Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

লাখ টাকার গরুর চামড়া দেড়শো টাকায় বিক্রি

লাখ টাকার গরুর চামড়া দেড়শো টাকায় বিক্রি
ছবি: সংগৃহীত
মাহফুজুল ইসলাম
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
গফরগাঁও থেকে ফিরে


  • Font increase
  • Font Decrease

লাখ টাকা দামে কেনা গরু জবাই করে মাংস ভাগাভাগি শেষে চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে অপদস্ত হয়েছেন এক বিক্রেতা। ঈদের দিন বুধবার (৫ জুন) গফরগাঁওয়ের ডাকবাংলা বাজারে সন্ধ্যায় এমন পরিস্থিতি শিকার হন বিক্রেতা রাশু।

প্রতি বছরের মতো ঈদের দিনও টাংগাব ও ভরপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকার জবাইকৃত পশুর চামড়া বিক্রির জন্য বাজারের মসজিদ মাঠে নিয়ে আসা হয়। অর্ধশতাধিক পশুর চামড়া জমা হয় মসজিদ মাঠে। সন্ধ্যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া ব্যবসায়ীরাও চামড়া কিনতে আসেন।

বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম রাশু লাখ টাকা মূল্যে কেনা ষাঁড়ের চামড়ার দাম চান ৫০০ টাকা। আর তখনই চামড়া কিনতে আসা জহরলাল, রতন ও মুন্সিসহ অন্য ক্রেতারা হাসাহাসি করে ওঠেন। তারা এমনভাবে উপহাস করেন যেন রাশু চামড়ার দাম ৫০০ টাকা চেয়ে অপরাধ করে ফেলেছেন। এ সময় মসজিদ মাঠে চামড়া নিয়ে আসা অন্য ক্রেতারাও হতাশ হন।

এরপর এলাকার ইমাম মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ব্যবসায়ীদের বলেন, ‘কত দেবেন বলে নিয়ে যান’। চামড়া ক্রেতা জহরলাল দাম বলেন মাত্র ১০০ টাকা। ‘এক লাখ টাকার গরুর চামড়ার দাম একশো টাকা! মাগনাই লইয়া যানগা’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিক্রেতা রাশু। দামাদামির পর সেই চামড়া ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে এক প্রকার বাধ্য হন রাশু।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বার্তা২৪.কম’র এই প্রতিবেদককে রাশু বলেন, ঈদের দিনের জন্য লাখ টাকা দিয়া গরু কিনছিলাম, গরুর মাংস শরিকরা সমান কইরা ভাগ কইরা নিছি। আর চামড়াটা মসজিদের লাইগা রাখছি। কিন্তু চামড়া বেচতে আইসা মানসম্মান সব গেলো! মনে হইলো—বিক্রি না কইরা পানিতে ফ্যালায় দেই। আমার নিজের হইলে তাই করতাম। মসজিদের জিনিস তাই লাখ টাকার গরুর চামড়া ১৫০ টাকায় বিক্রি করলাম।

ক্ষোভ প্রকাশ করে টাংগাব পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মতিউল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, চামড়া হচ্ছে গরিবের হক। আমি তিনটা ছাগল আর একটা গরুর চামড়া আনছিলাম। গরুর চামড়া বেচছি ৫০ টাকায় আর তিন ছাগলের চামড়া বেচছি ৩০ টাকায়। রিকশায় করে আনার খরচও উঠলো না।

একই দিন বিকেলে ভরপুর গ্রামের মো. আনিস মিয়া ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়া রিকশায় করে চামড়া এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে নিয়ে যান। রতন নামে সেই ব্যবসায়ী চামড়া দেখে আনিসের হাতে ৩০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলেন— ‘এর চেয়ে বেশি দিতে পারবো না চাচা। আপনি এলাকার মানুষ বাড়িতে আইছেন তাই দিলাম’।

আনিস মিয়া বাড়ি যাওয়ার পথে সাক্ষাৎ হয় টাংগাব গ্রামের বাগাবর মহল্লার বাদল মিয়ার সঙ্গে। বাদল দুটি খাসির চামড়া নিয়ে মুচির বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। আনিস তাকে জানান, দুই ছাগলের চামড়া দশ দশ করে ২০ টাকা দিতে পারে। এ কথা শোনার সঙ্গে সঙ্গে চামড়া দুটি খালে ফেলে দেন বাদল!

ভরপুর গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, গত কোরবানির ঈদের পর থেকে চামড়ার দর নেই। এক সময় ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনার জন্য আমাদের পেছনে ঘুরতো। এখন তাদের তেল দিতে হয়। আগামী কোরবানি ঈদেও পানির দামে চামড়া বিক্রি করতে হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

চামড়া ব্যবসায়ী জহরলাল বার্তা২৪.কমকে বলেন, চামড়া সংরক্ষণের জন্য যে লবণ দরকার হয়, চামড়া বিক্রি করলে সেই লবণের দামও ওঠে না। তাই আমরাও চামড়া কিনি না। তারপরও এলাকার মানুষ চামড়া নিয়ে আসলে কিছু টাকা দেই, সেটাও সম্পর্কের খাতিরে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্য ৮ আনার পতাকা

রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্য ৮ আনার পতাকা
সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ/ ছবি: সংগৃহীত

সদ্য প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তাঁর জন্য আট আনা (পঞ্চাশ পয়সা) খরচই তখন আমার মতো প্রাথমিকে পড়ুয়ার জন্য ছিল বেশি। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতি, সেনাবাহিনীর প্রধান। তাইতো সেদিনে তাঁকে সম্মান জানাতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলাম আট আনার জাতীয় পতাকা নিয়ে। তখন আমি প্রাথমিকের একেবারেই নতুন ছাত্র।

দিনক্ষণ মনে পড়ে না। তবে স্মৃতিতে যুতটুকু আসে তাতে ১৯৮৮ বা ১৯৮৯ সালের মাঝামাঝি সময়ের কোনো একদিন সকালে। তখন রাস্তাঘাটের তেমন উন্নতি হয়নি।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এরশাদ রংপুর যাচ্ছিলেন। তখন আরিচা থেকে ফেরি যোগে নগরবাড়ী পার হয়ে উত্তরবঙ্গে প্রবেশ করতে হতো। আগের দিন স্কুল থেকে জানানো হল- রাষ্ট্রপতি এরশাদ পাবনা হয়ে রংপুরে যাবেন। রাস্তায় দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তাঁকে সম্মান জানাতে হবে।

সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা। রাত শেষে সকাল আসল। তখন আমি পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের টেবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর (ছোট্ট ওয়ান) ছাত্র। স্কুলে যাওয়ার পরপরই সবাইকে রাস্তার পাশে নিয়ে দাঁড় করানো হলো।

এর আগে, রাষ্ট্রপতি যাবার আগের দিন আমাদেরকে ক্লাসের স্যাররা বলেছিলেন, রাস্তায় দাঁড়ানোর আগে জাতীয় পতাকা সবার হাতে থাকতে হবে। তিনি যাবার সময়ে ঐ পতাকা নাড়তে হবে।

টেবুনিয়া বাজারের সোনাই চাচার দোকান থেকে আট আনা দাম দিয়ে একটি জাতীয় পতাকা নিলাম। কিন্তু তার আগে আমাকে একটি পাটকাঠি (সোলা) নিয়ে যেতে হয়েছিল সোনাই চাচার দোকানে। তিনি দেড় হাত পাটকাঠি ভেঙে তার মাথার উপরে সবুজ কাগজ আর মাঝখানে লাল বৃত্তের মতো লাল কাগজ লাগিয়ে দিলেন আঠা দিয়ে।

আমিসহ আমার সহপাঠীরা সবাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গেলাম সকাল থেকে। স্যাররা মাঝে মধ্যেই এসে বলতেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি চলে আসবেন। তোমরা অপেক্ষা কর।

ততক্ষণে স্কুলের মাঠে বুড়ো চাচার বরফ কয়েকটি খেয়ে ফেলেছি। এক একটি বরফ ছিল ১০ পয়সা। তখন মনে হয়েছিল আট আনা দিয়ে জাতীয় পতাকা না কিনে পাঁচটি বরফ খেলেও তো হতো।

প্রচণ্ড রোদ ছিল। সে সময়ে বেলা সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হতো ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে ছেড়ে আসা নৈশকোচগুলোর বেপরোয়া যাওয়া-আসা।

রাস্তার পাশে দাঁড়ালেও তখন রাস্তা ছিল খুব সরু। বিপরীতমুখী দুটো গাড়ি পার হলে যেকোন একটি রাস্তার নিচে ধুলোয় চলে আসত। আর নৈশকোচগুলো যাবার সময়ে দিয়ে যেতো প্রচুর ধুলা।

মনে পড়ে সকাল সাড়ে ৯টায় স্যাররা আমাদের রাস্তায় দাঁড় করিয়েছিলেন। দুপুরের পর তিনি একটি কালো রংয়ের হুড খোলা জিপ নিয়ে গাড়িবহর যোগে পার হলেন ধীরগতিতে। এ সময় হুড খোলা স্থানে দাঁড়িয়ে তিনি সবাইকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাতে জানাতে চলে গেলেন টেবুনিয়া ছেড়ে।

দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা, সোনাই চাচার দোকানের জাতীয় পতাকা, বুড়ো চাচার বরফ, রাস্তার গাড়ি দেখা, ধুলা খাওয়া আর রাষ্ট্রপতি এরশাদকে স্বচক্ষে দেখা। সবই এখন ইতিহাসের মতো লাগছে। খারাপ লাগছে, সেই ব্যক্তি আজ আমাদের মাঝ থেকে চিরদিনের জন্যই না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিলেন। কিন্তু রেখে গেলেন নানা স্মৃতি। তাঁকে যখন কবরস্থ করা হচ্ছিল, গণমাধ্যমে এমন দৃশ্য চোখে পড়তেই ভেসে উঠল পুরনো সেই স্মৃতি।

বাবাকে বাঁচাতে দিনে পাঁচ বেলা খায় ছোট্ট ল্যু জিকুয়ান

বাবাকে বাঁচাতে দিনে পাঁচ বেলা খায় ছোট্ট ল্যু জিকুয়ান
ল্যু জিকুয়ান, ছবি: সংগৃহীত

লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত বাবাকে রক্ষা করতে দিনে অন্তত পাঁচ বেলা খাচ্ছে ১১ বছরের ছেলে ল্যু জিকুয়ান।

চীনের শিনচিয়াং প্রদেশের বাসিন্দা ল্যু জিকুয়ানের বাবা ল্যু ইয়ানহেংয়ের লিউকোমিয়া রোগ ধরা পড়ে সাত বছর আগে। তারপর ওষুধের মাধ্যমেই চিকিৎসা চলছিল। গত আগস্টে তার অবস্থার অবনতি হয় এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়ে। পরে চিকিৎসকরা জানান যে বোন মেরো ট্রান্সপ্লান্টই (অস্থি মজ্জা প্রতিস্থাপন) তার একমাত্র দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা। পরিবারের মধ্যে শুধুমাত্র ল্যু জিকুয়ানই পারে বাবার বোন মেরো ডোনার হতে। কারণ শুধু তার সঙ্গেই সব ম্যাচ করেছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, ল্যু জিকুয়ানের ওজন কম। গত মার্চে সে ছিল মাত্র ৩০ কেজি। বোন মেরো ডোনার হতে হলে তার ওজন অন্তত ৫০ কেজি হতে হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাই ল্যু জিকুয়ানের ওজন বাড়াতে উঠে পড়ে লেগেছে পুরো পরিবার। এরপর সে ওজন বাড়াতে দিনে অন্তত পাঁচ বেলা খেতে শুরু করেছে।

বর্তমানে (গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সাংহাই.আইএসটিতে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী) তার ওজন ৪৮ কেজি।  ওজন বাড়াতে ল্যু জিকুয়ান মূলত বেশি করে চর্বিযুক্ত মাংস ও ভাত খেয়ে থাকে। তার মা যে মুদি দোকানে কাজ করেন, সেখান থেকে তিনি ডিসকাউন্টে মাংস কিনে ছেলেকে রান্না করে খাওয়ান।

1
বাবার সঙ্গে ল্যু জিকুয়ান, ছবি: সংগৃহীত

 

ল্যু জিকুয়ানের শিক্ষক ঝাও মেং-মেং জানান, হঠাৎ ল্যু জিকুয়ান মোটা হতে থাকায়, তার কিছু সহপাঠী তাকে মোটা মোটা বলে খেপাতে শুরু করেছিল। তবে এতে মোটেই রাগ করত না ল্যু জিকুয়ান। পরে ল্যু জিকুয়ানের মোটা হওয়ার কারণ জানার পর সবাই তাকে খেপানো বন্ধ করে। ল্যু জিকুয়ানের বিদ্যালয় তার পরিবারকে সাহায্য করার জন্য তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে ল্যু জিকুয়ান জানায়, মোটা বলায় সে মোটেও রাগ করত না। কারণ তার লক্ষ- আগে বাবাকে রক্ষা করি, পরে ওজন কমাব।

এ খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কংউই উইজার্ড নামে একজন নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় ল্যু জিকুয়ানের উদ্দেশে লিখেছেন, এতো অল্প বয়সে অনেক মহৎ দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছ, তুমি অসাধারণ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র