Barta24

রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০ ভাদ্র ১৪২৬

English

নেটফ্লিক্সের আদ্যোপান্ত

নেটফ্লিক্সের আদ্যোপান্ত
সারা বিশ্বে নেটফ্লিক্স এখন পরিচিত নাম
তৌহিদ শরীফ
কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট


  • Font increase
  • Font Decrease

Today we are witnessing the birth of new global internet TV network.
-Reed Hastings
Chairman and CEO, Netflix

বিমানবন্দরে এলিজাবেথ চলে যাচ্ছে হয়তো কোনো কারণে অভিমান করে। চেক পোস্ট পেরিয়ে তার পিছু পিছু ছুটে আসতে দেখা যায় স্টিফেনকে। সে যখন এলিজাবেথের সামনে এসে দাঁড়ায় তখনই এলিজাবেথ অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবে চমকে ওঠে, আবার আত্মবিশ্বাসের সাথে বলে ওঠে—“আমি জানতাম তুমি আসবে।”
তখনই স্টিফেন বলে, “আমি আসছি একটা প্রশ্ন করতে।”
এলিজাবেথ বলে, “তুমি আমাকে যে কোনো প্রশ্ন করতে পারো।”
স্টিফেন বলে, “নেটফ্লিক্সের পাসওয়ার্ড কী বলো।”
২০১৫ সালের দিকে এরকম একটা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা বিশ্বে নেটফ্লিক্সের প্রয়োজনীয়তা, ক্রেইজ ও প্রায়োরিটি মুভি লাভারদের কাছে তুলে ধরে হয়—যা ধীরে ধীরে এখন মোটামুটি সবারই বোধগম্য।

নেটফ্লিক্স সম্পর্কে বলার আগে অনলাইন স্ট্রিমিং কী জিনিস সেটা একটু ক্লিয়ার থাকা ভালো। অনলাইন স্ট্রিমিং বলতে মূলত সে সার্ভিসকে বোঝায় যেটা ক্যাবল এবং স্যাটেলাইটের বদলে শুধুমাত্র অনলাইনে দেখার ব্যবস্থা আছে। যেখানে গ্রাহক কিছু অর্থের বিনিময়ে বা অর্থ ছাড়া সার্ভিসটি উপভোগ করতে পারে। পেমেন্টের ধরন একেক দেশে একেক রকমের হয়ে থাকে। অনলাইন স্ট্রিমিংয়ে যত ধরনের এন্টারটেইনমেইন্ট আছে যেমন ফিল্ম, ডকুমেন্টারি, টিভি শো, ওয়েবসিরিজ ইত্যাদি সব দেখতে পারবে গ্রাহক তার ইচ্ছে মতো যে কোনো সময় যে কোনো মুহূর্তে। এই সার্ভিস প্রভাইড করা হয় ক্লাউড বেইজ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563180724379.jpg
নেকফ্লিক্সের প্রতিষ্ঠাতা রিড হ্যাসটিংস ◢

 

নেটফ্লিক্সের নাম কিন্তু শুরুতে নেটফ্লিক্স ছিল না। এর নাম ছিল “কিবল”, শুরুতে তারা ডিভিডি ভাড়া দিত। কোম্পানিটি ভিডিও স্ট্রিমিং সার্ভিস শুরু করে নেটফ্লিক্স নাম জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পর থেকে।

১৯৯৭ সালের ২৯ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু করে নেটফ্লিক্স। ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের লোশ গ্যাটস শহরে নেটফ্লিক্সের সদর দপ্তর। তারা তাদের ডিভিডি রেন্টালের কাজ শুরু করে ১৪ এপ্রিল, ১৯৯৮ সালে। মাত্র ৩০ জন কর্মচারী দিয়ে কার্যক্রম শুরু করে ২০০০ সালের দিকে প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক হয়ে যায় নেটফ্লিক্সের। ১০ বছর পরে অর্থাৎ ২০০৭ সাল থেকে নিবন্ধনকৃত গ্রাহকদের জন্য ভিডিও অন ডিম্যান্ড অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে কাজ শুরু করে নেটফ্লিক্স। এই সেবা পাওয়ার জন্য গ্রাহককে নেটফ্লিক্স সাইটে ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। ওই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেই এর সেবার ফি পরিশোধ করতে হয়। নেটফ্লিক্স ছাড়া আর কারো এর থেকে আয় করার কোনো সুযোগ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563180921106.jpg
লোশ গ্যাটস শহরে নেটফ্লিক্সের সদর দপ্তর ◢

 

বর্তমানে বাংলাদেশসহ মোট ১৯০টি দেশে জনপ্রিয় অনলাইন ভিডিও স্ট্রিমিং সেবা চালু করেছে নেটফ্লিক্স। এই দেশগুলোতে নিবন্ধিত গ্রাহকেরা যে কোনো স্থান থেকে খুব সহজে টিভি শো, মুভি অথবা সিরিজ উপভোগ করতে পারছেন। মাসিক ৮ থেকে ১২ ডলার সাবস্ক্রিপশন চার্জ হলেও বাংলাদেশে এটি কম জনপ্রিয় নয় বরং বিনোদনের যে বিশাল সাম্রাজ্য আপনার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেই তুলনায় অনেকের বিবেচনায় এ খরচ কমই। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনুষ্ঠান দেখার মাঝখানে অযথা বিজ্ঞাপন হজম করতে হবে না কাউকে। চীন, উত্তর কোরিয়া, ক্রিমিয়া, সিরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে নেটফ্লিক্সের সেবা নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা যে কেউ ভাঙছে না ব্যাপারটা এরকম নয়। এগুলো ডিজিটাল দুনিয়ার দৈনন্দিন ঘটনা।

২০১৬ সালে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নেটফ্লিক্স বাংলাদেশসহ আরো বিভিন্ন দেশে তাদের বিজনেস ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে বিগত দুই বছরের অধিক সময় ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে নেটফ্লিক্স যার গ্রাহক সংখ্যা ইতোমধ্যে দুই লক্ষাধিক। এই দুই লক্ষ গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতি মাসে অন্তত ১৮ কোটি টাকা যা এক বছরের হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং আটকানোর কোনো উপায়ও নেই।

সারা বিশ্বে তাদের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১৫৮ মিলিয়ন। যার মধ্যে ৬১.৯৭ মিলিয়ন গ্রাহকের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে। ২১টি দেশে অনুষ্ঠান নির্মাণের সাথে জড়িত নেটফ্লিক্স। সারা বিশ্বে নেটফ্লিক্সের গ্রাহকরা প্রতি সেকেন্ডে বিশ্বের ১৫ ভাগ ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ নেটফ্লিক্সের জন্য ব্যবহার করে থাকে।

অনেকে মনে করেন নেটফ্লিক্সের প্রযোজিত প্রথম প্রোগ্রাম “হাউজ অব কার্ডস”, আসলে কিন্তু তা নয়, এটি তাদের প্রথম বাণিজ্যিক প্রোগ্রাম হলেও তাদের অরিজিনিয়াল প্রথম প্রোগ্রাম ছিল “এক্সাম্পল শো”। ২০১০ সালে নেটফ্লিক্স “এক্সাম্পল শো” নামে একটা প্রোগ্রাম করে। এটি তাদের প্রথম প্রযোজিত প্রোগ্রাম। এগার মিনিটের এই প্রোগ্রাম ছিল অনেকটা কমেডি ঘরানার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563181227656.jpg
নেটফ্লিক্স নির্মিত প্রথম বাণিজ্যিক প্রোগ্রাম হাউজ অব কার্ডস ◢

 

নেটফ্লিক্স কিভাবে সিনেমা হল বা টেলিভিশন বিজনেস কেড়ে নিচ্ছে? একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে নেটফ্লিক্স গ্রাহকেরা প্রতি বছরে গড়ে ৮২টি করে ফিচার ফিল্ম দেখতে পান। আর হলিওডের ওয়ারনার ব্রাদারস একই সময়সীমার মধ্যে মুক্তি দিতে পারে মোট ২৩টি সিনেমা। সবচেয়ে ব্যবসাসফল স্টুডিও হিসেবে পরিচিত ডিজনি সিনেমা হলে দেয় আরো কমসংখ্যক সিনেমা, মাত্র ১০টি।

গত বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে নেটফ্লিক্সের বিশ্বব্যাপী গ্রাহক বেড়েছে ৭৪ লক্ষ। নতুন গ্রাহকরা এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে দিচ্ছে ১২ কোটি ডলার। বিখ্যাত ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের মধ্যে নেটফ্লিক্স অনুষ্ঠান বাবদ খরচ করতে পারে বছরে ২ হাজার ২৫০ কোটি ডলার। তবে দিনে দিনে তাদের প্রোগ্রামের সংখ্যা বেশ বেড়ে যাচ্ছে তাছাড়া বাড়ছে গ্রাহক, তাতে করে চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে হচ্ছে নতুন নতুন সব প্রোগ্রাম।

তবে নেটফ্লিক্সের সুদিনের জোয়ারে দিন দিন ভাটার টানও দেখা দিচ্ছে। কারণ এতদিন ধরে খালি মাঠে গোল দিয়ে আসছিল নেটফ্লিক্স, ছিল না কোনো জোরালো প্রতিদ্বন্দ্বী। এবার মাঠে আসছে অ্যামাজন, অ্যাপল, ফেসবুক, ইউটিউব, ডিজনিসহ সব বড় বড় রথী-মহারথী ও টেক জায়ান্টরা। এরই মধ্যে নেটফ্লিক্সের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতায় পৌঁছে গিয়েছে অ্যামাজন। অন্তত যেসব জায়গায় নেটফ্লিক্স দেখা যায় সেসব জায়গায় অ্যামাজনও তার উপস্থিতি মোটামুটি নিশ্চিত করছে। অনুষ্ঠান নির্মাণের পেছনে গত বছর ৪০০ কোটি ডলার খরচ করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। হুট করে প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়ে যায় নেটফ্লিক্স। যেসব সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান নেটফ্লিক্সের জন্য ভিডিও নির্মাণ করত, তারাই এখন প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে দেখা দিয়েছে। হলিউডের কিছু স্টুডিও গ্রুপ নেটফ্লিক্স থেকে তাদের সিরিজ বা সিনেমা সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এরা যদি আরো আক্রমণাত্মক আচরণ করে তবে তা সামাল দেওয়া নেটফ্লিক্সের জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563181776622.png
নেটফ্লিক্সের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার মতো সক্ষমতায় পৌঁছে গিয়েছে অ্যামাজন ◢

 

স্বাভাবিকভাবেই এই বাজার-প্রতিযোগিতায় খুশি অনুষ্ঠান নির্মাতারা কারণ আগে যেখানে একটি মাত্র প্ল্যাটফর্ম ছিল এখন সেখানে দর কষাকষির সুযোগ রয়েছে। নেটফ্লিক্সের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে অ্যামাজন কারণ এই প্রতিষ্ঠানের বাজার মূল্য নেটফ্লিক্সের তুলনায় ৬ গুণ বেশি। ধারণা করা হচ্ছে ২০১৯ সালের মধ্যেই বাজারে নামবে টেক জায়ান্ট অ্যাপল, যা চলতি প্রতিযোগিতায় যোগ করবে অন্য মাত্রা।

এমন অবস্থায় মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে গ্রাহকদের ধরে রাখতে চাইছে নেটফ্লিক্স। একই সঙ্গে নতুন নতুন গ্রাহক টেনে আনতে এসব পুরস্কারকে ব্যবহার করতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০১৮ সালে কান উৎসবে নেটফ্লিক্সের ফিল্ম নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়। কান কর্তৃপক্ষ মনে করছে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি ছাড়া কোনো সিনেমা তারা গ্রহণ করবে না। ফলে ওই উৎসবে নেটফ্লিক্সের কোনো সিনেমা কানে যেতে পারেনি। অথচ বড় বড় পরিচালকেরা এখন নেটফ্লিক্সের অর্থায়নে ফিল্ম বানাচ্ছে। পরবর্তীতে কান কর্তৃপক্ষ নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। ফলে আলফানসো কোয়ারনের মতো ডিরেক্টদের নেটফ্লিক্সের মুক্তি দেওয়া সিনেমা “রোমা” কানে পুরস্কৃত হয় এবং অস্কারও পায়। শুধু তাই নয় মার্টিন স্করসিসের মতো ডিরেক্টররা পর্যন্ত এখন নেটফ্লিক্সে তাদের সিনেমা মুক্তি দিচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563182075208.jpg
নেটফ্লিক্সের মুক্তি দেওয়া সিনেমা “রোমা” কানে পুরস্কৃত হয় এবং অস্কারও পায় ◢

 

২০১৭ সালের এপ্রিলে নেটফ্লিক্স মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “পিঁপড়াবিদ্যা” ও “টেলিভিশন” সিনেমা দুটি কিনে নেয়। ২০১৭ সালের ১৫ মে সিনেমা দুটি প্রকাশ করে নেটফ্লিক্স। সিনেমা দুটি কিনে নেওয়ার সময় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী তার মতামত দেন এইভাবে—“শুধু প্রদর্শনই নয়, চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করছে নেটফ্লিক্স। দুনিয়াজোড়া এন্টারটেইনমেন্ট ওয়ার্ল্ডের মোঘল হয়ে উঠছে তারা। তাদের সর্বশেষ বিগ বাজেট প্রোডাকশন হচ্ছে মার্টিন স্করসেসি’র পরবর্তী ছবি এবং এবারের কান উৎসবে প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত বং জুন হো’র ‘ওকজা’! তো এই নেটফ্লিক্স ভারতের ছবি কিনছে বেশ কিছুদিন ধরে। ভারতে প্রযোজনাও করছে। আমি ভাবতাম, তারা বাংলাদেশের কনটেন্ট নেবে কবে। অবশেষে বলতে পারছি, নেটফ্লিক্স বাংলাদেশের দুইটা ছবি নিয়েছে। ছবি দুটি এই অধমের বানানো ‘টেলিভিশন’ এবং ‘পিঁপড়াবিদ্যা’।”

এই বছর নেটফ্লিক্স কিনে নেয় নূর ইমরান মিঠুর “কমলার রকেট”।

একটা মজার ঘটনা দিয়ে শেষ করতে পারি। ডিভিডি ও ভিডিও রেন্টাল সার্ভিস ব্লকবাস্টারকে ৫০ মিলিয়ন ডলারে নেটফ্লিক্স কিনে নেওয়ার অনুরোধ করেছিল কো-ফাউন্ডার রিড হ্যাসটিংস। কিন্তু ব্লকবাস্টারের কাছে এটাকে তেমন সম্ভাবনাময় মনে হয়নি। তখন আসলে সম্ভাবনাময় মনে না হওয়ারই কথা কিন্তু পরবর্তীতে এই নেটফ্লিক্স যখন ব্লকবাস্টার থেকে অনেকগুণ এগিয়ে আছে তখন ব্লকবাস্টার অনেকটাই ডুবন্ত অবস্থায়।

আপনার মতামত লিখুন :

কফি সমাচার

কফি সমাচার
বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি

কফি নামটা শুনলেই অনেকের মধ্যে চাঙ্গাভাব চলে আসে। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা কিংবা একঘেয়ে ভাব দূর করতে কফির বিকল্প নেই। আর এই কারণেই বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা বাণিজ্য শিল্প হলো কফি। জেগে থাকতে হলে কফি চাই এমনই নিয়ম। অনেকের যেমন দিন শুরু হয় না, তেমনি অনেকের রাতজাগাও অসম্পূর্ণ থেকে যায় কফি ছাড়া।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641523098.jpg
কফি মূলত একটি ফল


কফি মূলত একটি ফল। আমরা যে কফি পান করি, তা কফির বীজ বা বিন, গুঁড়ো করেই তবে তৈরি হয় কফি। ১৫৯৮ খ্রিস্টাব্দে ডাচ koffie শব্দের মাধ্যমে coffee শব্দটি ইংরেজি ভাষায় গৃহীত হয়। এই ডাচ শব্দটি আবার তুর্কি শব্দ kahve থেকে উদ্ভূত; তুর্কি শব্দটি আরবি qahwa শব্দেরই পরিবর্তিত রূপ। এই শব্দান্তরের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কফির বিস্ময়কর ইতিহাস।

কফির আবিষ্কার

কফির আবিষ্কার নিয়ে বেশ কিছু মতবাদ রয়েছে। সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গল্পটি একজন মেষ পালককে ঘিরে। নবম শতকে ইথিওপিয়ায় বাস করত খালদি নামের এক দরিদ্র মেষপালক। একদিন খেয়াল করল তার ছাগলগুলো অন্যদিনের চেয়ে আজ একটু বেশি লাফালাফি করছে। কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখল লাল জামের মতো একটি ফল খাচ্ছে ছাগলগুলো। ঘটনার বর্ণনাসহ কারণ জানতে ফলগুলো সে নিয়ে যায় মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে। তারপর সেই ইমাম এবং তার ছাত্ররা মিলে এই ফল থেকে তৈরি করে পানীয়, যা আজ কফি হিসেবে পরিচিত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566641883872.jpg
পাখি কফি খাচ্ছে


অন্য আরেকটি মত অনুযায়ী, কফি মূলত ইয়েমেনে আবিষ্কার হয়। সেখানে ঘোতুল আব্দুল নুরুদ্দীন আবুল আল-হাসান আল-সাদিলি নামে একজন সুফি ছিলেন। তিনি একবার ইথিওপিয়া সফর করতে গেলে একটি পাখিকে লাল রঙের একটি ফল খেতে দেখে কৌতূহলবশত নিজেও তা খেয়ে দেখেন। এরপর আগের সেই গল্পের মতোই তিনিও চাঙ্গা অনুভব করেন এবং আবিষ্কার হয় কফির।

বিক্রির দিক থেকে তেলের পরেই রয়েছে কফি

বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়ে থাকে তেল। আর এরপরই যে বস্তু সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় তা হলো কফি। সারা পৃথিবীতে বছর জুড়ে প্রায় ৫০০ বিলিওন কাপ কফি তৈরি হয়। তবে কফিপানের পরিমাণের দিক থেকে আমেরিকানদের ধারেকাছেও কেউ নেই। আমেরিকানরা গড়ে প্রতিদিন ৪০০ মিলিওন বা ৪০ কোটি কাপ কফি পান করে। বছর শেষে যার পরিমাণ প্রায় ১৪৬ বিলিওন। এরমধ্যে শুধু নিউইয়র্ক শহরে সারা পৃথিবীর তুলনায় প্রায় সাত গুণ বেশি কফি পান করা হয়।

পাপের বাহন কফি

কফি আবিষ্কারের পেছনে মুসলমানদের অবদান থাকলেও একটা সময় সৌদি কিংবা মিশরের মতো দেশে ফতোয়া জারি করে কফিপান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই পরিস্থিতি দেখা দেয় ইউরোপেও। ইতালির ভেনিসেও পৌঁছে গিয়েছিল কফি। কিন্তু এই কফি মুসলমানদের আবিষ্কার হওয়ার কারণে এবং রেড ওয়াইনের জায়গা গ্রহণ করে ফেলায় কট্টর ক্যাথলিকেরা একে শয়তানের তিক্ত আবিষ্কার বলে মন্তব্য করেন। যদিও পরে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সবখানেই কফি জায়গা করে নেয় সগৌরবে।

সারা বিশ্বে প্রায় ৫০টির মতো দেশ কফি উৎপাদনের সাথে জড়িত। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছে প্রায় ৫ কোটি মানুষ। আবিষ্কার অন্যত্র হলেও বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট উৎপাদিত কফির ৪০ শতাংশ আসে ব্রাজিল থেকে। বিভিন্ন দেশে ও স্থানে কফি উৎপাদিত হলেও আমেরিকার হাওয়াই-এর কফি সবচেয়ে দামি এবং সর্বোৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

কফির প্রকারভেদ

পৃথিবীব্যাপী যত কফি আছে তাকে মূলত দুইভাগে ভাগ করা যায়—এরাবিকা এবং রোবুস্টা। এরাবিকাই সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। রোবুস্টা খুব তিতকুটে হওয়ার ফলে এর চাহিদা খুব বেশি নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642015176.jpg
এরাবিকা এবং রোবুস্টা কফির দুই জাত


তবে পানীয় হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় কফি হলো এসপ্রেসো। “এসপ্রেসো” শব্দের অর্থ আক্ষরিকভাবেই “জোর করে কিছু বের করে দেওয়া!” এটি তৈরি করা হয় ফুটন্ত পানি কফির গুঁড়োর ভেতর দিয়ে চালনা করে। জেনে অবাক হবেন সাধারণ কফির তুলনায় প্রতি একক ঘনত্বে ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642084888.jpg
ক্যাফেইন প্রায় তিনগুণ বেশি থাকে এসপ্রেসো কফিতে


অন্যদিকে ডিকেইফ নামে একধরনের কফি আছে যেটাকে বলা হয় ক্যাফেইনমুক্ত কফি। এই কফি বানানোর সময় বেশি রোস্ট করা হয় বলে অনেক ক্যাফেইন উড়ে যায়।

দামি কফি

দুনিয়ার অন্যতম দামি কফি—“Kopi Luwak”—এর প্রতি আউন্স বীজের দাম ৬০০ ডলার! অবাক হলেন? এখানেই শেষ না। অবাক হওয়ার এখনো অনেক বাকি। সুমাত্রান নামে এক জাতের জংলি বিড়াল আছে যাদের এই কফির বীজগুলো খাওয়ানো হলেও হজম হয় না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566642179467.jpg
দামি কফির নেপথ্য নায়ক সুমাত্রান বিড়াল ◢


ফলে আংশিক পরিবর্তিত হয়ে বেরিয়ে আসে বিষ্ঠার সাথে। বলা ভালো সুমাত্রান বিড়ালের বিষ্ঠা থেকে উদ্ধারকৃত বীজগুলো থেকেই তৈরি করা হয় পৃথিবীর অন্যতম দামি কফি “Kopi Luwak”।

রোগ মুক্তি এবং আক্রান্ত হওয়ার বাহন কফি

কফি একই সাথে রোগমুক্তির এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারে। কাউকে মেরে ফেলেতে চাইলে তাকে একাধারে প্রায় ১০০ কাপ কফি খাওয়ালেই চলবে। আবার একই সাথে পরিমিত কফি পান হতে পারে আপনার জন্য আশীর্বাদ। এতে যেমন অবসাদ কাটে তেমনি এতে পাওয়া গেছে নারীদের স্কিন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপাদান, আছে ডায়াবেটিস টাইপ ২ এবং বয়ঃবৃদ্ধদের আলঝেইমার রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করতে সক্ষম নানান উপাদান। কফিপানে হৃদপিণ্ডের গতি বৃদ্ধি পায়। এটি শরীরে উদ্যম ও উৎসাহ তৈরি করে।

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে

জেনে নিন নতুন টাইগার-গুরু রাসেল ডমিঙ্গো সম্পর্কে
বিশ বছর বয়সেই ডমিঙ্গো নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা

সদ্য সমাপ্ত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় স্টিভ রোডসকে ছাঁটাইয়ের পর যখন বিসিবি নতুন কোচ নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিল, তাতে সাড়া দিয়ে অন্য সবার আগে ঢাকায় এসেছিলেন এক দক্ষিণ আফ্রিকান। সব যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪ বছর বয়সী সেই দক্ষিণ আফ্রিকানকেই নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। বলা হচ্ছে বাংলাদেশ দলের নতুন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর কথা—বাইশ গজে ব্যাট-বলের লড়াই ছেড়ে বিশ বছর বয়সেই যিনি নিয়েছিলেন কোচিং-দীক্ষা।

১৯৭৪ সালে পোর্ট এলিজাবেথে জন্ম নেওয়া ডমিঙ্গোর খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সীমাবদ্ধ থেকেছে ইস্টার্ন প্রভিন্সের যুবদলের মধ্যেই। সিনিয়র দলে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ রাসেল মাত্র বাইশ বছর বয়সেই পেয়ে যান প্রথম কোচিং সনদ, আর ২৫ বছর বয়সে সেই ইস্টার্ন প্রভিন্সে ফিরে আসেন যুবদলের কোচ হিসেবে।

জাতীয় দলে কিংবা ফার্স্ট-ক্লাস ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা ছাড়াই কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু থেকে সুনাম কুড়ানোর ঘটনা বিরলই বটে। হিলটন অ্যাকারম্যানের অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় একাডেমিতে কাজ করা ডমিঙ্গো বাংলাদেশে পা রাখেন ২০০৪ সালে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সেই আসরে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ হিসেবে কাজ করা রাসেল ডমিঙ্গো ঠিক তার পরের বছর শীর্ষ ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ওয়ারিয়র্সের হেড কোচ হিসেবে যোগ দেন। তাঁর হাত ধরেই পরবর্তী পাঁচ মৌসুমে প্রায় ৬ জন ক্রিকেটারের ডাক পড়ে জাতীয় দলে। ২০০৯-১০ মৌসুমে ঘরোয়া ওয়ানডে এবং টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টের সিংহাসনে বসার পাশাপাশি টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ওয়ারিয়র্স। ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ডমিঙ্গোর ওয়ারিয়র্স অবশ্য ফাইনালে হেরে যায় আইপিএল শিরোপাধারী চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632079923.jpg
ডমিঙ্গো বাংলাদেশে প্রথম পা রাখেন ২০০৪ সালে


জাতীয় পর্যায়ে কোচিংয়ের সুযোগ লুফে নিতে কখনো দ্বিধা করেননি। ২০১০ সালে ফের বাংলাদেশ যাত্রায় রাসেল দায়িত্ব পান দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের। এর পরের বছর নিজভূমে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ফিরতি সফরেও একই পদে বহাল থাকা ডমিঙ্গো সে বছরের জুনেই ডাক পান সিনিয়র দলের কোচিং ইউনিটে। হেড কোচ গ্যারি কারস্টেনের সহকারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ডমিঙ্গোকে এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে অবশেষে সহকারীর তকমা ঝেড়ে ফেলেন রাসেল ডমিঙ্গো। টি-টুয়েন্টি দলের হেড কোচ হিসেবে কারস্টেনের স্থলাভিষিক্ত হন নিউজিল্যান্ড সিরিজের ঠিক আগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সে সময় শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেট না খেলে কোনো জাতীয় দলের হেড কোচ হওয়ার কীর্তি এই ডমিঙ্গো আর একই সিরিজের কিউই কোচ মাইক হেসনের ছাড়া ছিল না আর কারোই। বেশ ভালোভাবেই সে দায়িত্ব পালন করতে থাকা ডমিঙ্গোর কোচিং ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী হয় ঠিক তার পরের বছরেই। ২০১৩ সালের মে মাসে সব ফরম্যাট থেকে গ্যারি কারস্টেনের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় পুরো জাতীয় দলের দায়িত্বই বর্তায় ডমিঙ্গোর কাঁধে।

পরে রাসেলের চুক্তির মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ায় প্রোটিয়া বোর্ড। তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা এরপর ২০১৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ করে সেমিফাইনালে পৌঁছে। ২০১৭ পর্যন্ত হেড কোচের দায়িত্ব পালন করা রাসেল ডমিঙ্গো পরবর্তীতে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে সাড়া পাননি বোর্ডের। ওটিস গিবসন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলে ডমিঙ্গো আবার ফিরে যান নিজভূমে, ঘরোয়া টি-টুয়েন্টি লিগে প্রিটোরিয়া ম্যাভেরিকসকে নিয়ে কাটান ব্যস্ত সময়। পাশাপাশি বহাল ছিলেন প্রোটিয়াদের ‘এ’ দলের কোচের পদে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632115903.jpg
তাঁর অধীনে দক্ষিণ আফ্রিকা টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে পৌঁছায়


আর দশজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতো অবসরের পর খেলাটিকে ভিন্ন স্তরে নিয়ে যাবার চেষ্টা নয়, বরং পুরোদস্তুর পেশাদার এক কোচ হবার লক্ষ্য অনুসরণেই নিজেকে গড়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো। প্রধান কোচের ভূমিকায় সাধারণত প্রাক্তন খেলোয়াড়দের সাফল্য বিশেষভাবে পরিলক্ষিত বলে তা ডমিঙ্গোর জন্যও সবসময় ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং—“যেহেতু শীর্ষ পর্যায়ে খেলবার কোনো শংসাপত্র আমার নেই, তাই নিশ্চিতভাবেই সেই মর্যাদাটা আমাকে অর্জন করে নিতে হতো। হয়তো এটা এভাবেই হবার কথা, তাই আমাকে সবচেয়ে কঠিন পথটি বেছে নিতে হয়েছিল আর হতে হয়েছিল খেলাটির এক মনোযোগী ছাত্র।”

সৌভাগ্যক্রমে ডমিঙ্গো সে লক্ষ্য অনুসরণে নিজেকে চেনান একেবারে শুরুতেই, আর ২০০০ সালের গোড়ার দিকে অংশ নেন মনোযোগী ছাত্র হবার জন্য আদর্শ এক আয়োজনের। তাঁকে কোচ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রোটিয়া বোর্ডের নেওয়া উদ্যোগে রাসেল শিক্ষানবিশ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ড্রেসিংরুমে সময় কাটান বব উলমার ও গ্রাহাম ফোর্ডের সাথে। সেখানে শক্ত বন্ধন গড়েন মাত্র সাতটি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলে প্রায় একইরকম আড়ম্বরহীন ক্যারিয়ার কাটানো ফোর্ড ও কারস্টেনের সঙ্গে।

কোচ হিসেবে গ্রাহাম ফোর্ডকে নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মনে করতেন রাসেল। দারুণ জয়ের উদযাপনে বাঁধ দেওয়া কিংবা অপ্রত্যাশিত হারে বিচলিত না হবার দীক্ষা যে তাঁর থেকেই পেয়েছিলেন। যুবদল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সবসময়ই আলাদা রেখেছে অন্য যে কোনো কোচ থেকে। এমনকি ইয়োহান বোথা, রবিন পিটারসনদের মতো তারকাদের নিজ হাতে গড়েছিলেন রাসেল। নিজের অধীনে শুধু পাননি গ্রায়েম স্মিথ আর এবি ডি ভিলিয়ার্সদের।

রাসেল ডমিঙ্গো দক্ষিণ আফ্রিকার খোলনালচে পাল্টে দেবার মিশনে প্রয়োগ করেছিলেন নিজের জীবন থেকে নেওয়া সব শিক্ষা। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়াও বিনয় ও পরিণতিবোধের সাহায্যে যে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব, সেটি প্রমাণেই নিরলস কাজ করে গেছেন তিনি। সেই ধারায় এবার নিয়োগ পেলেন টাইগারদের হেড কোচ হিসেবে। কোচিং ইউনিটে যেখানে সাথে পাচ্ছেন নিল ম্যাকেঞ্জি, শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট, রায়ান কুকের মতো অভিজ্ঞ স্বদেশীদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/24/1566632201027.jpg
আপাতত দুই বছরের চুক্তিতে বাংলাদেশের কোচ হয়েছেন ডমিঙ্গো


দায়িত্ব পেলে পরের দিনই নেমে পড়বেন কাজে—রাসেলের এমন প্রতিশ্রুতিতে প্যাশনের আঁচ পেয়েছে বিসিবি। বোর্ডকে তেমন কোনো শর্তের বেড়াজালেও ফেলেননি বলেই তালিকার বাকি দুজনকে হটিয়ে রোডস-উত্তর বাংলাদেশ দলের গুরু নিযুক্ত হলেন কদিন বাদেই ৪৫-এ পা রাখতে যাওয়া সদা হাস্যোজ্জ্বল এই অভিজ্ঞ কোচ। শুধু জাতীয় দলই নয়, রাসেলের কর্মপরিকল্পনায় থাকবে ‘এ’ দল, হাইপারফরমেন্স এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দলও। আপাতত আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করলেও ডমিঙ্গো প্রথম পরীক্ষায় বসছেন আসছে সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজটি দিয়ে।

“উপমহাদেশের ক্রিকেটকে বদলে দিতে নয়, বরং এই ধারার সাথে মানিয়ে বদলে যেতে এসেছি”—রাসেল ডমিঙ্গোর এমন আশাবাদে নতুন যুগে পা রাখতে যাচ্ছে সাকিব-তামিম-মুশফিকরা। জীবনে বহু চরাই-উৎরাই পার করে আসা এই দক্ষিণ আফ্রিকানের নতুন মিশনে রইল শুভকামনা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র