Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

‘এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়’

‘এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়’
চিররঞ্জন সরকার, ছবি: বার্তা২৪.কম
চিররঞ্জন সরকার


  • Font increase
  • Font Decrease

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল-আলম হানিফ। সাজিয়ে-গুছিয়ে কথা বলেন। নিজেও সব সময় ফিটফাট থাকেন। গত প্রায় এক দশক ধরে গণমাধ্যমে তার বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির আয়োজনে ‘নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: শেখ হাসিনার অবদান’ শীর্ষক এক সেমিনারে মাহবুবুল-আলম হানিফ বলেছেন, ‘আজ আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও সততার সংকট। এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়।’

হানিফ আরও বলেন, ‘আজ দেখুন নৈতিকতা কোন পর্যায়ে চলে গেছে। বালিশ কিনতেও দুর্নীতির কথা আসে। অবাক হতে হয় যখন দেখি একটি, সরকারি দফতরের ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির কথা আসে। ইলেকট্রনিক্স জিনিস যার দাম ৭০০ থেকে দেড় হাজার টাকা, তা উত্তোলনের জন্য খরচ দুই হাজার! কোন পর্যায়ে গেলে মানুষ এমন কাজ করতে পারে।….’

‘প্রতিটি সেক্টরে আজ মানুষের যে অসততা দেখি, অনৈতিকতা দেখি, এরকম অসততা নিয়ে একটা দেশ খুব বেশি দূর এগোতে পারে না,’ যোগ করেন হানিফ।

তিনি বলেন, ‘দেখেন, আজ দেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ শারীরিকভাবে অসুস্থ। এই অসুস্থ মানুষের মধ্যে শতকরা ২৭ ভাগ কিডনি রোগী। বাকি ২৫ ভাগ মানুষ ক্যান্সারের রোগী। এর একটাই কারণ হচ্ছে আমাদের নীতিহীন, অসততা, অনৈতিকতা। আমরা খাদ্যে ভেজাল দিচ্ছি। মাছে ফরমালিন দিচ্ছি। এসব করে একে অপরকে ঠকাচ্ছি।’

মাহবুবুল-আলম হানিফ যে কথাগুলো বলেছেন, তা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথাগুলো নিরেট সত্যও বটে। আমরা জাতীয়ভাবেই বর্তমানে নীতি-নৈতিকতার ভয়ানক সঙ্কটে রয়েছি। বেশিরভাগ মানুষ চরম অসততাকেই জীবনের অলঙ্কার মনে করছেন। সারাক্ষণ কে কাকে ঠকাতে পারে সেই আয়োজন দেখি। খাদ্যে ভেজাল সত্যিই আমাদের জাতীয় জীবনে এক ভয়াবহ দুর্যাগ হয়ে দেখা দিয়েছে। পৃথিবীর আর কোনো জাতি আমাদের মতো খাদ্যে ভেজাল মেশায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর, ক্ষতিকর বিষাক্ত সব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে মেশানো হয়। এসব ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদানে ভরা খাবার খেয়ে দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের বারোটা বাজছে। নানা রোগ-ব্যাধি-জরা নিয়ে এক রুগ্ন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত রোজার মাসে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও দোকানদারকে মাঝে মধ্যে কিছু জেল-জরিমানা করছেন বটে; কিন্তু তাতে ভেজাল ও ক্ষতিকর বস্তু মেশানোর প্রবণতা দূর হচ্ছে না। আর এক মাসের এই পোশাকি আয়োজনে ভালো কিছু আশা করাও কঠিন। আসলে জনসচেতনতা এবং ব্যাপক, ধারাবাহিক ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা ছাড়া এই ব্যাধি দূর করা যাবে বলে মনে হয় না।

আর যেখানে লাভের আশা ষোলআনা, যে কোনো মূল্যে টাকা কামানোটাই জাতীয় বৈশিষ্ট্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে কে আর সততার চর্চা করবে? শাক-সবজি-ফল, মাছ, মাংস, দুধ ইত্যাদি যেহেতু দ্রুত পচনশীল, কাজেই এগুলোতে জনস্বাস্থ্যের পক্ষে যতই ক্ষতিকর হোক, রাসায়নিক মেশাতে হবে। যেন সহজে না পচে। যেন পোকা না ধরে। এসব খাদ্যে নানা ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো কোনো জিনিসে রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে পোকা এবং পচন থেকে মুক্ত রাখার জন্য। কখনও রাসায়নিক মেশানো হচ্ছে দ্রুত পাকার জন্য। কখনও রং সুন্দর ও মিষ্টি স্বাদ আনার জন্য। এসব খেয়ে মানুষ রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কিন্তু লাভের নেশায় এক শ্রেণীর উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ী ঠিকই মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশিয়েই চলেছেন।

ব্যবসায় অসততা কোথায় নেই? আমদানিকারকরা নানা কারসাজি করে সরকারের কাছে সুযোগসুবিধা বাগিয়ে নিয়ে আমদানি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে জিনিস বিক্রি করেন। আড়তদাররা নিজেদের সুবিধামতো জিনিসপত্র মজুদ করে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে দাম বাড়ান। তারপর গুদামজাত পণ্য বেশি দামে বিক্রি করে বাড়তি লাভ পকেটে পোরেন। খুচরা দোকানদাররাও যতটা সম্ভব দাম বাড়িয়ে, ওজনে ঠকিয়ে সর্বোচ্চ মুনাফা লাভের চেষ্টা করেন।

শুধু ব্যবসা, ব্যবসায়ী কিংবা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই কি দুর্নীতি আক্রান্ত? দুর্নীতি কোথায় নেই? ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডের কথাই চিন্তা করুন। যার অন্যায়ের প্রতিকার করার কথা, যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন অপরাধ দমন ও অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার জন্য, সেই পুলিশ-ওসি-এসপির ভূমিকা আমরা কী দেখলাম? ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন নিজেই রাফির বক্তব্যের একটি ভিডিও ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার মতো গর্হিত অপরাধ করেছেন। আইনের পোশাকধারী ব্যক্তি নিজেই যখন আইন লঙ্ঘন করেন, অপরাধীদের পক্ষ নেন, তখন মানুষ কার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে? ভরসাই বা করবে কাকে? মাহবুবুল-আলম হানিফ ঠিকই বলেছেন, ‘এত অসৎ জাতি নিয়ে বেশি দূর এগোনো সম্ভব নয়।’

চিররঞ্জন সরকার: কলামিস্ট

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র