Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পশু-পাখি-উদ্ভিদের বাজার!

পশু-পাখি-উদ্ভিদের বাজার!
পশু-পাখি-উদ্ভিদের বাজার / ছবি: সংগৃহীত
ড. মাহফুজ পারভেজ
কন্ট্রিবিউটিং এডিটর
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রামে-গঞ্জে-হাটে-বাজারে মোরগের লড়াই, পায়রার কসরত, পাখির খেলা এখন আর দেখতে পাওয়া যায় না। টিয়া পাখির ঠোঁটে ভাগ্য গণনার লোকায়ত জ্যোতিষীরাও কদাচিত আসেন পথের ধারে পসরা সাজিয়ে। বানর নাচের বিচিত্র খেলা দেখানো যাযাবর শ্রেণিটিও হাল আমলে অবলুপ্ত হয়েছে। এন্তার পশু-পাখি আজকাল বিক্রি হয় বাজারে ও নির্ধারিত মার্কেটে।

একদা ডাহুক, শালিক, ময়না, খনজনা, সারস পাওয়া যেতো সপ্তাহান্তের গ্রাম্য হাটে। প্রাচীন ঢাকাবাসীর স্মৃতিতে কাজি আলাউদ্দিন রোডের পশু হাসপাতালের সামনে কদাচিৎ বিভিন্ন পশু ও পাখ-পাখালি কেনা-বেচার ঘটনা স্মরণীয় হয়ে আছে।

ঢাকায় আনুষ্ঠানিক পশু-পাখির মার্কেট জমতে থাকে মধ্য আশির দশকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন-সূর্যসেন হলের গা ঘেঁষে কাঁটাবন-নীলক্ষেত মার্কেটে কয়েকটি দোকানে নানা জাতের পাখি, জীবজন্তু বিক্রি শুরু হয়। এখন তো সেখানকার মার্কেট ভীষণ জমজমাট।

তবে বৃহৎ বঙ্গদেশে পশুপাখির হাট প্রথমে শুরু হয়েছিল উনিশ শতকের ব্রিটিশ শাসিত ঔপনিবেশিক কলকাতায়। ইংরেজ পৃষ্ঠপোষকতায় সৃষ্ট নব্য-জমিদাররা পূর্ববঙ্গের জমিজমা থেকে আহরিত কাঁচা টাকা মৌজ-মাস্তিতে খরচ করতো কলকাতার বাগানবাড়িতে।

এইসব বাবু বাঙালিদের বিনোদন ছিল মোরগ লড়াই, বাজের যুদ্ধ, পায়রার উড়ালে টাকা-পয়সা বাজি ধরার খেলা। তখন বাবুদের কাছে সরবরাহের জন্য উত্তর কলকাতার হাতিবাগানের বিখ্যাত ‘পাখির হাট’ বসতো। পরে একসময় তা আরও বিস্তৃতি লাভ করে চলে যায় পাশের বাগবাজার সংলগ্ন গ্যালিফ স্ট্রিটে।

লোকশ্রুতিতে পাখির হাট নামে পরিচিত হলেও আসলে তা উদ্ভিদ এবং পশুরও হাট। শ্যামবাজারের পাঁচ মাথার মোড় থেকে বি.টি. রোড (ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোড) ধরে উত্তরে এগোলে টালা পোস্ট অফিস। সেখান থেকে বাগবাজার বাটার দিকে যেতে রাস্তার ডানদিকে ট্রামলাইন বরাবর বসে এই পাখির হাট। সপ্তাহান্তে ছুটির দিন রোববারের পাখির হাট নজর ও মনোযোগ কেড়ে নেয় রঙিন-বাহারি পাখির কলকাকলিতে।

ঢাকার কাঁটাবন-নীলক্ষেতের মতো স্থায়ী ঠিকানা না পেলেও কলকাতার পাখির হাট পেয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা নির্বিশেষে প্রতি রোববারে সকাল ছ’টার আগেই শুরু হয় হাট। চলে প্রায় বারো ঘণ্টা।

বি.টি. রোড থেকে গ্যালিফ স্ট্রিটে ঢুকলে প্রথমেই নজরে আসে অসংখ্য রঙিন পাখির সম্ভার। দেশি-বিদেশি, চেনা-অচেনা পাখির কিচিরমিচির কানে আসে। নানা জাতের বদ্রী, কত রকমের টিয়া, কতশত পায়রা ইত্যাদি সকলকে ছাড়িয়ে এগোলে নজরে আসবে বিভিন্ন জাতের বিদেশি কুকুরের মেলা।

উত্তর কলকাতার বেলঘড়িয়া থেকে যাতায়াতের সময় এ হাটের মাঝ দিয়ে অনেক বার আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। হাটের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখেছি কুকুর বিক্রির জায়গাটুকুতে। কে না জানে কুকুর মানুষের প্রিয় বন্ধু এবং নির্ভরযোগ্য সহচর। এখান থেকে মানুষ বিপুল অর্থ খরচ করে বিভিন্ন প্রজাতির ছোটো ছোটো কুকুরছানা বাড়ি নিয়ে যান। পরম যত্নে সন্তানস্নেহে লালন-পালন করেন পরিবারের সদস্যের মতো।

আরও এগিয়ে গেলে দেখা যায় বিভিন্ন ছোটো প্রাণি, যেমন খরগোশ, গিনিপিগ, হ্যামস্টার, সাদা ইঁদুর নিয়ে বসেছেন কিছু মানুষ। বিক্রিবাটাও ভালো থাকে এইসব জায়গায়। লোহার খাঁচা, মাছের ট্যাঙ্ক, অ্যাকোরিয়ামের গাছ-সরঞ্জাম-সামগ্রী, হাঁস-মুরগির ছানা এইসব ছাড়িয়ে এগিয়ে দেখা পাওয়া যায় মাছের জায়গা। অসংখ্য প্রজাতির নাম-না-জানা মাছের সম্ভারে ভরপুর জায়গাটি।

জনবহুল রাস্তার দু’ধারে সজ্জিত ট্যাঙ্কগুলোতে ছোটো-বড়ো-মাঝারি মাছের ওঠানামা দেখলে মনে হয় যেন পানিতে রঙের জীবন্ত খেলা চলছে। বিভিন্ন রকমের ফাইটার-গোল্ডফিশ-অস্কার-ফ্লাওয়ার হর্ণ ইত্যাদি সমস্ত মাছের স্টলগুলোতে ভিড়ও প্রচুর।

কেউ মাছ কিনছেন, কেউ জেনে নিচ্ছেন মাছের পরিচর্যার সাতকাহন। এখানেই শেষ নয়। 'মাছ হাট' শেষ হলে শুরু হয় গাছ ও উদ্ভিদের সবুজ জগত । পৃথিবীর মাটি থেকে হারাতে বসেছে যে সবুজ, তা যেন পরম যত্নে লালিত হচ্ছে। অতি যান্ত্রিক, কল্লোলিনী কলকাতা মহানগরীর বুকেও যে গাছপ্রেমী মানুষের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়, তা টের পাওয়া যায়।

ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেমন চলতি পথের ধারে সাজানো নার্সারিতে নানাপ্রকার সুগন্ধি-গন্ধহীন ফুলগাছ থেকে শুরু করে সবজি বা ফলের গাছ, অর্কিড থেকে শুরু করে ক্যাকটাস-সাকুল্যান্ট, বনসাই থেকে শুরু করে ইন্ডোর প্ল্যান্ট সমস্তরকম গাছের দেখা মেলে, কলকাতার দৃশ্যও তেমনি। পার্থক্য হলো, পশু-পাখির হাটে মাছ আর গাছ-গাছালিও এখানে চলে আসে সগৌরবে, প্রতি সপ্তাহান্তের রোববারে।

নানা বয়সের বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষ ভিড় জমান হাটে। সবাই যে কেনাকাটা করেন, তা নয়। অনেকের জটলা করে আড্ডা মারেন গাছ, মাছ, পশু, পাখি বিষয়ে। অনভিজ্ঞ বা স্বল্প অভিজ্ঞকে শিখিয়ে-বুঝিয়ে দেন পশু ও প্রকৃতি সম্পর্কে। অভিজ্ঞ গাছপালক, মাছ বা পশু-পাখি ব্যবসায়ী জানান নানা নিগূঢ় তত্ত্ব।

পাখির হাটের হৈ চৈ আর হট্টগোলের মাঝে গড়ে ওঠে নজিরবিহীন বন্ধুত্ব, সামাজিক সুসম্পর্ক, চলতে থাকে লেনদেন, ব্যবসাও। হাটেই পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরনের গাছের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি, সার, রকমারি টব, রাসায়নিক ইত্যাদি সমস্ত কিছুই।

কলকাতার সামাজিক কাঠামো ও নাগরিক সংস্কৃতির পরশে বেচা-কেনা, আলাপ-আড্ডা, প্রকৃতি, পাখি, পশু বিষয়ক ব্যবসা ও চর্চায় অবধারিতভাবে চলে আসে মাটির কাপের বিখ্যাত চা। পাওয়া যায় কাটা ফল। আশেপাশে থাকে চলমান ভ্যান ভর্তি খাবারের আয়োজন। ডাবের সুমিষ্ট পানিতে গলা ভিজিয়ে কিংবা খাবারের গুমটিতে দাঁড়িয়ে খিদে মেটানোর পাশাপাশি চলতে থাকে পশু, পাখি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক রচনার যাবতীয় উদ্যোগ।

অনেক বার জায়গা বদলালেও ‘পাখির হাট’ তার ভোল বদলে ফেলেনি। প্রাচীন কলকাতার ঐতিহ্য বহন করে এগিয়ে চলেছে বেচাকেনা, দরদাম, কখনো জমাটি আড্ডা, আবার কখনো বা চিরকালীন বন্ধুত্ব। তবে খাঁচায় বন্দি করে দূর-দুরান্ত থেকে আনা পশু, পাখি দেখলে বুকে ব্যথা জাগে। জীবিকার প্রয়োজনে বিক্রেতারা কিছু লাভের আশায় অবোধ পাখি বা পশুদের বিক্রি করে দেওয়ার দৃশ্যও হৃদয় বিদারক।

মুক্তি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে শিল্প-সাহিত্য-দর্শনে যে পশু ও পাখিদের শাশ্বত অবস্থান, সে আসন চিরস্থায়ী। তাদের খাঁচায় বন্দি দেখলে কষ্ট হওয়াই স্বাভাবিক। আশার কথা হলো, বধ করার জন্য কোনও হন্তারক নয়, পরম মমতায় লালন-পালনের জন্য মানবিক মানুষজনই তাদেরকে ঘরে নিচ্ছেন, পরিবারের একান্ত সদস্য রূপে।

আপনার মতামত লিখুন :

কেন এগিয়ে যাচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা

কেন এগিয়ে যাচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা
ক্যারিবিয়ান মাস্টার-ব্লাস্টার ব্রায়ান লারা

নান্দনিকতার বিচারে ক্রিকেট ইতিহাসে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের কদর সবসময়ই যেন একটু বেশি। তবে পরিসংখ্যান বলে, দৃষ্টিনন্দন এই ব্যাটিং স্টাইল বড় স্কোর গড়তে এবং ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে কার্যকরীও বটে।

বিগত কয়েক দশকে ব্যাট হাতে পাদপ্রদীপের আলো নিজেদের করে নিয়েছেন অসংখ্য কিংবদন্তি। ব্রায়ান লারা, কুমার সাঙ্গাকারারা দেখিয়েছেন স্টাইলিশ ও মার্জিত ব্যাটিং; পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকরী স্ট্রোক খেলার পারদর্শিতার প্রমাণ রেখেছেন ম্যাথু হেইডেন, গ্রায়েম স্মিথরা। আগ্রাসী মনোভাবে যে ব্যাটকে তরবারীর মতো ছুটিয়েছেন ক্রিস গেইল, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, সনাথ জয়সুরিয়া—সেই একই ব্যাটকে ধৈর্যের সাথে মহাপ্রাচীর বানিয়ে দারুণ সব ইনিংস উপহার দিয়েছেন শিবনারায়ণ চন্দরপল, অ্যালান বোর্ডাররা। কৌশলের এমন ভিন্নতা তাদেরকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি, তবে বর্তমানে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের দাপুটে রাজত্বের ভিতটা যে তাঁরাই গড়ে দিয়েছেন, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিহাস বলছে, বাঁহাতিদের ব্যাটিং তুলনামূলক কার্যকরী এবং রানস্কোরিং—এই দাবিটা মিথ্যে নয়। ১৯৭০ সাল থেকে পরবর্তী প্রায় প্রতিটি দশকে ধারাবাহিকভাবে সফল বাঁহাতিরা গড় হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন প্রায় দুই রানের ব্যবধানে, যা ২০০০ সালের পর হয়েছে দ্বিগুণ। চলতি দশকের শুরুতে অবশ্য সব হিসাব পাল্টে এই গড়ের খেলায় শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, কেভিন পিটারসেন, তিলকরত্নে দিলশানদের সৌজন্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডানহাতিরা, যাতে ছেদ টানেন হালের ডেভিড ওয়ার্নার, তামিম ইকবাল, শিখর ধাওয়ানদের মতন পাওয়ার হিটাররা।

এখানে যে মজার ব্যাপারটি লক্ষণীয়, তা হলো বিগত দশকগুলোতে ডানহাতি ও বাঁহাতিদের খেলা মোট ইনিংসের অনুপাত। ৭০-এর দশকে বাঁহাতিদের প্রতি ইনিংসের বিপরীতে ডানহাতিদের ইনিংস ছিল প্রায় চারটি, যেটি গত ত্রিশ বছরে হয়ে গেছে প্রায় সমান-সমান। তবে কি বাঁ-হাতের সাফল্যের ভারী পাল্লাই অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে নতুন দিনের ব্যাটসম্যানদেরকে?

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712391653.jpg
ক্রিস গেইলের ধ্বংসলীলা ◢

 

২০০০ পরবর্তী দলগত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাঁহাতিদের ভাণ্ডার অন্যান্যদের চেয়ে স্পষ্টতই সমৃদ্ধ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই সময়ের মধ্যে ক্যারিবিয়ান দলের বাঁহাতিদের গড় প্রায় ৪০, যেখানে ত্রিশেরও নিচের গড় নিয়ে দৈন্যদশা তাদের ডানহাতিদের। প্রায় একই ব্যবধান বিরাজমান বাংলাদেশের বাঁহাতি ও ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে। তামিম, ইমরুল, সৌম্য সরকারদের মতো পরীক্ষিতদের স্কোরগুলোর পাশে যোগ করুন বর্তমান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের চোখধাঁধানো ইনিংসগুলো—হিসাবটা দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার!

স্টিফেন ফ্লেমিং, মার্ক রিচার্ডসন, টম ল্যাথাম, জেসি রাইডারদের সৌজন্যে প্রায় একই চিত্র ব্ল্যাকক্যাপস নিউজিল্যান্ড দলের পরিসংখ্যানেও। ব্যতিক্রম শুধু রস টেলর—চল্লিশোর্ধ্ব গড় নিয়ে পনেরোশোর বেশি রান পাওয়া একমাত্র ডানহাতি কিউই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712458522.jpg
বাঁ-হাতের জাদুকর সাকিব আল হাসানের আইডল বাঁ-পায়ে সেরাদের সেরা লিওনেল মেসি ◢

 

ঠিক উল্টো চিত্র এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত ও পাকিস্তান দলে, যেখানে আধিপত্য রয়েছে ডানহাতিদেরই। পাকিস্তান লাইনআপের ত্রিরত্ন—ইনজামাম-উল-হক, ইউনিস খান এবং মোহাম্মদ ইউসুফ সবসময়ই এগিয়ে ছিলেন বাকিদের থেকে। পরবর্তী সময় শহীদ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ হাফিজ, আহমেদ শেহজাদদের মতো অভিজ্ঞরা ডানহাতিদের রানের পাল্লা করেছেন আরো ভারী। সাম্প্রতিক সময়ের তারকা ব্যাটসম্যান ফখর জামান, ইমাম-উল-হকদের বাঁ-হাতের জাদু যেন দিনবদলের বিজ্ঞাপন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712529262.jpg
পাকিস্তানের একমাত্র ওয়ানডে ডবল সেঞ্চুরিয়ান ফখর জামান ◢

 

আর ভারতের ‘ব্যাটিং ঈশ্বর’ টেন্ডুলকার থেকে শুরু করে রাহুল দ্রাবিড়, বীরেন্দর শেবাগ, ভিভিএস লক্ষ্মণ কিংবা বর্তমানের সেরাদের সেরা বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা—সব ডানহাতি জায়ান্টরা বছরের পর বছর গড়েছেন রানের পাহাড়। ৫০+ গড়ের সামনে বাঁহাতিরা বেশ ব্যাকফুটেই রয়েছেন। তবে সৌরভ গাঙ্গুলি, গৌতম গম্ভীর, যুবরাজ সিংদের মতো দুর্ধর্ষ বাঁহাতিদের গৌরবের ঝাণ্ডা উঁচিয়ে ধরে এগিয়ে চলেছেন হালের শিখর ধাওয়ান।

যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডভিত্তিক সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ক্রিকেটার ব্যাটিং করেন ‘ভুল’ পদ্ধতিতে—অর্থাৎ যাদের মূলশক্তির হাতটি থাকে হ্যান্ডেলের উপরিভাগে—তাদের সফলতার হার অন্যদের থেকে বহুগুণে বেশি। এ তালিকায় রয়েছে ব্রায়ান লারা, মাইক হাসি, অ্যালিস্টার কুক, ডেভিড ওয়ার্নার, ক্রিস গেইলের মতো তারকাদের নাম, যাদের ডান বাহুটিই মূল শক্তির উৎস হলেও ব্যাটিং স্টাইলে বাঁহাতি। উল্টোটা ঘটেছে বামের শক্তিতে বলিয়ান মাইকেল ক্লার্ক, অ্যারন ফিঞ্চদের ক্ষেত্রে।

প্রশ্ন হচ্ছে, বাঁহাতিদের এই স্বাচ্ছন্দ্য বিচরণের রহস্য কী? অন্তর্নিহিত কোনো বৈশিষ্ট্যের জন্যই কি সফলতা লুটাচ্ছে তাদের ব্যাটে? ক্রিকেটের বেশিরভাগ নিয়মকানুন কি তাদের অনুকূলেই যাচ্ছে? নাকি ডানহাতিদের বিপক্ষে বোলিংয়ে অভ্যস্ততাই সৃষ্টি করেছে আজকের এই অবস্থা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712581984.jpg
মারকুটে বাঁহাতি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ◢

 

রহস্যের উত্তর হতে পারে এই তিন কারণের সংমিশ্রণও। ক্রীড়াবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ব্যাটিংয়ের সময় বাঁহাতিদের মস্তিষ্কের বামপাশের প্রবাহে ডান অংশের দখল তাদের স্থানিক সচেতনতা এবং প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও বাঁহাতিদের ক্ষেত্রে লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচ হওয়া বলগুলো এলবিডব্লু উইকেটের বিপরীতে অসামঞ্জস্যতার বেনিফিট প্রদান করে। পাশাপাশি বাঁহাতিদের ব্যাটিং স্ট্যান্স ব্যাহত করে ফাস্ট বোলারদের স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্য।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563712641218.jpg
রিভার্স সুইপ খেলছেন অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ◢

 

তবে দলীয় সাফল্য অর্জনে ডান-বাম কম্বিনেশনের ব্যাটিং লাইনআপ কিন্তু দারুণ কার্যকরী। এতে বিপক্ষ দলের অধিনায়ক বল বাই বল ফিল্ড সেটিং পরিবর্তনে পড়েন বিপাকে, যার সবটুকু সুবিধা যায় ব্যাটসম্যানদের ঝুলিতে।

পরিশেষে বলা যায় অনুকুল পরিস্থিতির সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়ে নান্দনিক ও উদ্ভাবনী শট খেলতে পারার দুর্দান্ত সব সুযোগই বাড়াচ্ছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের সংখ্যা এবং সফলতার হার।

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ

৫০ বছর আগের এই দিনে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ
ছবি: সংগৃহীত

আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে চাঁদে পা রেখেছিল মানুষ। আমেরিকার মহাকাশচারী নিল আর্মস্ট্রং ও বুজ অ্যালড্রিন প্রথম মানুষ, যারা এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।

চাঁদের পৃষ্ঠে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রং। এরপর বুজ অ্যালড্রিল। তাদের সঙ্গী ছিলেন মাইকেল কলিন্স। তবে তিনি চাঁদের পৃষ্ঠে না নেমে নভোযানে অবস্থান করেন।

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই ‘ঈগল’ নামক এক চন্দ্রতরীতে করে তারা প্রথম চাঁদে অবতরণ করেন। নিল আর্মস্ট্রং চাঁদের পৃষ্ঠে অবতরণ করে বলেছিলেন, "That's one small step for man, one giant leap for mankind." (মানুষের ক্ষুদ্র এই পদক্ষেপটি মানব সভ্যতাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গেল।)

Moon

চাঁদে মানুষ পাঠানো নিয়ে আমেরিকা ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ছিল মর্যাদার লড়াই। ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক নামক কৃত্রিম উপগ্রহ প্রথম মহাকাশে পাঠায় রাশিয়া। এতে চন্দ্র জয়ের দৌড়ে এগিয়ে যায় দেশটি।

এরপর ১৯৬৬ সালে রাশিয়ার লুনা-৯ নামক উপগ্রহ চাঁদে সফট ল্যান্ডিং করে। এর দুইমাস পর লুনা-১০ নামক আরেকটি উপগ্রহ চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে স্থাপন করে রাশিয়া। তারা চন্দ্রজয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও মানুষ পাঠানোর মতো প্রযুক্তি তখনও তারা অর্জন করতে পারেনি। এছাড়া অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কারণে তাদের মহাকাশ অভিযান বাধাপ্রাপ্ত হয়।

Moon

এরমধ্যে ১৯৬৮ সালে মহাকাশ গবেষণায় বড় সাফল্য অর্জন করে যুক্তরাষ্ট্র। তারা মহাকাশে অ্যাপোলো-৮ নামে মানুষ বহানকারী একটি যান মহাকাশে পাঠায়। সেটি চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রদক্ষিণ করে নিরাপদে ফিরে আসে।

তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই মহাকাশযান অ্যাপোলো-১১ তে চড়ে চাঁদে প্রথম অবতরণ করেন নিল আর্মস্ট্রংরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র