Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

হারকিউলিস জীবন মানেই অভিযাত্রা

হারকিউলিস জীবন মানেই অভিযাত্রা
হারকিউলিস
আহমেদ দীন রুমি
কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

আল্কমিনার দুই ছেলে। বরাবরের মতো পাশের ঘরে দোলনায় ঘুম পাড়িয়ে রেখে গেল। কিন্তু এইবার ঘটতে চলছিল অন্যকিছু। মাঝরাতে ছেলেদের ঘরে প্রবেশ করল দুইটা সাপ। আবছা আলোয় জেগে উঠল দুজনেই। একজন তো সাপের ফণা দেখেই চোখ বুজে চিৎকার। আর অন্যজন? সে শুধু উঠেই বসল না, দুই হাতে টিপে ধরে রইল দুটো সাপের গলা। মা ঘরে এসে বিস্ময়ে থ। জড়ো হলো পাড়ার লোক। ততক্ষণে মরে গেছে বেচারা সাপ। সেদিন থেকেই মানুষের বিশ্বাস হতে থাকে, এই শিশু সাধারণ আট দশটা শিশুর মতো না। হবে মানবজাতির শ্রেষ্ঠ বীর।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563352692243.jpg
শৈশবেই সাপের গলা চেপে ধরে ভবিষ্যৎ জানিয়ে দেয় হারকিউলিস ◢

 

শিশুটির নাম হারকিউলিস। গ্রিক বীরদের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয়। দেবতা জিউস এবং মানবী আল্কমিনার পুত্র। জিউসের নারীপ্রীতি সুপরিচিত। আল্কমিনার কাছে সে আসে তার স্বামী এমফিত্রিয়নের ছদ্মবেশে। সে যাই হোক, হারকিউলিসের জন্ম থিবিসে। বস্তুত তার জন্মগত নাম আলসিয়াস। হারকিউলিস ছিল উপাধি। যার অর্থ “দেবী হেরার মহত্ত্ব”। যেহেতু হেরার দেওয়া পরীক্ষাগুলোর ভেতর দিয়ে যাবার কারণেই তার জগৎজোড়া খ্যাতি আসে। ছেলেবেলা থেকেই গরম ছিল মাথা। একদিন তো ক্রোধের বশে আঘাতই করে বসলেন গানের শিক্ষককে। পরিণামে পটল তুললেন মাস্টার মশাই। যদিও হারকিউলিস ব্যথিত হয়েছিল, কিন্তু অভ্যাসের বদল আনতে পারেনি। বধ করল থেসপিয় সিংহ। যুদ্ধ করে পরাজিত করল মিনিয়দের।

জিউসের অবৈধ সন্তান বলে জিউসপত্নী দেবী হেরা শুরু থেকেই তার ওপর নাখোশ ছিলেন। নানা ঘটনায় পুঞ্জিভূত হচ্ছিল ক্ষোভ। এজন্য বেশ ভুগতে হয় দিনশেষে। হেরা উন্মাদে পরিণত করেন হারকিউলিসকে। এতটাই উন্মাদ যে, স্ত্রী আর তিন সন্তানকে হত্যা করে ফেলল নিজের হাতে। 

জ্ঞান ফেরার পর হারকিউলিস চেয়েছিল আত্মহত্যা করতে। হত্যা পাপের প্রায়শ্চিত্য হিসেবে। কিন্তু বন্ধু থিসিউস তাকে থামাল। সাথে করে নিয়ে গেল এথেন্স। কিন্তু দেশ বদলালেই কি আর অপরাধবোধ মুছে যায়? তাই পাপমুক্ত হবার জন্য হারকিউলিস গেল ডেলফির মন্দিরে। মহিলা পুরোহিত বাতলে দিলেন মুক্তির পথ। মাইসেনীয় রাজা ইউরেস্থিউসের ইচ্ছে পূরণ করতে হবে। হারকিউলিস রাজি হলো এবং একে একে করল বারোটি অসাধ্য কাজ। যা “টুয়েলভ্ লেবার অব হারকিউলিস” হিসেবে পরিচিত। 

প্রথম কাজ ছিল নিমিয়ার সিংহকে বধ করা। কোনো অস্ত্রে আহত না হওয়া জন্তুকে হারকিউলিস হত্যা করল শ্বাসরোধ করে। দ্বিতীয় কাজ লার্নার জলভূমিতে গিয়ে নয় মাথাওয়ালা দানব হাইড্রাকে দমন করা। কাজটা বিপজ্জনক। একটা মাথা কেটে ফেললে দুটি মাথা গজাত। শেষমেশ উপায় পাওয়া গেল। হারকিউলিস মাথা কেটে প্রতিবার ঘাড়ে জ্বলন্ত লোহা দিয়ে ঝলসে দিল, যেন আর না গজাতে পারে। সবশেষে বাকি থাকা অমর অংশটি চাপা দিয়ে রাখল বিরাট এক পাথরের নিচে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353035176.jpg
হারকিউলিসের নিমিয়ার সিংহ বধ ◢

 

তৃতীয় কাজ আর্তেমিসের পবিত্র হরিণ ধরে আনা। এক বছর সময় নিয়ে সেরেনিয়াসের বন থেকে সফল হিসেবে ফিরল হারকিউলিস। চতুর্থ কাজ এরিমেন্থাস পর্বতের গুহা থেকে বন্য শুকর বধ করা। পিছু তাড়া করে তুষারের দিকে নেওয়া হলো এবং তারপর করা হলো আটক। পঞ্চম কাজ অজিয়াসের আস্তাবল পরিষ্কার করা। দুইটা নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে দিল হারকিউলিস। নদীর পানি বানের মতো এসে সাফ করে গেল অতিকায় আস্তাবল। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353114390.jpg
হারকিউলিসের হাইড্রা দমন ◢

 

ষষ্ঠ কাজ মহামারি নিয়ে আসা স্টিমফ্যালিয়ন পাখিগুলোকে তাড়ানো। এক্ষেত্রে দেবী এথেনা তাকে সাহায্য করেন। এথেনা পাখিগুলোকে খেদিয়ে দেন বিভিন্ন ঝোঁপঝাড় থেকে। আর উড়ে যেতে থাকা পাখিকে তীরবিদ্ধ করে মাটিতে ফেলে হারকিউলিস।

সমুদ্রদেব পসাইডন একটা ষাঁড় উপহার দেন ক্রিটের রাজা মিনসকে। হারকিউলিসের সপ্তম কাজ ছিল তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা। ষাঁড়টি পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে পারত। মিনস তাকে আর রাখাতে ইচ্ছুক ছিল না। বস্তুত মিনসের স্ত্রী রাণী পাসিফেই ষাঁড়টির প্রেমে পড়ে যায় এমনকি গর্ভবতী হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রাণী মিনোটর নামে অর্ধেক মানুষ অর্ধেক ষাঁড়ের জন্মদান করেন। রাগে ক্ষোভে রাজা একটি গোলকধাঁধা ল্যাবিরিন্থ তৈরি করালেন। এই ল্যাবিরিন্থেই রচিত ডিউডেলাস এবং তার পুত্র ইকারাসের সেই পরিচিত আকাশে ওড়ার আখ্যান। যাহোক, শেষপর্যন্ত হারকিউলিস ষাঁড়টা নিয়েই ফিরে আসেন ইউরেস্থিউসের কাছে। আবার অরাজকতা তৈরি হলে থিসিয়াস ষাঁড়টা বধ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353260297.jpg
হারকিউলিস এবং ক্রিটের ষাঁড় ◢

 

অষ্টম দায়িত্ব ছিল আরো কঠিন। থ্রেসের রাজা ডায়ামিডিসের ঘোড়া নিয়ে আসা। যেনতেন না, মানুষখেকো ঘোড়া। হারকিউলিস প্রথমে ডায়োমিডিসকে হত্যা করল। তারপর নিয়ে এলো ঘোড়া।

আমাজনদের রাণী হিপ্পোলাইটির কোমরবন্ধনী আনা ছিল নবম দায়িত্ব। হারকিউলিস চেয়েছিল সদয়ভাবেই কাজটা শেষ করবে। কিন্তু জট পাকাল হেরার হস্তক্ষেপ। আমাজনরা ভেবে বসল হারকিউলিস তাদের রাণীকে অপহরণ করতে এসেছে। সুতরাং সংঘর্ষ অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠল। হারকিউলিসের হাতে নিহত হলো হিপ্পোলাইটি। কোমরবন্ধনী হাতে এলো অনেক পানি ঘোলা হলে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353381444.jpg
তারপরেও হিপ্পোলাইটার কোমরবন্ধনী নিয়ে ফেরেন হারকিউলিস ◢

 

দশম কাজ তিনদেহ বিশিষ্ট দানব গেরাইয়নের গরুগুলো নিয়ে আসা। এই যাত্রাতেই হারকিউলিস ভূমধ্যসাগরের শেষভাগে দুটি স্তম্ভ নির্মাণ করে, যা “হারকিউলিসের স্তম্ভ” নামে পরিচিত। মনে করা হয় স্তম্ভ দুটির একটি ইউরোপ অংশে আধুনিক জিব্রাল্টার এবং অন্যটি আফ্রিকা অংশে সিওটা। যাহোক, হারকিউলিসের জন্য গরু খুঁজে পেতে অসুবিধা হলো না। ফিরল বিজয়ী হিসেবেই।

এবার দায়িত্ব আসলো হেসপেবাইডিসদের সোনার আপেল আনার। একাদশতম কাজ। কিছুটা চিন্তা করে আর কিছুটা প্রমিথিউসের বুদ্ধিতে হারকিউলিস অ্যাটলাসের কাছে গেল। কারণ অ্যাটলাস ছিল হেসপেবাইডিসদের পিতা। যেহেতু অ্যাটলাস পৃথিবীর ভর বহন করছিল, হারকিউলিস প্রস্তাব করল অন্য রকমভাবে। যতক্ষণ অ্যাটলাস আপেলের জন্য বাইরে থাকবে, ততক্ষণ সে নিজে পৃথিবীর ভার বহন করবে হারকিউলিস। প্রস্তাব মনে ধরল অ্যাটলাসের।

ঘটনা পেঁচিয়ে গেল এর পরেই। অ্যাটলাস আপেল আনল ঠিকই, কিন্তু তা হারকিউলিসের হাতে দিতে অস্বীকার করল। চিরদিনের জন্য পৃথিবীর ভারবহন থেকে মুক্ত হবার লোভ আসাটা স্বাভাবিক। অ্যাটলাস গোঁ ধরেছিল, ইউরেস্থিউসের কাছে সোনার আপেল সে পৌঁছে দেবে। খুব সম্ভবত প্রথমবারের মতো হারকিউলিস শরীরের বদলে মাথাকে ব্যবহার করল এবার। অ্যাটলাসকে অল্প সময়ের জন্য ধরতে বলল কাঁধ বদলের অজুহাতে। বেচারা অ্যাটলাস যেই আবার কাঁধে নিল, হারকিউলিস সাথে সাথে আপেল নিয়ে উধাও। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353497744.jpg
হারকিউলিস এবং অ্যাটলাস ◢

 

দ্বাদশ বা শেষ কাজ পাতাল থেকে সারবেরাসকে মর্ত্যে নিয়ে আসা। সারবেরাস তিন মাথাওয়ালা পাতালের প্রহরী কুকুরের নাম। কাজটা অসম্ভব। তারপরেও হারকিউলিস যাত্রা করল। যেতে যেতে থিসিয়াসকে মুক্ত করল ‘বিস্মৃতির আসন’ থেকে। দেখা হলো বীর মিলেগারের সাথে। পাতাল দেবতা হেডেসের সাথে কথা বলে সারবেরাসকে ধরে নিয়েই ফিরল হারকিউলিস। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353601324.jpg
সারবেরাসকে জীবিত ধরে আনেন হারকিউলিস ◢

 

বারোটা অভিযানে আটকে দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে হারকিউলিসের অভিযান কখনো শেষ হয়নি। এরপরেও দানব অ্যান্টিউসের সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত করা, ষাঁড়রূপী অ্যাকিলাসকে হত্যা করা এবং প্রমিথিউসকে উদ্ধার করা তাঁর কীর্তি। এই সেই প্রমিথিউস, স্বর্গ থেকে মানুষকে আগুন চুরি করে এনে দেবার জন্য যাকে জিউসের রোষানলে পড়তে হয়েছে। হারকিউলিস আসার আগে পর্যন্ত।

কিছু খারাপ কাজও করেছিল হারকিউলিস। খাওয়ার আগে হাতে পানি ঢেলে দেবার কারণে এক বালককে ঘুষি দিল। আর তাতে মারা গেল ছেলেটি। এরচেয়ে বাজে ছিল ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে হত্যা। এইবার জিউস গেলেন রেগে। হারকিউলিসকে শাস্তি স্বরূপ লিডিয়ায় পাঠানো হলো রাণী ওমফেলের ক্রীতদাস হিসেবে। রাণী মজা করতেন তাকে নিয়ে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল যে, রাণী তাকে নারীপোশাকে সজ্জিত করে নারীসুলভ কাজ করিয়ে নিতেন। অপমানিত হারকিউলিস মুখ বুজে পালন করত। আর ইউরিটাসকে শাস্তি দেবার শপথ নিত। বলা বাহুল্য, ইউরিটাস তার সেই খুন হওয়া বন্ধুর বাবা।

মুক্তি পাবার পর প্রতীজ্ঞা অনুযায়ী হারকিউলিস সৈন্য সংগ্রহ করতে লাগলেন। তারপর দখল করলেন ইউরিটাসের নগরী। প্রাথমিকভাবে জয়ী হলেও এর পরিণাম ভালো হয়নি। বস্তুত এর মাঝেই লুক্কায়িত ছিল তার পতনের ‍গল্প। নগর পুরোপুরি ধ্বংস করার আগে হারকিউলিস প্রিয়তমা স্ত্রী ডিয়ানাইয়াকে উপহার হিসেবে পাঠাল একদল কুমারী। তাদের মধ্যে অপরূপ ‍সুন্দরী রাজকন্যা আয়োলিও ছিল। স্বামীর জন্য অপেক্ষমান ডিয়ানাইয়ার কাছে উপঢৌকন পৌঁছাল খুব দ্রুতই। কিন্তু নিয়তি চাচ্ছিল অন্যকিছু্। হয়তো এজন্যই সাথে আসা দূত ডিয়ানাইয়ার কাছে বলে গেল একটা কথা। অনেক কিছু ঘটে গেছে। হারকিউলিস রাজকন্যা আয়োলির প্রেমে বুঁদ।

ডিয়ানাইয়া কথাটা অবিশ্বাস করতে পারেনি। সাত পাঁচ ভেবে আর আয়োলির রূপ দেখে বিশ্বাস পরিণত হলো সন্দেহ। তাছাড়া সে নিজেও নারী। জানে রূপ কতটা ভয়ানক অস্ত্র হতে পারে পুরুষকে কাবু করার জন্য। রাগে ক্ষোভে জ্বলে উঠল তাই। প্রতিশোধের নেশায় দূতকে দিয়ে হারকিউলিসের জন্য পাঠাল চকচকে জামা। জামায় মাখিয়ে দিল বহুদিন থেকে জমিয়ে রাখা জাদুময় সেন্টরের রক্ত।

স্ত্রীর উপহার গায়ে জড়ানোর সাথে সাথে হারকিউলিস ককিয়ে উঠল অসহ্য ভয়ানক ব্যথায়। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে দূতকে ছুঁড়ে মারল ‍সমুদ্রে। আরো কতজনকে যে মারা পড়তে হতো তার ইয়ত্তা নাই। ‍সাধারণ মানুষ হলে অনেক আগেই মৃত্যু হতো। এদিকে সত্য চাপা থাকল না। প্রিয়তম স্বামীর যন্ত্রণাকাতর অবস্থার কথা শুনে কেঁপে উঠল ডিয়ানাইয়া। আত্মহত্যা করল আর কিছু না ভেবে। যদিও একই রাস্তা বেছে নিল হারকিউলিস।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353749509.jpg
স্বেচ্ছায় মৃত্যুর কোলে ঠাঁই নেয় হারকিউলিস ◢

 

হারকিউলিস জানত, মৃত্যু তার কাছে আসবে না। সুতরাং নিজেই ঝাঁপিয়ে পড়ল মৃত্যুর কোলে। বিশাল চিতা নির্মাণ করাল অনুসারীদের দ্বারা। তারপর আস্তে করে এগিয়ে এসে শুয়ে পড়ল চিতার ওপর। তরুণ শিষ্য ফিলোকটেটিসকে বলল আগুন লাগাতে। বিব্রত শিষ্য বিষাদমুখে গুরুর আদেশ পালন করল। আর একটু পরেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠল আগুন। এই ঘটনার পর আর হারকিউলিসকে মর্ত্যে দেখা যায়নি। তাকে ‍স্বর্গে তুলে নেওয়া হয়। দেবী হেরা এবার তাকে শুধু গ্রহণই করলেন না, নিজ কন্যা হেবের সাথে মিলিয়ে দিলেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563353865093.jpg
হারকিউলিসের মন্দির ◢

 

হারকিউলিসের আখ্যান জীবনকে অভিযাত্রার সমন্বয় হিসেবে উপস্থাপন করে। প্রত্যেক মানুষকেই প্রায় অসম্ভব ক্ষমতাধর দানবের মুখোমুখি হতে হয় জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে। হারকিউলিস যেন হার না মানা নাছোড়বান্দা মানুষকেই ধারণ করে। যেমনটা হেমিংওয়ে বলেছেন—

“A man may be destroyed, but not defeated.”

এজন্য হারকিউলিস প্রিয় হয়ে উঠেছে মানুষের মনে। প্রবেশ করেছে ‍সকল সংস্কৃতিতে। প্রবীণ সাহিত্যিক থেকে শুরু করে নবীন প্রেমিক পর্যন্ত। হারকিউলিস বেঁচে থাকবে ততদিন, যতদিন মানুষের মাঝে থাকবে টিকে থাকার সংগ্রাম। বাঁধাকে জয় করার নিরন্তর প্রচেষ্টা।

 

উৎসসমূহ
১. এডিথ হ্যামিলটন- মিথোলজি
২. এইচ এ গুয়েরবার- দ্যা মিথস্ অব গ্রিস এন্ড রোম

আপনার মতামত লিখুন :

কফি সমাচার

কফি সমাচার
বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি

কফি নামটা শুনলেই অনেকের মধ্যে চাঙ্গাভাব চলে আসে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে ভাব দূর করতে কফির বিকল্প নেই। আর এই কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি। জেগে থাকতে হলে কফি চাই এমনই নিয়ম। অনেকের যেমন দিন শুরু হয় না, তেমনি অনেকের রাতজাগাও অসম্পূর্ণ থেকে যায় কফি ছাড়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641523098.jpg
কফি মূলত একটি ফল


কফি মূলত একটি ফল। আমরা যে কফি পান করি, তা কফির বীজ বা বিন, গুঁড়ো করেই তবে তৈরি হয় কফি। ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ koffie শব্দের মাধ্যমে coffee শব্দটি ইংরেজি ভাষায় গৃহীত হয়। এই ডাচ শব্দটি আবার তুর্কি শব্দ kahve থেকে উদ্ভূত; তুর্কি শব্দটি আরবি qahwa শব্দেরই পরিবর্তিত রূপ। এই শব্দান্তরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কফির বিস্ময়কর ইতিহাস।

কফির আবিষ্কার

কফির আবিষ্কার নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গল্পটি একজন মেষ পালককে ঘিরে। নবম শতকে ইথিওপিয়ায় বাস করত খালদি নামের এক দরিদ্র মেষপালক। একদিন খেয়াল করল তার ছাগলগুলো অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশি লাফালাফি করছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখল লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছে ছাগলগুলো। ঘটনার বর্ণনাসহ কারণ জানতে ফলগুলো সে নিয়ে যায় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে। তারপর সেই ইমাম এবং তার ছাত্ররা মিলে এই ফল থেকে তৈরি করে পানীয়, যা আজ কফি হিসেবে পরিচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641883872.jpg
পাখি কফি খাচ্ছে


অন্য আরেকটি মত অনুযায়ী, কফি মূলত ইয়েমেনে আবিষ্কার হয়। সেখানে ঘোতুল আব্দুল নুরুদ্দীন আবুল আল-হাসান আল-সাদিলি নামে একজন সুফি ছিলেন। তিনি একবার ইথিওপিয়া সফর করতে গেলে একটি পাখিকে লাল রঙের একটি ফল খেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেও তা খেয়ে দেখেন। এরপর আগের সেই গল্পের মতোই তিনিও চাঙ্গা অনুভব করেন এবং আবিষ্কার হয় কফির।

বিক্রির দিক থেকে তেলের পরেই রয়েছে কফি

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে তেল। আর এরপরই যে বস্তু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তা হলো কফি। সারা পৃথিবীতে বছর জুড়ে প্রায় ৫০০ বিলিওন কাপ কফি তৈরি হয়। তবে কফিপানের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকানদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমেরিকানরা গড়ে প্রতিদিন ৪০০ মিলিওন বা ৪০ কোটি কাপ কফি পান করে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ১৪৬ বিলিওন। এরমধ্যে শুধু নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি কফি পান করা হয়।

পাপের বাহন কফি

কফি আবিষ্কারের পেছনে মুসলমানদের অবদান থাকলেও একটা সময় সৌদি কিংবা মিশরের মতো দেশে ফতোয়া জারি করে কফিপান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই পরিস্থিতি দেখা দেয় ইউরোপেও। ইতালির ভেনিসেও পৌঁছে গিয়েছিল কফি। কিন্তু এই কফি মুসলমানদের আবিষ্কার হওয়ার কারণে এবং রেড ওয়াইনের জায়গা গ্রহণ করে ফেলায় কট্টর ক্যাথলিকেরা একে শয়তানের তিক্ত আবিষ্কার বলে মন্তব্য করেন। যদিও পরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সবখানেই কফি জায়গা করে নেয় সগৌরবে।

সারা বিশ্বে প্রায় ৫০টির মতো দেশ কফি উৎপাদনের সাথে জড়িত। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে প্রায় ৫ কোটি মানুষ। আবিষ্কার অন্যত্র হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট উৎপাদিত কফির ৪০ শতাংশ আসে ব্রাজিল থেকে। বিভিন্ন দেশে ও স্থানে কফি উৎপাদিত হলেও আমেরিকার হাওয়াই-এর কফি সবচেয়ে দামি এবং সর্বোৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কফির প্রকারভেদ

পৃথিবীব্যাপী যত কফি আছে তাকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়—এরাবিকা এবং রোবুস্টা। এরাবিকাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। রোবুস্টা খুব তিতকুটে হওয়ার ফলে এর চাহিদা খুব বেশি নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642015176.jpg
এরাবিকা এবং রোবুস্টা কফির দুই জাত


তবে পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় কফি হলো এসপ্রেসো। “এসপ্রেসো” শব্দের অর্থ আক্ষরিকভাবেই “জোর করে কিছু বের করে দেওয়া!” এটি তৈরি করা হয় ফুটন্ত পানি কফির গুঁড়োর ভেতর দিয়ে চালনা করে। জেনে অবাক হবেন সাধারণ কফির তুলনায় প্রতি একক ঘনত্বে ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642084888.jpg
ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে


অন্যদিকে ডিকেইফ নামে একধরনের কফি আছে যেটাকে বলা হয় ক্যাফেইনমুক্ত কফি। এই কফি বানানোর সময় বেশি রোস্ট করা হয় বলে অনেক ক্যাফেইন উড়ে যায়।

দামি কফি

দুনিয়ার অন্যতম দামি কফি—“Kopi Luwak”—এর প্রতি আউন্স বীজের দাম ৬০০ ডলার! অবাক হলেন? এখানেই শেষ না। অবাক হওয়ার এখনো অনেক বাকি। সুমাত্রান নামে এক জাতের জংলি বিড়াল আছে যাদের এই কফির বীজগুলো খাওয়ানো হলেও হজম হয় না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642179467.jpg
দামি কফির নেপথ্য নায়ক সুমাত্রান বিড়াল ◢


ফলে আংশিক পরিবর্তিত হয়ে বেরিয়ে আসে বিষ্ঠার সাথে। বলা ভালো সুমাত্রান বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে উদ্ধারকৃত বীজগুলো থেকেই তৈরি করা হয় পৃথিবীর অন্যতম দামি কফি “Kopi Luwak”।

রোগ মুক্তি এবং আক্রান্ত হওয়ার বাহন কফি

কফি একই সাথে রোগমুক্তির এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। কাউকে মেরে ফেলেতে চাইলে তাকে একাধারে প্রায় ১০০ কাপ কফি খাওয়ালেই চলবে। আবার একই সাথে পরিমিত কফি পান হতে পারে আপনার জন্য আশীর্বাদ। এতে যেমন অবসাদ কাটে তেমনি এতে পাওয়া গেছে নারীদের স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান, আছে ডায়াবেটিস টাইপ ২ এবং বয়ঃবৃদ্ধদের আলঝেইমার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম নানান উপাদান। কফিপানে হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে উদ্যম ও উৎসাহ তৈরি করে।

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে
বিশ বছর বয়সেই ডমিঙ্গো নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা

সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় স্টিভ রোডসকে ছাঁটাইয়ের পর যখন বিসিবি নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিল, তাতে সাড়া দিয়ে অন্য সবার আগে ঢাকায় এসেছিলেন এক দক্ষিণ আফ্রিকান। সব যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪ বছর বয়সী সেই দক্ষিণ আফ্রিকানকেই নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথা—বাইশ গজে ব্যাট-বলের লড়াই ছেড়ে বিশ বছর বয়সেই যিনি নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা।

১৯৭৪ সালে পোর্ট এলিজাবেথে জন্ম নেওয়া ডমিঙ্গোর খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থেকেছে ইস্টার্ন প্রভিন্সের যুবদলের মধ্যেই। সিনিয়র দলে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ রাসেল মাত্র বাইশ বছর বয়সেই পেয়ে যান প্রথম কোচিং সনদ, আর ২৫ বছর বয়সে সেই ইস্টার্ন প্রভিন্সে ফিরে আসেন যুবদলের কোচ হিসেবে।

জাতীয় দলে কিংবা ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সুনাম কুড়ানোর ঘটনা বিরলই বটে। হিলটন অ্যাকারম্যানের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমিতে কাজ করা ডমিঙ্গো বাংলাদেশে পা রাখেন ২০০৪ সালে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেই আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করা রাসেল ডমিঙ্গো ঠিক তার পরের বছর শীর্ষ ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে প্রায় ৬ জন ক্রিকেটারের ডাক পড়ে জাতীয় দলে। ২০০৯-১০ মৌসুমে ঘরোয়া ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের সিংহাসনে বসার পাশাপাশি টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ওয়ারিয়র্স। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডমিঙ্গোর ওয়ারিয়র্স অবশ্য ফাইনালে হেরে যায় আইপিএল শিরোপাধারী চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632079923.jpg
ডমিঙ্গো বাংলাদেশে প্রথম পা রাখেন ২০০৪ সালে


জাতীয় পর্যায়ে কোচিংয়ের সুযোগ লুফে নিতে কখনো দ্বিধা করেননি। ২০১০ সালে ফের বাংলাদেশ যাত্রায় রাসেল দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। এর পরের বছর নিজভূমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ফিরতি সফরেও একই পদে বহাল থাকা ডমিঙ্গো সে বছরের জুনেই ডাক পান সিনিয়র দলের কোচিং ইউনিটে। হেড কোচ গ্যারি কারস্টেনের সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডমিঙ্গোকে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে সহকারীর তকমা ঝেড়ে ফেলেন রাসেল ডমিঙ্গো। টি-টুয়েন্টি দলের হেড কোচ হিসেবে কারস্টেনের স্থলাভিষিক্ত হন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক আগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে সময় শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট না খেলে কোনো জাতীয় দলের হেড কোচ হওয়ার কীর্তি এই ডমিঙ্গো আর একই সিরিজের কিউই কোচ মাইক হেসনের ছাড়া ছিল না আর কারোই। বেশ ভালোভাবেই সে দায়িত্ব পালন করতে থাকা ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয় ঠিক তার পরের বছরেই। ২০১৩ সালের মে মাসে সব ফরম্যাট থেকে গ্যারি কারস্টেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় পুরো জাতীয় দলের দায়িত্বই বর্তায় ডমিঙ্গোর কাঁধে।

পরে রাসেলের চুক্তির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ায় প্রোটিয়া বোর্ড। তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ করে সেমিফাইনালে পৌঁছে। ২০১৭ পর্যন্ত হেড কোচের দায়িত্ব পালন করা রাসেল ডমিঙ্গো পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে সাড়া পাননি বোর্ডের। ওটিস গিবসন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলে ডমিঙ্গো আবার ফিরে যান নিজভূমে, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ম্যাভেরিকসকে নিয়ে কাটান ব্যস্ত সময়। পাশাপাশি বহাল ছিলেন প্রোটিয়াদের ‘এ’ দলের কোচের পদে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632115903.jpg
তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছায়


আর দশজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতো অবসরের পর খেলাটিকে ভিন্ন স্তরে নিয়ে যাবার চেষ্টা নয়, বরং পুরোদস্তুর পেশাদার এক কোচ হবার লক্ষ্য অনুসরণেই নিজেকে গড়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। প্রধান কোচের ভূমিকায় সাধারণত প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাফল্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত বলে তা ডমিঙ্গোর জন্যও সবসময় ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং—“যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ে খেলবার কোনো শংসাপত্র আমার নেই, তাই নিশ্চিতভাবেই সেই মর্যাদাটা আমাকে অর্জন করে নিতে হতো। হয়তো এটা এভাবেই হবার কথা, তাই আমাকে সবচেয়ে কঠিন পথটি বেছে নিতে হয়েছিল আর হতে হয়েছিল খেলাটির এক মনোযোগী ছাত্র।”

সৌভাগ্যক্রমে ডমিঙ্গো সে লক্ষ্য অনুসরণে নিজেকে চেনান একেবারে শুরুতেই, আর ২০০০ সালের গোড়ার দিকে অংশ নেন মনোযোগী ছাত্র হবার জন্য আদর্শ এক আয়োজনের। তাঁকে কোচ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রোটিয়া বোর্ডের নেওয়া উদ্যোগে রাসেল শিক্ষানবিশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ড্রেসিংরুমে সময় কাটান বব উলমার ও গ্রাহাম ফোর্ডের সাথে। সেখানে শক্ত বন্ধন গড়েন মাত্র সাতটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে প্রায় একইরকম আড়ম্বরহীন ক্যারিয়ার কাটানো ফোর্ড ও কারস্টেনের সঙ্গে।

কোচ হিসেবে গ্রাহাম ফোর্ডকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মনে করতেন রাসেল। দারুণ জয়ের উদযাপনে বাঁধ দেওয়া কিংবা অপ্রত্যাশিত হারে বিচলিত না হবার দীক্ষা যে তাঁর থেকেই পেয়েছিলেন। যুবদল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সবসময়ই আলাদা রেখেছে অন্য যে কোনো কোচ থেকে। এমনকি ইয়োহান বোথা, রবিন পিটারসনদের মতো তারকাদের নিজ হাতে গড়েছিলেন রাসেল। নিজের অধীনে শুধু পাননি গ্রায়েম স্মিথ আর এবি ডি ভিলিয়ার্সদের।

রাসেল ডমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার খোলনালচে পাল্টে দেবার মিশনে প্রয়োগ করেছিলেন নিজের জীবন থেকে নেওয়া সব শিক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াও বিনয় ও পরিণতিবোধের সাহায্যে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, সেটি প্রমাণেই নিরলস কাজ করে গেছেন তিনি। সেই ধারায় এবার নিয়োগ পেলেন টাইগারদের হেড কোচ হিসেবে। কোচিং ইউনিটে যেখানে সাথে পাচ্ছেন নিল ম্যাকেঞ্জি, শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট, রায়ান কুকের মতো অভিজ্ঞ স্বদেশীদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632201027.jpg
আপাতত দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের কোচ হয়েছেন ডমিঙ্গো


দায়িত্ব পেলে পরের দিনই নেমে পড়বেন কাজে—রাসেলের এমন প্রতিশ্রুতিতে প্যাশনের আঁচ পেয়েছে বিসিবি। বোর্ডকে তেমন কোনো শর্তের বেড়াজালেও ফেলেননি বলেই তালিকার বাকি দুজনকে হটিয়ে রোডস-উত্তর বাংলাদেশ দলের গুরু নিযুক্ত হলেন কদিন বাদেই ৪৫-এ পা রাখতে যাওয়া সদা হাস্যোজ্জ্বল এই অভিজ্ঞ কোচ। শুধু জাতীয় দলই নয়, রাসেলের কর্মপরিকল্পনায় থাকবে ‘এ’ দল, হাইপারফরমেন্স এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। আপাতত আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করলেও ডমিঙ্গো প্রথম পরীক্ষায় বসছেন আসছে সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজটি দিয়ে।

“উপমহাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দিতে নয়, বরং এই ধারার সাথে মানিয়ে বদলে যেতে এসেছি”—রাসেল ডমিঙ্গোর এমন আশাবাদে নতুন যুগে পা রাখতে যাচ্ছে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। জীবনে বহু চরাই-উৎরাই পার করে আসা এই দক্ষিণ আফ্রিকানের নতুন মিশনে রইল শুভকামনা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র