Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সম্মানিত উপাচার্য পদের জন্য অসম্মানিত পন্থা

সম্মানিত উপাচার্য পদের জন্য অসম্মানিত পন্থা
মো. জাকির হোসেন, ছবি: বার্তা২৪.কম
মো. জাকির হোসেন


  • Font increase
  • Font Decrease

খুব ভালোবাসি। প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসি প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি অধ্যয়ন করিনি। চাকরিসূত্রে সখ্য শুরু হলেও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কেবল রুটি-রুজির সম্পর্ক নয়।

ভালোবাসা, মুগ্ধতা আর মমতার রাখী বন্ধনের সম্পর্ক এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। মানুষ যেমন মুহূর্তেই সুন্দর মুখের প্রেমে পড়ে, তেমনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য প্রথম দর্শনেই যে কাউকে মোহিত করবে। চারদিকে সবুজের সমারোহ, ছোট-বড় অসংখ্য পাহাড়, পাহাড়ের গা ঘেঁষে বয়ে চলা স্বচ্ছ পানির ঝরনা ও ঝিরিধারা। অজগর, হরিণ, বানর, সজারু, ‘আসমতি’ ব্যাঙ, পতঙ্গভুক উদ্ভিদ, পাখ-পাখালীসহ নানা বন্য প্রাণীর বিচরণ ও উদ্ভিদের দেখা মেলে এখানে। জীব-বৈচিত্র্য ও অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পাহাড়ের বুক চিড়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এ বিশ্বদ্যিালয়।

বলছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। ৫৪ বছরের এ জীবনের আধেক সময় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে কেটে গেছে। যৌবনের শুরুতে যে সম্পর্ক, প্রৌঢ়ত্বে এসে সে ভালোবাসায় মোটেও ভাটা পড়েনি, বরং ভালোবাসা গাঢ়তর হয়েছে। জীবনের অংশ বনে যাওয়া এ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দে-প্রাপ্তিতে যেমন উছ্বসিত হয়েছি তেমনি এর দুঃখে, অবনমনে কষ্ট পেয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছি। বের হয়ে যাব এমন সময় পত্রিকার প্রথম পাতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে চোখ আটকে গেল। সংবাদটা পড়ে দুঃখিত, অপমানিত, লজ্জিত হলাম। সংবাদে প্রকাশ উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে প্রার্থীদের কেউ কেউ গত কয়েক মাস ধরে দৌড়-ঝাঁপ করছেন। উপাচার্য পদে আসীন হতে কোনো কোনো শিক্ষক টানা দেড় থেকে দুই মাস তদবির করে যাচ্ছেন। একজন শিক্ষক রাজনৈতিক নেতার পা ছুঁয়ে সালামও করছেন। মন্ত্রী, আমলা, সাংসদ, স্থানীয় রাজনীতিক এমনকি ছাত্র নেতৃবৃন্দের কাছেও ধরনা দিচ্ছেন। সংবাদটি কেবল উপাচার্য পদ প্রত্যাশীদের সামাজিকভাবে অবনমন করেনি, বরং পুরো শিক্ষক সমাজকে বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করেছে, লজ্জিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অন্যান্য পেশার মতো সরকারি গাড়ি, সর্বোচ্চ বেতন, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্সে সম্মানজনক প্রটোকল, নামমাত্র বা প্রতীকী মূল্যে প্লট-ফ্ল্যাট, খাদ্যসামগ্রী, স্বাস্থ্যসেবা, নানা নামে ভাতা, উচ্চহারে সিটিং অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য প্রান্তিক সুবিধাদি ভোগ করতে পারেন না। তারপরও অপেক্ষাকৃত ভালো ফলাফলধারী এক শ্রেণীর মানুষ এ পেশায় যোগদান করেন। এর অন্যতম কারণ হয়তো জ্ঞান চর্চা ও গবেষণার প্রতি আকর্ষণ, আত্ম-সম্মানবোধ ও একেবারে তলানীতে ঠেকে যাওয়া সমাজের মানুষের সম্মান ও শ্রদ্ধা।

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুও বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের সম্মানের চোখে দেখতেন। প্রসঙ্গক্রমে দু’টি ঘটনা উল্লেখ করছি। চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের প্রথম চেয়ারম্যান প্রফেসর ইন্নাস আলী স্মৃতিচারণে লিখেছেন ‘বঙ্গবন্ধু উপাচার্যদের প্রায়ই ডাকতেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত চাইতেন। বঙ্গবন্ধু আমাকে খুব সম্মান দেখাতেন। ওনার রুমে ঢুকলেই দাঁড়িয়ে যেতেন। অনেক সময় হয়তো মিটিং চলছে, তখনও এ রকম দাঁড়িয়ে সম্মান করতেন।’ বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হবার পর অধ্যাপক আবুল ফজল ‘শেখ মুজিবকে যেমন দেখেছি’ শীর্ষক একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেন। শিক্ষা ও শিক্ষকের প্রতি বঙ্গবন্ধুর অগাধ শ্রদ্ধার কথা বলতে গিয়ে অধ্যাপক আবুল ফজল লিখেছেন, ‘১৯৬৯ এর নভেম্বর মাসে ইত্তেফাক পত্রিকায় -শক্ত কেন্দ্র কেন ও কার জন্য- শিরোনামে প্রবন্ধ প্রকাশিত হলে বঙ্গবন্ধু অভিনন্দন জানিয়ে তাকে পত্র লিখেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর চিঠির জবাবে অধ্যাপক আবুল ফজল যে চিঠি লিখেছিলেন তার উত্তরে বঙ্গবন্ধু লিখেছিলেন, ‘আপনার মতো জ্ঞানী, গুণী ও দেশপ্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে পারলে খুবই আনন্দিত হতাম। আবার যখন চট্টগ্রামে যাব, সাহিত্য নিকেতনে যেয়ে নিশ্চয়ই আপনার সঙ্গে দেখা করব।’ অধ্যাপক আবুল ফজলকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফোন করে বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক আবুল ফজলের অনুমতি নিয়েছিলেন বলে আবুল ফজল তার লেখায় উল্লেখ করেছেন। বিগত কয়েক দশকে উপাচার্য পদের মান-মর্যাদা অনেকখানিই লুপ্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে পদ-প্রত্যাশীদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে যেভাবে এ পদের অবনমন ঘটানো হচ্ছে তা বোধ করি নজিরবিহীন। একজন সাবেক উপাচার্য আমাকে ফোন করে তার কষ্টের কথা শেয়ার করতে গিয়ে বলেছেন, তিনি যে উপাচার্য ছিলেন এখন লজ্জায় এ তথ্য আর প্রকাশ করেন না।

বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন দেশে সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে যেসব বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল শিক্ষা। সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলায় শিক্ষার সবিশেষ গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন বলেই বঙ্গবন্ধু শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করেন একজন শিক্ষকের হাতে। আর বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে নিয়োগ দেন শিক্ষা সচিব হিসেবে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে একীভূত বিজ্ঞানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষানীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে খ্যাতিমান শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী ড. কুদরত-এ খোদাকে প্রধান করে যে শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিশন গঠন করা হয়েছিল, তাতে যুক্ত করা হয়েছিল সেরা শিক্ষক ও শিক্ষা বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের। বঙ্গবন্ধুর গভীর মনোযোগ ছিল উচ্চশিক্ষার প্রতি। তিনি জানতেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেই দক্ষ ও চৌকস মানবসম্পদ সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য গঠন করেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ জারি করেন। এর একটিই উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং তাতে মুখ্য ভূমিকা থাকবে শিক্ষকদের। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উপচার্য নিয়োগের দু’টি পদ্ধতি রয়েছে। ১৯৭৩ সালে প্রণীত বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের আওতায় পরিচালিত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ও রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েটদের ভোটে নির্বাচিত তিন জনের একটি প্যানেল থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি কর্তৃক একজনকে উপাচার্য নিয়োগের বিধান রয়েছে। এর বাইরে অন্য সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপচার্য নিয়োগে সরকারের একচ্ছত্র অধিকার। সিনেট থেকে প্যানেল না পাঠালেও ১৯৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্টের ১১(২) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিজস্ব ক্ষমতাবলে নিয়োগ দিতে পারেন। এ ধারায় বলা হয়েছে, ছুটি, অসুস্থতা, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি অস্থায়ীভাবে কাউকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মূল আইনে এ বিধানটি ছিল না। ১৯৭৫ সনে বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন অধ্যাদেশ (৬২ নম্বর অধ্যাদেশ) জারি করে এই বিধান যুক্ত করা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লংঘন করে বৃটিশ সরকারের কালা কানুন ১৮৯৭ সালের জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট ব্যবহার করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনানুগভাবে নিয়োগকৃত ১১ জন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারকে অপসারণ করে নিজেদের পছন্দমতো উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগ দেয়। এরপর থেকে একই ধারায় সরকার কর্তৃক উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ১৯৭৩ এর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট অনুযায়ী অন্যসব নির্বাচন হলেও উপাচার্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে তা দেখা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সিনেট নির্বাচনের মাধ্যমে উপাচার্য প্যানেল তৈরিতে ব্যর্থ হচ্ছে। সিনেটের মাধ্যমে প্যানেল নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তা ব্যক্তিদের অনাগ্রহ, মামলা ইত্যাদি প্রতিবন্ধকতার কারণে ৯১ এর পর থেকে ’৭৩ এর অ্যাক্টের অধীনে পরিচালিত প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার কর্তৃক উপাচার্য নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। এমন নিয়োগ ‘৭৩ এর অ্যাক্টের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা অ্যাক্টের ১১(২) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিজস্ব ক্ষমতাবলে ছুটি, অসুস্থতা, পদত্যাগ বা অন্য কোনো কারণে কেবল অস্থায়ীভাবে কাউকে এ পদে নিয়োগ দিতে পারবেন। এ আইনের আওতায় পূর্ণ মেয়াদের জন্য কাউকে উপাচার্য নিয়োগের সুযোগ নেই।

নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গুজবের ডাল-পালা এখন পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কেই ঘিরে ফেলেছে। ক্ষণে ক্ষণে খবর আসছে অমুকের ফাইল প্রধানমন্ত্রীর দফতরে। কেবল প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদপুষ্ট স্বাক্ষরখানিই বাকি। অমুক মন্ত্রী-এমপি-নেতার বাসায় অমুক উপাচার্য প্রার্থীকে দেখা গেছে ইত্যাদি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন পদ-পদবির জন্য তদবির করা আমি খুবই অসম্মানজনক মনে করি, হোক সেটা উপাচার্য বা উপ-উপাচার্য পদ। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একজন তদবিরবাজ, লবিংবাজ শিক্ষক ভিতর থেকে নৈতিকভাবে মরে যায়। সে আর তখন জাতির বিবেক, মানুষ গড়ার কারিগর থাকে না। তদুপরি ইসলামে পদ-পদবির জন্য তদবির করা কেবল নিষিদ্ধই নয়, বরং তদবির করে পদ পাওয়ার বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.) কঠিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। আর ইসলামে পদ প্রত্যাশীদের পদ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, ‘যে কেউ ইহকাল কামনা করে, আমি সেসব লোককে যা ইচ্ছা সত্বর দিয়ে দেই। অতঃপর তাদের জন্যে জাহান্নাম নির্ধারণ করি। যেখানে সে প্রবেশ করবে একান্ত নিন্দিত ও ধিকৃত অবস্থায়।’ (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত ১৮)। আবূ সাঈদ আব্দুর রহমান ইবনে সামুরাহ (রা.) থেকে বর্ণিত: রসুল (সা.) আমাকে বললেন, ‘হে আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ! তুমি সরকারি পদ চেয়ো না। কারণ তুমি যদি তা না চেয়ে পাও, তাহলে তাতে তোমাকে সাহায্য করা হবে। আর যদি তুমি তা চাওয়ার কারণে পাও, তাহলে তা তোমাকে সঁপে দেওয়া হবে। (এবং তাতে আল্লাহর সাহায্য পাবে না।’ (বুখারী ৬৭২২, ৭১৪৬, মুসলিম ৪৩৭০)।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা অতি সত্বর নেতৃত্বের লোভ করবে। (কিন্তু স্মরণ রাখ) এটি কিয়ামতের দিন অনুতাপের কারণ হবে। সুতরাং তা (ইহলোকে) কত উৎকৃষ্ট ও (পরলোকে) নিকৃষ্ট বিষয়!(বুখারী ৭১৪৮, নাসাঈ)।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুল (সা.) বলেন, ‘১০ ব্যক্তির আমিরকেও (নেতা) কিয়ামতের দিন বেড়ি পরানো অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। পরিশেষে হয় তাকে তার (কৃত) ন্যায়পরায়ণতা বেড়ি মুক্ত করবে, নচেৎ তার (কৃত) অত্যাচারিতা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেবে।’ (আহমাদ ৯৫৭৩, বাইহাকী ২০০০২, সহীহুল জামে ৫৬৯৫)।

যে ব্যক্তি নেতা, বিচারক অথবা অন্যান্য সরকারি পদ চাইবে অথবা পাওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করবে অথবা তার জন্য ইঙ্গিত করবে ইসলামে তাকে পদ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত: আমি এবং আমার চাচাতো দু’ভাই নবী (সা.) এর কাছে গেলাম। তাদের দু’জনের মধ্যে একজন বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মহান আল্লাহ আপনাকে যেসব শাসন-ক্ষমতা দান করেছেন, তার মধ্যে কিছু (এলাকার) শাসনভার আমাকে প্রদান করুন।’ দ্বিতীয়জনও একই কথা বলল। উত্তরে তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম! যে সরকারি পদ চেয়ে নেয় অথবা তার প্রতি লোভ রাখে, তাকে অবশ্যই আমরা এ কাজ দিই না।’ (বুখারী ৭১৪৯, মুসলিম ৪৮২১)

আল্লামা আব্দুর রহমান সা’দী বলেছেন, কর্তৃত্বমূলক যে কোনো পদ মানুষের চেয়ে নেওয়া উচিত নয় এবং সেজন্য নিজেকে যোগ্য বলে উপস্থাপন করাও কাম্য নয়; বরং এজন্য আল্লাহর নিকট দায়িত্ব মুক্ত ও নির্ঝঞ্ঝাট জীবন প্রার্থনা করা উচিত। কেননা সে তো জানে না যে, শাসন ক্ষমতা তার জন্য কল্যাণকর হবে, না অকল্যাণকর। সে এও জানে না যে, এই দায়িত্ব সে পালন করতে পারবে কি না। তারপরও যখন সে দায়িত্বের জন্য আবেদন-নিবেদন করে, তখন তা পেলে তার নিজের দিকেই তা সোপর্দ করে দেওয়া হয়। আর যখন বান্দার দিকে দায়িত্ব সোপর্দ করে দেওয়া হয়, তখন সেজন্য সে আল্লাহর সহায়তা পায় না। তার সব কাজ সুচারুরূপে করতে পারে না এবং সাহায্য-সহযোগিতাও পায় না। আল্লামা ইবনু রজব বলেছেন, ‘জেনে রাখ, মান-মর্যাদার লোভ মহা ক্ষতি ডেকে আনে। মর্যাদা লাভের আগে তা অর্জনের পথ-পদ্ধতি বা কলাকৌশল অবলম্বনের চেষ্টা করতে গিয়ে মানুষ অনেক হীন ও অবৈধ পন্থা অবলম্বন করে। আবার মর্যাদাপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে অন্যের ওপর নিপীড়ন, ক্ষমতা প্রদর্শন, দাম্ভিকতা দেখানো ইত্যাদি ক্ষতিকর জিনিসের উদগ্র নেশায় পেয়ে বসে। (ছহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, পৃষ্ঠা ৩২)।

সরকার যাকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দেবে, আমরা সবাই তার আনুগত্য করতে বাধ্য। আল্লাহ বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আল্লাহর অনুগত হও, রাসুলের অনুগত হও ও তোমাদের নেতৃবর্গের।’ (সূরা নিসা, আয়াত ৫৯) বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য পদে নিয়োগ পেতে আসুন আমরা সচেতন থাকি, যাতে কোনোভাবেই এ পদের অমর্যাদা, অবনমন না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক সমাজের সম্মান, মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সবাই আরও দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ করি। নতুন স্বপ্নে, নতুন অঙ্গীকারে যুথবদ্ধ হই প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্মানের সঙ্গে সমৃদ্ধির পানে এগিয়ে নিতে।

মো. জাকির হোসেন: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মতামত লিখুন :

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন

যমুনার পেটে জমি, পাহাড়ের পাদদেশে প্লাবন
প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সারা দেশে আষাঢ়ের কান্না যেন থামতেই চাইছে না। অতিবৃষ্টিতে চারদিকে বন্যা শুরু হয়েছে; শুরু হয়েছে শ্রাবণ। শ্রাবণের কালো মেঘ কী বার্তা নিয়ে আসবে, জানি না!

আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহে এসে হঠাৎ করে প্রৃকতি বিরূপ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি ঢল, নদীভাঙন ও বন্যা একসঙ্গে শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, কক্সবাজার, বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে বহু পাহাড় ধসে নিচে নেমে গিয়েছে। প্রৃকতি এতে ক্ষান্ত হয়নি। পাহাড়ি ঢল বার বার ধেয়ে আসছে।

রাস্তা, বাড়ি-ঘর ভূমিধসের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ধান-পাট, শাক-সবজি ডুবে যাচ্ছে। মাছের খামারের মাছ ভেসে গিয়ে মাছ চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে। বৃষ্টি ও সাগরের নিম্নচাপ মিলে মানুষের এক চরম ভোগান্তি শুরু হয়েছে।

পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ এই প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ এখন আতঙ্ক। তাই ভুক্তভোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বারবার মূল শহরের রাস্তায় থৈ থৈ পানি সবাইকে প্রহসন করছে। কৌতুক করে বলা হচ্ছে- ‘কী সুন্দুইজ্যা চাঁটগা নগর’, ‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর সৌন্দর্য্য এই বর্ষায় আরো কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই’ ইত্যাদি।

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, শেরপুর থেকে ভারত ও ভুটানের পাহাড়-পর্বতশ্রেণি বেশি দূরে নয়। ওপরে বেশি বৃষ্টি হলেই ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে অকাল বন্যা দেখা দেয়। পূর্বে সিলেটে নেমে আসে আসাম ও শিলংয়ের পাহাড়ি ঢল। আগে প্রাকৃতিকভাবে এই ঢলের পানি নদী দিয়ে সাগরে চলে যেত। হাওড়ের মানুষ কৃত্রিমভাবে ধান বা মাছের চাষও করতো না। তাই ঢলের পানির ক্ষতিকর দিকের কথা তেমন শোনাও যেত না।

এখন চারদিকে নানা প্রকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। অপরিকল্পিত ও অযাচিত উন্নয়নের নামে প্রকৃতির ওপর মানুষের নির্দয় হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছে। মানুষ প্রয়োজন পূরণের নামে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে চলেছে। তাই প্রকৃতিও মানুষের প্রতি নির্দয় হয়ে নিষ্ঠুর আচরণ শুরু করেছে। ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যার সাথে প্রচণ্ড নদীভাঙন শরু হয়েছে। তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। আশঙ্কার কথা হলো- নদীভাঙনে বাস্তহারাদের চাপে পুরো উন্নয়ন প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্থ হতে পারে।

পরিবেশ কারো একার সম্পত্তি নয়। পরিবেশ সারা পৃথিবীর সব মানুষের সম্পত্তি। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে নীতি নির্ধারণে সবার কথা শোনা উচিৎ।

আমাদের চারদিকে আরো অনেক সমস্যা বিরাজমান। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ (হ্যাজার্ডস যেমন-সাইক্লোন, বন্যা) ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় (যেমন- ফসলহানি, প্রাণহানি) এত বেশি ক্ষতিকর যে, প্রতিবছর আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে অনেক পেছনে ঠেলে দেয়। এগুলোকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা উচিৎ নয়। মনুষ্যসৃষ্ট প্রাকৃতিক বিপর্যয় (ক্যালামিটিস/ হ্যাজার্ডস্) ঠেকাতে সব মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে আমাদের নিজেদের চেষ্টার মধ্যে একাই করব, একাই খাব নীতি পরিহার করা উচিৎ। অন্যথায়, একজন তৈরি করবে অন্যজন নষ্ট করার পাঁয়তারা করতে পারে- তারা দেশি হোক বা বিদেশি লবিস্ট হোক।

উন্নয়নের নামে পাহাড় কাটা, অবাধে গাছ নিধন করা, কয়লা পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা, নদী দখল ও ভরাট করে স্থাপনা বানিয়ে স্বাভাবিক পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ করা- এসব আজকাল যেন কোনো অপরাধই নয়! পাহাড়ে প্রয়োজনীয় গাছ নেই- তাই সামান্য বৃষ্টিতে মাটি গলে ধসে মানুষের মাথার ওপর পড়ছে। ওই কাদামাটি নিকটস্থ নদীতে গিয়ে নদীকে ভরাট করে নাব্যতা নষ্ট করে দিচ্ছে।

উন্নয়নের নামে পাহাড়-সমতলের সব বড় বড় গাছ কেটে উজাড় করে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সরকারি রাস্তার পাশের তাল- নারকেলসহ ছায়াদানকারী বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করায় সারাদেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে এবং ভয়ংকরভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়ে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে যেতে ভয় পায়।

এছাড়া উত্তরাঞ্চলে ক্রমাগতভাবে ধরলা-তিস্তা-যমুনার পেটে ফসলি জমি বিলীন হয়ে বাস্তহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে এবং চট্টগ্রামে পাহাড়ের পাদদেশে পুনঃপুনঃ প্লাবনপানি ও মাটিধসের দুর্যোগ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়েই যাচ্ছে। এতে কারো যেন কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এ অবস্থা চলতে থাকলে সেটা দেশের পুরো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে। এসব মোকাবিলায় যথেষ্ট প্রস্তুতি কি আমাদের আছে?

প্রফেসর ড. মো. ফখরুল ইসলাম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন, সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান।

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!

সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের একটি মন্তব্য আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি বলেছেন 'সরকারি কর্মকর্তারা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না'। এ কথাটি মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে।

বাংলাদেশে সরকারি কর্মকতাদের দুর্নীতি আজ নতুন নয়। তবে সব কর্মকর্তাও এক নয়। সংখ্যায় সীমিত হলেও  অনেক অফিসার আছেন যারা সততার সাথে অনেক কষ্টে  জীবনযাপন করেন। তাই সকলকে এক পাল্লায় মাপা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশে দুদক নিরপেক্ষতা হারিয়েছে অনেক আগে, তবে কিছু দিন পূর্বে ছোটখাটো দুর্নীতি ধরতে সোচ্চার দেখে আমরা কিছুটা হলেও খুশি হয়েছি। এ জন্য যে এবার অন্তত দুদক চেয়ারম্যান নিজেই ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঠিক সময়ে ক্লাস শুরু হয় কিনা বা সকল শিক্ষক সময়মত স্কুলে আসছেন কিনা তা যাচাই করতে। 

আমরা মনে করেছি, তিনি একবার যেহেতু ঘর থেকে বেরিয়েছেন, বাংলাদেশের সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আর ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু কোনও অদৃশ্য কারণে, বোধহয় তিনি বুঝতে পেরেছেন, সরকারি কর্মকতা, রাজনীতিবিদের দুর্নীতি থামানো অসম্ভব। তার কাছে তো অনেক উদাহরণ আছে।

যাক সেসব কথা। এবার আলোচনা করা যাক, তিনি কেন বলেছেন যে সরকারি কর্মকরা সরল বিশ্বাসে দুর্নীতিতে জড়ালে অপরাধ হবে না। তিনি কি আসলে সরকারি কর্মকর্তাদের ভয় পেয়েছেন?  নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে।

কারণ ব্যাখ্যার আগে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা সম্পর্কে দুই-চার কথা না বললেই নয়। ওনারা সরকারিভাবে সে বৃটিশ আমল থেকে সুরক্ষিত। ওনারা সমাজের উপরে থাকেন। ওনাদের পল্লীর নাম ভদ্রপল্লী। ওনাদের সাথে ঈশ্বরের যোগাযোগ। সব কিছুই ওনারা নির্মাণ ও পরিচালনা করেন। সকল সুযোগ-সুবিধা ওনাদের জন্য। এ কারণে ওনাদের আচরণে এর প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

এ জন্য তাদের সঙ্গে জনগণের একটা দুরত্ব কাজ করে। ফলে তাদের সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যানের মন্তব্যের পেছনে কোনো কারণ আছে কিনা, তা জানার আগেই পত্র-পত্রিকা,  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড় ওঠে। আসলে দুদক চেয়ারম্যান কী বোঝাতে চেয়েছেন বা জনগণ কী বুঝেছে তা পরিষ্কার নয়।

আমি যদি ভুল না বুঝে থাকি, এখানে দুদক চেয়ারম্যান অর্থনৈতিক দুর্নীতিকে বুঝাননি। তিনি বুঝাতে চেয়েছেন, অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজের অনিচ্ছায় বা ভালো  উদ্দেশ্যে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এতে কারো ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ঐ কর্মকতাকে দুর্নীতি পরায়ণ বলা যাবে না। এটাকে দুদক চেয়ারম্যান 'সরল বিশ্বাস' বলেছেন। যদি ঐ কর্মকর্তা  ইচ্ছাকৃত ভুল করেন বা টাকার বিনিময়ে করেন বা কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য করেন, তা সরল বিশ্বাস নয়। এখানে অসততা আছে। এটাই দুর্নীতি।

আমার  হয়তো বুঝতে ভুল হতে পারে আর যদি হয়ও তা কিন্তু সরল বিশ্বাসে। আমি এ বিষয়টি এ জন্যই উপস্থাপন করলাম, কারণ দুদক চেয়ারম্যানের কথার অর্থ যদি সরকারি কর্মকর্তারা ভুল বোঝেন, তাহলে তো সর্বনাশ! তারা তো সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা শুরু করবেন। অবস্থা তখন হবে, ‘একদিকে নাচুনি বুড়ি অন্য দিকে ঢোলের বাড়ি’-র মতো। আমার এ লেখা শুধু ওইসব দুর্নীতি পরায়ণ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।

অতএব, দয়া করে সরল বিশ্বাসে সরলভাবে গতিবেগ বাড়িয়ে দুর্নীতি করা থেকে বিরত থাকুন।

ড. মো. কামাল উদ্দিন: প্রফেসর ও সাবেক চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

আরও পড়ুন: সরল বিশ্বাসে দুর্নীতি অপরাধ নয়: দুদক চেয়ারম্যান

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র