Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মানুষ জিতবেই, অশুভ দৈত্য হারবেই!

মানুষ জিতবেই, অশুভ দৈত্য হারবেই!
এম. এম. কায়সার, ছবি: বার্তা২৪.কম
এম. এম. কায়সার
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অথচ আজ হওয়ার কথা ছিলো ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রথম দিন। কিন্তু এই টেস্টের প্রথমদিন আসার আগেই যে সিরিজের শেষদিন চলে এলো!

অথচ আজ সকালে ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে টস করতে নামার কথা ছিলো মাহমুদল্লাহ রিয়াদের। কিন্তু টস করতে মাঠে নামার বদলে তিনি যে বিমানবন্দরে ছুটছেন, দেশে ফেরার পথে! অথচ এই ম্যাচটা হতে পারতো নিউজিল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে টিম সাউদির প্রথম টেস্ট। কিন্তু এদিনে যে সাউদিকে ক্রাইস্টচার্চে ৪৯ জনের মৃত্যুতে শোক বইয়ে সমবেদনা জানিয়ে কিছু লিখতে হচ্ছে, চোখে জল নিয়ে!

অথচ টেস্ট ম্যাচ শুরুর আগেদিনের এই সময়ে ক্রিকেট রিপোর্টারদের ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের প্রিভিউ লেখার কথা ছিলো। কিন্তু লিখতে হলো নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা ক্রিকেটারদের আতঙ্ক-উদ্বেগের লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার বয়ান!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Mar/16/1552713677266.jpg

অথচ এইদিনে দুপুর বা মাঝ বিকালের এই সময়টায় তামিমের আরেকটি সেঞ্চুরি উৎসবের কীর্তি নিয়েই পক্তিমালা সাজানোর কথা ছিলো। কিন্তু ক্রাইস্টচার্চের হ্যাগলি পার্কের মসজিদে প্রবেশ পথের সেই রক্তাক্ত স্তম্ভের পাশে একরাশ ফুল রেখে আসতে হলো নিহতের স্মরণে!

১৫ মার্চের ক্রাইস্টচার্চের দুপুর শুধু ক্রিকেট ইতিহাস নয়, বদলে দিয়েছে একসঙ্গে অনেক অনেক কিছুকে। টুকরো টুকরো করে ভেঙে দিয়েছে অনেক দিনের জমিয়ে রাখা বিশ্বাসকে। যে বিশ্বাসের নাম ছিলো নিউজিল্যান্ডের মাটি নিরাপদ।

সেই বিশ্বাস এখন নষ্ট।

পুরো নিউজিল্যান্ডকে প্রকৃতি দু’হাত ভরে যেন উজাড় করে দিয়েছে। চারধারের সবুজ প্রকৃতি ও বিশাল পাহাড়ের আঙ্গিক বৈশিষ্ঠ্যর সৌন্দর্যকে অক্ষুণ রেখেই আধুনিকতার বসবাস এখানে। নিউজিল্যান্ডে পা রেখে এই শান্ত-সুবজের সৌন্দর্য্য বিমোহিত হননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রতিবারই ক্রিকেটাররা এখানে পৌঁছে এবং এখান থেকে ফেরার সময় সেই সৌন্দর্য্যরে সঙ্গী হয়ে ছবি তুলতেন। সেগুলো ছিলো সুন্দর স্মৃতির ফ্রেম।

কিন্তু এবার ফেরার সময় যে ছবি তুললেন ক্রিকেটাররা সেই ছবির অলিখিত ক্যাপশন একটাই-‘নিউজিল্যান্ড ছাড়ছি, কি শান্তি!’ শনিবার দুপুরে ক্রাইস্টচার্চের বিমানবন্দরে পৌছানোর পর পুরো ক্রিকেট দলের স্বস্তির নিঃশ্বাস; জীবন ফিরে পাওয়ার স্বস্তি!

টিম ম্যানেজার খালেদ মাসুদ পাইলট দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠার আগে লিখলেন- ‘সুন্দর নিউজিল্যান্ডে এখন সন্ত্রাসের কালো ছোঁয়া! দুঃখ হচ্ছে। আশায় আছি সবকিছু দ্রুত বদলে যাবে।’

এতদিন নিউজিল্যান্ড ছিলো সব সুন্দরের দেশ। কিন্তু সেই সুন্দরের আয়নায় এখন অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের নখর! পাহাড়, পার্ক, ঝর্না, লেকের নিউজিল্যান্ডে হঠাৎ এসে হাজির হলো উন্মত্ত খুনি, উগ্র জাতীয়তাবোধের জিঘাংসা!

হ্যাগলি পার্কের কাছে আল নূর মসজিদে নিহতদের স্মরণে নিজের ফার্ন বাগানের একগোছা ফুল রেখে চলে যাওয়ার সময় ধরা গলায় একজন বললেন-‘আমাদের সুন্দর শহরে অশুভ এক দৈত্য এসেছিলো!'

যে কোন বিপদ মানুষকে একজোট হতে শেখায়। ক্রাইস্টচার্চের ভয়াবহ এই খুনি হামলায় পুরো নিউজিল্যান্ড এখন সেই ঐক্যের শক্তিতে বলীয়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রায় সব শহরেই মুসলমানদের বিভিন্ন স্থাপনা বা মুসলিম কম্যুনিটি সেন্টারের সামনে সারি সারি ফুলের সারি। শোক-সমবেদনা-সহমর্মিতার এই উদাহরণই জানাচ্ছে নিউজিল্যান্ড আবার হাসবে ঝলমলে হাসিতে। যে হাসিতে ঝরে মুক্তো দানা। যে হাসি গান গায় মনুষত্ব্যের!

খুনি ব্রেন্টট ট্যারান্ট শুক্রবার দুপুরে বন্দুক হাতে নিয়ে উন্মত্ত হাসি হাসছিলো। শনিবার দুপুরেই হাতে হাতকড়া, কাঠগড়ায় দাড়ানো তার ছবিটা চিরসত্য সেই কথাটা আরেকবার জানিয়ে গেল; মানুষ জিতবেই। অশুভ দৈত্য হারবেই!

আপনার মতামত লিখুন :

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!

বিয়ের দিন আইন প্রয়োগ কেন!
আলম শাইন, ছবি: বার্তা২৪

আমাদের দেশের ছেলে-মেয়েরা আঠারো বছরেই ভোটাধিকারের সুযোগ পায়। কিন্তু বিধান অনুযায়ী একই বয়সে বৈবাহিক বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ বিয়ের জন্যে দেশে আলাদা আইন-কানুন রয়েছে। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে সেই আইনে সামান্য হেরফের রয়েছে। যেমন ছেলেদের ক্ষেত্রে একুশ, মেয়েদেরে ক্ষেত্রে আঠারো বছর। এর চেয়ে কমবয়সী কেউ বিয়ে করলে কাবিন রেজিস্ট্রিতে বিঘ্ন ঘটে।

বিধান অমান্য করে কেউ কাবিননামা রেজিস্ট্রি করলে তাকে অবশ্যই আইনের সন্মুখীন হতে হয়। তারপরও আমরা লক্ষ্য করছি, আইনিবাধা উপেক্ষা করে দেশে এ ধরনের বিয়েশাদী প্রায়ই ঘটছে যা কোনমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। এর ফলাফলও ভয়ঙ্কর। অপ্রাপ্ত বয়সে গর্ভধারণ করে অনেক কিশোরী মৃত্যুবরণ করছে। এসব বেআইনি ও অনৈতিক ঘটনা বেশি ঘটছে দেশের গ্রামাঞ্চল কিংবা চরাঞ্চালের দরিদ্র ও অশিক্ষিত পরিবারে। মাঝে মধ্যে মফস্বল শহরেও দেখা যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ হচ্ছে ইভটিজারদের ভয়। যার ফলে বাবা-মা মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়সেই বিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এ কাজটি যেসব বাবা-মায়েরা করছেন তারা কিন্তু ঘুণাক্ষরেও জানছেন না, আঠারো বছরের কমবয়সী মেয়েকে বিয়ে দেওয়া আইনের পরিপন্থী। বিষয়টা অজানা থাকাতেই দরিদ্র বাবারা অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যার বিয়ের দিনক্ষণ ধার্যকরে সাধ্যানুযায়ী ভোজের আয়োজন করেন। ঠিক এমন সময়েই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই ঘটনাটি; বিয়ের বাড়িতে দারোগা-পুলিশের হানা! যা সত্যিই বেদনাদায়ক। এ বেদনার উপসম ঘটানো সহজসাধ্য নয়।

দুঃখজনক সেই ঘটনায় কন্যাদায়গ্রস্ত পিতাকে পর্বতসম ওজনের ভার বহন করতে হয়। বিষয়টা যে কত মর্মন্তুদ তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কারো জানার কথাও নয়। একে তো দরিদ্র বাবা, তার ওপর মেয়ের বিয়ের আয়োজন করতে ঋণ নিতে হয়েছে তাকে। সেই ঋণ এনজিও, ব্যাংক কিংবা ব্যক্তি পর্যায়েরও হতে পারে। হতে পারে তিনি জমিজমা বিক্রয় করেও মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেছেন। এ অবস্থায় মেয়ের বিয়েটা ভেঙ্গে গেলে ঋণগ্রস্ত পিতার অবস্থাটা কি হতে পারে তা অনুমেয়। কারণ ইতোমধ্যেই অর্থকড়ি যা খরচ করার তা করে ফেলেছেন। আর্থিক দণ্ডের শিকার হয়ে কনের বাবা তখন মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন। তার সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা সচেতন ব্যক্তিমাত্রই বুঝতে সক্ষম হবেন। বিষয়টা বিশ্লেষণ করে বোঝানোর কিছু নেই বোধকরি।

গ্রামাঞ্চলে এভাবে বিয়ে ভেঙ্গে গেলে ওই পাত্রী বা কনের ওপর নেমে আসে মহাদুর্যোগ। পাড়া পড়শীরা অলুক্ষণে অপয়া উপাধি দিয়ে কনের জীবনটাকে অতিষ্ট করে ফেলেন। এতসব কথাবার্তা সহ্য করতে না পেরে অনেকক্ষেত্রে সেই কন্যাটি আত্মহত্যার চিন্তা করেন অথবা বিপদগামী হন।

প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ঘটনার জন্য কে দায়ী থাকবেন- প্রশাসন না কনের বাবা? আমরা জানি, আইনের দৃষ্টিতে বাবাই দায়ী, প্রশাসন নয়। তারপও জিজ্ঞাসাটা থেকেই যাচ্ছে, কনের বাবাকে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করার আগে স্থানীয় প্রশাসন বাধা দেয়নি কেন! এখানে স্বভাবসুলভ জবাব আসতে পারে যে, বিষয়টা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়নি বিধায় বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টা তা নয়। যতদুর জানা যায়, এলাকার কিছু বদমানুষ অথবা ইভটিজার জেনেও জানাননি প্রশাসনকে। কনের বাবাকে নাজেহাল করার উদ্দেশে বিয়ের দিন প্রশাসনকে চুপিচুপি জানিয়ে দেন, যা আগে জানালেও পারতেন। তাতে করে কনের বাবা সাবধান হতেন এবং বিয়ের আয়োজন থেকে সরে আসতেন। অথচ সেই কাজটি করছেন না মানুষেরা। প্রায়ই এ ধরনের হীনমন্যতার বলি হচ্ছেন দেশের নিরীহ সাধারণ।

এ থেকে উত্তরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছি আমরা। ইচ্ছে করলে স্থানীয় প্রশাসন উত্তরণের জন্য জনসচেনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন এলাকায় মাইকিং করে বাল্যবিবাহ যে অপরাধ, তা জানিয়ে দেয়া। এছাড়া হ্যান্ডবিলের ব্যবস্থাও করতে পারেন। অথবা এলাকার মেম্বার, চৌকিদার বা গণ্যমাণ্য ব্যক্তির ওপরে এ দায়িত্ব আরোপ করতে পারেন। যাতে করে কোন অভিভাবক অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে-মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করার সাহস না পায়। এ ধরনের বিয়ের কথাবার্তার সংবাদ কানে এলেই তাৎক্ষণিকভাবে তা যেন প্রতিহত করেন তারা। এবং কেন তিনি বাল্যবিবাহের ব্যবস্থা করছেন প্রশাসন সেটিও উদঘাটন করার চেষ্টা করবেন। যদি ইভটিজারদের ভয়ে মেয়ে বিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন, তাহলে অবশ্যই তার ব্যবস্থা নিবেন।

উল্লেখ্য, এসব বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা নিতে পারেন এলাকার তরুণ সমাজ, মসজিদের ইমাম কিংবা মন্দিরের পুরোহিতও। তাতে করে বাল্যবিবাহ রোধের ব্যাপক সম্ভবনা রয়েছে। রয়েছে দরিদ্র কনের বাবার আর্থিক দণ্ড থেকে মুক্তি মেলার সুযোগও। ফলে বিয়ের দিন আইন প্রয়োগের হাতে থেকে রক্ষা পাবেন মেয়ের বাবা ও পরিবার-পরিজন।

আলম শাইন: কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট ও বন্যপ্রাণী বিশারদ।

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!

জামিন হয়ে যাচ্ছে সবার!
তুষার আবদুল্লাহ, ছবি: বার্তা২৪.কম

সবার জামিন হয়ে যায়। এই সবাই কারা? শুনে মনে হয় অনেক মানুষ। একটি মহল্লায়, একটি গ্রামে, একটি শহরে কতো মানুষই তো থাকে। তাহলে সবাই বলতে কি মহল্লার সব মানুষের কথা বলা হচ্ছে? গ্রাম-শহরের মানুষও নিশ্চয়ই এই গোনার মধ্যে আছে। সবাই মানে তো অসংখ্য। তাহলে জামিন হয়ে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের।

আচ্ছা জামিন মানে কী? অপরাধের দায় থেকে মুক্তি পাওয়া, নাকি অপরাধ প্রমাণের আগ পর্যন্ত মুক্ত বাতাসে চলাচল করার স্বাধীনতা? এমনও তো হতে পারে জামিন মানে কাউকে পরোয়া না করার দাম্ভিকতা। মহল্লা, গ্রাম, শহরের সবাই কি অপরাধী? কারণ শুরুতেই যে বলা হয়েছে, সবাই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। কে দিল এই খবর? টিনে বারি দিয়ে মহল্লা, গ্রাম, শহরে খবর ছড়াচ্ছে কে, সবার যে জামিন হচ্ছে? মানুষ। হুম, মানুষ তার দুঃখের কথা জানাচ্ছে। মানুষ তার অসহায়ত্বের কথা জানাচ্ছে। তাহলে এই যে বলা হলো সবাই, সেখানে কি মানুষ নেই?

সবাই বলতে তো অগণিত, অসংখ্য বোঝায়, সেখানে মানুষ থাকবে না কেন? মানুষেরা নির্বাসনে গেছে? এমন সংবাদই পাওয়া যাচ্ছে। যাবে না কেন? মহল্লার দু’পায়ের যে প্রাণী পাশের বাড়ির শিশুকে জমির লোভে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল, সে এখন শীষ বাজিয়ে ঘুরে বেড়ায়। দু’পায়ের দল গ্রামের কিশোরীকে ধর্ষণ করার পরেও হুঙ্কার থামায়নি। নতুন কিশোরী তাদের নজরে। চাকায় মানুষ পিষে ফেলে ছিল যে, তাকে এখনও দেখা যায় রঙিন কাঁচের আড়ালে শীতাতাপ মোটর যানে। আগুনে পুড়ে গেল কতো প্রিয় মুখ। পুড়িয়ে মারলো যে সংঘ, তারা আষাঢ়ে ক্ষমতার রোদ পোহায়।

মানুষ নামে আছে যে বিলুপ্ত প্রায় সম্প্রদায়, তারা ক্রমশ গুহাবাসী হয়ে পড়ছে। কোনোভাবে মুখ বের করে দেখছে- কোথাও কোনো অপরাধ নেই। যেহেতু অপরাধ নেই, তাই সবাই শরতের রোদ্দুর দেখছে। আগাম হৈমন্তী হাওয়া শরীরে মাখিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহল্লায় তাদের সালিশে ডাকবে কে, গ্রামে সালিশ বসানোর মুরোদ কার, আর শহর? রঙিলা শহরের নকশাকার তো ওই ওরাই। যাদের জামিন হয়ে যায়। সংখ্যায় ওরা লঘিষ্ঠই ছিল। ক্রমশ ওরা নদর্মার কালো জলের মতো বুদঁ বুঁদ ছড়াতে থাকে। সেই ছোট একটি বুঁদ বুঁদের উৎস থেকে তৈরি হয়েছে কালো জলের জলাশয়। সেই জলও নাকি কালো নয়। সেই জলের দুর্গন্ধেরও নাকি সুবাস আছে। মহল্লা, গ্রাম, শহরে সেই গল্পের বয়ান চলছে। কাগজের জাদুর পরশে কালো সাদা হয়ে যাচ্ছে। অপরাধী সুবোধ হয়ে যাচ্ছে। সুবোধকে দেওয়া হচ্ছে অপরাধীর বেশ।

ওদের জামিন হয়ে যাচ্ছে বলে রাতের বাঁদুরও ভয়ে আছে। নেকড়েরা মহল্লা, গ্রাম, শহর ছেড়েছে। কিন্তু গুটিকয় সেই মানুষেরা? ওরা নির্বসানে যাবে কোথায়, গোলকে এমন কোনো ভূখণ্ড আছে, ব-দ্বীপে এমন আছে কোনো শুদ্ধ জমিন? যেখানে মানুষ মিশে যেতে পারবে দোঁ-আশের সঙ্গে? মানুষ এক আশ্চর্য প্রাণ। কি মহাকাশ, মহাকাল সমান ধৈর্য্য তার। আবার তার গরিষ্ঠ হবার সাধ।

জামিন যাদের হচ্ছে হোক না। কতোদূর যাবে ওরা, পোড়াবে, নষ্ট করবে কতোটা? মানুষ জানে সেই দু’পায়ের প্রাণীদের মুরোদ। ওদের আত্মমৃত্যুর উৎসব সন্নিকটে। মহাকার লাখ প্রাণীর মতোই, মহাদানব এই দু’পায়ের অপরাধীরা বিলুপ্ত হবেই। সবাই, অসংখ্য বলতে আসলে মানুষই সত্য। ক্ষুদ্র শুধু জামিন পেয়ে যাওয়ার দল। ওদের আসলে জামিনের সুযোগ নেই।

তুষার আবদুল্লাহ: বার্তা প্রধান, সময় টেলিভিশন

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র