Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মিয়ানমারের অনীহা ও বিশ্ব মোড়লদের উদাসীনতা

মিয়ানমারের অনীহা ও বিশ্ব মোড়লদের উদাসীনতা
এরশাদুল আলম প্রিন্স, ছবি: বার্তা২৪
এরশাদুল আলম প্রিন্স


  • Font increase
  • Font Decrease

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চায় না। মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চাইলে তাদের মেরে দেশ থেকে বিতাড়ন করতো না। দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে পুরো একটি জনগোষ্ঠীর ওপর এভাবে কেউ নির্যাতন নিপীড়ন চালায় না।

সম্প্রতি তিন দেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী আর রাখঢাক না রেখেই রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে মিয়ানমারের অনীহার কথাটি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আমাদের সব চেষ্টাই কি শেষ হয়ে গেছে? আর কি কোনো উপায়ই নেই?

একথা সত্য, আপাত দৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে দিতে বাংলাদেশ কম চেষ্টা করেনি। তবে আন্তর্জাতিক পরিসরে হয়তো আরও কিছু করার ছিল। বাংলাদেশ মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখলে হয়তো একটা সমাধানের পথ বের হতো। কিন্তু আমরা নিজের ব্যর্থতাই হোক অথবা বিশ্ব মোড়লদের সঙ্গে রাগ-গোস্বা করেই হোক, অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেকে পিছু হটেছি। এটি মিয়ানমারকে সুবিধা দিয়েছে। মিয়ানমার তলে তলে তার কাজটি ঠিকই করে গেছে।

মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বিতাড়নের জন্য যে বদ্ধ পরিকর ছিল এটি পরিষ্কার। এটা তাদের দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনারই বাস্তবায়ন মাত্র। ফলে বাংলাদেশের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কোনো বিকল্প ছিল না। এর একটি বড় প্রমাণ হলো, অব্যাহত চাপের ফলেই মিয়ানমার বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও এটি আগেই বোঝা গিয়েছে যে মিয়ানমার ওই চুক্তিটি করেছে মূলত তাদের ওপর চাপ প্রশমনের একটি কৌশল হিসেবেই। সে কৌশলে মিয়ানমার জয়ী হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ চুক্তি বাস্তবায়ন তথা আন্তর্জাতিক পরিসরে মিয়ানমারের ওপর কার্যত চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখতে পারেনি। সেটি করতে পারলে হয়তো মিয়ানমার পিছু হটতো। কিন্তু আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল, আমরা ‘বিশ্ব মোড়ল’ বা ‘বড় ভাই’দের কাউকেউ সঙ্গে পাইনি।

সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। শরণার্থীরা আসা শুরু করেছে প্রায় দুই বছর হয়ে গেল। কিন্তু এখনও উল্লেখ করার মতো কোনো রোহিঙ্গা নিজে দেশে ফেরত যায়নি। এর মূল কারণ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে মিয়ানমারের অনীহা ও বিশ্ববাসীর উদাসীনতা।

আমাদের সবচেয়ে পরীক্ষিত বন্ধু বলে খ্যাত ভারতও রোহিঙ্গা প্রশ্নে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়নি চীন ও জাপান। ট্রাম্পতো আগেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন আর পুতিনও সে পথেই গিয়েছেন। ফলে রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশে বিশ্ব একা। কেউ কেউ কিছু তাৎক্ষণিক খয়রাতি সাহায্য নিয়ে এগিয়ে এসেছে। কিন্তু বিশ্ববাসীর বুঝতে হবে, ১১ লাখ মানুষের ভরনপোষণ দুই টন গম, এক টন খেজুর আর দুই বান্ডেল ঢেউ টিনের কাজ না।

বিশ্ব মোড়ল এমনকি মুসলিম দেশগুলোর এমন উদাসীনতা দেখে প্রধানমন্ত্রী তার সেই হতাশাই ব্যক্ত করেছেন মাত্র। মুসলিম দেশগুলোও রোহিঙ্গাদের মতো একটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য এগিয়ে আসেনি। মুসলিম বিশ্ব একসঙ্গে মিয়ানমারকে একটি ধমকও দিতে পারেনি। পারবে কীভাবে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্য নেই। প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই মুসলিম দেশগুলোকে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে আহবান জানিয়েছিলেন, কিন্তু কিছুতেউ কেউ রা করেনি। না বিশ্ব মোড়ল না মুসলিম উম্মাহ। তাই গত ১ জুন প্রধানমন্ত্রী এক রকম বাধ্য হয়েই ওআইসি সম্মেলনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের প্রসঙ্গ টেনেছেন। এ ব্যাপারে তিনি মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে অন্তত কারিগরি সহায়তা যেন পান, সেই আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা নিয়ে মিয়ানমার মিথ্যাচার করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মিয়ানমার চাপ প্রশমনের কৌশল হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করেছে। চাপ শেষ, চুক্তিও খতম। অং সান সু চি বহুদিন ঘাপটি মেরে বসেছিলেন। হঠাৎ করে তিনি সম্প্রতি চেক প্রজাতন্ত্র ও হাঙ্গেরি সফর করেছেন। সেখান সু চি ও চেক নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, তাদের দুই দেশ তথা দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ‘অভিবাসন’। শুধু তাই নয়, তারা আরও বলেছেন, দুই অঞ্চলেই মুসলিম জনগোষ্ঠীর অব্যাহত সংখ্যা বৃদ্ধি’ এক বড় চ্যালেঞ্জ। এর মানে তারা দক্ষিণ এশিয়া মুসলিম অভিবাসীদের একটি সমস্যা হিসেবে দেখছেন। ‘মুসলিম জনগোষ্ঠী’ বলতে তারা মূলত এখানকার রোহিঙ্গাদের বোঝাচ্ছেন। একেই বলে চোরের মায়ের বড় গলা। যে সমস্যার সৃষ্টি করলো সুচি, অথচ সে সমস্যার জন্যই তিনি দুষছেন রোহিঙ্গা তথা এ অঞ্চলের মুসলিমদের।

পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জাতিগত সংঘাত ও বিদ্বেষের জননী ‍সু চি। শুধু জাতিগত নিপীড়নই নয়, একটি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার সব রকম চেষ্টাই করেছেন তিনি। পৃথিবীর ইতিহাসে এরকম নজির সু চির আগে শুধু হিটলারই সৃষ্টি করতে পেরেছেন। মৃত হিটলার আজও ঘৃণীত। অথচ সু চি আজও শান্তির দূত! নোবেল পদকপ্রাপ্ত। যে সমস্যার সৃষ্টি করেছেন ‍সুচি, আগুন লাগিয়েছেন সু চি, অথচ হাঙ্গেরি গিয়ে তিনি দুষছেন দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের। এটাই পরিহাস!

হিটলারের প্রচারমন্ত্রী ছিলেন গোয়েবলস। মিথ্যাকে গোয়েবল শৈল্পিক কায়দায় প্রচার করতেন। মিথ্যার রাজনীতিতে গোয়েবলরা আজও অপরিহার্য। কিন্তু সুচির গোয়েবলসও লাগে না। তিনি নিজেই সে কাজটি করে চলেছেন। মিয়ানমার যে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না এটা জলবৎ তরলং। কিন্তু তিনি শরণার্থী প্রত্যাবাসন না হওয়ার দোষ চাপাচ্ছেন বাংলাদেশের ওপর। শুধু তাই নয়, অন্যান্য দেশের নেতারা তার কথা বিশ্বাসও করছেন। এক চেক মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন ও প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশর উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।

অস্বীকার করা যাবে না, বর্তমান বিশ্ব কূটনীতিতে মিডিয়া একটি বড় নিয়ামক। ন্যায়-অন্যায় যাই হোক, নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হয়। যার অন্যায় যতো বড় তার প্রচারণাও ততো বেশি। সুচিও তাই করেছেন। দেশে বিদেশে একের পর মিথ্যা বয়ান করে যাচ্ছেন। এসব মিথ্যাচারের জন্য সুচিকে আমরা নিন্দা করতে পারি। কিন্তু স্বীকার করতে হবে, এটাই ছিল তাদের কূটনৈতিক কৌশল এবং এতে তারা জয়ী হয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্ব মোড়লদের সঙ্গে গোস্বা করে হারের আগেই হার মেনে বসে আছি। পৃথিবীর বুকে নিকৃষ্টতম মানবাধিকার হরণের তথ্যচিত্র আমরা বিশ্ববাসীর নজরে আনতে পারিনি, প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারিনি। কোনো ‘বড় ভাই’দের পাশে পাইনি।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়ার জন্য তাদের মেরেকেটে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দেয়নি। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত না হলে তারা ফিরতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক। মিয়ানমার চুক্তি অনুযায়ী সে ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু তারা তা করছে না। রোহিঙ্গারাও ফিরছে না। ফলে, আমরা বলতেই পারি, মিয়ানমারের সঙ্গে এ চুক্তিটি আমাদের পক্ষে যায়নি। এটি মিয়ানমারের কূটনৈতিক কৌশলের অংশমাত্র।

মিয়ানমার তার দৌড়ঝাঁপ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা মাঠে নাই। ফলে, আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতেই হবে। মিয়ানমারের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে। চীন, ভারত, রাশিয়া, ফ্রান্স, জাপানসহ অপরাপর দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গেও গভীর যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র