Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

ফার ফ্রম হোম ব্যাংককের থিয়েটারে ‘স্পাইডারম্যান’

ফার ফ্রম হোম ব্যাংককের থিয়েটারে ‘স্পাইডারম্যান’
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর
মাজেদুল নয়ন
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ঢাকা


  • Font increase
  • Font Decrease

ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে: ব্যাংককের চাতুচাকের বিশাল মল সেন্ট্রাল প্লাজা লাওপ্রাও। এটা সড়কের এপাশ-ওপাশ নিয়ে এক এলাহি মার্কেট। এই প্লাজার বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে যেমন একটি পাশ উচ্চবিত্তদের জন্যে, তেমনি নিম্নবিত্তের সাধ্যেরও সমন্বয় রয়েছে।

দুপুরে খাবার শেষে আমি আর কানালাউই ওয়াক্লেহং মলের এই পাশ ওই পাশ ঘুরে চলে এলাম টপ ফ্লোরে। এখানে রয়েছে এসএফএক্স সিনেমার মুভি থিয়েটার হল আর বিস্তর জায়গাজুড়ে ফান জোন। এখানে ফান জোনের একাংশে চলছে পাবজি গেমের টুর্নামেন্ট। ১৪টি টেবিলে ১৪টি গেমার দল অংশ নিয়েছে। আর বড় স্ক্রিনে গেমিং উপভোগ করছেন আমাদের মতো এখানে ঘুরতে আসা লোকেরা। রোববারে ছুটির দিনে এখানে ভিড়টা একটু বেশিই। এখানে কিডস জোনেও রয়েছে গেমিংয়ের সুযোগ। আমরা সেখানেই কিছুটা সময় কাটানোর আগেই কেটে নিয়েছিলাম মার্বেল ফিল্মসের সাম্প্রতিক মুভি, 'স্পাইডারম্যান, ফার ফ্রম হোম' -এর টিকিট। এখানে যেমন হাতে হাতে টিকিট কাটা যায়, তেমনি ভিসা বা ক্রেডিট কার্ড দিয়েও টিকিট কাটতে পারেন দর্শকরা।

মাত্র গত ২ জুলাই দুনিয়াজুড়ে মুক্তি পেয়েছে সুপার হিরো সিরিজের সর্বশেষ ছবি। তাই ভিড় কিছুটা বেশি। সুপার হিরো সিরিজ ছেলে বুড়ে সকলের। তাই সব বয়সী দর্শকই রয়েছে। এখানে ১০টি হলের সাতটিতে চলছে বিদেশি ছবি আর তিনটি হলে দেশীয় সিনেমা।

থাইদের ইংরেজিতে দুর্বলতাকে অনেকে যেমন দুঃখ হিসেবে নিয়েছেন, আবার অনেকে গর্ববোধও করেন। গর্ববোধকারীরা বলে থাকেন, থাইল্যান্ড কখনো পশ্চিমের উপনিবেশ ছিল না। তাই ইংরেজিকে কখনোই আবশ্যক মনে হয়নি। আর এখানে হলিউডের মুভি থেকে শুরু করে পশ্চিমের বা পূর্বের জনপ্রিয় সব লেখকের বই থাই ভাষায় পাওয়া যায়। ফলে বিদেশি ভাষাকে রপ্ত করা হয়নি ভালো করে।

ব্যাংককে এর আগেও সিনেমা দেখেছিলাম- 'গ্রিন বুক'। তবে সেই হলে দর্শকের সংখ্যা ছিল হাতে গোনা ৫ বা ৬ জন। এবার কিন্তু বড় সংখ্যক দর্শক। হল প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ। এখানেও থিয়েটারের ক্যাফে থেকে খাবার কিনতে হলে অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। এক বোল পপকর্ন আর কোল ড্রিংকসের খরচ পড়ে যাবে ৫০০ টাকার মতো। তবে কেউ যদি বাইরে থেকে খাবার কিনে প্রবেশ করে, তাতেও অপরাধ নেই। আমরা এই ধরনের কোন সুযোগ না নিয়ে তড়িঘড়ি করে স্থাণীয় সময় বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে প্রবেশ করলাম থিয়েটারে।

spider-man

৪টা ২০ মিনিটে থিয়েটারের স্ক্রিনে আলো আসল। কানালাউই কেন এর আগে আমার তাড়াহুড়োতে মুচকি হাসছিল, সেটা বোঝা গেলো এবার। কারন মূল সিনেমা শুরু হতে ঢের বাকি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলবে আসন্ন মুক্তি পাওয়া ছবিগুলোর ট্রেইলার আর বিজ্ঞাপন।

বাংলাদেশে সিনেমার আগে যেমন দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয় আর সবাই দাঁড়িয়ে যায়, এখানেও এমনটা রয়েছে। তবে এখানে হচ্ছে রাজা এবং রাজপরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আয়োজন। বর্তমান রাজা মহা ভিজরালংক্রানের শৈশব থেকে শুরু করে, কৈশোর, যৌবনে এয়ারফোর্সের প্রশিক্ষণ থেকে সিংহাসনে বসা পর্যন্ত ঘটনাগুলো রাজ সংগীতের মাধ্যমে দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হলো। এসময়টা রাজপরিবারের সম্মানে সবাইকে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।

প্রায় ৪টা ৫০ মিনিট নাগাদ সিমেনা শুরু হলো। স্পাইডারম্যান চরিত্রটি কিশোর চরিত্র। যেখানে কিশোর বয়সের অ্যাডভেঞ্চার আর রোমান্টিকতার সংমিশ্রন থাকে। স্পাইডারের ম্যানের পিটার পার্কার চরিত্রটিতে টম হল্যান্ডের অভিনয় ছিল সত্যি অসাধারণ। কিশোর বয়সের লজ্জায় লাল হওয়া প্রেমে পড়া মুখটির অসাধারণ ছবি একেছেন তিনি। অ্যাভেঞ্জার্স: অ্যান্ড গেম সিকোয়েলে আয়রন ম্যান, টনির মৃত্যুর পর এখানে সময়ে সময়ে কিছুটা হতাশ দেখা যায় পিটারকে। তবে একই সঙ্গে বারবার শেষ সুপার হিরো হিসেবে এই মনুষ্য জগতকে টিকিয়ে রাখার লড়াই থেকেও পিছপা হতে পারে না। এই ছবিতে টনি না থাকলেও তার বন্ধু সহকারী হ্যাপী হোগান এগিয়ে আসে স্পাইডারম্যানকে রক্ষায়। কারণ মার্ভেল সিরিজের এই অসাধারণ চরিত্রটি প্রেমে পড়েছে স্পাইডারম্যানের আন্টির।

spider-man

বাংলাদেশের মুভি থিয়েটারগুলোতে যেমন হাত তালি বা অট্ট হাসি থাকে, এখানে তেমনটা না। বরং অনেক হাসি আসলেও সেটা মৃদুর বেশি শব্দ যেন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হয়।

এন্ড গেমের পরে বেশ ক্লান্ত পিটার এই মুভিতে ইউরো ট্রিপে বের হয় স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে। যেখানে গাইড হিসেবে রয়েছে শিক্ষক রোজার হ্যারিংটন। সিনেমায় রোজার হ্যারিংটন চরিত্রে মার্টিন স্টার এবং নেড লিডস চরিত্রে জ্যাকব ব্যটালনের অভিনয়ে দম বন্ধ হওয়া হাসি আসবেই। তবে সেখানে কিন্তু এখানে হো হো করে হাসার উপায় নেই। মানুষ যেন যতোটা চেপে হাসি আটকে রাখা যায়।

এই ছবিতে স্পাইডার ম্যানের লড়াই করতে হয়েছে কোয়েন্টিন বেকের বিরুদ্ধে। যে কিনা ডিজিটাল ইলুইশন তৈরি করে বার্লিন এবং লন্ডনের মতো শহর ধ্বংসের পরিকল্পনায় মেতে ওঠে। প্রেমিকা মিশেল মারফত যখন পিটার এই ইলুইশন সর্ম্পকে জানতে পারে, ঠিক একই সময়ে মিশেল নিশ্চিত হয় পিটারই যে স্পাইডারম্যান।

লন্ডনে শেষ যুদ্ধে ইলুইশন ভেঙ্গে কোয়েন্টিন বেকের বিরুদ্ধে জয় লাভ করে স্পাইডারম্যান। তবে একেবারে শেষ চিত্রে, দেখা যায় শহরের টিভি স্ক্রিনগুলোতে ব্রেকিং দেওয়া হচ্ছে, সাধারণ মানুষের কাছে ভালো চরিত্র হিসেবে পরিচিত কোয়েন্টিন মৃত্যুর আগে তার খুনি হিসেবে স্পাইডারম্যানকে দায়ী করে যায় এবং এটাও জানিয়ে দেয় যে- স্পাইডার ম্যানের আসল নাম পিটার পার্কসন।

spider-man

পরিচালক জন ওয়াটস পুরো ২ ঘণ্টা ৯ মিনিট উত্তেজনার মধ্যে রাখেন দর্শকদের। স্পাইডারম্যান, ফার ফ্রম হোম দর্শকদের এক মিনিটের জন্যেও হতাশ করেনি। বরং সময়ে সময়ে হাসি এবং অ্যাডভেঞ্চার রেখেছেন।

মার্ভেল সিরিজের ছবির শেষ দৃশ্য দেখতে হলে পুরো ছবির কলা কুশলী সকলের নাম পড়ে বের হয়ে আসতে হয়। কারণ সিনেমার শেষ মিনিটের আগে মাঝখানে তিন মিনিট প্রোডাকশনের বিস্তারিত চলে আসতে থাকে।

এটা বলতেই হবে, ছুটির বিকেল কাটানোর জন্যে এই স্পাইডারম্যান, ফার ফ্রম হোম একটি পারফেক্ট মুভি। যে কারণে ১ হাজার ৬০০ লাখ ডলারের এই ছবি প্রথম ৪ দিনেই বক্স অফিসে আয় করেছে ১ হাজার ৬৪০ লাখ মার্কিন ডলার; যা এই বছরে সেরা আয়ের ছবিগুলোর মধ্যে ষষ্ঠ।

আপনার মতামত লিখুন :

সজল-অপর্ণার গল্প থাকবে আজ

সজল-অপর্ণার গল্প থাকবে আজ
সজল ও অর্ষা, ছবি: সংগৃহীত

তিশা, মায়া ও নাইম তিন বন্ধু। হঠাৎ করেই তারা প্ল্যান করে নেপালে আসবে। মায়া ও নাইমের কোন ঝামেলা না থাকলেও তিশা পারিবারিক বাঁধার সম্মুখীন হয়। তিশার পরিবার বেশ রক্ষণশীল। বন্ধু বান্ধবের সঙ্গে ঢাকার বাইরে যেতে দিতেই তারা নারাজ।

সেখানে দেশের বাইরে যেতে দেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে তিশার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তাই তিশা ও মায়া মিলে তিশার বাবাকে কনভিন্স করে যাওয়ার জন্যে। কারণ বিয়ের পরে তো আর বন্ধুদের সঙ্গে এভাবে কোথাও যাওয়া হবে না। পরে তিশার বাবা যাওয়ার অনুমতি দেন।

তিশা ও মায়ার সঙ্গে বাজি ধরে নাইম বিদেশি এক তরুণীর সঙ্গে খাতির জমিয়ে ফেলে। তা দেখে মায়া মজা পেলেও তিশা রেগে যায়। নাইম কেন বিদেশি মেয়েদের সঙ্গে ফ্ল্যার্ট করে? নাইমের অকপট জবাব, সে বিদেশি মেয়ে বিয়ে করে বিদেশে চলে যাবে। ধনী হবে। তিশার তখন পাল্টা প্রশ্ন ধনী হয়ে কি হবে? নিজের উপার্জনে ধনী হলে সুখ পাওয়া যায়। অন্যের ধনে পোদ্দারি করে সুখ আসে না।

এদিকে তিশাকে সারপ্রাইজ দিতে আসে হবু বর জনি। তাকে দেখে তিশা অবাক হয়। একইসঙ্গে রেগে যায়। কারণ সে জনিকে এখানে আশা করেনি। তাই একটু মিসবিহেভও করে। সে এসময়টা বন্ধুদের সঙ্গে কাটাতে এসেছিলো এটা জনি বুঝতে পেরে অপমানিত হয়ে চলে যায়।

এমনই গল্পে আজ শনিবার (২০ জুলাই) রাত ৮:৩০ মিনিটে মাছরাঙা টিভিতে প্রচারিত হবে টেলিফিল্ম 'সবার একটা গল্প থাকে'। নাটকটি রচনা করেছেন শফিকুর রহমান শান্তনু। পরিচালনা করেছেন দীপু হাজরা। অভিনয়ে সজল, অপর্না, কল্যান কোরাইয়া, মাহা ও একটি বিশেষ চরিত্রে অর্ষা।

আসেননি অঙ্কিত, মঞ্চ মাতালেন সানা-নোবেল

আসেননি অঙ্কিত, মঞ্চ মাতালেন সানা-নোবেল
মঞ্চে গান গাইছেন নোবেল, ছবি বার্তাটোয়ন্টিফোর.কম

বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সানগ্লো মিউজিক্যাল ফেস্ট। শুক্রবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির নবরাত্রী হলে এ ফেস্ট অনুষ্ঠি হয়।

যদিও অনুষ্ঠানের প্রধান চমক ‘আশিকি ২’ সিনেমার 'শুন রাহা হ্যায়' খ্যাত শিল্পী অঙ্কিত তিওয়ারি উপস্থিত ছিলেন না মিউজিক্যাল ফেস্টে। তাই সন্ধ্যা ৬টায় কনসার্ট শুরু হওয়ার কথা থাক‌লেও প্রায় আড়াই ঘণ্টা বিলম্বে রাত সাড়ে ৮ টার প‌রে শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে গান পরিবেশন করেন রাত্রি চৌধুরী। এরপর সা‌ড়ে ৯টার দিকে মঞ্চে আসেন তাস‌নিম আনিকা। আনিকা বাপ্পা মজুমদা‌রের 'বায়ান্না তাস', আইয়ুব বাচ্চুর 'সেই তু‌মি', রুনা লায়লার 'দমাদম মাস্ত কালান্দার' ছাড়াও নি‌জের গাওয়া নোলক সি‌নেমার 'জলে ভাসা ফুল'সহ বেশ কিছু গান গে‌য়ে শোনান।

এরপর মঞ্চে ওঠেন ভারতীয় সানা খান। কয়েকটি হি‌ন্দি গা‌নের স‌ঙ্গে পারফর্ম ক‌রেন ৫ মিনিটের মতো। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। প্রায় ৩০ মিনিট পর মঞ্চে ওঠেন নো‌বেল। মঞ্চে উঠতে বিলম্বের কারণ না জানা গেলেও মঞ্চে আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তু‌মি’ গান দি‌য়ে শুরু করেন নোবেল। এরপর 'হাস‌তে দে‌খো গাই‌তে দে‌খো', ‌জেম‌সের 'তারায় তারায়', 'বাবা' গান দিয়ে মঞ্চ মাতিয়ে তোলেন নোবেল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563569374752.jpg

নোবেলের গান গাওয়া শেষে এটিএন ইভেন্টসের ডিরেক্টর মাসুদুর রহমান, সানগ্লো এন্টারটেইনমেন্টের ডিরেক্টর (ইভেন্টস) মির্জা সাজিদ অনুষ্ঠানের প্রধান চমক অঙ্কিত তিওয়ারি অনুষ্ঠানে হাজির না হওয়ার দর্শকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে।

এ সময় মাসুদার রহমান বলেন, ‘অঙ্কিতের সঙ্গে সব কথা বার্তা চূড়ান্ত হয়েছিল। আমরা তার সম্মানিও পরিশোধ করেছি। হঠাৎ করেই মুড ভালো নেই বলে উনি আমাদের শো ক্যান্সেল করেছেন। আমাদের জানিয়েছেন উনি ফ্লাইট মিস করেছেন। উনার তিনজন মিউজিসিয়ানও বাংলাদেশে অবস্থান করছে। কলকাতাতেও উনার কিছু মিউজিসিয়ান অবস্থান করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুই বাংলার শিল্পীদের নিয়ে আমরা চমৎকার একটি আয়োজন উপহার দিতে চেয়েছিলাম। যেহেতু অঙ্গিত আসার কথা বলেও আসেননি। টিকিটে আমাদের অফিসের ফোন নাম্বার দেওয়া আছে। কেউ টিকিটের মূল্য ফেরত চাইলে, আমরা সেটা ফেরত দিব।’

কনসার্টে সিলভারের জন্য ২ হাজার টাকা, গোল্ডের জন্য ৫ হাজার এবং ভিআইপি টিকিটের জন্য ১৫ হাজার টাকা মূল্য রাখা হয়েছিল।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র