Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

জাতীয় চাঁদ দেখা কমেডি!

জাতীয় চাঁদ দেখা কমেডি!
প্রভাষ আমিন, ছবি: বার্তা২৪
প্রভাষ আমিন


  • Font increase
  • Font Decrease

ইস্যুটা পুরনো হলেও জরুরি। ঈদ পার হয়েছে বলেই আলোচনাটা ভুলে গেলে চলবে না। তাই লিখব না লিখব না করেও লিখে ফেললাম। আর মক্কায় টেলিস্কোপ বসানোর খবরটা দেখে ভাবলাম, দেরিতে হলেও লেখাই উচিৎ।

এখন আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নত স্তরে বাস করছি। ঘরে ঘরে টেলিভিশন, হাতে হাতে মোবাইল, গাড়িতে গাড়িতে এফএম রেডিও। মানে সংযুক্ত হওয়ার সব উপাদান আপনাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছে, বিচ্ছিন্ন থাকার সুযোগই নেই। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বটাই যেন একটা গ্রাম এখন। আশির দশকে, আমার এক বন্ধুর বড় ভাই জাপান থাকতেন, তার সঙ্গে মাসে একবার কথা বলার জন্য বন্ধুর মা-বোনসহ পরিবারের সবাই গাড়ি ভাড়া করে কুমিল্লা শহরে আসতেন। জিপিওর কয়েন বক্স থেকে নির্দিষ্ট সময়ে জাপানে ফোন করে সবাই লাইন ধরে একে একে কথা বলতেন। সে কথায় আবেগ, ভালোবাসা, হাসি-কান্না, মান-অভিমান, জমিজমা, টাকা-পয়সার হিসাব সবই থাকতো। মাসে একবার কথা বলাটা বেশ ব্যয়বহুল আয়োজন ছিল। মাইক্রোবাস ভাড়া করে শহরে আসাই ছিল বিশাল ঝক্কির। আর এখন আমেরিকা থেকে মেয়ে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে থেকে রান্না করে। হাজার মাইল দূরে বসে মা-বাবার ওষুধের খোঁজ রাখে সন্তান।

এখনকার সময়টা যেমন সংযুক্তির, আমাদের সময়টা ছিল তেমনি বিচ্ছিন্নতার। তবে সে বিচ্ছিন্নতা ছিল আনন্দের। আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না। কয়েক গ্রাম মিলে হয়তো একটা টিভি ছিল। ঈদের দিন টিভিতে বাংলা সিনেমা দেখতে আমাদের কয়েক মাইল হেঁটে যেতে হতো। দাউদকান্দির শহীদনগরে আমাদের গ্রামের বাড়ির উল্টো দিকে একটা ওয়ারলেস অফিস ছিল। তাতে একটা বড় টাওয়ার ছিল। সন্ধ্যায় সেই টাওয়ারের ওপরে একটি আলো জ্বলতো। আশেপাশের অন্তত ২০ মাইল দূর থেকে সেই আলো দেখা যেতো। ছেলেবেলায় আমরা ইফতার করতাম ওয়ারলেসের সেই ‘লাইট’ দেখে। রোজা রেখে তৃষ্ণায় আমাদের বুক ফেটে যেতো। হাতে পানি নিয়ে উঠানে দাঁড়িয়ে থাকতাম, যাতে ওয়ারলেসের লাইটটা সবার আগে দেতে পাই। তবে সেহরির সময় জানার কোনো উপায় ছিল না। শুনতাম, যতক্ষণ হাতের পশম দেখা না যাবে, ততক্ষণ নাকি খাওয়া যায়। তবে অতদূর যেতে হতো না। গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না, তাই ফ্রিজের তো প্রশ্নই ওঠে না। সবাইকে প্রতিদিন রান্না করতে হতো। মধ্যরাতেই জেগে উঠতো পুরো গ্রাম। মা-চাচিরা মাটির চুলায় রান্না চড়াতেন। মধ্যরাতে গ্রামে একটা পিকনিক পিকনিক আবহ তৈরি হতো। হইচইয়ে কারো পক্ষেই ঘুমিয়ে থাকা সম্ভব ছিল না। তাই সেহরির সময় পেরিয়ে যাওয়ারও কোনো সুযোগ ছিল না। একবার মনে আছে, শবে কদরের রাতে মধ্যরাত পর্যন্ত নামাজ পড়ে ক্লান্ত হয়ে একটু জিরিয়ে নিতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মায়া করে কেউ আর ডাকেনি। সেদিন খুব কষ্ট পেয়েছিলাম।

তবে সবচেয়ে বেশি উত্তেজনা হতো ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে। ইফতারের পরপরই আমরা মসজিদ এলাকায় চলে যেতাম। কেউ মসজিদের ছাদে বা মিনারে উঠে যেতাম। এমনকি কেউ লম্বা গাছেও চড়ে বসতো। মানে চাঁদ দেখার জন্য আকাশের যত কাছে যাওয়া যায়। ঈদের চাঁদ এক চিলতে, থাকেও খুব অল্প সময়। নিজের চোখে ঈদের চাঁদ দেখার আনন্দই অন্য রকম ছিল। আর যে প্রথম চাঁদের দেখা পেত, সে যেন চ্যাম্পিয়ন। আমি বলছি আশির দশকের কথা। তখন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি ছিল কিনা জানি না। তবে কোনো বিভ্রান্তির কথা শুনিনি। ঈদের সিদ্ধান্ত নিতে মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি। রেডিওতে ‘ও মন রমজানের ওই রোজার শেষে এল খুশির ঈদ…’ শুনলেই বুঝতাম ঈদ চলে এসেছে।

যুগে যুগে কত অগ্রগতি হলো, কত প্রযুক্তি এল; কিন্তু ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রান্তিও যেন বাড়ল। নব্বইয়ের দশকে একবার মধ্যরাতে ঈদের ঘোষণা এসেছিল। এবার আবার একই ঘটনা ঘটলো। মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশে এই ঘটনা দুর্ভাগ্যজনক। এমনিতে বাংলাদেশে দুই দিনে ঈদ হয়। চাঁদপুর, বরিশালসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে ঈদ উদযাপিত হয়। আর দেশের অধিকাংশ স্থানে ঈদ হয় বাংলাদেশে চাঁদ দেখে। কিন্তু এবার ঈদ হয়েছে তিনদিনে। কিছু মানুষ সৌদি আরবের সাথে মিলিয়ে একদিন আগে ইদ করেছে। কিছু মানুষ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে ঈদ করেছে। কিছু মানুষ আবার ঈদ করেছে ৩০ রোজা পূর্ণ করে। তার মানে এবার দেশে ঈদ হয়েছে তিন দিনে। কিন্তু ইসলাম ধর্মে ঈদের দিনে রোজা রাখা হারাম। ভুলে-বিভ্রান্তিতে এবার কাউকে না কাউকে এই কাজটি করতে হয়েছে।

৯০ শতাংশ মুসলমানের দেশে চাঁদ দেখা নিয়ে, ঈদ নিয়ে এমন বিভ্রান্তি দুর্ভাগ্যজনক। দাবি জানাচ্ছি, ইসলাম ধর্মের যারা আলেম, তারা যেন ইসলামের বিধি বিধান মেনে দেশে ঈদ পালনের এবং চাঁদ দেখার একটা সর্বসম্মত রীতি প্রচলন করেন। দেশে যেন একদিনেই ঈদ হয়। তিন দিনে তো নয়ই, দুই দিনেও যেন দেশে ঈদ না হয়। মুসলমানদের মধ্যে যদি ধর্ম পালনের এইটুকু ঐক্যও না থাকে, তাহলে অন্য শত্রুর মোকাবেলা তারা কীভাবে করবে?

এখন বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির এতটাই অগ্রগতি হয়েছে যে শুধু আগামী মাসের নয়, আগামী অনেক বছরের চাঁদ ওঠার দিনক্ষণ বলে দেয়া সম্ভব। কিন্তু সমস্যা হলো, ধর্ম বিজ্ঞান দিয়ে চলে না। আকাশে চাঁদ উঠলেই হবে না। ইসলাম ধর্মমতে অন্তত দুই জন মানুষকে নিজের চোখে চাঁদ দেখতে হবে। এবার যে ৪ জুন রাতেই চাঁদ দেখা যাবে, সেটা অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল। সৌদি আরব, ভারত, পাকিস্তানের চাঁদ দেখার হিসাব অনুযায়ীও ৪ জুন রাতেই চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা।

বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে জানিয়েছিল, ৪ জুন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ উঠেছে এবং ৭টা ৫১ মিনিটে ডুবেছে। চাঁদের দৃশ্যমান অংশ ছিল মাত্র শতকরা ১ ভাগ। আকাশে চাঁদের উপস্থিতি ছিল ৪৫ মিনিট। কিন্তু সমস্যা হলো, চাঁদ উঠলেও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় চাঁদ দেখার কোনো সাক্ষ্য ছিল না। তাই ঈদের ঘোষণা দেয়াও সম্ভব ছিল না। কিন্তু তাই বলে জেনেশুনে চাঁদ ওঠার পরও রোজা রাখাও তো সম্ভব নয়। কিন্তু ৪ জুন রাত ৮টায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়ে দিল- দেশের কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ঈদ হবে ৬ জুন বৃহস্পতিবার।

ঈদের সব প্রস্তুতি নিয়েও ঈদ না হওয়ার ঘোষণায় সবাই রোজার প্রস্তুতিতে লেগে যান। ঈদের বদলে সেহরির প্রস্তুতি। অনেকে তারাবির নামাজ পড়ে ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেউ কেউ ঘুমিয়েও গিয়েছিলেন। গৃহিনীরা চুলা থেকে ঈদের রান্না নামিয়ে ফেলেন। শপিং মলে আরো একদিনের ব্যবসার উল্লাস। তখনই খবর এলো, জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি আবার বৈঠকে বসছে। রাত সোয়া ১১টার সময় ঘোষণা এলো, ঈদ ৫ তারিখেই হবে। দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য। আবার সব উল্টে দিতে হলো। পুরান ঢাকার মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যায় একটি ‘চান রাইত’।

ঈদ একদিন আগে হবে না পরে হবে, তা নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। বহু বছর ধরে ঈদে অফিস করতে হয়। তাই ঈদ নিয়ে বাড়তি কোনো উচ্ছ্বাসের সুযোগই নেই। তবে রাত সোয়া ১১টার সময় ঈদের ঘোষণাটা বাড়াবাড়ি। রাত ৮টায় চাঁদ দেখা না যাওয়ার ঘোষণা দেয় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। তবে এই ঘোষণা শোনার পর কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী থেকে কিছু লোক দাবি করেন, তারা যথাসময়েই চাঁদ দেখেছেন। চাঁদ যে দেখেছেন, এটাই সত্য। কারণ চাঁদ উঠেছিল। তবে চাঁদ উঠেছিল, এটা নিশ্চিত হওয়ার পরও চাঁদ দেখা কমিটি কেন, চাঁদ দেখা যায়নি বলে ঘোষণা দিয়ে পুরো জাতিকে বিভ্রান্তিতে ফেলল? চাঁদ দেখা কমিটির উচিৎ ছিল, আরো নিশ্চিত হওয়া, প্রয়োজনে অপেক্ষা করা।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর লোকজন নিশ্চয়ই রাত ১১টার সময় চাঁদ দেখেনি। শাওয়াল মাসের চাঁদ তো উঠেছিল ৫টা ৪০ মিনিটে, ডুবেছে ৭টা ৫১ মিনিটে। তাহলে তারা আগে প্রশাসনকে জানায়নি কেন? এত গুরুত্বপূর্ণ যে চাঁদ দেখা কমিটি, তারা তাহলে সারাদেশ থেকে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করেনি। আসলে করার চেষ্টাই করেনি। ৬৪ জন জেলা প্রশাসককে ফোন করেই হয়তো কাজ সেরেছে। আর জেলা প্রশাসকরাও যে সব তথ্য সংগ্রহ করেননি, সেটা তো এখন প্রমাণিত। করলে ৮টার ঘোষণা ১১টায় দিতে হত না।

বাংলাদেশে যে আবহাওয়া, আকাশ প্রায়শই মেঘলা থাকতে পারে। তাই নিয়মিত না হলেও মাঝে মধ্যেই ঈদ নিয়ে, চাঁদ দেখা নিয়ে এ ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। তাই সরকারের উচিত এ ব্যাপারে একটি স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া। স্থায়ী ব্যবস্থা হলো, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদেরও প্রযুক্তির দ্বারস্থ হতে হবে। তবে সেটা ধর্মীয় বিধান মেনে, আলেমদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই হতে পারে। মান্ধাতা আমলের ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনে জনে খুঁজে চাঁদ দেখার খবর সংগ্রহ করলে হবে না।

চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রন্তি ঘোচাতে সৌদি আরিব মক্কায় অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ বসাচ্ছে। বাংলাদেশেও তেমন কিছু বসাতে হবে। টেলিস্কোপ দিয়ে মানুষই চাঁদ দেখবে। তাই দুইজন মানুষের স্বচক্ষে চাঁদ দেখার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতায়ও সমস্যা হবে না। তবে টেলিস্কোপ বসানোর আগ পর্যন্ত মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ আরো নিখুঁত করতে হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে আরো স্মার্ট ও ডিজিটাল হতে হবে। কোথায়, কবে, কখন চাঁদ উঠবে; সেটা যেহেতু আগেই জানা সম্ভব। তাই সেই এলাকার মানুষের কাছ থেকে চাঁদ দেখার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে আরো নিবিড়ভাবে।

ঈদ হলো আনন্দের। ঈদ নিয়ে আর কোনোদিন বিভ্রান্তি চাই না। এবার মধ্যরাতে ঘোষণা এসেছে। ঈদ হয়ে গেছে বলেই বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। আর যাতে কখনো না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মধ্যরাতে ঈদের ঘোষণার পর চাঁদ দেখা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক মজা হয়েছে। অনেকে বলেছেন, চাঁদ যানজটে আটকা পড়েছিল। কেউ কেউ বলেছেন, যে দেশে মধ্যরাতে ভোট হয়, সে দেশে চাঁদও মধ্যরাতেই ওঠে। কেউ কেউ বলেছেন, চাঁদ দেখা কমিটি আরেকটু হলে সূর্য দেখে ফেলতো।। তবে আমার এক বন্ধুর দেওয়া জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির নতুন নামটিই বেশি ভালো লেগেছে– জাতীয় চাঁদ দেখা কমেডি। রাত সোয়া ১১টায় ঈদের ঘোষণা আসলে তো জাতির সাথে কমেডিই।

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

আপনার মতামত লিখুন :

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?

বাংলাদেশ-ভারত: নাগরিকদের দূরত্ব কি বাড়ছে?
শেখ আদনান ফাহাদ/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

১৯৪৭ সালেই বর্তমান বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বাঙালিদের নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মহান প্রয়াস চালিয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেস আর মুসলিম লীগের কয়েকজন প্রগতিশীল নেতা। কিন্তু দুই দলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে পেরে উঠেননি তাঁরা। মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, জহরলাল নেহেরু, সরদার বল্লভভাই প্যাটেল ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রমুখের ধূর্ত রাজনীতির কাছে হার মানতে বাধ্য হয়েছিলেন বাঙালির রাষ্ট্রকামী রাজনীতিবিদগণ। বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ৭৩ এবং ৭৪ নং পৃষ্ঠায় সে সময়ের ঘটনাবলীর বর্ণনা দেওয়া আছে। পূর্ববাংলার সম্পদ লুটে গড়া উঠা কলকাতা হারিয়ে বাঙালি দুই ভাগে ভাগ হয়ে পড়ে। ১৯৪৭ সালে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা গেলে ১৯৭১ এর গণহত্যা সংঘটিত করার সুযোগই পেত না পাকিস্তানি হায়েনারা।

বাঙালি আজ দুইভাগে বিভক্ত- ভারতীয় বাঙালি আর বাংলাদেশি বাঙালি! বাঙালির একান্ত রাষ্ট্র একমাত্র বাংলাদেশ। হিন্দি আর ইংরেজির আগ্রাসনে ভারতে বাংলা আজ ধুঁকে ধুঁকে মরলেও বাংলাদেশে রাষ্ট্রের প্রধান ভাষা হিসেবে বাংলা এখানে টিকে আছে স্বমহিমায়। ইতিহাসের নানা খেলায় বাঙালি বিভক্ত হয়ে তার অতীত গৌরবের অনেকখানি হারিয়েছে। ভারতের পুরো ক্রিকেট টিমে আজ একজন বাঙালি খেলোয়াড় নেই; অদূর ভবিষ্যতে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট টিমে কোনো বাঙালি সন্তান খেলতে পারবে- এমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অথচ বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমে ১১ জন বাঙালি বিশ্ব ক্রিকেট আলোকিত করছে। বাঙালি অনেক হারিয়েও বুঝতে পারে না, কী তার ছিল আর কী তার আছে?

৪৭ এ বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা না গেলেও পরবর্তী ২৪ বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব বাংলার মানুষকে প্রস্তুত করেছেন স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। আর এ যাত্রায় সাথে নিয়েছেন তৎকালীন সুপার পাওয়ার সোভিয়েত ইউনিয়ন আর প্রতিবেশী ভারতকে। ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের শেষের দিকে ভারত সরাসরি যুদ্ধে জড়ালেও সীমান্ত খোলা রেখেছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক চালানো গণহত্যার শুরু থেকেই। বাঙালি অধ্যুষিত আগরতলা আর কলকাতার মানুষ বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের স্বাগত জানিয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে বুকে ধারণ করে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। বাংলাদেশের পাশে ছিল পরাশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও প্রতিবেশী ভারত। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ অর্জন করেছিল স্বাধীনতা আর ভারত পেয়েছিল এই অঞ্চলে তার একমাত্র নিরাপদ এবং বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রে তৎকালীন সামরিক বাহিনীর কিছু বখাটে কর্মকর্তার হাতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতি বঙ্গবন্ধুকে না হারালে, বাংলাদেশই হত বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশ পথ হারিয়ে ফেলে। জাতির পিতাকে হারিয়ে বাংলাদেশ যেন মাঝিবিহীন নৌকায় পরিণত হয়। রাষ্ট্র চলে যায় সামরিক আর বেসামরিক আমলাতন্ত্রের দখলে। বাংলাদেশ মূলত উন্নয়নের ছোঁয়া পেয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আমল থেকে।

তবে পণ্য উৎপাদন ক্ষেত্রে ব্যর্থতার ফলে বাংলাদেশ মূলত ভারত আর চীনের নানা পণ্যের বিশাল বাজারে পরিণত হয়েছে। সিপিডির এক রিপোর্ট মতে, বাংলাদেশ হচ্ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের তৃতীয় বৃহত্তম উৎস। বাংলাদেশে চাকুরি ও ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ হয় হাজার হাজার ভারতীয় নাগরিকের। এক তথ্যমতে বাংলাদেশে প্রায় অর্ধলক্ষ ভারতীয় চাকুরি করে। অথচ ভারতে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাজের অনুমতি দেয়া হয় না। হাজার হাজার বাংলাদেশি ভারতের বিভিন্ন স্থানে পর্যটক হিসেবে ঘুরতে যায়; তাছাড়া মেডিক্যাল সেবা পেতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশির সংখ্যা বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ফলে বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি লাভজনক রাষ্ট্র। এমন একটি লাভজনক প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে ভারতের নাগরিক সমাজ, বিশেষ করে বাঙালিদের সম্পর্ক দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে!

ফেসবুক ও ইউটিউবের দুনিয়ায় দুই পারের বাঙালিদের মধ্যে ভয়ানক কথাযুদ্ধ পরিলক্ষিত হচ্ছে। এমন সব বাজে শব্দ বলা হচ্ছে যা মুখে আনা যায় না। বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে কিছু বলা হলেই ওপার থেকে শুরু হয় পুরো বাংলাদেশকে অপমান করে নানাবিধ অশ্রাব্য বাক্যবান। অনেক ফেইক আইডি থেকেও বিতর্ক উসকে দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের ইতিহাস না জেনেই, অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারাকে না বুঝেই পুরো দেশকে নিয়ে অনেককে আপত্তিকর কথা বলতে দেখা যায়। ফেসবুকে আনন্দবাজার কিংবা প্রথম আলোর পেইজে ঢুকলেই দুই বাংলার মানুষের মধ্যকার কথাযুদ্ধের নমুনা পাওয়া যায়। কাশ্মীর সমস্যা হোক, কিংবা ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলা হোক কিংবা হোক সাকিব আল হাসানের উপর হওয়া কোনো নিউজ, ফেসবুকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু হয় বাংলাদেশ আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে।

ইন্টারনেট পুরো বিশ্বকে এখন আমাদের ধরাছোঁয়ার আওতায় এনে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, কোনো বিষয়ে নিজের মত, অমত, ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ মিথস্ক্রিয়ার দুনিয়াকে করেছে ব্যস্ত। মানুষ আগের যে কোনো সময়ের চাইতে যোগাযোগপ্রবণ এবং একইসাথে প্রতিক্রিয়া-প্রবণও। অনলাইন নিউজপেপার এবং প্রিন্ট নিউজপেপারগুলোর অনলাইন ভার্সন এবং ফেসবুক পেইজে বাংলাদেশ এবং ভারতের বাঙালিদের আনাগোনা অহরহ। ইন্টারনেট এবং ভাষার শক্তিকে গঠনমূলকভাবে কাজে লাগাতে পারত ভারত ও বাংলাদেশের বাঙালিরা। কিন্তু কাজের চেয়ে যে অকাজই বেশী হচ্ছে।

ভারত-বিদ্বেষী বাংলাদেশি আর বাংলাদেশ-বিদ্বেষী ভারতীয়রা দুই রাষ্ট্রের নাম বিকৃত করেছেন। যে গালি মুখে আনা যায় না, সেসব কথা লেখা থাকে কমেন্ট আকারে। বাংলাদেশের কেউ ভারতের কারও কথার প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ১৯৭১ সালের রেফারেন্স দিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা। ৭১ কে ভারতীয় প্রেক্ষাপট থেকে দেখতে গিয়ে বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর অবদান, ৩০ লাখ মানুষের প্রাণহানি, মুক্তিবাহিনীর বীরত্ব ইত্যাদি বিষয়কে খাটো করে দেখার একটা প্রবণতা ভারতীয় বাঙালিদের মধ্যে দেখা যায়। কোনো বাংলাদেশি ভারতের দিক থেকে করা কোনো কাজের সমালোচনা করলেই ৭১ এর কথা বলে খোটা দেয়ার চেষ্টা হয়। ভারতীয়রা একাত্তরকে দেখে থাকে তাঁদের নিজস্ব প্রেক্ষিত থেকে। বাংলাদেশ যে ভারতের কত উপকারে আসে কিংবা আসছে, সেটি ফেসবুকের জগতে খুব কম ভারতীয়ই স্বীকার করেন।

বাংলাদেশিদের একটা ছোট অংশ ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে সরাসরি পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আনন্দবাজারসহ নানা পত্রিকার ফেসবুক পেইজের নিউজে কমেন্ট করে। এতে স্বাভাবিকভাবেই ভারতীয়রা ক্ষিপ্ত হয়। ক্ষিপ্ত হওয়ার অধিকার তাঁদের আছে, কিন্তু গুটি কয়েক বাংলাদেশির ‘আপত্তিকর’ মন্তব্যের প্রতিবাদ করতে গিয়ে এই ভারতীয়রা পুরো বাংলাদেশ নিয়ে অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করে। এই মন্তব্য কোনো সচেতন বাংলাদেশির পক্ষে হজম করা মুশকিল। ভারতীয়দের বড় একটা অংশ বাংলাদেশ সম্পর্কে জানেই না। তারা শুধু জানে, ১৯৭১ এ ভারত পাকিস্তানকে যুদ্ধে পরাজিত করে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে?

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালত্ব, জাতি সংগঠনে আওয়ামী লীগ এর অবদান, স্বাধীনতা যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক প্রস্তুতি, বিশ্ব রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর প্রভাব, বাঙালি আর্মি, নেভি ও বিমান সেনা, মুক্তিবাহিনী, মুজিববাহিনী, কাদেরিয়া বাহিনী কিংবা ক্র্যাক প্লাটুন এর বীরত্ব ইত্যাদি কিছুই না জেনে ৭১ কে শুধু ভারতীয় প্রেক্ষিত থেকে দেখতে অভ্যস্ত এসব ভারতীয়। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সহযোগিতা আদায় করেছেন। ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের যে কোনো বিশ্লেষণে প্রধান চরিত্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শাহাদাত বরণ করা বীর বাঙালিরা। ৭১ প্রশ্নে ভারতীয়দের উচিত হবে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা। মূলত বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর বীরত্বেই ৭১ সালে পাকিস্তানকে পরাজিত করার গৌরবের ভাগীদার হতে পেরেছিল ভারত।

বাংলাদেশকে ‘কাঙ্গালের’ দেশ বলে মন্তব্য করে কিছু ভারতীয়। বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কোথায় চলে গেছে এবং যাচ্ছে সেটি এসব ভারতীয় বন্ধুরা জানেন না। সামাজিক উন্নয়নের প্রায় প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশ ভারতকে পেছনে ফেলেছে বহু আগেই। মাথাপিছু আয়ের হিসেবেও আর কয়েক বছর পরে পেছনে পড়বে ভারত। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রশংসা করে বহু বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন। গুগলে সার্চ করলেই সব লিংক পাওয়া যাবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ নানা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ঢুকলেই বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির দলিল মিলবে। ভারতীয়দের উচিত হবে সিনেমার জগতে শুধু না থেকে বাস্তবতাকে জানার চেষ্টা করা।

সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতের চলচ্চিত্র জগতে বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতি, সংবাদ মাধ্যমগুলোতে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক সংবাদ পরিবেশন, ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ইত্যাদি কয়েকটি কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত-প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় একই সভ্যতা ও সংস্কৃতির দুটো প্রতিবেশী রাষ্ট্রে এমন বাস্তবতা নিশ্চয় কারও কাম্য নয়।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র