Barta24

মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ১১ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মেঘপাহাড়ের ডাক-৫

রবীন্দ্রনাথের শৈল অবকাশ শিলং

রবীন্দ্রনাথের শৈল অবকাশ শিলং
ছবি: বার্তা২৪.কম
মাহমুদ হাফিজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর


  • Font increase
  • Font Decrease

মেঘ-পাহাড়ের মায়া কাটিয়ে শৈলশহর শিলং পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা। গাড়ির ভেতর থেকেই স্ট্রিমলেট ডেখার মালবিকা নামে কারও সঙ্গে কথা বলছিলেন কখনো খাসি ভাষায়, কখনো ইংরেজিতে। বুঝলাম, আমাদেরকে এই নামের কারও সঙ্গে হয়তো পরিচিত করাবেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি পাইন-ইউক্যালিপটাস গাছ পেরিয়ে একটি চমৎকার বাংলোর তোরণ দিয়ে ঢুকতেই নিমজ্জিত হলাম পরাবাস্তবতায়। বাংলো চত্বরের আলো-আঁধারির নির্জনতায় আমাদেরর অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়িয়ে আছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। আমার গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছে, জায়গাটির নাম ব্রুকসাইড। স্ট্রিমলেট গাড়ি থেকে নেমেই অন্ধকার থেকে আলোর সামনে বেরিয়ে আসা এক নারীকে ডেকে বললেন, মালবিকা তুমি এসেছ? গাড়ি থেকে নামতেই এক ভদ্রমহিলা করজোর করে নমস্কার জানিয়ে বললেন, আমি মালবিকা, মালবিকা বিশারদ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর্ট গ্যালারি পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560310445719.jpg
বাংলোর আলো আঁধারিতে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানালেন রবীন্দ্রনাথ

 

বুঝতে বাকি রইলো না, বিশ্বকবি নির্জনতার খোঁজে তিনবার শিলংয়ের শৈল বাসের সময় যে বাংলোটিতে প্রথম থাকতেন, সেখানে চলে এসেছি।

আরও পড়ুন: মেঘপাহাড়ের ডাক (ভ্রমণগদ্য-মেঘের বাড়ি মেঘালয়-১)

রবীন্দ্রনাথ ১৯১৯,১৯২৩ এবং ১৯২৭ সালে তিনবার শিলং আসেন এবং কিছুদিন করে বসবাস করেন। কবির জনপ্রিয় উপন্যাস ‘শেষের কবিতা’র অমিত লাবণ্যের রোমান্টিকতায় শিলং বাঙ্ময় হয়ে অমর হয়ে রয়েছে। বিশ্বকবি একান্ত নির্জনতায় কিছু কাজের জন্য ১৯১৯ সালের ১১ অক্টোবর কবি রেলে চড়ে আসাম হয়ে শিলংয়ে পা রাখেন। তিনি পাইন গাছের আলো ছায়া বেষ্টিত ব্রুকসাইড বাংলাতে ওঠেন এবং একাধারে তিন সপ্তাহ কাটান। নির্জনতার হাতছানিতে কবি ১৯২৩ সালে আবার শিলং আসেন এবং রিলবঙের ‘জিতভূমি’ নামের বাড়িতে মাস দুয়েক কাটান। ১৯২৭ সালের মে মাসে কবি তৃতীয়বার শিলং আসেন। এবার তাঁর বসবাস ছিল লাইটুমুখরা আপল্যান্ড রোডের ‘সলোমন ভিলা’। পরে এই বাড়ি বিক্রয় সুবাদে বাড়ির নাম হয় সিধলি হাউজ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560310464381.jpg
আইসিসিআরয়ে চা পানের সময়

 

রবীন্দ্রনাথ ‘যোগাযোগ’ ও ‘শেষের কবিতা’য় তাঁর শৈলশহরে বসবাসকে অমর করে রেখেছেন। শেষের কবিতার নায়ক নায়িকা অমিত লাবণ্যের যে পরিচয়ের পটভূমিতে রয়েছে শিলংয়ের ব্রুকসাইড এলাকার রাস্তা।

আরও পড়ুন: মাওলিননংয়ের পথে....(মেঘপাহাড়ের ডাক-২)

‘আঁকাবাঁকা সরু রাস্তা, ডানদিকে জঙ্গলে ঢাকা খাদ। এ রাস্তার শেষ লক্ষে অমিতের বাস। যেখানে যাত্রী সম্ভাবনা নেই, তাই সে আওয়াজ না করে অসতর্কভাবে গাড়ি হাঁকিয়ে চলেছে। এমন সময় হঠাৎ একটা বাঁকের মুখে এসেই দেখল, আর একটি গাড়ি উপরে উঠে আসছে। পাশ কাটাবার জায়গা নেই। ব্রেক কষতে কষতে গিয়ে পড়ল তার উপরে...পরস্পর আঘাত লাগল, কিন্তু অপঘাত ঘটল না। একটি মেয়ে গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। দুর্লভ অবসরে অমিত তাকে দেখল। ....অমিত টুপিটা গাড়িতে খুলে রেখে তার সামনে চুপ করে এসে দাঁড়াল। অমিত মৃদুস্বরে বললে, “অপরাধ করেছি”। মেয়ে হেসে বললে, ''অপরাধ নয় ভুল। সে ভুলের শুরু আমার থেকেই''।‌‌’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560309866565.jpg
চিত্রশালায় রবীন্দ্রনাথের আঁক শিল্পকর্মের সঙ্গে

 

শেষের কবিতার এই শুরু ব্রুকসাইডের আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায়। এই উপন্যাসের প্রেম-রোমাঞ্চ ঘনীভূত হয় শিলংয়ের পটভূমিতে।

আরও পড়ুন: শৈলতলে ঝরনার কলধ্বনি-লিভিং রুট ব্রিজ (মেঘপাহাড়ের ডাক-৩)

মালবিকা বিশারদ আমাদের স্বাগত জানিয়ে রবীন্দ্র স্মৃতিবিজড়িত রুকসাইড বাংলোর ভেতরে নিয়ে গেলেন। বাড়িটি সরকারে তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে তিনটি ঘরে একটিতে একটি পুরনো আমলের খাট রাখা আছে। তবে সেটিতে বিশ্বকবি থাকতেন কিনা তার প্রমাণ নেই। দরজা দিয়ে ঢোকার পরের কক্ষ এবং ভেতরের লম্বা মতো একটি বড় কক্ষ মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছে আর্ট গ্যালারি। স্থানীয় শিল্পী ও নবীন শিল্পীদের আঁকা গোটা চল্লিশেক পেইন্টিং ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। বড়ঘরের মাঝখানে কয়েকটি সোফা পাতা। সেটি এই বাড়ি সংস্কারে সময় কেনা, কবির ব্যবহৃত নয়। পেইন্টিংয়ের মধ্যে রবীন্দ্রনাথের নিজের আঁকা প্রতিকৃতিসহ পাঁচটি ছবির কপিও প্রদর্শিত হচ্ছে। টেগর আর্ট গ্যালারি হিসাবে এটি সংরক্ষণ করছে মেঘালয় সরকার শিল্প-সংস্কৃতি অধিদফতর।

আরও পড়ুন: মেঘের সঙ্গে মিতালি (মেঘপাহাড়ের ডাক-৪)

মালবিকা বিশারদ আমাদের ঘুরিয়ে দেখানোর সময় ব্রুকসাইড বাংলো সংরক্ষণের ইতিহাস তুলে ধরছিলেন। জানালেন, অনেকদিন সংগ্রাম করে এটি সংরক্ষণ করা গেছে। এই রবীন্দ্রস্মৃতিকে পূর্ণাঙ্গ করার ক্ষেত্রে আরও বহু প্রস্তাবনা সরকারে কাছে দিয়েছেন। কলকাতার মেয়ে মালবিকা বহুদিন ধরে শিলংবাসী। ‘রবীন্দ্রনাথ এবং শৈলবাস শিলঙ’ নামে গবেষণামূলক বই লিখেছেন। শিলংয়ে রবীন্দ্র স্মৃতিকে সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছেন। বললেন, শিলংয়ে রবীন্দ্রস্মৃতিবজড়িত বহু জায়গার মধ্যে এই একটিকে মাত্র সংরক্ষণ করা গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560309888580.jpg
পুরনো আমলে কাঠের খাট-তবে বিশ্বকবি ব্যবহার করেছেন কিনা-তার প্রমাণ নেই

 

বাংলোর সামনে প্রশস্ত চত্বরে বিশ্বকবি দণ্ডায়মান। কবির আপাদমস্তক ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে ২০১১ সালের ৯ মে। গেট দিয়ে ঢুকে ডানদিকে একটু নিচে মেঘালয়ের বিধানসভা। রবীন্দ্রভক্তদের দাবি-যেহেতু শিলংয়ের অন্য রবীন্দ্রস্মৃতিগুলোকে যেহেতু সংরক্ষণ করা যায়নি, তাই বিধানসভা সরিয়ে নিয়ে ভবনটিকে বাংলোর অন্তর্ভুক্ত করে লাইব্রেরি, গবেষণাকেন্দ্র, মিলনায়তন ইত্যাদি সমবায়ে পূর্ণাঙ্গ রবীন্দ্রস্মৃতি প্রতিষ্ঠা করা। বিশ্বকবির পদস্পর্শে শিলং বা মেঘালয় সমৃদ্ধই হয়েছে। তাছাড়া হালে এ অঞ্চল পর্যটকদের অবারিত করায় বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে যে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের স্রোতে এখানকার অর্থনীতি চাঙ্গা হচ্ছে, তাতে রবীন্দ্রনাথের এই স্মৃতি এর ব্রান্ডিং ভ্যালু বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের রবীন্দ্রস্মৃতি বিজড়িত স্থান দর্শনীয় স্থান বটে।

মালবিকা কথা বলতে ভালবাসেন। শিলংয়ে রবীন্দ্রনাথকে প্রতিষ্ঠা করা, এ নিয়ে গবেষণা করা, এ নিয়ে দাবি দাওয়া তোলার ক্ষেত্রে যেসব মানুষ কাজ করছেন-মালবিকা তাদের অগ্রবর্তী। মালবিকা বলতে থাকেন, আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560309909890.jpg
ব্রুকসাইড বাংলোর প্রবেশমুখে পর্যটকদল

 

ব্রুকসাইড বাংলোর পেছনের দিকেও আরেকটি চত্বর। তিনটি কক্ষ। সেখানে আইসিসিআর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশন্স)য়ের অফিস ও লাইব্রেরী। মাঝখানের ঘরটিতে কয়েকটি সোফা পাতা। একদিকে আলমিরাতে কিছু বইপত্র, দেয়ালে আইনস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথের একটি ছবি টাঙানো। চিত্রশালা থেকে বের হতে হতে খাসি মেজবানগণ আগেই সেখানে গিয়ে বসেছিলেন। পরে আমরা যোগ দিলাম। গারো একটি ছেলে ভেতর থেকে চা বানিয়ে নিয়ে এলো। চা পানের সময় মালবিকা বিশারদ শিলংয়ে রবীন্দ্র স্মৃতিকে উদ্ধারের নানা গল্প বলছিলেন। চা পান শেষে বেরিয়ে গাড়িতে উঠলাম। চত্বরে দাঁড়িয়ে মালবিকা বিদায় জানালেন। যে রাস্তায় গাড়িতে গাড়িতে ধাক্কা লেগে বিশ্বকবির অমর নায়ক-নায়িকা অমিত- লাবণ্যের পরিচয় হয়েছিল, সেই আঁকাবাঁকা পাহাড়ি রাস্তায় আমাদের গাড়ি অন্ধকারে হারিয়ে গেল।

 

আপনার মতামত লিখুন :

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!

নারীশ্রমে বাঁচলো মৃতপ্রায় নদী!
নারীশ্রমে প্রাণ পেলো মৃত নদী, ছবি: সংগৃহীত

ভারতে সম্ভাব্য পানি সংকটের পদধ্বনিতে আশাবাদী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দেশটির নারীশক্তি। মৃতপ্রায় নদী বাঁচাতে ২০০০০ মহিলা নিরলস প্রচেষ্টা চালালেন দীর্ঘ চার বছর। নারীশ্রমে নবপ্রাণ পেয়ে বাঁচলো নদী।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য  দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের যে ভেলোর পরিচিত, সেখানে নাগানধি নদী পেলে নতুন জীবন। বহু মানুষও বেঁচে গেলেন তীব্র পানিকষ্ট থেকে।

তামিলনাড়ুর যে ২৪টি জেলা খরাপ্রবণ, তার মধ্যে অন্যতম ভেলোর। এই ভেলোরের মানুষদের কাছে বেঁচে থাকার, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পানির উৎস ছিল একমাত্র এই নাগানধি।

কিন্তু ১৫ বছর আগে এই নদীটি শুকিয়ে মৃতপ্রায় হয়ে যায়। নারীশ্রম মৃত নদীকে নবজন্ম দিয়েছে। ফলে মানুষ, প্রকৃতি ও কৃষি সম্ভাব্য ক্ষয় থেকে রক্ষা পেয়েছে।

দক্ষিণ ভারত থেকে শত মাইল দূরে ভারতের উত্তর দিকেও একই ছবি দেখা গেছে। উত্তরাখণ্ডের পউরি গাড়ওয়ালের প্রায় ১০০ জন গ্রামবাসী ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে নানা মাপের রিজ়ার্ভার তৈরি করছেন। পানির স্বল্পতার কবল থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছা শ্রম ও স্বেচ্ছা প্রণোদনায় এগিয়ে এসেছেন মানুষ। যে মানুষের মধ্যে অগ্রণী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেন গ্রামের নারীরা।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বৈজ্ঞানিক গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে বার বার জানাচ্ছে যে, ২০৩০ সাল নাগাদ ভারতের বড় বড় অনেক শহরই চরম পানি সংকটের মুখোমুখি হবে। এরই মাঝে চেন্নাই প্রভৃতি শহরে পানি স্বল্পতা ও সংকটের আঁচ পড়েছে।

আরও পড়ুন: চেন্নাইয়ে পানির তীব্র সংকট

ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও যে পানির ভয়াবহ সংকট হাতছানি দিচ্ছে, তা সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্টভাবে চিত্রিত হয় নদী উদ্ধারের এই ঘটনাগুলো থেকেই। ভেলোরের ক্ষেত্রে ২০ হাজার মহিলার ৪ বছরের প্রচেষ্টায় ১৫ বছর আগে শুকিয়ে যাওয়া নাগানধি নদীকে আবারও স্রোতস্বিনী করা প্রচেষ্টার পাশাপাশি বহু গ্রামে পানির জন্য রিজার্ভার, কুয়া, জলাধার তৈরি করছে মানুষ, যাতে প্রচুর নুড়ি পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে। 

‘নাগানধি বাঁচাও’ প্রকল্পের ডিরেক্টর চন্দ্রশেখরণ কুপ্পান বলছেন, 'কোনও নদীকে পুনরায় বাঁচিয়ে তোলার জন্য শুধু তার বহমানতার দিকে নজর দিতে হয়, তা নয়।  নদীর গভীরতাও যাতে ঠিক থাকে সেদিকেও নজর দিতে হয়।  এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানিও যাতে মাটি শুষে নিয়ে জমিয়ে রাখে সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  তাই বৃষ্টি হলে সেটা এজাতীয় নদীর ক্ষেত্রে খুব কাজে দেয়। '

উল্লেখ্য, নদীটি মৃতপ্রায় হলে ভেলোরের অর্ধেকের বেশি কৃষক পানির অভাবে গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় চলে যেতে থাকেন। কারণ তারা চাষের জন্য পানি পাননি দীর্ঘদিন। নদী নতুন জীবন পাওয়ায় বেঁচেছে জনপদ, কৃষি ও কৃষক।

ভেলোরের আগে দক্ষিণ ভারতের আরেক জায়গায় একই সংকট ঘণীভূত হয়েছিল। কর্ণাটকের বেদবতী এবং কুমুদবতী নামে দুটি নদীও সংস্কারের অভাবে মৃত্যু মুখে পতিত হয়। দুটি নদীকেই স্বেচ্ছাশ্রমে পুনরায় নাব্যতা দিয়েছিলেন স্থানীয় মানুষ, যাদের সিংহভাগ ছিলেন গ্রামীণ নারী।

পানি সংকটের সম্ভাব্য বিপদ থেকে বাঁচতে ভারতীয় গ্রামের নারীরা অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। তারা গ্রামে গ্রামে রিজার্ভার বা কুয়া বানাচ্ছেন। দক্ষিণ ভারতের কান্যায়মবাদি ব্লকের সালামানাথাম গ্রামের একজন নারী একাই প্রায় ৩৬ টা কুয়া খুঁড়েছেন।   

উত্তর ভারতেও এমন ঘটনা ঘটছে। সেখানে পউরি গাড়ওয়ালের ১৩ বছরের ছাত্রী দীপা রাওয়াত এবং তার বন্ধু স্কুল শেষে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার জন্য রিজ়ার্ভার তৈরি করতে মাটি খুঁড়ে চলে আজকাল।  সেখানকার সরকারি স্কুলগুলো প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকেই এই কাজে উৎসাহ দেয়।  বলা হয়েছে, এক একটি রিজ়ার্ভার যাতে অন্তত ২ ফুট গভীর হয় সেদিকে নজর দিতে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'শহরের পাশাপাশি গ্রামগুলোতে মানুষের সচেতন হওয়া খুব জরুরি এখনই। যাতে ভবিষ্যতের জন্য তারা পানি সঞ্চয় করে রাখতে পারেন। নইলে সমস্যা বাড়বে। কারণ গ্রামগুলো দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। জলের উৎসও কমছে। দিন দিন জল যত কমবে লোকজন চলে যাবেন এই এলাকা থেকে।  তাই গণ সচেতনতা ও অংশগ্রণ ছাড়া এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তির কোনও আশা নেই।'

ইভেন-বরিলিয়ান আউট, হিলারি-তেনজিং ইন

ইভেন-বরিলিয়ান আউট, হিলারি-তেনজিং ইন
এভারেস্ট আজ মানুষের হাতের মুঠোয়/ ছবি: সংগৃহীত

১৯৫৩ সালের মে মাসে দক্ষিণ দিক দিয়ে এভারেস্টে আরোহণের ‘সাউথ কল’-এর ২৫ হাজার ৯০০ ফুট ওপরে তৈরি হয় সামিট ক্যাম্প। এতদিন আবহাওয়া মোটামুটি খারাপ হলেও সহনীয় ছিল।

কিন্তু সামিট ক্যাম্প তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া গেল বিগড়ে। শুরু হল প্রচণ্ড তুষার ঝড়। প্রাকৃতিক বিরূপতা পাগলা মোষের মতো চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো অভিযাত্রী দলকে।

তবুও দমেনি এই দলটি। গতি কমিয়ে, থেমে থেমে এগিয়ে যেতে থাকে হিমালয়ের আরও গভীরে। পৌঁছে যায় সর্বোচ্চ শৃঙ্গের পাদদেশে। দিনটি ছিল মে ২৬। ডেপুটি লিডার ইভেন, তার সঙ্গী বরিলিয়ানকে নিয়ে অন্তিম আরোহণের জন্য চূড়ার দিকে যাত্রা শুরু করলেন। তখন আবহাওয়া ভাল-মন্দ মিশিয়ে। আরও কিছুটা কষ্ট করে সামনে এগিয়ে যেতে পারলেই এবার জয় প্রায় নিশ্চিত। এভারেস্ট হাতের মুঠোয় আসবেই। আশাবাদী হলেন দলের সবাই। ইভেন আর বরিলিয়ানকে জানালেন শুভেচ্ছা ও সমর্থন।

কিন্তু কে জানতো, শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপট থেকে সম্ভাব্য শৃঙ্গজয়ী ইভেন-বরিলিয়ান জুটি ব্যর্থ হয়ে আউট হবেন আর হিলারি-তেনজিং জুটি ইন করবেন বিজয়ীর গৌরবে।

Evarest
অদম্য অভিযাত্রী জয় করেছে হিমালয়/ ছবি: সংগৃহীত

 

প্রথম এভারেস্ট জয়ের নেপথ্যে হিমালয়ের চরম বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে লেখা হয়ে যাবে অন্য রকম ইতিহাস, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।

তখনই ভাগ্য নামক বিষয়টি সবার অলক্ষ্যে হেসেছিল, যা সবার দেখার কথা নয়। ইভেন-বরিলিয়ান জুটিও তা দেখেন নি। বরং তারা জয়ের উচ্ছ্বাস ও রোমাঞ্চে টগবগ করছিলেন।

ঠিক তখনই ঘটলো মহাবিপত্তি। অক্সিজেন সিলিন্ডার শুরু করলো ভীষণ গোলমাল। চূড়ার মাত্র তিনশো ফুট থেকে একান্ত বাধ্য হয়ে ব্যর্থ মনোরথে ফিরে এলেন ইভানরা। এছাড়া কোনও উপায়ও ছিল না। অক্সিজেন ছাড়া এতো উঁচুতে বেঁচে থাকা যায় না। শৃঙ্গ জয়ের চেয়ে জীবন রক্ষার পথই বেছে নিয়ে শৃঙ্গ জয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে পিছিয়ে এলেন ইভেন-বরিলিয়ান জুটি।

দলনেতা জন হান্ট বুদ্ধিমান। শক্ত ধাতুতে তৈরি ইংরেজ তিনি। ব্যর্থতায় আবেগতাড়িত হয়ে বসে থাকার লোক নন মোটেও। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে কালক্ষেপণ না করে তেনজিং-হিলারিকে পাঠিয়ে দিলেন শৃঙ্গ জয়ের জন্য এগিয়ে যেতে।

Evarest
এডমুন্ড হিলারি (বাঁয়ে), দলনেতা জন হান্ট (মাঝে) ও শেরপা তেনজিং / ছবি: সংগৃহীত

 

দলনেতার সিদ্ধান্ত পেয়ে দ্রুতই দ্বিতীয় গ্রুপ হিসেবে সামিট ক্যাম্প দখলে নিলেন তেনজিং-হিলারি জুটি। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ হওয়ার জন্য এই গ্রুপটিও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারলেন না।

দু’তিনদিন ক্যাম্পে বন্দী রইলেন দলবলসহ। ততক্ষণে সবার অলক্ষ্যে ইতিহাসের অংশ হওয়ার মুখোমুখি তারা।

তেনজিংয়ের মনে তখন আবার ভয়। খুব ভেঙে পড়লেন তিনি। বয়সও বেড়ে যাচ্ছে। তখনই তিনি আটত্রিশ। এরপর শরীর যে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এবারও কি হিমালয় খালি হাতে ফিরিয়ে দিবে তাকে?

হান্ট এবার আস্তিনের শেষ তাসটি ফেললেন। ২৮ মে তিনজনের একটি সহযোগী দল পাঠালেন। তারা সামিট ক্যাম্প থেকে এগিয়ে ২৭ হাজার ৯০০ ফুটে একটি তাঁবু গেড়ে নিচে বেস ক্যাম্পে ফিরে এলেন।

আরও পড়ুন: ১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র