Barta24

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শ্রীলঙ্কা: তোমার পাশে সারা বিশ্ব

শ্রীলঙ্কা: তোমার পাশে সারা বিশ্ব
ড. মাহফুজ পারভেজ, ছবি: বার্তা২৪.কম
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একাধিক গির্জা এবং হোটেলে সন্ত্রাসীদের সিরিজ বোমা হামলার খবর পেয়েই ফোন করি রবীন্দ্র পাথারানাকে। ফোনের অপর প্রান্তে তার কম্পিত কণ্ঠস্বর জানান দিচ্ছিল যে, সেখানে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা চলছে।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও আমরা উদ্বিগ্ন চিত্তে লক্ষ্য করছিলাম, দ্রুতবেগে হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। রবীন্দ্রের সঙ্গে ফোনে বেশিক্ষণ কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি সেদেশে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে আছেন। সন্ত্রাসী হামলার মতো চরম ক্রাইসিসের সময় তিনি ব্যস্ত থাকবেন, এটাই স্বাভাবিক। তারপরেও ফোনে তিনি সংক্ষিপ্ত ভাবে জানান যে, তিনি ভালো ও নিরাপদ আছেন। তবে এ ঘটনায় তিনি 'হতবাক ও বিমূঢ়'। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'আমাদের মতো শান্ত প্রকৃতির নির্বিরোধী দেশে এমন জঘন্য ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলা হবে বলে কেউ কল্পনাও করেনি।'

সাধারণ মানুষের ভাবনার মধ্যে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী আক্রমণের আশঙ্কার বিষয়টি স্থান না পেলেও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত ১১ এপ্রিল শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান দেশের সর্বত্র পাঠানো একটি অভ্যন্তরীণ ‘গোয়েন্দা সতর্কবাণী’তে দেশের উল্লেখযোগ্য গির্জাগুলোতে আত্মঘাতী বোমা হামলার আশঙ্কা করেছিলেন।

ধারণা করতে অসুবিধা হয় না যে, জনমনে আতঙ্ক ও ভীতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেজন্য পুলিশ প্রধানের বার্তাটি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বাদে অন্যদের কাছে গোপন ছিল। এ ধরনের সেনসিটিভ বার্তা সরকারের বিশেষ বিভাগগুলোর বাইরে সাধারণত গোপনই রাখা হয়। কিন্তু আগাম তথ্য ও বার্তা পাওয়ার পরেও প্রতিরোধমূলক কোনও ব্যবস্থা নিতে না পারার ব্যর্থতা দুঃখজনক।

একই রকমের কথা হামলার পর শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রানিল ভিক্রামাসিংহে বলেছেন। তার ভাষায়, 'সরকারের কাছে এই ধরনের হামলার আগাম তথ্য ছিল। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে নিবারক (প্রিভেন্টিভ) কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।' লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'তার কাছে যে তথ্য ছিল তাতে হামলাকারীরা স্থানীয় বলে বলা হয়েছিল।' শ্রীলঙ্কা সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে প্রাপ্ত বক্তব্যগুলোর নিরিখে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠে, 'জানা থাকা সত্ত্বেও কেন নিবারক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?'

সন্ত্রাসীদের প্রতি তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা ও বিশ্বের মানুষ এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করবে এবং শ্রীলঙ্কার রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়নশীল দেশসমূহের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলোকেও স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে।

বলার অপেক্ষা রাখে না, বৈশ্বিক চালচিত্রে দক্ষিণ এশিয়া রয়েছে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চরম ঝুঁকির মধ্যে। প্রতিনিয়ত এই ঝুঁকি বাড়লেও সন্ত্রাসবাদ দমন ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা অর্জনের দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ অগ্রসর হতে পারে নি।

শ্রীলঙ্কার দুঃখজনক ঘটনাটি থেকে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিহতের দক্ষিণ এশিয়ান সক্ষমতার একটি পর্যালোচনাও পাওয়া যাচ্ছে। কারণ গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা এটি। কেবল হতাহতের সংখ্যা বিবেচনায়ই নয়, বরং এর ব্যাপকতার বিচারেও এই হামলাটিকে গত এক দশকের, এবং সম্ভবত গত কয়েক দশকের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা বলে মানতে হবে।

একসঙ্গে ছয়টি হামলা চালানোর ঘটনাতে স্পষ্ট যে এটি একটি একক গোষ্ঠীর হামলা এবং অত্যন্ত পরিকল্পিত। হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ধর্মস্থান এবং বিদেশি পর্যটকেরা। হামলার দিন হিসেবে এমন দিন বেছে নেওয়া হয়েছে যার ব্যাপক ধর্মীয় তাৎপর্য আছে।

লক্ষণীয় বিষয় হলো, এমন সব হোটেলে হামলা হয়েছে যাতে দেশটির ইমেজ ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিরিজ হামলার পর আরও দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। যার একটি হামলাকারীদের সঙ্গে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে অভিযানের সময়ে। পুলিশের ভাষ্য, এসব হামলার অন্তত একটি আত্মঘাতী হামলা। হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু এবং পরিকল্পনার মাত্রা একটি ছোট গোষ্ঠীর কাজ বলে ইঙ্গিত দেয় না। বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের একটি অংশ বলেই প্রতীয়মান হয়।

এই ধরনের একটি বড় ও সুপরিকল্পিত আকারের সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন বলেই অনুমান করা যায়। কিন্তু শ্রীলঙ্কার গোয়েন্দারা তা আঁচ করতে পারলেন না এবং প্রতিরোধের ব্যবস্থাও নিতে পারেন নি, যা তাদের ব্যর্থতারই প্রমাণ।

'পার্ল অব ইন্ডিয়ান ওশান' বা 'ভারত মহাসাগরের মুক্তা' নামে পরিচিত অনিন্দ্য সুন্দর দেশ শ্রীলঙ্কার রয়েছে ভয়ঙ্কর ও রক্তাক্ত জাতিগত সংঘাতের ক্ষত। মূল সিংহলী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংখ্যালঘু তামিলদের দীর্ঘ মেয়াদী সশস্ত্র সংঘাত দেশটিকে নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কা সরকার চরম বলপ্রয়োগ করে তামিল বিদ্রোহীদের দমন কালে তামিল জনগোষ্ঠী চরম নিপীড়নের শিকার হয়।

শেষ পর্যন্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি অব্যাহত রাখে। চীন ও ভারতের মতো দুই শক্তিশালী প্রতিবেশীকে সামলে শ্রীলঙ্কা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেকে নিরাপদ রাখতেও সফল হয়েছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার মানদণ্ডে দেশটির অগ্রগতি সত্যিই প্রশংসনীয়।

চরম সন্ত্রাসী হামলায় শ্রীলঙ্কার স্থিতি ও গতি ব্যাহত হবে, সন্দেহ নেই। হামলার প্রতিক্রিয়া ও প্রভাবকে ছোট করে দেখা যায় না। শ্রীলঙ্কান সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো হামলার ক্ষত মুছে সর্বাত্মক শান্তি সমুন্নত রাখা। সন্ত্রাসের প্রতিক্রিয়ায় আরও সন্ত্রাস ও অশান্তির উদ্ভব হলে দেশটির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ ঘটবে। দেশের স্থিতি বিনষ্ট হয়ে অগ্রযাত্রার সচল চাকা অচল হয়ে যাবে। এমন কি, তামিল সংঘাতের সময়কালের ভয়াবহ দিনগুলোর পদধ্বনির পুনঃপ্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দেশটি আরও পিছিয়ে যেতে পারে, যা মোটেও কাম্য নয়।

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব তথা দক্ষিণ এশিয়া গড়তে শ্রীলঙ্কার সন্ত্রাসী ঘটনার বিরুদ্ধে সবাইকে একজোটে প্রতিবাদমুখর হতে হবে। জঙ্গিবাদ, অসাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসের উৎসমুখ বন্ধে নিতে হবে সম্মিলিত প্রয়াস। আঞ্চলিক রাজনীতিকেও আরও সতর্ক হয়ে চলতে হবে, যাতে ক্ষমতার রাজনীতির ছত্রছায়ায় জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদ কোনও জায়গা না পায়।

নিউজিল্যান্ডের ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার পর সারা বিশ্ব যেভাবে দেশটির শান্তিকামী মানুষের পক্ষে দাঁড়িয়েছিল, শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রেও তেমনই নজিরবিহীন বিশ্ব ঐক্য দেখা গেছে। সারা বিশ্ব এসে দাঁড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার পাশে। সন্ত্রাসের নিন্দা ও প্রতিবাদে মুখর মানবিক কণ্ঠস্বর প্রত্যাশা করছে, যেন কোনও অবস্থাতেই দেশটির নাগরিক নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট না হয়। তা হলে, সন্ত্রাসীদের চক্রান্তই সফল হবে।

অস্থিতিশীলতা ও অশান্তির যে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় লাগানোর চেষ্টা করা হয়েছে, তা যদি আরও অশান্তি ও সংঘাতের পথে চলে, তবে সন্ত্রাসীরাই বিজয়ী হবে এবং শ্রীলঙ্কা ক্রমে ক্রমে সংঘাতের আগুনে পুড়ে যাবে। একদা তামিল সংঘাতে ছারখার শ্রীলঙ্কা ধ্বংস ও অগ্নিকুণ্ডের ছাইভস্ম থেকে ফিনিক্স পাখির মতো নবজন্ম লাভ করেছে। আরেকটি অশান্তির আগুন যদি আবার প্রজ্বলিত হয়, তবে দেশটির অস্তিত্বই ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সন্ত্রাসীদের দুরাশা সফল হবে।

ফলে এই চরম সঙ্কুল পরিস্থিতিতে শান্তিকামী মানুষ ও আশাবাদী বিশ্ব শান্তির বার্তা নিয়ে একযোগে শ্রীলঙ্কার পাশে দাঁড়ানো কর্তব্য। বিশ্বের সকলের দায়িত্ব হলো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের শেকড় নির্মূল করা এবং সন্ত্রাসীদের জ্বালানো হিংসার আগুনের প্রতিক্রিয়ায় নিরীহ ও নিরপরাধী মানুষ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

আপনার মতামত লিখুন :

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’

রাজনীতির ‘দুষ্টু বালক’ ও আমাদের ‘এরশাদ সিনড্রোম’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, পুরনো ছবি

৮৯ বছরের এক বিশাল কর্মজীবন পেছনে ফেলে সব আলোচনা-সমালোচনার ওপারে চলে গেছেন এরশাদ। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এরশাদ একাই একটি অধ্যায়। এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা) হয়তো আরও বহুদিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়েই থাকবে, তবে এরশাদবিহীন জাপা ধীরে ধীরে তার রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে বলেই মনে হয়।

তার দীর্ঘ পেশাগত ও রাজনৈতিক ভূমিকার জন্য তিনি দলকেও ছাড়িয়ে গেছেন বহুমাত্রায়। তার অনুপস্থিতিতে জাপা হয়তো এখন সেটিই অনুভব করবে। ক্ষমতার সিঁড়ির কাছাকাছি যেতে এরশাদের বিকল্প এখনও তৈরি হয়নি। এছাড়া রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিপরীতে একটি শক্ত প্রতিরক্ষা ঢাল হিসেবেও তার জুড়ি নেই। তাই জাপার মতো একটি সমর্থক শক্তি রাজনীতিতে প্রয়োজন ছিল বৈকি। অপর দলের ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় এরশাদবিহীন জাপা আগামীতে কতটা শক্তি জোগাতে পারে সেটিই এখন দেখার বিষয়।

তবে পার্টির গুরুত্ব থাকা না থাকা নির্ভর করে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ওপর। দলের ভেতরে সামরিক বেসামরিক ক্যারিয়ারিস্ট নির্বিশেষে এরশাদের মতো হাই-প্রোফাইল রাজনীতিক আর নেই। এক সময় জাপা করেছেন দেশের অনেক হাই প্রোফাইল রাজনীতিক। মিজানুর রহমান চৌধুরী, কাজী জাফর, শাহ মোয়াজ্জেম, মওদুদ আহমেদসহ দেশের প্রথিতযশা অনেক রাজনীতিকরা এরশাদের জাপাকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা বামপন্থী রাজনীতি থেকে এসেছেন। ডিগবাজীর এই রাজনীতি শুরু হয় জিয়ার আমলে। সামরিক, বেসামরিক আমলা ও পেশাজীবীদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করেন জিয়া।

এরশাদও একই কায়দায় সামরিক-বেসামরিক আমলা, পেশাজীবীদের দলে ভেড়ান। কিন্তু ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়ার পর ক্ষমতার দ্বন্দ্বে তাদের বেশির ভাগই আজ আর জাপায় নেই। যেমন নেই বিএনপিতে। সময় বুঝে আজ জিয়ার উপদেষ্টা, কাল এরশাদের উপদেষ্টা বা মন্ত্রী হয়েছেন অনেকে। নগদ ইনামের আশায় এরকম রাজপন্ডিতের (উপদেষ্টা) নজির আজও বিরল নয়। ক্ষমতার লোভে যারা ডিগবাজী দিয়ে জাপায় এসেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে তারাই সবার আগে উল্টো ডিগবাজী দিয়েছেন। কেউ বা মৃত্যৃ বরণ করেছেন, অবসর নিয়েছেন। ফলে জাপায় আজ ক্যারিয়ার পলিটিশিয়ান যাকে বলে সে রকম কেউ নেই বললেই চলে। ক্যারিশম্যার কথা বাদই দিলাম। ফলে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্বই জাপার জন্য আজ বড় চ্যালেঞ্জ। দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার রাজনীতিতে একইভাবে দলের গুরুত্ব বহাল রাখা।

Ershad
১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এরশাদকে নিয়ে আলোচনা আছে, আছে সমালোচনা। কোনোটাই ভিত্তিহীন নয়। তিনি একটি নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ক্ষমতা দখল করেছেন। বিদ্যমান দলগুলোর অদূরদর্শীতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে নিজেই ৯ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকেছেন। সব সামরিক শাসক যা করেন এরশাদও তাই করেছেন। জিয়াউর রহমান বিএনপি করেছেন, এরশাদ করেছেন জাতীয় পার্টি। নয় বছর ক্ষমতায় থেকে বিদায় নিয়েছেন সত্য, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে এরশাদের গুরুত্ব কমেনি মোটেও। বরং ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজের পাল্লা ভারি করতে এরশাদের বিকল্প শুধুই এরশাদ। আগামী দিনের ক্ষমতার রাজনীতিতে জাপা একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ থাকতে পারবে কিনা জাপা’র জন্য আপাতত এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্য অন্তত আগামী নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে ‘ক্ষমতা’, ‘রাজনীতি’ ও ‘কৌশলের’ সঙ্গে ভোটের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর বিষয়টি অনেকাংশেই নির্ভর করে। এ সম্পর্ক যেভাবে শিথীলতার দিকে যাচ্ছে তাতে তৃতীয় কোনো সহায়ক শক্তির রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতাও হয়তো ফুরিয়ে যাবে। তবে সে রাজনীতি আমাদের হিসাবের বাইরে। আমরা শুধু এটুকুই বলতে পারি, এরশাদ জাপায় যেমন অপরিহার্য ছিলেন, ক্ষমতার রাজনীতিতেও ছিলেন একই রকম অপরিহার্য।

Ershad
একাদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

 

এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ্য। এই উপমহাদেশে ব্যক্তিকেন্দ্রিক দলই বেশি বিকাশ লাভ করেছে। ভারতে যেমন কংগ্রেস, পাকিস্তানে মুসলিম লীগ, পিপলস পার্টি, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাপা। ভারতের বিজেপি অথবা বাংলাদেশের জামায়াত একটি ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ চর্চা করে। কাজেই প্রচলিত রাজনীতি থেকে তাদের রাজনীতি ভিন্ন, নেতৃত্বের বিষয়টিও ব্যক্তি বা পরিবার নির্ভর নয়। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ যদিও ভাসানী, সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে বিকাশ লাভ করেছে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর দলের প্রয়োজনেই বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেয়া হয়। সেই থেকে প্রায় চার দশক আওয়ামী লীগও ব্যক্তি কেন্দ্রিক দলীয় রাজনীতির মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে।

দলের ভবিষ্যৎ পারিবারিক সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। আর বিএনপি ও জাপার শুরুই হয়েছে একজন ব্যক্তি বিশেষের রাজনৈতিক খায়েস মেটানোর জন্য। জিয়া ও এরশাদ যদি ধরেও নিই যে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ক্ষমতা দখল করেছেন (ডকট্রিন অব নেসিসিটি), না হলে দেশ গোল্লায় যেতো ইত্যাদি, ইত্যাদি... তারপরও বাস্তবতা হলো তারা কেউ দেশের সেই কথিত ক্রান্তিলগ্ন পার হওয়ার পর ব্যারাকে ফিরে যাননি। গদি আঁকড়ে ধরে থেকেছেন। জিয়া নিহত হওয়ার পর বিচারপতি সাত্তার ও পরে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন। সেই থেকে আজও ব্যক্তি ও পারিবারিক দখলমুক্ত হতে পারেনি বিএনপি।

একই কায়দায় এরশাদ নয় বছর ক্ষমতায় থাকার পরও জাপা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্যক্তি এরশাদ থেকে জাতীয় পার্টি মুক্ত হতে পারেনি চার দশকেও। পতিত সামরিক ও স্বৈরশাসকরা ‘মরিবার পূর্বে মরিতে চান না’। তাই নিরাপদ ও স্বাভাবিক মৃত্যু নিশ্চিত করতেই তারা দলের সভাপতি বা উপদেষ্টার পদ আজীবন আঁকড়ে থাকেন। এরশাদের হয়তো এক্সিটওয়ে ছিল, কিন্তু ক্ষমতার রাজনীতিতে তার প্রয়োজন ছিল এবং তিনিও জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তা উপভোগ করে গেছেন। ক্ষমতার প্রতিটি কোনায়ই তিনি বিচরণ করেছেন।

সেনাপ্রধান, সিএমএলএ, রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রীর মর্যাদা সম্পন্ন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিরোধী দলের নেতা সব ক্ষেত্রেই তার সরব উপস্থিতি আমরা দেখি। সবকিছু যে তার প্রয়োজন ও ইচ্ছায় হয়েছে হয়তো সেরকমটি নয়। অনেকটা রাজনীতি ও ‘ক্ষমতা’র প্রয়োজনেই তার এই এদিক ওদিক, কখনো নিজের কখনো অপরের প্রয়োজনে। এখানেই এরশাদের অপরিহার্যতা। আর এজন্যই আমরা তাকে বলি ‘রাজনীতির দুষ্টু বালক’।

Ershad

সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংসদ টিভি 

 

স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের তিনটি বড় দলের মধ্যে জাপা আপাত একজন ব্যক্তির নেতৃত্ব থেকে মুক্ত হলো বটে। কিন্তু ব্যক্তি কেন্দ্রিকতা থেকে বের হয়ে নতুন করে পরিবারভূক্ত হলো বলেই মনে হচ্ছে। এতে আপতত হয়তো জাপা প্রাথমিক ধাক্কাটি সামলাতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে পার্টির নিয়তি নির্ধারণে তা কতটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে তা সময়ই বলবে।

এরশাদের সমালোচনা আছে অনেক। কিন্তু নির্মোহ দৃষ্টিতে বললে এ সমালোচনা থেকে সবাই-ই কি মুক্ত? রাজনীতিতে এরশাদ একটি সিনড্রোম। এ সিনড্রোমে সব রাজনৈতিক দলই আক্রান্ত। এমনকি নাগরিক হিসেবে আমরাও কি সুবিধাবাদী নই? এরশাদ আমাদের সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী, ভোগবিলাসী ও ডিগবাজীর রাজনীতির আইকন। কিন্তু এরশাদ সিনড্রোম কি আমাদের মাঝেও নেই? এরশাদকে গালি দেওয়া সহজ, কারণ তিনি ক্ষমতাহীন এক ‘দুষ্টু বালক’। এরশাদের বিদায়ের পর রাজনীতিতে হয়তো সহসা সমালোচনা করার মতো লোকটি বিদায় নিলেন। কিন্তু তাতে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে কি? এরশাদের বিদায়ের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ভাড়ামি হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু রাজনৈতিক দুষ্টামি বন্ধ হবে কি?

এরশাদুল আলম প্রিন্স: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম।

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’

‘সেই এরশাদ’, ‘এই এরশাদ’
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পুরনো ও সাম্প্রতিক ছবি

সাবেক রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, যিনি এক সময়ের সেনাপ্রধান আর বর্তমানে 'প্রধান বিরোধী দলের নেতা', তার জীবন ও কর্মের মূল্যায়ন করা একই সঙ্গে সহজ এবং কঠিন।

সহজ এ কারণে যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় এরশাদের স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থান স্পষ্ট। এরশাদের ক্ষমতা দখল ও দশ বছরের স্বৈরশাসনের 'সেই' সময় সবার কাছেই প্রতিভাত। এ ব্যাপারে বিতর্ক বা তাকে বৈধতা বা ন্যায্যতা দেওয়া অসম্ভব।

কিন্তু 'এই' সময়ের এরশাদ বিশ্লেষকদের কাছে সহজে ব্যাখ্যা করার ব্যক্তি নন। তার কারাভোগ, রাজনীতিতে লেগে থাকার আগ্রহ এবং ক্রমশ প্রকাশিত বিভিন্ন মানবিক গুণাবলীর কারণে এক অন্য মাত্রার এরশাদকে দেখতে পাওয়া যায়।

এরশাদের মৃত্যুতে সবচেয়ে বিপদে যারা

অবশ্য এ কথাও পরিষ্কারভাবে বলা দরকার যে, এরশাদের ভালো কিছু কাজ থাকলেও তার খারাপ কাজগুলো জায়েজ হয়ে যায় না। ব্যক্তিগতভাবে আমি তা মনে করি না এবং লিখিতভাবেই তা উল্লেখ করেছি।

তারপরও বিস্ময় জাগে। নানা প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। বিশেষত আমরা যারা রাজনীতি বিজ্ঞানের অধ্যয়ন ও চর্চায় ব্যাপৃত আছি, তাদেরকে রাজনৈতিক প্রপঞ্চ ও ব্যক্তিত্বের গতিশীলতার ওপর লক্ষ্য রাখতে হয়। তরুণ মার্কস আর পরিণত মার্কসের মধ্যে পার্থক্য রেখা টানতে হয়। একদার কট্টর সাম্প্রদায়িক নেতার জাতীয়তাবাদী-মানবতাবাদীতে রূপান্তরের কার্যকারণ নিরূপণ করতে হয়। আবার বাম, প্রগতিশীল, কমিউনিস্ট নেতার মৌলবাদী স্খলনের ব্যাখ্যাও দাঁড় করাতে হয়।

এরশাদকে এমন তুলনায় আনা হলে আমরা কেমন চিত্র পাব? স্বৈরাচার হয়েও তার কঠোরতার পাশাপাশি মানবিক উন্নয়নমূলক কিছু পদক্ষেপও আড়ালে থাকে না। সমালোচনার পরেও ওষুধ নীতি, ভূমি সংস্কার, বিকেন্দ্রীকরণ, ধর্মীয় বিষয়ের গুরুত্ব তাকে অনেক মানুষের প্রিয়ভাজন করেছে।

যদিও এরশাদের রাজনীতির ৪০ বছরের পুরো সময়ই ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আর বিএনপির অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে তিনি দশ বছর ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন এবং এখনও বিএনপির রাজনৈতিক ভুলের সুযোগ নিয়ে সামনে চলে আসতে পেরেছেন। দ্বিদলীয় রাজনীতির প্রকৃত বিকাশ হলে তার রাজনৈতিক জীবন এতদূর প্রলম্বিত হয়ে আসতে পারতো কি-না, সন্দেহ।

একজন এরশাদ

যেভাবেই হোক তিনি ক্ষমতার দশ বছর পর আরও তিরিশ বছর রাজনীতিতে থেকেছেন। এ সময়কালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সাথেই ছিলেন। ধর্মীয় অধিকারের পক্ষে ছিলেন। এবং সংসদীয় রাজনীতির কাঠামোর মধ্যেই থেকেছেন, যদিও সেই সংসদ ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।

আপত্তি বা সমালোচনা যাই থাকুক, 'স্বৈরাচারী' এরশাদ গণতান্ত্রিক নির্বাচন, সংসদীয় ব্যবস্থা ইত্যাদিকে পাশ কাটিয়ে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছেন, এমন দৃষ্টান্ত কেউ দেখাতে পারবে না। নিজের এবং দলের স্বার্থে তিনি রাজনীতি করেছেন, এমনটি সবাই করে। ফলে এ বিষয়ে সমালোচনার কিছু থাকতে পারে না। তিনি তার ও তার দলের স্বার্থে রাজনীতি করে মহাভারত অশুদ্ধ করেননি।

আর যে কাজটি তিনি সন্তর্পণে করেছেন, তা হলো মানব কল্যাণ ও মানবসেবা। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম এবং অন্যান্য গণমাধ্যমেও খবরগুলো প্রকাশ পেয়েছে, যাতে দান, সাহায্য ছাড়াও সম্পত্তি বিলি-বণ্টনের কথা প্রকাশ পেয়েছে। এরশাদ ব্যক্তিস্বার্থ সামনে রেখে রাজনীতি করলেও ব্যক্তিগত সম্পদের পাহাড়ের স্তূপ করেননি। ক্ষমতালোভী স্বৈরাচারের মধ্যে তাকে দেখা যাচ্ছে বিরল ব্যতিক্রম স্বরূপ।

এরশাদ আমলে আমরা যখন কিছুটা লেখালেখি ও সাংবাদিকতা করেছি, তখন তার কাছের লোকদের বরাতে জেনেছি, তিনি পারতপক্ষে কাউকে না করতে বা ফিরিয়ে দিতে পারেন না। তার কাছ পর্যন্ত পৌঁছে গেলে কার্যোদ্ধার সম্ভব, এমন একটি ভাষ্যও তখন ঢাকায় প্রচলিত ছিল। এ সুযোগে বহুজন চাকরি-বাকরি, প্লট, প্রমোশন নিয়েছেন। অনেক নারীও এরশাদের এই নমনীয়তার সুযোগ নিয়েছেন।

এরশাদ: জীবন ও মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ পেরিয়ে

শাসক হিসেবে এসব পক্ষপাত অবশ্যই মানবীয় দুর্বলতা ও নৈব্যক্তিকতার অভাব হিসেবে বিবেচনার যোগ্য। রাষ্ট্রীয় বা প্রশাসনিক বিষয় ব্যক্তিগত তোষামোদির মাধ্যমে বিলি-বণ্টন করা ঘোরতর অন্যায় এবং সুশাসনের বিপরীত ও স্বৈরমানসিকতার পরিচায়ক।

কিন্তু এরশাদ যখন ক্ষমতায় নেই, তখন নিজের সম্পত্তি বিলিয়ে দিলে তাকে কেউ সমালোচনা করতে পারে না। তিনি যে দিতে জানেন, দিতে চান, তা আগে ও বর্তমানে তিনি প্রমাণ করেছেন। এই এরশাদকে মানুষ অস্বীকার করবে কেমন করে?

ব্যক্তিগতভাবে এরশাদের সঙ্গে ক্ষমতাকালে ও ক্ষমতার পরে একাধিকবার আমার সাক্ষাত হয়েছে। সেটা রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, বঙ্গভবন, ধানমণ্ডির কবিতা কেন্দ্র, কারও বাসা, অফিস বা কোনও বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে হলেও আমি তার নিপাট ভদ্রতা, সৌজন্যবোধ ও সম্মানজনক আচরণের চাক্ষুষ সাক্ষী। পরে যখন তিনি জানলেন, ‘সাপ্তাহিক রোববার’ -এ তাকে স্বৈরাচার বলে আমি স্বনামে নিয়মিত লিখেছি, তখনও তার আচরণের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন ঘটেনি।

বিশ্ব বেহায়া
এরশাদকে নিয়ে কামরুল হাসানের ব্যাঙ্গচিত্র/ সংগৃহীত

 

এরশাদকে স্বৈরাচার বলে আমরা আন্দোলন করেছি, তার বিরুদ্ধে লিখেছি, পটুয়া কামরুল হাসানের বিখ্যাত ব্যাঙ্গচিত্র 'বিশ্ব বেহায়া'র পোস্টার সেঁটেছি ক্যাম্পাসের দেওয়ালে দেওয়ালে। তার মৃত্যুর পর চট করে তার সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণা ভেঙে যায় না।

শুধু মনের মধ্যে অলক্ষ্যে একটি প্রশ্ন উঁকি দেয়, 'সেই এরশাদ’ আর 'এই এরশাদ’ কি একজনই? ক্ষমতা দখলকারী এরশাদ আর রাজনীতি শেষে চিরবিদায় নিয়ে চিরদিনের মতো চলে যাওয়া এরশাদ কি একজনই? সহজেই এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না।

ব্যক্তি ও রাজনীতিক এরশাদের প্রকৃত তুলনামূলক মূল্যায়ন করতে পারবে ইতিহাস। ইতিহাসের সেই রায় জানার জন্য আমাদের তাকিয়ে থাকতে হবে মহাকালের দিকে।

ড. মাহফুজ পারভেজ: কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র