Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক বাসযাত্রা

শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক বাসযাত্রা
মন্ত্রীদের বাসে করে টুঙ্গিপাড়ায় যাত্রা, ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে তো বটেই, উপমহাদেশে এমন ঘটনা বিরল। উপমহাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশে রাজনৈতিক তারকা-সম মন্ত্রীরা কখনোই সাধারণ গণপরিবহণ তথা বাসে চড়েন না। তারা যাওয়া-আসা করেন ব্যক্তিগত দামি গাড়িতে। বিশেষ নিরাপত্তা প্রহরায়। পুলিশ প্রটোকল ও প্রটেকশনে বিরাট লটবহর পেছনে নিয়ে তারা চলেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে। লাল বাতি জ্বালিয়ে হুইসেল বাজাতে বাজাতে মন্ত্রীদের চলাচল বাংলাদেশের মানুষ দেখে এসেছে।

সেই গতানুগতিক ধারায় বিরাট ব্যত্যয় ঘটলো এবার। চতুর্থ বার নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বলেছিলেন মাটি ও মানুষের সঙ্গে থাকতে। নেত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে মন্ত্রীরাও গণমানুষের কাছে এবং এলাকা ও মাটির পাশে থাকার অঙ্গীকার জানিয়েছেন। শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক বাসযাত্রার মাধ্যমে নেতাদের জনসম্পৃক্ত থাকার নগদ প্রমাণ পাওয়া গেল।

বিরল দৃষ্টান্তও স্থাপন করলো শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার সদস্যরা। ঐতিহাসিক বাসযাত্রার মাধ্যমে শপথ গ্রহণের পরদিন সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের গমনের ঘটনাটি চিহ্নিত হয়েছে অভিনব ও উদ্দীপক প্রসঙ্গ রূপে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ধানমন্ডিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে তারা সাভারে গিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য বরাদ্দ পতাকাওয়ালা গাড়ি সোমবার (৭ জানুয়ারি) শপথের আগেই তাদের ঠিকানায় পৌঁছে গিয়েছিল। তবে সাভারে যাওয়ার সময় সেই গাড়ি সঙ্গে নেননি তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া মন্ত্রিসভার বাকি ৪৬ সদস্যকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে সাভারে নিয়ে যাওয়া হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চারটি মিনিবাসে করে। স্মৃতিসৌধ থেকে বাসে করেই তারা ঢাকায় ফিরে সংসদ ভবনে নামেন। আসন সঙ্কুলান না হওয়ায় বাসের দুই সারি আসনের মাঝে ফাঁকা জায়গায় বাড়তি আসন জুড়েও বসতে হয় কয়েকজনকে।

মন্ত্রিসভার সদস্যরা মিডিয়াকে জানান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বাকি সবাই আমরা বাসে করে গিয়ে আবার বাসে করে ফিরেছি। আগামীকালও আমরা বাসে করেই টুঙ্গীপাড়া যাব বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে।’

বাংলাদেশের মন্ত্রীরা প্রটোকলের সুবিধা পেয়ে বিভিন্ন সময়ে উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে গিয়ে সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন। মন্ত্রীর গাড়ি চলাচলের জন্য ছাত্র-ছাত্রী ও রোগীদের ভোগান্তির খবরও কখনো কখনো সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। মন্ত্রিসভার সব সদস্যের একসঙ্গে বাসে চড়ে কোথাও যাওয়ার এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। সম্ভবত উপমহাদেশ ও উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রেও ঘটনাটি উদাহরণ সৃষ্টিকারী।

ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত গণতন্ত্র ও নাগরিক নিরাপত্তার দেশে মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকে বাসে, ট্রেনে বসে বা দাঁড়িয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে লাইন দিয়ে হাসপাতাল, ব্যাঙ্ক বা সরকারি অফিসের সারতেও দেখা গেছে মন্ত্রী, এমপিদের। এমন খবর ও ছবি দেখে মানুষ অবাক হয়েছে। ভেবেছে, বাংলাদেশে এমন চিত্র কবে দেখা যাবে!

ঠিক সে রকমের না হলেও শেখ হাসিনার নতুন মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক বাসযাত্রা তেমনই একটি পজিটিভ এবং প্রো-পিপল ইমেজ তৈরি করেছে। উপনিবেশিক শাসনের কু-অভিজ্ঞতায় জর্জরিত দেশে মন্ত্রীদের ঔপনিবেশিক মানসিকতা ভেঙে জনতার কাতারে দাঁড় করানোর একটি সাহসী-প্রতীকী পদক্ষেপ বলা যায় এই ঘটনাকে। সন্দেহ নেই, জনসেবকদের জনবাহনে চড়ার দৃষ্টান্ত তাদেরকে আরও জনসম্পৃক্ততার বন্ধনে আবদ্ধ করবে। মন্ত্রী বা কর্তাদের আরও অনেক বেশি জনতার কাছাকাছি নিয়ে আসবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সাহসী, কুশলী ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের কারণেই এমনটি সম্ভব হয়েছে। চতুর্থ বার নির্বাচিত হয়ে তিনি তার মন্ত্রীদের দম্ভ বা অহংকার নয়, মানুষের কাছাকাছি থাকার শিক্ষাই দিলেন। নবনিযুক্ত মন্ত্রীরাও জনতার কাছাকাছি থাকার প্রত্যয় স-প্রমাণিত করলেন।

এই ঘটনাটি সামান্য হলেও সুদূরপ্রসারী তাৎপর্যপূর্ণ। শপথের পর পর এমন পদক্ষেপ মন্ত্রীদের আগামী দিনগুলোতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দম্ভ ও ক্ষমতার বাগাড়ম্বের বাইরে থাকার প্রণোদনা দেবে। পাশাপাশি কৃচ্ছ্বতার একটি মানসিকতাও মন্ত্রিমণ্ডলীর মধ্যে তৈরি করবে। স্মৃতিসৌধে সকল মন্ত্রী নিজ নিজ গাড়ি ও পুলিশ প্রটেকশন নিয়ে যাতায়াত করলে শতাধিক গাড়ির যে পরিমাণ জ্বালানি খরচ হতো, কয়েকটি বাসে তা খুব সামান্যই হয়েছে। তদুপরি মন্ত্রিসভার সদস্যদের একাধিক গাড়ির বহর যানজট আকীর্ণ রাস্তায় নামলে জনদুর্ভোগ ও পথকষ্ট বহুলাংশে বৃদ্ধি পেতো। শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভার ঐতিহাসিক বাসযাত্রা শুধু একটি ভালো ও ইতিবাচক দৃষ্টান্তই নয়, অনেকগুলো সমস্যা কমিয়ে দেওয়ার মতো একটি বিচক্ষণ পদক্ষেপও বটে।

একটানা তিন বার সহ মোট চার বার বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নতুন কার্যক্রম শুরুর দিকেই সাহসী ও বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার যোগ্যতা দেখিয়েছেন। মন্ত্রিসভাকে বাসে চড়ানোর আগেই তিনি বেছে বেছে এমন এলাকা থেকে মন্ত্রী করেছেন, যেখানে উন্নয়নের আলো যথেষ্ট পরিমাণে পৌঁছায় নি। এমন ব্যক্তিকে মন্ত্রী করেছেন, যিনি জনপ্রিয় জননেতা হয়েও এবারই প্রথমবারের মতো মন্ত্রী হতে পেরেছেন। বাংলাদেশের বহু এলাকা জন্মের পর প্রথম মন্ত্রী পেয়েছে শেখ হাসিনার এই মন্ত্রিসভায়।

হেভিওয়েট-নির্ভর, বিরাট মাথাভারি মন্ত্রীর বদলে অপেক্ষাকৃত অচেনাদের নিয়ে কাজ করার সাহস দেখিয়ে শেখ হাসিনা নতুন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছেন। উন্নয়নের আলো বঞ্চিত এলাকায় মন্ত্রী উপহার দিয়ে উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে পুরো বাংলাদেশব্যাপী সুষম ও সুসমন্বিত করার ব্যবস্থা নিয়েছেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে যাওয়ার যে প্রত্যয় শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের সময় ঘোষণা করেছিলেন, তিনি তা দ্রুতই বাস্তবায়নের পথে নিয়ে এসেছেন।

মন্ত্রীরা যে জনগণের কাছের মানুষ এবং উন্নয়নের সারথি, এই বার্তা দিয়ে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভা বাসযাত্রার মাধ্যমে কৃচ্ছ্বতা ও জটমুক্ততার পথে এগিয়েছে। পেয়েছে জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও স্বীকৃতি। এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার ভিশন ও মিশন সফলতার শিখরে পৌঁছাবে বলেই আশাবাদী মানুষ।

হতাশ ও পশ্চাৎপদ রাজনীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আশাবাদী রাজনীতির পূর্ণ বিজয় ছিনিয়ে আনতে শুধু মন্ত্রিসভাকেই নয়, পুরো দল ও সরকারকে এ রকম বহু দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী কার্যক্রম অব্যাহত গতিতে পরিচালিত করে সাফল্যের স্বর্ণ শিখর স্পর্শ করতে হবে। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ও অর্জনের পাশাপাশি আঞ্চলিক সাফল্যও ধরা দিয়েছে। বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। উন্নত জাতিগত অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গে মজবুত আঞ্চলিক উপস্থিতি সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশকে এখন একযোগে এবং দৃষ্টান্তমূলকভাবে কাজ করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ

ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ফেরি ঘাটে আটকে আছে যেন বাপ্পি হয়ে। ভিআইপির ভারে ন্যুব্জ মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ। সংবিধানের ব্যাখ্যাদাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া আর কেউ ভিআইপি নন।

ইউরোপ নিজ দেশে গণতান্ত্রিক আইন চালু করলেও উপনিবেশ-আধা উপনিবেশ ও পরাধীন অঞ্চলগুলোতে জমিদারি বা ভিআইপি কানুন বহাল রেখেছে। ১৭৭৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত আইন, ১৮৬০ সালের পেনাল কোড, ১৮৬১ সালের পুলিশ অ্যাক্ট, ১৮৭২ সালের এভিডেন্স অ্যাক্ট, ১৮৭৮ সালের আর্মস অ্যাক্ট, ১৮৯৮ ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের সিভিল প্রসিডিউর কোডসহ ১৯১০ সালের মধ্যে পরাধীন ভারতের আইনগত কাঠামো নির্মাণ মোটামুটি শেষ হয়। এরই মধ্যে এই অঞ্চলের লড়াই ও রাজনীতির নিজস্ব পথ শেষ করা সম্ভব হয়। এর ফলে কথিত ভিআইপি সংস্কৃতির আইনগত ভিত্তি তৈরি হয়। ফলে ট্রেন-বাস-হাসপাতাল থেকে শুরু করে সর্বত্র এটি চালু হয়।

আজকের বাংলাদেশ সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদের 'প্রচলিত আইন' ও 'আইন' এর সংজ্ঞা অনুসারে এই ব্রিটিশ বিধি মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে আত্মীকৃত হয়। একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন কিংবা ডিসি আমলাতান্ত্রিক বিধানে নিযুক্ত হন; তারা একই একেকজন জমিদারে পরিণত হন। তারা দাবি করেন, জনগণ তাদের স্যার বলুক। বাংলাদেশ ভিআইপিতান্ত্রিকই থেকে যায়। কিছুদিন আগে সুপ্রিমকোর্ট একটি বক্তব্যে বলেছিলেন, আমরা এমন একটি পঙ্গু সমাজে বসবাস করছি যেখানে ভাল মানুষ স্বপ্ন দেখতে পারছে না, রাজনীতি বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে,... আমাদের পূর্বপুরুষরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, কোনো ক্ষমতার দৈত্য নয়।

সংবিধানের ৭(ক) অনুসারে জনগণ রাষ্ট্রের মালিক বটে, তবে যখন সেই মালিকানা সংবিধানের অধিন ও কর্তৃত্বে কার্যকর হয়, তখন সংবিধানই বলে, সেই মালিকানা একচ্ছত্রভাবে ভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচলিত আইন অনুসারে জেলা, উপজেলার শীর্ষ কর্তারা একেকজন ছোট প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা ভোগ করেন। ডিসি সম্মেলনগুলোয় বছর বছর যে দাবিগুলো উঠে, এ তারই প্রতিফলন। আলিশান বাড়ি ও গাড়ির দাবি যে ক্যাডাররা দাবি করেন, সেটাও। চাকরির ট্রেনিংগুলোতেও তাই শেখানো হয়, তারা বিশেষ কিছু। এই জন্যই আমলারা জনপ্রতিনিধিদের ঠাট্টা করে বলেন, তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের নয়। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পরেই কেবল এটা আলোচনায় এল।

আইন প্রণয়নে সংসদের একচ্ছত্র ক্ষমতা আছে বলে মনে করি। অথচ ১৫২ অনুচ্ছেদে আইন অর্থ কোনো আইন, অধ্যাদেশ, আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন, বিজ্ঞপ্তি ও অন্যান্য আইনগত দলিল এবং বাংলাদেশের আইনের ক্ষমতাসম্পন্ন যেকোনো প্রথা বা রীতি। মানে ডিসি, সচিবদের সেইসব আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন আর বিজ্ঞপ্তিও আইন। এইভাবে সংসদ ছাড়াও আইন তৈরি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশের অধিকাংশ আইন এইভাবে তৈরি হয়। তাই একজন ইউএনও কিংবা পুলিশ সুপার চুলের ছাঁট বা গণঅধিকার সংকুচিত করতে পারেন আইন শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে। পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে কিংবা সরল বিশ্বাসে গুলি করে মেরে ফেলতে পারে। আমলাদের বেলায় সরল বিশ্বাস দুর্নীতি নয়। কিংবা বিভাগীয় মামলার নামে সামরিক আদালতের মতো আলাদা আদালতি কর্ম সারতে পারেন। যা বাংলাদেশের কোনো আদালতে আপিল করা যাবে না।-এইভাবে ভিআইপিতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠিত হয়েছে। অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়ে সাম্য, মৈত্রী আর স্বাধীনতাকে লক্ষ্য ধরে। অথচ বাংলাদেশ কাঁতড়াচ্ছে ফেরি ঘাটে।

১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন ও ১৯৪৭ সালের ১৮ জুলাই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট অ্যাক্ট এর অধীনে ভারত-পাকিস্তান নামে স্বাধীন ডোমিনিয়নে বিভক্ত হয়। মানে বৃটিশদের প্রণীত সংবিধানের অধিনে দুটি দেশ স্বাধীনতার পথে যাত্রা শুরু করে। আর মুক্তিযুদ্ধের দামে কেনা বাংলাদেশও এক বছরের মাথায় একই পথে যাত্রা করে। ফলে ভিআইপিতন্ত্রের কবল থেকে বাংলাদেশের মুক্তি ঘটে না।

লেখক: রেল-নৌ, যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভাপতি।

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি

আবদুল মোনেম: এক মহান কর্মবীরের প্রতিকৃতি
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

#ও বন্ধু আমার 🌷 জনাব আবদুল মোনেম। দেশের প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব। সড়ক, ব্রিজ ও কালভার্ট অবকাঠামো, যা আজকের বাংলাদেশে আমরা দেখি, এসবের সিংহভাগেরই নির্মাতা আবদুল মোনেম লিমিটেড তথা জনাব মোনেম। যৌবনের স্বর্ণালী সময়সহ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি অমানুষিক পরিশ্রম করেছেন প্রিয় মাতৃভূমির বৃহৎ সব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নে। দেশি বিদেশি সব কন্ট্রাক্টররা যে প্রকল্প তাদের পক্ষে করা অসম্ভব বলেছে, আবদুল মোনেম সাহেব সে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন হাসি মুখে। প্রাণান্ত চেষ্টা আর অধ্যাবসায় দিয়ে অসম্ভব সেসব প্রকল্পকে দেখিয়েছেন সাফল্যের মুখ। সমাজ সংসার আত্মীয় পরিজন সব ছেড়ে ছুঁড়ে প্রকল্প এলাকায় কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। গলা পর্যন্ত কাদা পানিতে নেমে শ্রমিকদের দেখিয়েছেন কাজের দিশা! তাঁর কোম্পানির প্রকৌশলীরা অবাক বিস্ময়ে দেখেছেন কিভাবে একজন কর্মবীর আবদুল মোনেম বাস্তবায়ন করে চলেছেন উন্নয়নের পথরেখা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051707738.gif
গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আবদুল মোনেমের (ডানে) সঙ্গে লেখক/ সংগৃহীত


ব্যবসায়ের লাভ লোকসানকে কখনোই গুরুত্ব দেননি জনাব মোনেম। দেশমাতৃকার উন্নতি সবসময় তাঁর কাছে মুখ্য হয়ে থেকেছে। যে কারণে মুনাফাখোর ব্যবসাদাররা যেখানে মানুষের অশ্রদ্ধার পাত্র হন, জনাব মোনেম সেখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বের আসনে। দিন গেছে, ব্যবসা ডাইভার্সিফাই হয়েছে। বিশ্বখ্যাত কোমল পানীয় কোকাকোলা বা ইগলু’র মতো দুনিয়া জোড়া সুনামের আইসক্রিম ব্র্যান্ড সমৃদ্ধ আবদুল মোনেম লি. এখন পরিণত হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপে। কয়েক কোটি টাকার টার্নওভারের সেদিনের কোম্পানি এখন হাজার কোটি টাকার কনগ্লোমারেট! কোক ইগলু ছাড়াও বিশ্বের বেশকিছু নামকরা ব্র্যান্ড এখন মোনেম গ্রুপের সঙ্গে পার্টনার। তাই বলে মোনেম ভাই পরিবর্তিত হননি এতটুকু। সেই শুরুতে যেমন নিরহংকারী, দানশীল ও ডাউন টু আর্থ ছিলেন, আজও তেমনই আছেন!

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566051780819.gif

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জনাব মোনেমের সঙ্গে আমার ও আমার পরিবারের সম্পর্ক। দেশ বিদেশের অনেক স্টেশন আমরা একসঙ্গে সফর করেছি, একত্রে থেকেছি। সুযোগ হয়েছে পরস্পরকে জানার ও কাছে আসার। আজ জীবন সায়াহ্নে এসে পৌঁছেছেন জনাব আবদুল মোনেম। আমাদের স্বার্থহীন মানবিক সম্পর্ক আজও দ্যুতিময় প্রথম দিনের ঔজ্জ্বল্যেই! এতটা পথ আমরা পাড়ি দিয়ে এসেছি, কিন্তু স্বার্থের কোনো সংঘাত না থাকায় আমাদের পারিবারিক সম্পর্কে মালিন্য সামান্য মরিচা ধরাতে পারেনি, আলহামদুলিল্লাহ!
পবিত্র ঈদ আল-আদহা’র সালাত আদায়ে গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে আমাদের এই হিরণ্ময় সাক্ষাৎ। আল্লাহ সুবহানআহু ওয়াতা’আলা উন্নয়ন ব্যক্তিত্ব আমার প্রিয়-শ্রদ্ধেয় মোনেম ভাইকে সুস্থ ও নেক আমলময় হায়াতে তাইয়েবা দান করুন, আমীন...

লেখক: জাতীয় মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র