকতার অভাব হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক বিষয় ব্যক্তিগত তোষামোদির মাধ্যমে বিলি-বণ্টন করা ঘোরতর অন্যায় এবং সুশাসনের বিপরীত ও স্বৈরমানসিকতার পরিচায়ক।

কিন্তু এরশাদ যখন ক্ষমতায় নেই, তখন নিজের সম্পত্তি বিলিয়ে দিলে তাকে কেউ সমালোচনা করতে পারে না। তিনি যে দিতে জানেন, দিতে চান, তা আগে ও বর্তমানে তিনি প্রমাণ করেছেন। এই এরশাদকে মানুষ অস্বীকার করবে কেমন করে?

ব্যক্তিগতভাবে এরশাদের সঙ্গে ক্ষমতাকালে ও ক্ষমতার পরে একাধিকবার আমার সাক্ষাত হয়েছে। সেটা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বঙ্গভবন, ধানমণ্ডির কবিতা কেন্দ্র, কারও বাসা, অফিস বা কোনও বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হলেও আমি তার নিপাট ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ ও সম্মানজনক আচরণের চাক্ষুষ সাক্ষী। পরে যখন তিনি জানলেন, ‘সাপ্তাহিক রোববার’ -এ তাকে স্বৈরাচার বলে আমি স্বনামে নিয়মিত লিখেছি, তখনও তার আচরণের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি।

বিশ্ব বেহায়া
এরশাদকে নিয়ে কামরুল হাসানের ব্যাঙ্গচিত্র/ সংগৃহীত

 

এরশাদকে স্বৈরাচার বলে আমরা আন্দোলন করেছি, তার বিরুদ্ধে লিখেছি, পটুয়া কামরুল হাসানের বিখ্যাত ব্যাঙ্গচিত্র 'বিশ্ব বেহায়া'র পোস্টার সেঁটেছি ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেওয়ালে। তার মৃত্যুর পর চট করে তার সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণা ভেঙে যায় না।

শুধু মনের মধ্যে অলক্ষ্যে একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, 'সেই এরশাদ’ আর 'এই এরশাদ’ কি একজনই? ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ আর রাজনীতি শেষে চিরবিদায় নিয়ে চিরদিনের মতো চলে যাওয়া এরশাদ কি একজনই? সহজেই এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না।

ব্যক্তি ও রাজনীতিক এরশাদের প্রকৃত তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে পারবে ইতিহাস। ইতিহাসের সেই রায় জানার জন্য আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে মহাকালের দিকে।

ড. মাহফুজ পারভেজ: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজনীতির প্রবীণতম স্তম্ভ

রাজনীতির প্রবীণতম স্তম্ভ
অধ্যাপক মোজাফফর আহমদে

শতবর্ষ স্পর্শ করার আগে আগে চলে গেলেন বাংলাদেশের রাজনীতির প্রবীণতম স্তম্ভ অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকারের উপদেষ্টা, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সুদীর্ঘকালের সভাপতি।

বাংলাদেশের বাম-প্রগতিশীল রাজনীতির বিকাশ, সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষতার আন্দোলন গঠন, সামরিক শাসন বিরোধী গণতন্ত্রের লড়াই-সংগ্রাম পরিচালনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন সামনের কাতারের নেতা। কট্টর সমাজতন্ত্র থেকে বের হয়ে 'লিবারেল সোশ্যালিস্ট ডেমোক্রেসি' বা 'উদার সমাজবাদী গণতান্ত্রিক' মতাদর্শ বিনির্মাণেও তিনি রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় শ্রেণি সংগ্রাম বা সশস্ত্র বিপ্লবের রাজনৈতিক রণকৌশল থেকে সরে তিনি সংসদীয় ধারার প্রতি আস্থা রেখে রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। 'ধর্ম, কর্ম, সমাজতন্ত্র' শীর্ষক পপুলার স্লোগান দিয়ে তিনি গণতান্ত্রিক আবহের রাজনৈতিক কাঠামোতে প্রগতিশীল-সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট হন। খোদ সোভিয়েত ইউনিয়নে 'পেরেস্ত্রোইকা' ও 'গ্লাসনস্ত'- এর মাধ্যমে খোলা দরজার পুনর্গঠনের নীতি গৃহীত হওয়ার পূর্বেই এই দূরদর্শী নেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনকে জনপ্রিয় ও গণসম্পৃক্ত করতে সচেষ্ট হন।             

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের ছিল একটানা সাত দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। বাংলাদেশের অন্য কোনও নেতা তার মতো ৭০ বছর রাজনীতিতে সরব থাকার সুযোগ পান নি। ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে জন্ম নিয়ে তিনি ৪০-এর দশকে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ২৩ আগস্ট ২০১৯ সালে ৯৭ বছর বয়সে তার সেই বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অবসান ঘটলো।    

ব্রিটিশ শাসনামল থেকে শুরু করে পাকিস্তান শাসনামল শেষে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মুজিবনগর সরকারের উপদেষ্টা। বাংলাদেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন মনে রাখবে।

চল্লিশের দশকে ‘পাকিস্তান উন্মাদনার’ বিপরীতে যে মুষ্টিমেয় প্রগতিশীল মুসলমান তরুণ ছাত্রাবস্থায় বামপন্থায় দীক্ষা নিয়েছিলেন, মোজাফফর আহমদ তাদের একজন। ১৯৫১-৫২ সালে যখন ভাষা আন্দোলন হয়, তখন মোজাফফর আহমদ ঢাকা কলেজের শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিলেও সেখানে বেশি দিন থাকেননি। লোভনীয় ও নিরাপদ চাকরি ছেড়ে তিনি পূর্ণকালীণ রাজনীতিতে নিয়োজিত হন।

১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পূর্ববঙ্গ ব্যবস্থাপক সভার সদস্য হিসেবে মোজাফফর আহমদ বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি ও স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রাখেন।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ১৯৫৭ সালে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) গঠিত হলে তিনি এর কেন্দ্রীয় নেতা হন। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসন জারি হলে মোজাফফর আহমদের নামে হুলিয়া জারি হয় এবং তিনি আত্মগোপনে চলে যান।

অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন।  তিনি ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য। ১৯৬৭ সালে চীন ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে বিরোধের সূত্র ধরে  ন্যাপ বিভক্ত হলে মস্কোপন্থী অংশের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতির দায়িত্ব নিতে হয় তাকে। তারপর থেকে কমরেড মণি সিংহ-কমরেড ফরহাদের আত্মগোপনকালে সোভিয়েতপন্থী রাজনীতির প্রকাশ্য গণফ্রন্টের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির অভাব পূরণ করেছিলেন তিনি ও তার দল মস্কোপন্থী ন্যাপ। তিনি ছিলেন বিভক্ত ন্যাপের মস্কোপন্থী অংশের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে আমলের পুরোটা সময় ন্যাপের সভাপতি। মৃত্যুর পূর্ব-পর্যন্ত তিনি এ পদে আসীন ছিলেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান ছিল ঐতিহাসিক ও গৌরবময়। মুক্তিযুদ্ধকালে মোজাফফর আহমদ মুজিবনগর সরকারে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যান তিনি। মোজাফফর আহমদের সম্পাদনায় ‘নতুন বাংলা’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকাও প্রকাশিত হয়েছিল মুজিবনগর থেকে। পরবর্তীতে তিনি পত্রিকাটিকে সাপ্তাহিক আকারে দলীয় মুখপত্র রূপে প্রকাশ অব্যাহত রাখেন।

আশির দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী এই প্রবীণ রাজনীতিক ১৯৮১ সালে ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি ও একতা পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে, নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে তিনি সর্বদাই সরব ছিলেন।

নেতৃত্ব ও মতাদর্শিক কারণে বৃহত্তর সোভিয়েতপন্থীদের অনেকেই ক্রমে ক্রমে তার দল ও তাকে ছেড়ে চলে গেলেও সততা ও আদর্শবাদিতার প্রশ্নে তিনি ছিলেন সর্বজন শ্রদ্ধেয়। রাজনীতিকে তিনি দেশসেবা ও জনসেবা অর্থে গ্রহণ করেছিলেন, পদ-পদবি বা অর্থ উপার্জনের মাধ্যম করেন নি। যে কারণে ক্ষমতার রাজনীতি বা মন্ত্রিত্বের আহ্বান তাকে বিচলিত করে নি।

এমনকি, দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা 'স্বাধীনতা পদক' গ্রহণেও তিনি অস্বীকৃতি জানান। কারণ, তিনি কোনও কিছু পাওয়ার জন্য রাজনীতি করতেন না, এই ঘোষিত নীতিগত অবস্থানের কারণে পদক গ্রহণ করেন নি। বাংলাদেশের ইতিহাসে পদক প্রত্যাখানের প্রথম ও একমাত্র উদাহরণ তিনি।     

তিনি স্পষ্ট জানিয়ে গেছেন, 'পদক দিলে বা নিলেই সম্মানিত হয়, এই দৃষ্টিভঙ্গিতে আমি বিশ্বাসী নই। দেশপ্রেম ও মানবতাবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি রাজনীতিতে এসেছিলাম, কোনো পদক বা পদ-পদবি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেনি। সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন, জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তারা কেউই কোনো প্রাপ্তির আশায় নেননি।' তিনি আরও বলেছেন, 'রাজনীতির অর্থ দেশ সেবা, মানুষের সেবা। পদ বা পদবির জন্য কখনো রাজনীতি করি নাই। শেখ মুজিব আমাকে অনেক কিছু বানানোর চেষ্টা করেছিলেন আমি হই নাই। আমি মহাত্মা গান্ধী, মাওলানা ভাসানীর অনুসারী।'

তিনি বাংলাদেশের ক্ষয়িষ্ণু ও অবক্ষয়ের রাজনৈতিক ধারায় একজন উজ্জ্বলতম ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রবীণতম স্তম্ভ আর আদর্শিক সততার সুউচ্চ মিনার ছিলেন তিনি। অধ্যাপক মোজাফফর আহমদের মৃত্যুতে জাতি হারিয়েছে ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ, সৎ, দেশপ্রেমিক, জনদরদি একজন রাজনৈতিক নেতাকে। বাংলাদেশ হারিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাদীপ্ত, প্রগতিশীল, গণমুখী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে।

উচ্চশিক্ষার গুণগত পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাকিং উন্নয়নে প্রস্তাবনা

উচ্চশিক্ষার গুণগত পরিবর্তন এবং বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাকিং উন্নয়নে প্রস্তাবনা
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস পরিক্রমা। বলা যায়, আধুনিক চিন্তা-চেতনা ও ধ্যান- ধারণার ভিত্তিতে ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। তবে ১৪০০-২০০০ বছর পূর্বের এ অঞ্চলের পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থানগড়), পাহাড়পুর ও ময়নামতির বৌদ্ধ মঠগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষার নিদর্শন পাওয়া যায়। প্রখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান বাংলাদেশ থেকে বেশি দূরে নয় এবং সপ্তম শতাব্দীতে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ছিলেন শীলাভদ্র নামক একজন বাঙালি। বর্তমানে বাংলাদেশে আমরা উচ্চশিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহান ঐতিহ্যের গর্বিত উত্তরাধিকারী। তবে, এ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাব্রিটিশ আমলে বাংলাদেশে (পূর্ববাংলা) শিক্ষার উন্নয়নের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ব্রিটিশ শাসনামলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল বাংলাদেশ নামক এ ভূখণ্ডে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ১৯৫৩-১৯৭০ সময়কালে পাকিস্তান আমলে আরও পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। দেশ স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর শিক্ষার্থী সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দেশকে একটি মেধাসম্পন্ন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ উন্নত জাতি গড়ার লক্ষ্যে স্বাধীনতা লাভের পর পরই ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর (প্রথম বিজয় দিবস) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ প্রাধান্য ও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরেন। উচ্চশিক্ষার প্রসার ও মানসম্মত উন্নয়নই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে আসীন করার পথকে সুগম করবে।

বিশ্বব্যাপী যখন অর্থনৈতিক মন্দা অব্যাহত রয়েছে, বাংলাদেশ তখন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ৭ থেকে ৮ শতাংশ স্থিতিশীল জিডিপি অর্জন করেছে। উচ্চ সম্ভাবনা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি বাংলাদেশকে পরবর্তী এগারোটি সম্ভাবনাময় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশ্বে ৭ম জনবহুল (১৬০ মিলিয়ন) দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ সামাজিক ক্ষেত্রে ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি)-এর অধিকাংশই অর্জন করেছে। এ দেশের ১৫ থেকে ৩৫ বছরের আশি মিলিয়ন (আট কোটি) যুবশক্তিকে আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা এবং উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব হলে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্জিত হবে। এজন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাক্ষরতার হার ৬৩.০৮ শতাংশ এবং উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ শতাংশের অধিক। উচ্চশিক্ষা স্তরে এ বৃদ্ধি বিস্ময়কর। বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা স্তরে ২০০৯ সালের ১.৬ মিলিয়ন শিক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯ সালে ৩.৮ মিলিয়ন শিক্ষার্থীতে উন্নীত হয়েছে যা একটি কোয়ান্টাম জাম্প। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার এ ব্যাপক বিস্তার ও সম্প্রসারণ শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এটি স্পষ্ট যে, উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এ দেশের উদীয়মান বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সমৃদ্ধি পূর্ব এশিয়া এবং নর্ডিক অঞ্চলের দেশসমূহে দৃশ্যমান। এ  দেশের শিক্ষা বিশেষকরে উচ্চ শিক্ষায় গুণগতমান বৃদ্ধির জন্য একটি পদ্ধতিগত বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং-এর গুরুত্ব :

বিগত কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে এসকল প্রতিষ্ঠানসমূহের পদ্ধতিগত র‌্যাংকিং শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের জন্য অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছে। এজন্য বিভিন্ন র‌্যাংকিং যেমন-একাডেমিক র‌্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ (এআরডব্লিউইউ), টাইমস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংস, ওয়েবোমেট্রিকস র‌্যাংকিং, কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং ইত্যাদি বিশ্বব্যাপি চালু হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও সম্প্রসারণ ঘটেছে যা অতীতে কখনোই ঘটেনি।

ইউনেস্কোর মতে, উচ্চশিক্ষাস্তরের গবেষণায় জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সব ধরনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত হবে যা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ প্রদান করবেন। সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য অধিভুক্ত কলেজসমূহ প্রতিবছর গ্রাজুয়েট তৈরি করে যারা দেশের অর্থনৈতিক গতিকে ত্বরান্বিত করতে ভূমিকা রাখেন।

 

নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সম্প্রসারণ, উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার চাহিদা নিরূপণ, উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৬ডিসেম্বর (প্রথম বিজয় দিবস) ১৯৭২ সালে প্রথম বিজয় দিবস-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির ১০ নং আদেশে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে তিনভাগে ভাগ করা যেতে পারে, যথা :(১) সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: এটি সরকারি অর্থায়নে ও সহায়তায় পরিচালিত হয় (২) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: এটি বেসরকারি খাতে উচ্চশিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যা বোর্ড অব ট্রাস্টিজ কর্তৃক পরিচালিত (৩) আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়: এটি ওআইসি‘র মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক আর্থিক অনুদান পেয়ে থাকে। দেশে বর্তমানে মোট ১৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তন্মধ্যে ৪৯টি সরকারি, ১০৪টি বেসরকারি ও ০২টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।

জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে উচ্চশিক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যদি শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে সমগ্র জাতির জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। কাজেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যথার্থ র‌্যাংকিং পদ্ধতি অত্যাবশ্যক। সর্বমহলে গৃহীত র‌্যাংকিং পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন, সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, আর্থিক সুবিধা অর্জন, নতুন গবেষকদের গবেষণা কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সহায়তা এবং প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্যে গঠনমূলক প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। বিশ্বে একাধিক র‌্যাংকিং পদ্ধতি চালু রয়েছে। যেমন : দি টাইমস হায়ার এডুকেশন সাপ্লিমেন্ট, ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংস (দি র‌্যাংকিং)’, কোয়াককোয়ারেলি সিমন্ডস (কিউএস), ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংস’, দি সাংহাই জিয়াও টং ইউনিভার্সিটি, ‘একাডেমিক র‌্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ (এআরডব্লিউইউ)’, ওয়েবোমেট্রিকস র‌্যাংকিং অব ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটিজ, ওয়েবোমেট্রিকস র‌্যাংকিং (স্প্যানিস ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল কর্তৃক প্রকাশিত), দি গার্ডিয়ান হায়ার এডুকেশন নেটওয়ার্ক, ইউনেস্কো র‌্যাংকিংস এন্ড একাউন্টেবিলিটি ইন হায়ার এডুকেশন, ইউএস নিউজ এডুকেশন, ইউনিভার্সিটাস ২১ এবং এনটিইউ র‌্যাংকিং।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বাংলাদশের মতো একটি উদীয়মান দেশে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা –এ ১৭টি সূচকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রার চতুর্থ ও অন্যতম গূরুত্বপূর্ণ সূচক হলো শিক্ষা। বর্তমান সরকার শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জন, বৈশ্বিক চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভাবনমূলক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষা সহায়ক বিভিন্ন পর্যায়ে নীতিনির্ধারণে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে আধুনিকভাবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণেও কাজ করে চলেছে। তবে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে র‌্যাংকিং পদ্ধতি চালু হয়নি। কাজেই বাংলাদেশে একটি যথোপযুক্ত র‌্যাংকিং পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না। গুণগত মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিতসহ শিক্ষার অন্যান্য ক্ষেত্রে মান বজায় রাখতে র‌্যাংকিং পদ্ধতি জরুরি।এই র‌্যাংকিং পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে সুষম প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। একটি দেশে যথার্থ র‌্যাংকিং পদ্ধতি না থাকলে উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নেয়া যায় না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এবং সদ্য প্রতিষ্ঠিত অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল যৌথভাবে র‌্যাংকিং পদ্ধতি চালু করতে পারে।  অনেকগুলো মানদণ্ডের ভিত্তিতে র‌্যাংকিং পদ্ধতি হওয়া উচিত।

সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য উপকারী হবে এমন একটি র‌্যাংকিং পদ্ধতি চালু করাই আমাদের লক্ষ্য। প্রস্তাবিত মেথোডোলজিতে গবেষণা, ফ্যাকাল্টি, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ও অবকাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম, অ্যালামনাই, চাকরির বাজারে প্রবেশে শিক্ষার্থীদের কর্মদক্ষতা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ইত্যাদি সূচক ব্যবহৃত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাংকিং উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব

১। আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী, তথ্য ও ডকুমেন্টেশন ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রশিক্ষণের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং তা সময়মত আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং কর্তৃপক্ষ, ইউজিসি‘র নিকট পেশ করতে হবে। একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হালনাগাদ করতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিইউএসি (ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল) এ লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

ক. আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং নির্ধারণে যে সূচক ব্যবহৃত হয় তার সাথে সঙ্গতি রেখে শিক্ষা ও গবেষণা সংক্রান্ত অভিন্ন তথ্যাদি সংবলিত ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে।

খ. প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গবেষণা ব্যবস্থাপনা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্র চালু করতে পারে।

গ. সমন্বিতভাবে গবেষণা কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জাতীয় গবেষণা কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে।

ঘ. আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিং পদ্ধতির চ্যালেঞ্জসমূহ শনাক্তকরণ।

ঙ. শীর্ষ স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে সুনাম একটি র‌্যাংকিং সূচক হতে পারে, কারণ একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর মাধ্যমে পৃথক করা খুবই সহজ।

চ. শিল্প প্রতিষ্ঠানের চাহিদা পূরণে উচ্চমানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কাজ করতে হবে।

ছ. প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পারফরমেন্স এর ভিত্তিতে র‌্যাংকিং নির্ধারিত হবে। কাজেই প্রতিষ্ঠানসমূহকে তাদের স্ব স্ব অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে।

জ. বর্তমানে বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে আরও দক্ষতার সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে উচ্চমানসম্পন্ন তথ্য প্রযুক্তি সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়-এর অনুষদভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ র‌্যাংকিং পদ্ধতি প্রবর্তন করতে হবে। এ ধরনের র‌্যাংকিং পদ্ধতি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি এবং স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানকে তাদের কর্মকাণ্ডে  উৎসাহ যোগাতে ভূমিকা রাখবে।                

ক. প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় অভ্যন্তরীণ র‌্যাংকিং পদ্ধতি প্রতিষ্ঠা করবে যার মাধ্যমে তারা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব  গড়ে তুলবে।               

খ. বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাংকিং পদ্ধতি চালুর লক্ষ্যে কোয়ালিটি ম্যাট্রিক্স এন্ড মেথডস ক্রাইটেরিয়া সনাক্ত করতে হবে। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় এই পদ্ধতিতে অবশ্যই মূল্যায়িত হবে।

গ. বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থা নিশ্চিতকল্পে বিভিন্ন মানদ- এবং কৌশল সনাক্ত করতে হবে।

ঘ. দেশের বাইরে যেসকল শিক্ষাবিদরা কাজ করছেন তাদেরকে শিক্ষাসংক্রান্ত কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের প্রকাশনা ও উপস্থাপনা এদেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

ঙ. প্রবাসী বাংলাদেশিদেরকে গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য শ্রেণিভুক্ত করা যেতে পারে।

চ. সাইটেশন বা উদ্ধৃতিকরণ র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শিক্ষকগণের আন্তর্জাতিক মানের মৌলিক গবেষণা বিভিন্ন দেশি-বিদেশি জার্নালে প্রকাশিত হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জর্নাল  সিস্টেম যেমন : স্কোপাস, ওয়েব অব সাইন্স, আইএসাই,গুগোল স্কলার বা রিসার্চগেটে অন্তর্ভুক্ত না করায় মৌলিক গবেষণাকর্ম হওয়া সত্ত্বেও এর সাইটেশন এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে র‌্যাংকিং এর ক্ষেত্রে এ সূচকে গবেষক/বিশ্ববিদ্যালয় পর্যাপ্ত ক্রেডিট থেকে বঞ্চিত হয়। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষকগণকে আরও সচেষ্ট হতে হবে।

উচ্চশিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি

শিক্ষাই জাতীর মেরুদণ্ড। আর উচ্চশিক্ষা একটি জাতীর অর্থনীতির চালিকাশক্তি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা ছাড়া একটি জাতীর পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব নয়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশে গুণগত মানসম্পন্ন গ্রাজুয়েট বড়ই প্রয়োজন। গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে সহায়তা করে।

বাংলাদেশে অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকার কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছে। উচ্চশিক্ষায় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের চাহিদা পূরণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় পরবর্তীতে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। বিগত দশকগুলোতে এই ধারা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলেছে। ইউজিসি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ১০৪টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ০২টি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। নতুন নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধুমাত্র এর সংখ্যাগত দিক বৃদ্ধি করলেও সে অনুযায়ী মান বৃদ্ধি করেনি। আমাদের প্রচলিত ধারণা, এদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা উন্নতমানের। র‌্যাংকিং পদ্ধতি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দেশের উচ্চশিক্ষা উন্নয়নের জন্য প্রস্তাবিত উদ্যোগ নিম্নরূপ:

ক. গবেষণা ও উন্নয়নের সংস্কৃতি অভিযোজনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে।

খ. ইউজিসি মানসম্পন্ন পাঠদান, গবেষণা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় দক্ষ গ্রাজুয়েট তৈরির ক্ষেত্রে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে লক্ষ্যভিত্তিক এ্যাপ্রোচ চালু করবে। এই লক্ষ্যভিত্তিক এ্যাপ্রোচকে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মদক্ষতা ও তহবিল বরাদ্দের সাথে সংযুক্ত করতে হবে।

গ. গবেষণার ফলাফল নির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়ার (প্রকাশিত জার্নাল, কনফারেন্স, হাই ইমপ্যাক্ট জার্নালস এবং কমার্শিয়ালাইজেশন ইত্যাদি) ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।

ঘ. গ্রাজুয়েটদের চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য কোর্স-কারিকুলাম, জ্ঞান, দক্ষতার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাঠামোবদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা স্থাপন করতে হবে। ৪-৬ মাস এর বাধ্যতামূলক ও কার্যকরি ইন্টার্নশিপ চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে গ্রাজুয়েটদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে।

ঙ. শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, নতুন পাঠদান পদ্ধতি, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়ন ও তদারকি করতে হবে।

চ. কাঙ্খিত উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের পরিচালনার লক্ষ্যে বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।

ছ. ফলাফল ভিত্তিক শিক্ষা (আউটকাম বেজড এডুকেশন) এর আলোকে বিভিন্ন ডিগ্রির যোগ্যতা সনাক্তকরণের জন্য পদ্ধতি চালু করতে হবে।

জ. প্রয়োজনীয় শর্তারোপ করে স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে চয.উ প্রোগাম চালু করা যেতে পারে। যে বিষয়ে চয.উ প্রদান করা হবে সে বিষয়ে কমপক্ষে ০৫ জন চয.উ ডিগ্রিধারী পূর্ণকালীন অধ্যাপক থাকতে হবে এবং প্রত্যেক অধ্যাপকের ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নালে অন্তত ১০টি প্রকাশনা থাকতে হবে (এটি প্রতি বছর প্রযোজ্য হবে)।

ঝ. গবেষণা, উন্নয়ন ও এর বাজারজাতকরণের জন্য ওছঅঈ এর মতো প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার (ইউআইআইসি) চালু করা যেতে পারে।

ঞ. পুরস্কার, স্বীকৃতি ও আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে গবেষণা ও এর বাজারজাতকরণ সংস্কৃতি ত্বরান্বিত করতে হবে।

ট. শিক্ষকদের গবেষণালব্ধ ফলাফল আন্তর্জাতিকমানের জার্নালে (হাই ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর জার্নাল/ইনডেক্স জার্নালে) প্রকাশিত হলে গবেষক এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করা যেতে পারে।

ঠ. শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সাথে ২-৫ বছরের কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা যেতে পারে।

ড. একাডেমিক এক্সিলেন্সের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বজনবিদিত সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে।

ঢ. যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে গবেষণা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি করতে হবে।

ণ. জাপানের আদলে বাংলাদেশের শিল্পনীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে যাতে করে শিল্প-প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণায় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যয় করবে।

বাংলাদেশ সম্প্রতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অন্যতম কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং প্রযুক্তি প্রদর্শনীতে ক্রমাগত সাফল্য বজায় রাখছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকেদক্ষ মানবসম্পদ এবং উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার ইতোমধ্যেই কয়েকটি বিষেশায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনির্ভাসিটি ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় এবং বিশ্বে ১২তম মেরিটাইম ইউনির্ভাসিটি।এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনির্ভাসিটি২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করে এবং বঙ্গবন্ধু এভিয়েশন এন্ড এ্যারোস্পেস ইউনির্ভাসিটি প্রতিষ্ঠা বিল ২০১৯ সালের ২  ফেব্রুয়ারি মহান জাতীয় সংসদে পাস হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বিকাশমান দেশ। অদূর ভবিষ্যতে এর র‌্যাংকিং আরও উচ্চমানে উন্নীত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরও বেশি গতিশীল করার পর্যাপ্ত সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের র‌্যাংকিং একটি দেশ ও জাতির উচ্চশিক্ষার উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির মধ্যে অন্যতম। আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অবস্থান সৃষ্টি করতে পারেনি। এমনকি র‌্যাংকিং আপগ্রেড করার জন্য যথোপযুক্ত মেথোডলজি তৈরি করা সম্ভবপর হয়নি। এই প্রস্তাবটি প্রথমবারের মতো একটি প্রাথমিক কাঠামোর অবতারণা করেছে যা যেকোন র‌্যাংকিং পদ্ধতির জন্য ব্যবহারোপযোগী হতে পারে এবং উচ্চশিক্ষার গুণগত পরিবর্তন আনতে পারে।

লেখক: প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র