Barta24

বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ৭ ভাদ্র ১৪২৬

English

ইন্ডাস্ট্রি ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ্’র প্রথাবিরোধী যত ভাবনা

ইন্ডাস্ট্রি ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে নাসিরুদ্দিন শাহ্’র প্রথাবিরোধী যত ভাবনা
নাসিরুদ্দিন শাহ্
যাকওয়ান সাঈদ
কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

নাসিরুদ্দিন শাহ্ একজন বলিউড অভিনেতা। নানাসময়ে তিনি নানামুখী সাহসী বক্তব্যের মধ্যদিয়ে একটি বিতর্কিত অবস্থায় নিজেকে উপস্থাপন করে থাকেন। ফলে তার ব্যাপারে উপমহাদেশের মানুষদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখতে পাওয়া যায়। অনেকের মনে তার জন্য রয়েছে অসামান্য ভালোবাসা, আবার অনেকের কাছেই তিনি ঘৃণার পাত্র।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563613235548.jpg
তরুণ বয়সে নাসিরুদ্দিন শাহ্ ◢

 

কিছুদিন আগেও এই অভিনেতা ভারতের লোকসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিস্তর আলাপ-আলোচনার পাত্র হয়ে উঠেছিলেন। সেই সময়কালে ভারতের একটি নামকরা দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “মানুষ স্যোশাল মিডিয়া ব্যবহার করে কেন বলতে পারেন? মূলত সে স্ক্রিনে তার নিজের নামটা একটু দেখতে চায়। এটা তাদের কাছে একটা আকর্ষণীয় ব্যাপার। আমি নিজেও স্বপ্ন দেখতাম, অভিনেতা হয়ে নিজের নামটা পর্দায় দেখতে পাব। আসলে যেইসব লোকেদের কাজবাজ নাই, তারাই মূলত স্যোশাল মিডিয়া থেকে এই সুযোগটা নিয়ে থাকে। অন্য লোকদের ব্যাপারে তারাই বিরূপতা তৈরি করতে চায়, ঘৃণা অথবা অশ্লীলতা ছড়ায়, এগুলোই তাদের কাজ।

নাসিরুদ্দিন শাহ্ সর্বদাই চলমান বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অর্থহীন সিনেমাসমূহকে প্রশ্নের মুখোমুখি রাখতে চেষ্টা করেছেন। মূলত তাকে, এবং ওম পুরি নামক আরেকজন অভিনেতাকে বলিউডের সবচেয়ে শক্তিশালী নন-কমার্শিয়াল অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

কমার্শিয়াল সিনেমার ব্যাপার তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “কমার্শিয়াল সিনেমাগুলো একটা বৃহৎ সংখ্যক সনাতনী ধ্যানধারণাকে সমাজে চালু রাখতে সাহায্য করে, যেগুলো আসলে পরিবর্তন হওয়া উচিত। দুঃখজনকভাবে এখানকার টেলিভিশন সিরিজগুলোও এই ধরনের চিরক্ষতিকর বিষয়গুলোর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। এগুলো সেই পুরান আমলের নারীবিদ্বেষী প্রেক্ষাপটগুলোকেই প্রচার করছে। যেমন একজন মহিলা সর্বদাই তার স্বামীর পেছনে পেছনে চলছে, অথবা স্বামীর পায়ের ওপরে শুয়ে আছে, অথবা ‘মেরে তুলসি তেরে আগান কি’ জাতীয় কথা বলে বলে তার স্বামীর অপেক্ষা করছে। এই জাতীয় রাবিশ আর পশ্চাদমুখী পরিবার প্রথাগুলো কোনোভাবেই এই বর্তমান দুনিয়ার সঙ্গে মানানসই না।

কমার্শিয়াল সিনেমার প্রতি এধরনের মনোভাব পোষণ করা ছাড়াও নাসিরুদ্দিন নতুন সিনেমা, অর্থাৎ চিন্তাশীল নতুন চলচ্চিত্রকারদেরকে গুরুত্ব দিতে ভীষণভাবে তৎপর থাকেন। এবং তিনি নিজে ‘ইউটিউব জেনারেশন’-এর চলচ্চিত্রকারদের দ্বারা অভিভূত হতে চান, এমনটাই ব্যক্ত করেন।
এই প্রসঙ্গে তার বক্তব্যটি এমন, “আমি এইসব চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে আশা খুঁজে পাই। কেননা তারা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে কোনো প্রকার প্রডিউসারের সঙ্গে বসাবসি ব্যতিরেকে। তারা বাজেট অথবা হলগুলো থেকে কী পরিমাণ টাকা রিটার্ন আসলো, এসব চিন্তা থেকে মুক্ত।

বলিউডের বিরাট বাজেটের সিনেমাগুলোর ব্যাপারে তিনি একপ্রকার হাস্যরসই করে থাকেন। সম্প্রতি কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “লক্ষ করবেন, হয় বলিউডে বিরাট বিরাট বাজেটের ছবিগুলো হচ্ছে, আর নয়তো হচ্ছে স্বল্প বাজেটের ইন্ডিপেন্ডেট ছবি। মাঝামাঝি কিছু নেই। আর বড় ছবিগুলো একের পর এক শুধু ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু তাতে কি বলিউডের শিক্ষা হচ্ছে? এক ডজন অভিনেতাকে নিয়ে আরো বড় বড় ছবি বানিয়ে যাবে তারা, এন্ড হোপফুলি দে উইল কিপ লুজিং মানি।

নাসিরুদ্দিন শাহ্ পারিবারিক জীবনকেও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। এবং বর্তমান ভারতের সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতিতে তিনি নিজের পরিবারকে নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন। তিনি মুসলিম পরিবার থেকে আসলেও তার স্ত্রী একজন হিন্দু পরিবার থেকে আসা মানুষ, কাজেই তার সন্তানদের পক্ষে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের পরিচয়ে নিজেদেরকে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এপ্রসঙ্গে নাসিরুদ্দিন বলেন, “আমি আমার বাচ্চাদেরকে নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। কেননা, এই ইতর জনগণ আগামীকালকে যদি তাদেরকে ঘিরে ধরে জিজ্ঞাসা করে, তোমরা হিন্দু নাকি মুসলিম, সেক্ষেত্রে তাদের কোনো উত্তর দেওয়ার থাকবে না।” নাসিরুদ্দিনের ভিভান শাহ এবং ইমাদ শাহ নামে দুইজন পুত্র সন্তান আর হীবা শাহ নামে একজন কন্যা সন্তান রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563613579950.jpg
পরিবারের সদস্যদের সাথে নাসিরুদ্দিন শাহ্ ◢

 

স্ত্রী রত্না পাঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্কটা এক ধরনের কেমিস্ট্র, যা মূলত দুইজন অভিনয়শিল্পীর মধ্যে সুন্দর বিবেচনাবোধ হিসেবে বিরাজ করে, এবং যখন সম্ভব হয় একে অন্যকে সাহায্য করে।

নাসিরুদ্দিন শাহ্ রত্না পাঠকের ব্যাপারে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ, তার কিছু কথায় এধরনের অভিব্যক্তি প্রকাশ পায়। যেমন তিনি বলেন, “সে আমাকে চমৎকারভাবে সাহায্য করে, ঠিক ততটা সাহায্য আমিও তাকে করতে পারি না। প্রায় প্রত্যেকটা বিষয়ে আমি তার মতামতের ওপর ভরসা করে চলি, এমনকি আমার সিনেমার কাজগুলোর ক্ষেত্রেও। তার মতামত আমার জন্য বিরাট সুফল বয়ে আনে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563614014136.jpg
নাসিরুদ্দিন শাহ্ এবং ওম পুরি ◢

 

আজ ২০ জুলাই, এই বরেণ্য অভিনয় শিল্পীর জন্মদিন। নিচে তার বিখ্যাত কয়েকটি উক্তি বা কোটেশন উল্লেখ করা যাক। এর আগে, তার ব্যাপারে আমাদের কিছু বিষয় জেনে নিলে ভালো। ফুটনোট আকার ওই বিষয়গুলো প্রথমে উল্লেখ করা যাচ্ছে—

• সিনেমায় আসার আগে নাসিরুদ্দিন শাহ্ একজন শক্তিশালী থিয়েটার অভিনেতা ছিলেন। ১৯৭৭ সালে এই মর্মে তিনি ‘মটলি প্রডাকশন’ নামে একটি নাট্যদল গড়ে তুলেছিলেন। সেখানে তার সহযোগী ছিলেন অভিনেতা বেঞ্জামিন গিলানি এবং মার্কিন বংশোদ্ভুত অভিনেতা টম অল্টার।

• তার সিনেমা-জীবনের ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সিনেমার পর্দায় প্রথম কাজ হিসেবে ‘নিশান্ত’ নামের একটি ছবিতে তিনি খুব ছোট একটি রোল করেছিলেন।

• জীবনের ২০ বছর বয়সেই তিনি প্রথম বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু এই বিয়ে টিকেছিল মাত্র এক বছর। তার প্রথম স্ত্রীর নাম মানারা সিক্রি।

• নাসিরুদ্দিন শাহ্ কখনোই অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে এক পর্দায় অভিনয় করেননি।

• তিনি দিল্লির ‘ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা’ থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

• এই পর্যন্ত তিনি একশোটিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

• ১৯৫০ সালের ২০ জুলাই তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বরাবাঁকি নামক একটি স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলে মোহাম্মদ শাহ, আর মাতার নাম ফাররুখ সুলতান।

• তিনি ১৯৭১ সালে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কলা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

• ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকার কর্তৃক দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘পদ্মশ্রী’ লাভ করেছেন, এর সময়কাল ছিল ১৯৮৭। আর ২০০৩ সালে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ সম্মাননাও অর্জন করেন, এটি ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা।

নাসিরুদ্দিন শাহ্’র বিখ্যাত ২৭টি উক্তি

১. আপনি হাসতে পারা আর কাঁদতে পারার পারদর্শিতার ওপরেই শুধু ভরসা রাখতে পারেন না, আর ভাবতে পারেন না যে এটাই অভিনয়ের একমাত্র নিহিত অর্থ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমাদের দেশে কান্নাকেই সর্বদা ভালো অভিনয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২. ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এখনো মনে করে, আপনি একজন অভিনেতা নিয়ে আসবেন আর তাতেই একটা ফিল্ম তৈরি হয়ে যাবে। একথাও অনেকাংশে সঠিক বটে, কিন্তু এমন কিছুকে আমি কখনোই সম্মতি দেব না।

৩. আমি পরবর্তীকালে ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছিলাম যে, একজন প্রথাবিরুদ্ধ অভিনেতা তাদের তৃতীয় বা চতুর্থ চয়েজ হিসেবে থাকে। এবং একমাত্র তখনই তাকে কাস্ট করা হয়, যখন তারকা অভিনেতারা সেই পার্টে অভিনয় করতে অনীহা প্রকাশ করে।

৪. মাসালা সিনেমাতে অভিনয় করার জন্য আপনার প্রয়োজন হবে একটা দেখতে-শুনতে ভালো শরীর। আর জানতে হবে কিভাবে পোশাক পরতে হয়, কিভাবে নাচতে হয়, কিভাবে মারামারি করতে হয়, বা কিভাবে হাসি-কান্নার অভিনয় করতে হয়। কিন্তু একজন মানুষ হয়ে ওঠার পক্ষে দরকারি জীবনদর্শন এবং চিন্তাচেতনার সঙ্গে আপনার কোনো বোঝাপড়া করতে হবে না। কেননা মাসালা সিনেমাগুলো এগুলোর কোনোটাই ধারণ করে না।

৫. বলিউডে কিছুই পরিবর্তন হয়নি। সবকিছু এখানে তেমনই আছে, পঞ্চাশ বছর আগেও যেমনটা ছিল। হয়তো ফটোগ্রাফি আর এডিটিংটা ভালো হয়েছে, কিন্তু বিষয় বা সারাংশ সেই সত্তরের দশকে যেমন ছিল, আজও তেমনই ছেলেমানুষি রয়ে গেছে।

৬. এখানে প্রতিভা কিংবা সহজাত ক্ষমতা বলতে কিছু নেই। এখানে যা আছে তা প্রতিভার ঘাটতি বা অভাব। প্রতিভার অভাব পরিলক্ষিত হয় তখন, যখন কেউ তার নির্দিষ্ট স্থানে থাকে না।

৭. আমি কখনোই আমার চুল রঙ করার সিদ্ধান্ত নিইনি। কেননা এতে করে, একজন পুরুষকে মোটেও কমবয়স্ক লাগে না। বরং, আমার মনে হয়, পুরুষের মুখের বয়সচিহ্ণগুলো আরো স্পষ্ট হয়, যখন আপনি চুল রঙ করেন।

৮. সামহাউ, হলিউড ফিল্মগুলো আমার মধ্যে যেভাবে কাজ করে, হিন্দি সিনেমাগুলো মোটেও তেমনটা করে না। সেই পাঁচ বা ছয় বছর বয়সে আমি দেখতে পেয়েছিলাম, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ধরনেই এই দুই ঘরানার সিনেমার মধ্যে তফাৎ রয়েছে।

৯. স্বতন্ত্র সত্তা তার নিজস্ব পথকেই শুধু গ্রহণ করে। আমার বাবা তার চিন্তানুযায়ী সবচেয়ে উৎকৃষ্ঠ পন্থায় আমাকে গাইড করতে চেয়েছিলেন, এবং এটা কাজ করেনি। আমি আমার চাওয়া পথেই গিয়েছি।

১০. বোম্বের মাটিতে আমার পদার্পণটি খুব ভাগ্যমণ্ডিত ছিল। বোম্বেতে তখনই সবেমাত্র সিরিয়াস সিনেমার গোড়াপত্তন ঘটতে চলেছিল।

১১. মানুষ ভাবে আমি মজা করছি, যখন আমি বলি আমার ফেভারিট অভিনেতারা হলেন শাম্মি কাপুর আর দারা সিং।

১২. ফাইনালি আমি অনুধাবন করেছি যে, দেখতে ভালো হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

১৩. আমি প্রত্যেকটা প্রজেক্টে যাই সমান উৎসাহ আর সমান আশাবাদ নিয়ে। কিন্তু সেসবের কোনো কোনোটা ফলে, আর কোনো কোনোটা বিফলে।

১৪. আমি মনে করি না, কারো জীবনকে পাল্টে দেওয়ার শক্তি সিনেমার আছে।

১৫. পড়াশোনাকে বাদ দেওয়ার জন্যে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন না।

১৬. আমি স্কুলে শেক্সপিয়ার পড়াতে চাই। কিন্তু, সমস্যা হলো, যদি আমি আমার পদ্ধতি প্রয়োগ করি তাহলে তারা আমার উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহপ্রবণ হয়ে পড়বে।

১৭. থিয়েটার আপনাকে এমন একটা পৃথিবীর দিকে নিয়ে যাবে যেখানে আপনার কল্পনাশক্তি আরো শাণিত হবে, আপনার অভিমতগুলো আরো শক্তিশালী হবে, আর এভাবে অভিনয়কে উপভোগ করা আপনার পক্ষে আরো সহজ হবে।

১৮. থিয়েটারের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞাটা আমি ফেলে এসেছি, সেটা হলো, ‘একজন অভিনেতা, একজন দর্শক।’

১৯, রাজনৈতিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ লোকদেরকে আমি পছন্দ করি। এবং পছন্দ করি, যারা খুব যাচ্ছেতাই।

২০. আমি এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কোনো কিছুর কাছেই ঋণী না। আমি তাদেরকে নিয়ে আমার ক্যারিয়ার শুরু করিনি। তারা আমার কাছে আসে, যখন তাদের একজন অভিনেতা প্রয়োজন হয়, যে ভালো ভালো বিষয় ডেলিভারি দিতে পারে।

২১. সবাই সন্তুষ্টি বিষয়টা নিয়ে অনেক কথা বলে। এখানে মূলত এমন একটা কিছু আছে, যেটাকে অর্থনৈতিক সন্তুষ্টি বলা যায়।

২২. আমি আমার বাচ্চাদেরকে গাইড করতে গিয়ে এই ভুল করিনি যে, তাদেরকে আমার পছন্দসই পথে চলতে হবে। আমি তাদেরকে তাদের নিজস্ব পথ খুঁজে নেবার স্বাধীনতা দিয়েছিলাম। আমার তাদের প্রতি বিশ্বাস আছে, এবং তারা এটার মূল্য রাখবে।

২৩. আমি সমালোচনাকে সমাদর করি। আমি তাদেরকে পছন্দ করি যারা আমাকে বলে, আমার কাজ তাদের পছন্দ হয়নি এবং কেন পছন্দ হয়নি। কাউকে প্রশংসা করার চাইতে সমালোচনা করাটা অধিক খাটুনির ব্যাপার।

২৪. ব্যর্থতা মানে হলো একজন মানুষ তার কাজ খুঁজে পায়নি। কারণ সে জানে না, তার কী কাজ। বেশিরভাগ অভিনেতার ব্যর্থ হবার পেছনে এটাই কারণ যে, তারা জানে না তাদের কী কাজ।

২৫. এরকম বিশ্বাস করা নিতান্ত বোকামি যে, থিয়েটারে আপনার পারফর্ম করা মানে সেটা একটা বিশেষ ব্যাপ্ত ঘটনা। ভালো অভিনয় মানে ভালো অভিনয়, সেটা মঞ্চে হোক আর সিনেমায় হোক।

২৭. একজন অভিনেতার মধ্যে থাকা নানামুখী আবেগ-অনুভূতির বৈচিত্রকে খুঁজে নিতে পারাই তার কাজ।

আপনার মতামত লিখুন :

সরোজিনীর মহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ ডাকার ইতিহাস

সরোজিনীর মহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ ডাকার ইতিহাস
গ্রাফিক : বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সরোজিনী নাইডু মাহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ বলে ডাকতেন। অর্থাৎ গান্ধীজির সঙ্গে সরোজিনীর ছিল গভীর অন্তরঙ্গতা। কিন্তু কী ছিল সেই অন্তরঙ্গতার অন্তর্সূত্র? ছিল হলো—তারা দুইজনই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের দুই মূল হোতা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে প্রায়োগিকভাবে ভারতবর্ষের নারীদের মধ্যে সবচাইতে অগ্রবর্তী ভূমিকা রেখেছিলেন সরোজিনী নাইডু।

এই রেডিকেল সত্তার বাইরেও সরোজিনী নাইডুর অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন কবি। পৃথিবীবিখ্যাত তার কয়েকটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।

এই ফিচারটি লেখা হচ্ছে সরোজিনীর জীবন কিংবা পরিচয়কে উদ্দেশ্য করেই, তবে খুব সংক্ষিপ্তভাবে—

এক.
ছোটবেলা থেকেই সরোজিনী নাইডু ছিলেন অত্যন্ত রকম মেধার অধিকারী। একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি ভাষা তিনি রপ্ত করে নিয়েছিলেন খুব অল্প বয়সে। বাংলা আর ইংরেজি ছাড়াও তিনি শিখেছিলেন ঊর্দু, ফারসি এবং তেলেগু ভাষা। মাত্র বারো বছর বয়সে সরোজিনী মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মেট্রিক পরীক্ষা পাশ করার সময়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

স্বভাবতই সরোজিনীকে নিয়ে তার বাবা অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তার প্রধান স্বপ্ন ছিল, তিনি চাইতেন তার মেয়ে গণিতজ্ঞ বা বিজ্ঞানী হবেন। পক্ষান্তরে সরোজিনীর স্বপ্ন তার বাবার চিন্তা অনুযায়ী ছিল না। সেই বয়সেই তার মধ্যে সাহিত্যের আকুতি লক্ষ করা গিয়েছিল। অ্যালজেবরা করার খাতাতেই তিনি কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন।

এরকমভাবে লিখতেই লিখতেই হঠাৎ একদিন দেখা গেল সরোজিনী নাইডু ১৩০০ লাইনের এক বিশাল কবিতা লিখে ফেলেছেন। ইংরেজি ভাষায়। কবিতাটির শিরোনাম ছিল ‘দ্য লেডি অব দ্য লেক’। সরোজিনীর বাবা কবিতাটি পড়ে বিস্মিত হয়ে পড়েছিলেন। তৎক্ষণাৎ তার চিন্তাও পাল্টে গিয়েছিল। গণিত কিংবা বিজ্ঞানের বিষয়ে ভাবনা বাদ দিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়েকে কবিতা এবং লেখালেখির বিষয়েই উৎসাহ দেবেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386933772.jpg
◤ পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস ও সরোজিনী নাইডু


পিতার উৎসাহ সরোজিনীকে গভীর শক্তি প্রদান করেছিল। সেইসূত্রেই, কয়েকদিনের মধ্যে তিনি ফরাসি ভাষায় একটি নাটক রচনা করে ফেললেন, নাটকটির নাম ছিল ‘মাহের মুনির’। নাটকটি পড়ে তারা বাবা আবারও অভিভূত হয়ে পড়লেন এবং সেটি নিজের সহকর্মীকে পড়তে দিলেন। যাদের মধ্যে নিজাম নামক তার এক বন্ধুও ছিলেন, যিনি ১৫ বছর বয়সী একজন মেয়ের লেখা এই নাটক পড়ে চূড়ান্তরকমের অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তিনিই সরোজিনীকে ইংল্যান্ডে পড়তে পাঠানোর জন্য পরামর্শ দেন।

বাবার বন্ধু নিজামের পরামর্শের সূত্রেই সরোজিনী নাইডু ১৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান।

দুই.
তিনি প্রথমে লন্ডনের কিংস কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। কলেজের পড়াশোনা শেষে তিনি কেমব্রিজে পড়তে যান। আর কেমব্রিজেই তার সঙ্গে অনেক বিখ্যাত ইংলিশ কবি-সাহিত্যিকদের পরিচয় হয়।

সেইসব কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে তার বিশেষ সখ্য হয়েছিল দুইজনের সঙ্গে, একজন ছিলেন আর্থার সিমন আর অন্যজন ছিলেন এডমন্ড গস। মূলত এডমন্ড গসই সরোজিনীকে এই পরামর্শ দেন, ইংরেজি ভাষায় সাহিত্য রচনা করলেও তিনি যেন নিজের দেশকে এবং দেশের সংস্কৃতিকে অস্বীকার বা অগ্রাহ্য না করেন। এডমন্ড গসের এই পরামর্শ সরোজিনী গভীরভাবে গ্রহণ করেছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566387371429.jpg
◤ সরোজিনী নাইডুর ব্রিটিশ কবিবন্ধু এডমন্ড গস ◢


এই ভারতীয় প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করেই তিনি পরবর্তী সময়ে প্রচুর কবিতা লিখেছিলেন। যেসব দিয়ে তিনি তিনটি বইও বের করেন। বই তিনটি তৎকালীন ইংল্যান্ড এবং ভারত উভয় জায়গাতেই বিস্তর আলোড়ন তৈরি করেছিল।

ইংল্যান্ডে থাকাকালে সরোজিনী একজন ভারতীয় ডাক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ হন। সেই ডাক্তারের নাম ছিল গোবিন্দরাজুলু নাইডু। যেহেতু সরোজিনী ছিলেন ব্রাহ্মণ আর গোবিন্দরাজুলু ছিলেন অব্রাহ্মণ, ফলত এই সম্পর্ক নিয়ে সরোজিনীর বাবার আপত্তি থাকবার কথা ছিল, কিন্তু সেরকম কিছু দেখা গেল না।

গোবিন্দের সঙ্গে সরোজিনীর যখন সম্পর্ক হয়েছিল তখন তার বয়স ছিল ১৭ বছর। আর যখন তার বিবাহ সম্প্ন হলো তখন বয়স ১৯ বছর, অর্থাৎ সরোজিনী পড়াশোনা শেষ করবার সঙ্গে-সঙ্গেই গোবিন্দের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্ন করে নিয়েছিলেন। তৎকালে অসবর্ণ বিবাহ নামের একটা বিষয় সমাজে নিষিদ্ধ ছিল। কাজেই কুলীন ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে সরোজিনীর সঙ্গে অব্রাহ্মণ পরিবারের ছেলে গোবিন্দের এই বিবাহ একটি সামাজিক রীতিবিরুদ্ধ ঘটনা ছিল।

সরোজিনী আর গোবিন্দের সংসারে চারজন সন্তান এসেছিলেন। জয়সুর, পদ্মজা, রণধীর, এবং লীলামণি। এদের মধ্যে পদ্মজা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়েছিলেন।

তিন.
পি বি শেলি নামের এক কবি ছিলেন সরোজিনী নাইডুর প্রিয়। যিনি শুধু কবিই ছিলেন না, ছিলেন একই সঙ্গে বাগ্নী বা বক্তাও। বলা যেতে পারে, পি বি শেলির এই প্রভাব সরোজিনীর মধ্যেও পড়েছিল। তার মধ্যেও বাগ্মিতা, বা রাজনৈতিক পক্ষালম্বন, বা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে যাবার মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে লক্ষ করা গিয়েছিল। সম্ভবত সরোজিনীই একমাত্র নারী, যিনি একাধারে ছিলেন কবি এবং রাজনীতিবিদ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386876725.jpg
◤ সরোজিনী নাইডুর প্রিয় কবি ও ব্যক্তিত্ব পি বি শেলি ◢


সরোজিনীর সাহিত্যজীবনে ২৫ বছরের ব্যাপ্তি থাকলেও সেই তুলনায় তার বইয়ের সংখ্যা খুবই কম, মাত্র তিনটি। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম ‘দ্য গোল্ডেন থ্রেশল্ড’। বইটি ১৯০৫ সালে লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দ্য বার্ড অব টাইম’, এটি প্রকাশ হয় ১৯১২ সালে। অন্য বইটির নাম ‘দ্য ব্রোকেন উইং’। এটির প্রকাশ-সন ১৯১৭। অবশ্য ‘দ্য ফেদার অব দ্য ডাউন বার্ডস অব টাইম’ নামেও তার একটি সংকলিত কবিতার বই রয়েছে।

সরোজিনী নাইডুই সেই বিরলজ বাঙালি কবি, যার সব রচনাই ছিল ইংরেজি ভাষাতে। আসলে নাইডুর খ্যাতির আরম্ভটুকু ইংরেজি ভাষার বদৌলতে এসেছিল, এরকম বলা যায়। ইংল্যান্ডে তার বইগুলোর একাধিক সংস্করণ সেই বার্তাই ধারণ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386191820.jpg
◤ সরোজিনী নাইডুর বইয়ের প্রচ্ছদ ◢


সরোজিনীর বেশ কয়েকটি কবিতা বিপুলভাবে চর্চিত, বা প্রসিদ্ধ। এসবের মধ্যে রয়েছে ‘ওয়ান্ডারিং সং’, ‘ভিলেজ সং’, ‘ক্রাডেল সং’সহ আরো অনেক কবিতা। এই কবিতাগুলোই পরবর্তীকালে যথাক্রমে ‘চারণ’, পল্লিগীত’ বা ‘ঘুমাপাড়ানির গান’ নামে অনূদিত হয়ে হয়ে বাংলাভাষাভাষিদের কাছেও বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। যারা সরোজিনীর কবিতা অনুবাদ করেছেন তাদের মধ্যে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর।

চার.
সরোজিনীর এই কবি-পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের একজন প্রথম সারির নেত্রী। একজন সৎ ও সচেতন রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি প্রখ্যাত ছিলেন। ১৯২৪ সালে সরোজিনী কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশনে সভানেত্রী হওয়ার বিরল সম্মাননা অর্জন করেছিলেন।

ভারতবর্ষের ইতিহাসে তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি কোনো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। এমনকি তিনি দেশভাগের পরে উত্তর প্রদেশের গভর্নর পদেও নিযুক্ত হয়েছিলেন।

মূলত বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই সরোজিনী নাইডু রাজনীতির মাঠে এসেছিলেন, ১৯০৫ সালে। এই আন্দোলন ছিল স্বাধীনতারই আন্দোলন। এই সময় থেকেই মূলত তিনি অন্যান্য রাজনীতিবিদ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জওহরলাল নেহরু, মহাত্মা গান্ধী, গোপালকৃষ্ণ গোখলে, মুহাম্মদ আলি জিন্না, অ্যানি বেসান্ত, রামস্বামী আইয়ার প্রমুখ।

পাঁচ.
১৯১৫ সাল থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সরোজিনী নানান বিষয়ে বিপ্লবী বক্তৃতা প্রদান করছিলেন ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘুরে। এই সময়েই তার সঙ্গে জওহারলাল নেহরুর পরিচয় ঘটে। এই পরিচয়ের সূত্রে তিনি চম্পাচরণে নীলচাষীদের হয়ে আন্দোলন শুরু করেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386594363.jpg
◤ আন্দোলনের একই মঞ্চে নেহরুসহ সরোজিনী নাইডু ◢


১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার রাওলাট আইন নামে একটি আইন করেছিল। এই আইনের মাধ্যমে সকল রাজদ্রোহমূলক লেখাপত্র নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখন মহাত্মা গান্ধী এই আইনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের আরম্ভ করলে সরোজিনী সেখানেও যোগদান করেন।

তিনি ভারতের নারীদের ভোটাধিকার অর্জনের দাবিসহ আরো অন্যান্য অনেকগুলো দাবি নিয়ে ইংল্যান্ডে যাত্রা করেন সেই বছরই। সেইসূত্রে ১৯২০ সালে ভারতের নারীরা ভোটাধিকার পেতে শুরু করে। প্রথমে পেয়েছিল কেরালার নারীরা, তারপরে একসময়ে বাংলার নারীরাও।

১৯২৮ সালে তিনি নিউইয়র্ক যান। সেসময় তিনি যুক্তরাষ্ট্র সরকারেরও সমালোচনা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আফ্রিকান এবং ইন্ডিয়ানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের তিনি নিন্দা জানিয়েছিলেন। নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরবার পরে তিনি কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হন।

ছয়.
১৯৩০ সালে কংগ্রেস কর্তৃক ব্রিটিশ সরকারের সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষিত হলে মে মাসে মহাত্মা গান্ধী গ্রেফতার হন। তার কয়দিন পরেই সরোজিনী নাইডুকেও গ্রেফতার করা হয়। ১৯৩১ সালের জানুয়ারি মাসে গান্ধীজি এবং তিনি একসঙ্গে মুক্তি পাওয়ার অদ্যবধি পরে সেই বছরই তারা পুনরায়, এবার একত্রে গ্রেফতার হন। এই দফায় গান্ধীজি ১৯৩৩ সাল পযন্ত কারাগারে বন্দি থাকলেও সরোজিনী স্বাস্থ্যহানির কারণে আগেই মুক্তি পেয়েছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/21/1566386688688.jpg
◤ চার্লি চ্যাপলিন ও মহাত্মা গান্ধীর সাথে সরোজিনী নাইডু ◢


১৯৪২ সালের আক্টোবর মাসে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুনরায় তাকে এবং মহাত্মা গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই দফায় তারা দুজন দীর্ঘ ২১ মাস কারারুদ্ধ ছিলেন। একসঙ্গে দীর্ঘ কারাবাসের কারণেই হয়তো রাজনীতিকে ছাপিয়ে এই দুইজনের মধ্যে একটি গভীর অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়েছিল। যার সূত্রেই সরোজিনী নাইডু মহাত্মা গান্ধীকে ‘মিকি মাউস’ বলে ডাকতেন।

সাত.
সরোজিনী নাইডুর পৈত্রিক বাড়ি ছিল পূর্ববাংলার মুন্সীগঞ্জ জেলায়। ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের হায়দারাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার বাবার নাম ছিল অঘোরনা চট্টোপাধ্যায় আর মায়ের নাম ছিল বরদাসুন্দরী দেবী। বাবা ছিলেন বিজ্ঞানী, দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদ, আর মা ছিলেন কবি।

সরোজিনীরা ছিলেন আট ভাইবোন। তার এক ভাই বীরেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন বিশিষ্ট স্বাধীনতাসংগ্রামী। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে তিনি ছিলেন বার্লিন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পরবর্তী সময়ে কমিউনিজমে প্রভাবিত হয়ে তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নে পাড়ি জমিয়েছিলেন।

অপর আরেক ভাই ছিলেন নাট্যকার ও অভিনেতা। যার নাম ছিল, হারীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। অর্থাৎ বুঝতে পারা যায়, পারিবারিকভাবে সরোজিনীরা ছিলেন বিত্তশালী, তথাপি শিক্ষাদীক্ষা এবং জ্ঞানচিন্তার বিষয়েও প্রগাঢ়ভাবে উৎপাদনশীল।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সরোজিনী নাইডুকে উত্তর প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করা হয়। ১৯৪৯ সালে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

টেনিসে সর্বকালের সেরা ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচ

টেনিসে সর্বকালের সেরা ফেদেরার-নাদাল-জোকোভিচ
সৌভাগ্যবান বর্তমান সময়ের টেনিসপ্রেমীরা, সর্বকালের সেরা তিন খেলোয়াড়কে একসাথে দেখতে পারছেন

রজার ফেদেরার। রাফায়েল নাদাল। নোভাক জোকোভিচ। আধুনিক টেনিসের ‘বিগ থ্রি’। এই তিনজনই যে পুরুষদের টেনিসে সর্বকালের সেরা তিনজন, তা নিয়ে খুব কম মানুষই দ্বিমত পোষণ করে। আর এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে তাঁদের পরিসংখ্যান। রজার ফেদেরার গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন ২০ বার, রাফায়েল নাদাল ১৮ বার ও নোভাক জোকোভিচ ১৫ বার। এই তিনজনের মিলিত গ্র্যান্ড স্লামের সংখ্যা ৫৩! বলাই বাহুল্য, তাদের মতো এত বেশি গ্র্যান্ড স্লাম ট্রফি কেউ জিততে পারেননি পুরুষদের টেনিসের ইতিহাসে। আর আজকের দিনের টেনিসামোদীরা নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান ভাবতেই পারেন—এই তিন কিংবদন্তি বর্তমানে, একই সময়ে খেলে চলেছেন বলে। সর্বকালের সেরা এই তিন খেলোয়াড়কে একসাথে দেখতে পারছেন বলে।

তারা যেসময় খেলছেন, সেই সময়ে গ্র্যান্ড স্লাম ছাড়াও অন্যান্য ট্রফিতেও এই ত্রয়ীর আধিপত্য প্রচণ্ড। বিভিন্ন মাস্টার টুর্নামেন্টের বেশিরভাগের শিরোপা যাচ্ছে এই তিনের ঝুলিতে। গত প্রায় ১৫ বছর ধরেই যেন এই ত্রয়ীর একাধিপত্য টেনিসে। এই দেড় দশক সময়কালে মেয়েদের টেনিস দেখেছে অনেক উত্থান-পতন। ফ্রেঞ্চ ওপেনে যেমন নাদাল, উইম্বলডনে যেমন ফেদেরার বা অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে যেমন জোকোভিচ টানা শিরোপা জিতেছেন, মেয়েদের টেনিসে এমনটা দেখা যায়নি গত দেড় দশকে। গত দেড় দশকে এক সেরেনা উইলিয়ামস ছাড়া আর কোনো নারী টেনিস তারকাই সেভাবে টিকে থাকতে ও সাফল্য অর্জন করতে পারেননি। তাও ফেদেরার, নাদাল ও জোকোভিচের মতো অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা নিয়ে নিজেকে তিনি ধরে রাখতে পেরেছেন খুব কমই। গত দশ বছরে প্রায় সব গ্র্যান্ড স্লামেই শিরোপা ঘুরেফিরে গিয়েছে এই ত্রয়ীর হাতে। মাঝে অ্যান্ডি মারে, স্টান ভাভরিঙ্কা ও মারিন চিলিচের মতো কেউ কেউ ৩-৪টি স্লাম শিরোপায় ভাগ বসালেও তারা ধরে রাখতে পারেননি তাদের এই সাফল্য। হতে পারেননি ধারাবাহিক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289905892.jpg

একে অন্যের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হলেও তাদের মধ্যে রয়েছে দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক


২০১৭-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেন থেকে ২০১৯-এর উইম্বলডন পর্যন্ত টানা ১১টি গ্র্যান্ড স্লাম ভাগ করে নিয়েছেন এই ত্রয়ী। জোকোভিচ জিতেছেন চারটি, নাদাল তিনটি আর ফেদেরার তিনটি। অথচ তাদের প্রত্যেকেই ত্রিশোর্ধ্ব। নেই তারুণ্যের মধ্যগগণে। ছেলেদের টেনিসে এই তিনজনের দীর্ঘদীনের সাফল্যের রহস্য কী?

প্রথমেই বলা যেতে পারে টেনিসের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসা বা কমিটমেন্টের কথা। এই কমিটমেন্ট না থাকার কারণে অনেক পুরুষ টেনিস খেলোয়াড়ই লম্বা করতে পারেননি তাদের ক্যারিয়ার। তাদের প্রায় সমসাময়িক লেটন হিউয়িট, মারাত সাফিনরা প্রথমদিকে বেশ কিছু সাফল্য পেলেও, র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে উঠলেও, তারা তা ধরে রাখতে পারেননি দীর্ঘদিন। ফেদেরারকে দেখলেই ব্যাপারটা অনেকটা বোঝা যায়। ৩৮ বছর বয়সে যেখানে সবাই অবসরের কথা ভাবে, সেখানে তিনি এখনো খেলে চলেছেন সমান দাপটে। জিতছেন শিরোপাও। ১৯৯৮ থেকে পেশাদার সার্কিটে খেলে চলেছেন তিনি। তবু, অচিরেই অবসরে যাবেন, এই ভাবনা তার এখনো নেই। একই ব্যাপার খেটে যায় নাদাল ও জোকোভিচের বেলায়। ৩৩ ও ৩২ বছর বয়সী এই দুজনও টেনিসকে মনেপ্রাণে ভালোবেসে টিকে আছেন। ইনজুরির কারণে খেলা থেকে দূরে সরে থাকতে হয় তাদের মাঝেমাঝেই। বিশেষ করে, এই ক্ষেত্রে নাদালের কথা বলতে হয় আলাদা করে। ইনজুরির হানা তার ক্যারিয়ারে নিয়মিত একটা ঘটনা। এমনকি টুর্নামেন্ট চলাকালেও অনেক সময় আক্রান্ত হয়েছেন ইনজুরিতে। তবুও ফাইনালে উঠেছেন, যদিও হয়তো শেষ পর্যন্ত জিততে পারেননি শিরোপা। যেমন, ২০১৭-এর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে এই ঘটনাই ঘটেছিল তার সাথে। তেমনি জোকোভিচও মূলত ইনজুরির কারণে ২০১৬’র উইম্বলডন থেকে থেকে ২০১৮’র ফ্রেঞ্চ ওপেন পর্যন্ত পর্যন্ত জিততে পারেননি একটিও গ্র্যান্ড স্লাম। কিন্তু দুরন্ত প্রতাপে ফিরে এসে তিনি জিতে নিয়েছেন পরের পাঁচটি গ্র্যান্ড স্লামের চারটিই। তাই, নিঃসন্দেহে তাদের সাফল্যের আরেকটি কারণ এই হার না মানা মনোভাব।

অলরাউন্ড পারফরম্যান্সও তাদের সাফল্যের আরেকটি কারণ। কী হার্ড কোর্ট, কী ক্লে কোর্ট, কী গ্রাস কোর্ট—সবখানেই শিরোপা জিতেছেন এই ত্রয়ী। তাই, চার ধরনের গ্র্যান্ড স্লামই পকেটে আছে তাদের। যে নোভাক জোকোভিচ জিততে পারছিলেন না ফ্রেঞ্চ ওপেন, তিনিও ২০১৬ সালে তা জিতে দেখালেন। এরকম অলরাউন্ড পারফরম্যান্স আছে টেনিস ইতিহাসের খুব কম খেলোয়াড়েরই। ফেদেরারের ফোরহ্যান্ড, নাদালের ব্যাকহ্যান্ড, জোকোভিচের গ্রাউন্ড স্ট্রোকের মতো অসাধারণ ক্রীড়াশৈলি, খুব কম টেনিস খেলোয়াড়ই দেখাতে পেরেছেন।

আসুন, এবার দেখা যাক গত দেড় যুগে এই তিন মহাতারকার অর্জনগুলো এবং করা যাক পারস্পারিক সাফল্যের একটা তুলনা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566289973138.jpg
৩৮ বছর বয়সেও সমান দাপটে খেলে চলেছেন রজার ফেদেরার


ফেদেরারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা ২০০৩ সালের উইম্বলডন জয়। অন্যদিকে নাদাল ২০০৪ সালে সর্বপ্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলেও শিরোপা জেতেন ২০০৫ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেনে। জোকোভিচ ২০০৩ সাল থেকে পেশাদার আন্তর্জাতিক টেনিসে বিচরণ করলেও প্রথম বড় সাফল্য তার হাতে ধরা দেয় ২০০৮ সালে। সেবছর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে তিনি প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জেতেন।

বিগত ১৫ বছরে টেনিসে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী তিন টেনিস তারকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছেন রজার ফেদেরার। তিনি সর্বমোট ৯৮টি প্রতিযোগিতামূলক টেনিস শিরোপা জিতেছেন ও রানার্সআপ হয়েছেন আরো ৫১ বার। ফেদেরারের ৯৮টি টেনিস শিরোপার মধ্যে গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার সংখ্যা ২০টি। তিনি মোট ১০ বার পরাজিত হয়েছেন গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে। খেলোয়াড়ি জীবনের ২০টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮টি জিতেছেন উইম্বলডনে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও মাস্টার্স শিরোপা প্রতিযোগিতায় ফেদেরার খেলেছেন ৪৭টি ফাইনাল, যার মধ্যে জিতেছেন ২৭টি ও হেরেছেন ২০ বার। এটিপি ওয়ার্ল্ড ট্যুর প্রতিযোগিতায় ১০ বার ফাইনাল খেলে জিতেছেন ৬ বার ও হেরেছেন ৪ বার। মাস্টার্স ও এটিপি ছাড়াও ফেদেরার ২০১৪ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের একমাত্র ডেভিস কাপ জেতেন। সর্বমোট ফাইনাল খেলা ও শিরোপার সংখ্যার হিসেবে নাদাল ও জোকোভিচের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে ফেদেরার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566290018405.jpg
অদম্য মানসিকতা বড় শক্তি নাদালের। বারবার ইনজুরিতে পড়েও ফিরে এসে জিতেছেন শিরোপা


স্প্যানিশ কিংবদন্তি টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল টেনিস ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ (১৮টি) গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জিতেছেন। খেলোয়াড়ি জীবনে জিতেছেন ৭৬টি টেনিস শিরোপা ও হেরেছেন ৩৬টি ফাইনালে। তিনি তার ১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার মধ্যে ১২টিই জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে ক্লে কোর্টে। তাই টেনিস বিশ্বে নাদাল পরিচিত ‘ক্লে কোর্টের রাজা’ হিসেবে।

১৮টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের বিপরীতে নাদাল হেরেছেন ৭টি ফাইনালে। ফেদেরার ও জোকোভিচের চেয়ে মাস্টার্স শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে অবশ্য এগিয়ে রয়েছেন নাদাল। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি জিতেছেন সর্বমোট ৩২টি মাস্টার্স শিরোপা ও হেরেছেন আরো ১৬টি ফাইনাল। মাস্টার্স ওপেনে সাফল্যের দিক থেকে তার সমকক্ষ টেনিস খেলোয়াড় ইতিহাসে বিরল। তবে তিনি এটিপি ট্যুর প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেননি, হেরেছেন ২টি ফাইনালে। কিন্তু ৪ বার ডেভিস কাপের ফাইনাল খেলে জিতেছেন ৪ বারই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/20/1566290067509.jpg
অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বড় শক্তি জোকোভিচের


২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জেতার মধ্যদিয়ে টেনিস বিশ্বের লাইমলাইটে আত্মপ্রকাশ ঘটে জোকোভিচের। সেই থেকে এখন পর্যন্ত নোভাক জোকোভিচ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল খেলেছেন ২৩ বার। ১৫টি গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে জয়ের বিপরীতে হেরেছেন ৯টি ম্যাচে। গ্র্যান্ড স্ল্যাম ছাড়াও অন্যান্য টেনিস প্রতিযোগিতায়ও সাফল্য ধরে রেখেছেন তিনি। মাস্টার্স টেনিস ওপেনে সর্বমোট ৪৪টি ফাইনাল খেলেছেন জোকোভিচ। এর মধ্যে জিতেছেন ৩০টি ও হেরেছেন ১৪টি ম্যাচে।

এটিপি ট্যুর শিরোপা জয়ের দিক দিয়ে ফেদেরারের পরেই জোকোভিচের অবস্থান। মোট ৬ বার ফাইনাল খেলে তিনি শিরোপা জিতেছেন ৫ বার। এছাড়াও খেলোয়াড়ি জীবনের একমাত্র ডেভিস কাপ জেতেন ২০১০ সালে। শিরোপার সংখ্যা বিবেচনায় ফেদেরারের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও নাদালের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছেন ৬৯টি টেনিস শিরোপা জেতা এই সার্বিয়ান তারকা।

টেনিস বিশ্ব যখন তিন মহাতারকার নিয়ন্ত্রণে, তখন তাদের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অবশ্যই র‍্যাঙ্কিং নিয়েও আলোচনা করা জরুরি।

টেনিস ইতিহাসে সর্বাধিক সময় ধরে র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রাখা খেলোয়াড় রজার ফেদেরার। তিনি সর্বমোট ৩১০ সপ্তাহ টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর অবস্থানে ছিলেন। ফেদেরারের পরেই জোকোভিচের অবস্থান। তিনি মোট ২২৩ সপ্তাহ টেনিস র‍্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ অবস্থানে ছিলেন, যা ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। নাদাল অবশ্য ফেদেরার ও জোকোভিচ থেকে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছেন র‍্যাঙ্কিংয়ের দিক দিয়ে। প্রথম অবস্থানে ছিলেন মোট ১৮২ সপ্তাহ।

টেনিস বিশ্বের সেরা এ তিন খেলোয়াড়ের অলিম্পিকেও রয়েছে সফলতা ও ব্যর্থতা। অলিম্পিকে তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সফল নাদাল। ২০০৮ সালে বেইজিংয়ে তিনি স্বর্ণপদক জিতেছেন স্পেনের হয়ে। অন্যদিকে অলিম্পিকে ফেদেরারের রয়েছে রৌপ্যপদক ও জোকোভিচের রয়েছে একটি ব্রোঞ্জপদক।

কাজেই, টেনিসের এই তিন মহারথী যে সর্বকালের সেরা তিন টেনিস খেলোয়াড়, এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে খুব কম মানুষের। ‘সর্বকালের সেরা’ এই তিনকে একসাথে দেখতে পাচ্ছেন বলে নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান বলে ভাবতেই পারেন বর্তমান সময়ের টেনিসামোদীরা। একই সময়ে এই তিনজনকে খেলতে দেখার পাশপাশি, এদের মধ্যকার ত্রিমুখী লড়াইটাও কিন্তু কম উপভোগ্য নয়। পরিসংখ্যান বলছে, পরস্পরের মোকাবেলায় এই তিনজনের জয়-পরাজয়ের সংখ্যার ভেতরও নেই খুব একটা পার্থক্য। কে সেরা সেটা নিয়ে তাদের ভক্তদের মধ্যে নিশ্চয় চলে অন্যরকম এক লড়াই। কিন্তু, সর্বকালের সেরা টেনিস-ত্রয়ী যে এই তিনজনই, এনিয়ে লড়াই করতে মনে হয় না এগিয়ে আসবে খুব বেশি মানুষ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র