Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

‘এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়’

‘এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়’
চিররঞ্জন সরকার, ছবি: বার্তা২৪.কম
চিররঞ্জন সরকার


  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল-আলম হানিফ। সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলেন। নিজেও সব সময় ফিটফাট থাকেন। গত প্রায় এক দশক ধরে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক এক সেমিনারে মাহবুবুল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘আজ আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও সততার সংকট। এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়।’

হানিফ আরও বলেন, ‘আজ দেখুন নৈতিকতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে। বালিশ কিনতেও দুর্নীতির কথা আসে। অবাক হতে হয় যখন দেখি একটি, সরকারি দফতরের ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির কথা আসে। ইলেকট্রনিক্স জিনিস যার দাম ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, তা উত্তোলনের জন্য খরচ দুই হাজার! কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে।….’

‘প্রতিটি সেক্টরে আজ মানুষের যে অসততা দেখি, অনৈতিকতা দেখি, এরকম অসততা নিয়ে একটা দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারে না,’ যোগ করেন হানিফ।

তিনি বলেন, ‘দেখেন, আজ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ। এই অসুস্থ মানুষের মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ কিডনি রোগী। বাকি ২৫ ভাগ মানুষ ক্যান্সারের রোগী। এর একটাই কারণ হচ্ছে আমাদের নীতিহীন, অসততা, অনৈতিকতা। আমরা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছি। মাছে ফরমালিন দিচ্ছি। এসব করে একে অপরকে ঠকাচ্ছি।’

মাহবুবুল-আলম হানিফ যে কথাগুলো বলেছেন, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথাগুলো নিরেট সত্যও বটে। আমরা জাতীয়ভাবেই বর্তমানে নীতি-নৈতিকতার ভয়ানক সঙ্কটে রয়েছি। বেশিরভাগ মানুষ চরম অসততাকেই জীবনের অলঙ্কার মনে করছেন। সারাক্ষণ কে কাকে ঠকাতে পারে সেই আয়োজন দেখি। খাদ্যে ভেজাল সত্যিই আমাদের জাতীয় জীবনে এক ভয়াবহ দুর্যাগ হয়ে দেখা দিয়েছে। পৃথিবীর আর কোনো জাতি আমাদের মতো খাদ্যে ভেজাল মেশায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর, ক্ষতিকর বিষাক্ত সব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে মেশানো হয়। এসব ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদানে ভরা খাবার খেয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজছে। নানা রোগ-ব্যাধি-জরা নিয়ে এক রুগ্ন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত রোজার মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দোকানদারকে মাঝে মধ্যে কিছু জেল-জরিমানা করছেন বটে; কিন্তু তাতে ভেজাল ও ক্ষতিকর বস্তু মেশানোর প্রবণতা দূর হচ্ছে না। আর এক মাসের এই পোশাকি আয়োজনে ভালো কিছু আশা করাও কঠিন। আসলে জনসচেতনতা এবং ব্যাপক, ধারাবাহিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া এই ব্যাধি দূর করা যাবে বলে মনে হয় না।

আর যেখানে লাভের আশা ষোলআনা, যে কোনো মূল্যে টাকা কামানোটাই জাতীয় বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে কে আর সততার চর্চা করবে? শাক-সবজি-ফল, মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি যেহেতু দ্রুত পচনশীল, কাজেই এগুলোতে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে যতই ক্ষতিকর হোক, রাসায়নিক মেশাতে হবে। যেন সহজে না পচে। যেন পোকা না ধরে। এসব খাদ্যে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো জিনিসে রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে পোকা এবং পচন থেকে মুক্ত রাখার জন্য। কখনও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে দ্রুত পাকার জন্য। কখনও রং সুন্দর ও মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য। এসব খেয়ে মানুষ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু লাভের নেশায় এক শ্রেণীর উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী ঠিকই মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়েই চলেছেন।

ব্যবসায় অসততা কোথায় নেই? আমদানিকারকরা নানা কারসাজি করে সরকারের কাছে সুযোগসুবিধা বাগিয়ে নিয়ে আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে জিনিস বিক্রি করেন। আড়তদাররা নিজেদের সুবিধামতো জিনিসপত্র মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়ান। তারপর গুদামজাত পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে বাড়তি লাভ পকেটে পোরেন। খুচরা দোকানদাররাও যতটা সম্ভব দাম বাড়িয়ে, ওজনে ঠকিয়ে সর্বোচ্চ মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন।

শুধু ব্যবসা, ব্যবসায়ী কিংবা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই কি দুর্নীতি আক্রান্ত? দুর্নীতি কোথায় নেই? ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের কথাই চিন্তা করুন। যার অন্যায়ের প্রতিকার করার কথা, যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন অপরাধ দমন ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য, সেই পুলিশ-ওসি-এসপির ভূমিকা আমরা কী দেখলাম? ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেই রাফির বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার মতো গর্হিত অপরাধ করেছেন। আইনের পোশাকধারী ব্যক্তি নিজেই যখন আইন লঙ্ঘন করেন, অপরাধীদের পক্ষ নেন, তখন মানুষ কার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে? ভরসাই বা করবে কাকে? মাহবুবুল-আলম হানিফ ঠিকই বলেছেন, ‘এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়।’

চিররঞ্জন সরকার: কলামিস্ট

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র