Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

১৫ বছরে সিসিমপুর

১৫ বছরে সিসিমপুর
ছবি: সংগৃহীত
বিনোদন ডেস্ক


  • Font increase
  • Font Decrease

হালুম, টুকটুকি, ইকরি কিংবা শিকু জনপ্রিয় শিশুতোষ সিরিজ ‘সিসিমপুর’-এর সুবাদে শিশুদের কাছে বেশ পরিচিত। শিশুদের শেখাকে আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য করার লক্ষ্য নিয়ে ইউএসএআইডি’র অর্থায়নে অনুষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৪ বছর আগে। ২০১৯ সালে এসে তা পা রাখলো ১৫তম বছরে। এই আয়োজনের নানান শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের ফলে শিশুদের পাঠ্য ও শিক্ষকদের শিক্ষাদান হয়ে উঠেছে আনন্দদায়ক। বাংলাদেশের প্রতিটি শিশুর প্রাক-শৈশবকে পূর্ণাঙ্গ ও বিকশিত করার প্রত্যয় নিয়ে ‘সিসিমপুর’-এর মূলমন্ত্র: পৃথিবীটা দেখছি, প্রতিদিন শিখছি।

শিশুতোষ অনুষ্ঠানটি ৩ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের প্রারম্ভিক শিক্ষার চাহিদা পূরণের জন্য তৈরি হচ্ছে ‘সিসিমপুর’। আনন্দ আর খেলার ছলে এটি ভূমিকা রেখে চলেছে শিশুর সামগ্রিক বিকাশে। ভাষা-বর্ণ, গণিত, পরিবেশ, লিঙ্গ সমতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও আচার-আচরণ, ভিন্নতা ও বৈচিত্র্যের প্রতি সহনশীলতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে শেখায় ‘সিসিমপুর’-এর পাঠক্রম। এছাড়া সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসচর্চা, ভূমিকম্প, রাস্তা পারাপার ও পানিডুবি-বিষয়ক নিরাপত্তা, বিভিন্ন আঘাত প্রতিরোধে সচেতনতা, শিশুদের জমা-খরচ ও সঞ্চয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া এবং বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যসহ আরও অনেক কিছু রয়েছে এতে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/15/1555319593405.jpg

‘সিসিমপুর’ অনুষ্ঠানে ও মুদ্রিত বিভিন্ন উপকরণের মাধ্যমে শিশুকে বর্ণ চেনা, শব্দ থেকে বর্ণ চিহ্নিত করা, বর্ণ দিয়ে শব্দ মেলানো, শব্দ দিয়ে বাক্য তৈরিতে সহায়ক হয়। চারপাশের পরিবেশ থেকে উপকরণ খুঁজে নিয়ে সেগুলোর মাধ্যমে বর্ণ ও শব্দ চিনতে সহযোগিতা করে। যেমন- ঘর, কলা, আম, টেবিল, ঘড়ি, গরু, গাছ, পাতা, কলম, বই ইত্যাদি বিভিন্ন শব্দ কোন বর্ণ দিয়ে শুরু হয় তা খেলার ছলে শেখানো হয়।

‘সিসিমপুর’-এর চরিত্রগুলোর মাধ্যমে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান থেকে বিভিন্ন রকম আকার-আকৃতির নাম ও রঙের নাম শিখতে পারে ছোটরা। বাংলা ভাষার শুদ্ধ উচ্চারণের বিষয়টিকে এই অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই মাপেট, মানব চরিত্র এমনকি অ্যানিমেশনসহ সব ধরনের চরিত্র অনুযায়ী শুদ্ধ উচ্চারণ নিশ্চিত করা হয়, যাতে শিশুরা এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রমিত বাংলা শোনা ও চর্চার সুযোগ পায়।

এখন ‘সিসিমপুর’-এর একাদশ সিজন চলছে। একইসঙ্গে তৈরি হচ্ছে ত্রয়োদশ সিজন। শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সারাদেশের প্রায় ১ কোটি দর্শক অনুষ্ঠানটি উপভোগ করছেন। এছাড়া বিভিন্ন স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আই, দেশ টিভি ও চ্যানেল নাইনে এটি প্রচারিত হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটি বিটিভি ও আরটিভিতে প্রচার হচ্ছে।

২০১০ সালে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস ট্রাস্ট পরিচালিত একটি জরিপে ‘সিসিমপুর’ শিশুতোষ অনুষ্ঠান হিসেবে শীর্ষস্থানীয় ও সামগ্রিকভাবে তৃতীয় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান হয়েছে। ২০০৭ সালে পরিচালিত এসিপিআরের একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, ‘সিসিমপুর’ অনুষ্ঠানের নিয়মিত দর্শকরা অন্যদের চেয়ে ভাষা ও বর্ণ, গণিত ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়ে বেশি দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Apr/15/1555319608594.jpg

নিউইয়র্কভিত্তিক সিসেমি স্ট্রিট নামক শিক্ষামূলক টিভি ধারাবাহিকের যৌথ-প্রযোজনা সিসিমপুর-এর কার্যক্রম বাংলাদেশে পরিচালনা করছে সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশ। এটি সব কার্যক্রমই সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে যৌথভাবে পরিচালনা করে থাকে। গত ১৪ বছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছে ‘সিসিমপুর’। অনুষ্ঠানটির সহযোগী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এশিয়াটিক মার্কেটিং কমিউনিকেশন লিমিটেড।

২০১০ সাল থেকে সিসিমপুর আউটরিচ প্রকল্পটি দেশের ৬৪টি জেলায় ৩ হাজার ৩৪০টি স্কুলে সিসেমি ওয়ার্কশপ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।বাংলাদেশ সরকার ও ইউএসএআইডি বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এতে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি। এছাড়া সিসিমপুর প্রতিনিয়ত নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রচারণা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

আবারও গানে গানে প্রশ্ন রেখেছেন ‘গাল্লিবয়’ রানা

আবারও গানে গানে প্রশ্ন রেখেছেন ‘গাল্লিবয়’ রানা
ইউটিউবে গাইছেন রানা, ছবি: সংগৃহীত

কামরাঙ্গীরচরের ৮ নম্বর গলিতে বেড়ে ওঠা রানাকে নিয়ে প্রথম ‘গাল্লিবয়’ নামের একটি গান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মাহমুদ হাসান তবীব। তারপর থেকে 'গাল্লিবয়' রানা ইন্টারনেট জুড়ে ভাইরাল। খবরের শিরোনাম হয়েছে বিবিসি থেকে আল জাজিরার।

‘গাল্লিবয়’, ‘গাল্লিবয় পার্ট-২’র পর আবারও সেই রান গতকাল (২৪ আগস্ট) ‘গাল্লিবয় পার্ট-৩’ শিরোনামের গান গেয়েছেন। যেখানে গানে গানে পথ শিশুদের স্কুল ও বাজেট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রানা। গানে সমাধানও দিয়েছেন মাহমুদ হাসান তবীব।

মাহমুদ হাসান তবীব নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করেছেন গানটি। বরাবরের মতোই গানটির কথা, সুর ও ভিডিও নির্মাণ করেছেন মাহমুদ হাসান তবীব।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566716982720.jpg

এই বছরের মে-জুন মাসের রানার সঙ্গে পরিচয় হয় তবীবের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ঘুরে র‌্যাপ গান শোনাতো রানা। তবীবের সঙ্গে রানার পরিচয়ের পর বলিউডের 'গাল্লিবয়' নাম জুড়ে দেন রানার নামের সঙ্গে। তারপর রানার গাওয়া 'গাল্লিবয়' নামের একটি গান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি।

জয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ শ্রীজাত

জয়ার আতিথেয়তায় মুগ্ধ শ্রীজাত
জয়া ও শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়, ছবি: সংগৃহীত

দুই বাংলায় তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী বাংলাদেশের জয়া আহসান। সম্প্রতি এই অভিনেত্রী ‘ভূতপরী’ সিনেমার কাজে কলকাতায় অবস্থান করেছেন।

আরও পড়ুন: এবার কলকাতার ভৌতিক সিনেমায় জয়া

কলকাতায় নিয়মিত কাজের ফলে জয়া যোধপুর পার্কের পাশেই বাড়ি ভাড়া করে থাকেন। সেখানে আড্ডার আমন্ত্রণ পান জয়ার কলকাতার বন্ধুরা। সম্প্রতি সেই আড্ডার আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন বাংলা ভাষার আধুনিক যুগের কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। জয়ার বাসায় এসে আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন শ্রীজাত। সেই গল্প জানিয়েছেন নিজের ফেসবুকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566714637410.jpg

শ্রীজাত জয়ার সঙ্গে পরিচয় প্রসঙ্গে লিখেছেন, আমি তাকে চিনি পর্দার মাধ্যমে, সে আমাকে চেনে দু’মলাটের মধ্যবর্তী অঞ্চল থেকে। আর সেই চেনাটাই যে সবচাইতে জরুরি চেনা, সে-কথা বুঝতে পারি, যখন আমাদের আলাপ হয় মুখোমুখি। দেখা অবশ্য হয়েছিল প্রথমবার, শহর ম্যানহাটন-এর এক পাঁচতারা হোটেলের ঘরোয়া জমায়েতে, দু’একখানা বাক্য ছাড়া কোনও বিনিময় হয়নি। কিন্তু এটুকু বুঝেছিলাম, জয়া আপাদমস্তক একজন শিল্পী, যে তার শিল্পের কাছে সমর্পিত।

তারপর হয় প্রিমিয়ার, নাহয় হাজার লোকের পার্টির ভিড়ে কুশল বিনিময় চলেছে। নিজের অনুরাগের কথা জানাতে ভুলিনি আমি, সেও, কী ভাগ্যি, আমার লেখার প্রতি তার আস্থা জাহির করেছে প্রতিবার। কিন্তু বেশ অবাক হয়েছি আমি, কেননা কাজের সূত্রে যখনই কলকাতায় এসেছে জয়া, খোঁজ নিয়েছে আমার। ফোনে বার্তা পাঠিয়ে ডাক দিয়েছে খোশগল্পের, প্রতিবারই। অবাক হয়েছি এই কথা ভেবেই যে, আমার রোজকার বন্ধু বৃত্তে যে-মানুষটা যাতায়াত করে না, যার সঙ্গে আমার কোনও কাজের সম্পর্কও নেই, সে নিজে কীভাবে টানা এতদিন ধরে নিখাদ আড্ডার আগ্রহ ধরে রাখছে? মাঝখানে সাক্ষাতের অভাবে ঢাকা’র একুশে বইমেলা থেকে একগুচ্ছ অসামান্য বই কিনে উপহার করে পাঠিয়েও দিয়েছে আমার বাড়ি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566714660965.jpg

জয়ার এমন আচরণে শ্রীজাত আরও লিখেছেন, আজ, এই মাঝবয়সে এসে মনে হয়, বন্ধু হতে গেলে সব সময়ে প্রতিদিনকার ওঠবস দরকার হয় না। দূরের কোনও একটা সুতোয় টান পড়লে যে-সাঁকো আপনি নড়ে ওঠে, তারও নাম বন্ধুত্ব। তাকে এমনি দেখা যায় না। কুয়াশা দিয়ে সে ঢাকা থাকে সারাক্ষণ।

জয়ার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার প্রসঙ্গে শ্রীজাত জানিয়েছে, ‘অমুক দিন থেকে তমুক দিন এখানে আছি, তারপর আউটডোর। একদিন সময় হবে?’ – আন্তরিক এই আমন্ত্রণ আমার ফোনে এসেছে একাধিক সময়ে, জয়ার তরফেই। মন বারবার সাড়া দিলেও, আড্ডা দেওয়া হয়ে ওঠেনি। সে নিজে দুই বাংলার ব্যস্ততম অভিনয়শিল্পীদের একজন, আমাকেও দিনমজুরি’র ছোটাছুটি নিয়ে থাকতে হয়। তাই আড্ডার আগ্রহ থাকলেও, তারিখ কেবলই পিছিয়ে যাচ্ছিল। শেষমেশ আজ সেটা সম্ভব হল এবং আবারও, জয়ারই তোড়জোড়ে। আমার উল্টোদিকের পাড়া যোধপুর পার্কেই তার কলকাতার আস্তানা, সেখানে সন্ধে থেকে টানা অনেকক্ষণ গল্পে মেতে থাকা গেল অবশেষে। ছবি থেকে উপন্যাস, থিয়েটার থেকে কবিতা, স্বপ্ন থেকে বাস্তব, কথার সুতো বুনতে বুনতে আমরা তৈরি করছিলাম সময়ের শীতলপাটি, যা বিছিয়ে দেবার বড় একটা সুযোগ আজকের এই ব্যস্ত জীবনে বন্ধুদের হয় না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/25/1566714691676.jpg

আড্ডার পর অতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে শ্রীজাত লিখেছেন, ফেরার সময়ে যখন টিফিন বক্স হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, ‘মায়ের ঈদের রান্না, তুমি আর দূর্বাদি খেও কিন্তু’ – আমি রূপালি পর্দার এক তারকাকে ছাপিয়ে, অসামান্য গুণী এক শিল্পীকে পেরিয়ে, নিতান্ত ও নিখাদ আটপৌরে একজন বাঙালিকে দেখতে পেলাম এক ঝলক, আয়না-জড়ানো জীবনে যার ছায়া আজও ছেড়ে যায়নি জয়াকে।

কবীর সুমন বহু আগের একখানা গানে লিখেছিলেন, ‘দূরেও রয়েছে বন্ধু মিষ্টি হেসে / হয়তো কোথাও, হয়তো অন্য দেশে’। আছেই তো। থাকেই, চিরকাল। কিন্তু সাঁকোকে ঘিরে যে-কুয়াশা, তার বোধহয় ক্ষমতা আছে, কাঁটাতারকে ঝাপসা করে মিলিয়ে দেবার। তাই না?

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র