Alexa

রূপকারের বুননে ‘বার্তা২৪.কম’

রূপকারের বুননে ‘বার্তা২৪.কম’

ছবি: বার্তা২৪

বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার জগতে প্রধান সম্পাদক হিসেবে আলমগীর হোসেন একজন পরীক্ষিত উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। আমি তখন দৈনিক ‘সমকাল’ পত্রিকার তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কাজ করি। হঠাৎই একদিন উপসম্পাদক হিসেবে যোগ দিলেন আলমগীর হোসেন।

আমি যেহেতু ফিচার বিভাগে কাজ করতাম সে সুবাদে নিয়মিত সাপ্তাহিক সভায় উপস্থিত থাকতে হতো। মূলত ওখানেই রুদ্ধদার বৈঠকিতে আলমগীর ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। আমি সেই সময় একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। সে কথা থাক।

বয়সে তারুণ্য থাকার কারণেই হয়তো ওরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু একেবারেই অচেনা কেউ শুধু স্নেহের পরশে এভাবে রাতারাতি ওই সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন তা আমার সত্যিই আজও বোধগম্য হয়নি। যার কারণ একেবারেই অজানা। শেষ অবধি আলমগীর ভাইয়ের ইচ্ছার কাছেই পরাজয় মেনে নিয়েছিলাম। তবে এই হেরে যাওয়া আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। মানিয়ে নেওয়া, মেনে নেওয়া এসব এক কঠিন পরীক্ষা রপ্ত করতে পেরেছিলাম।

সমকাল অনলাইন বিভাগকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিলেন তিনি। দায়িত্ব দিলেন আমাকে পরিকল্পনা করার জন্য। এরপর নিয়মিত সভায় আলমগীর ভাই আমাকে বিভিন্ন ধরনের ইনপুট দিতেন। আমি তা নানাভাবে টুকে রাখতাম। সময় এলে সব গুছিয়ে উপস্থাপন করতাম।

আলমগীর ভাইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য উনি বয়সের ব্যবধানকে একেবারে বুঝতেই দেন না। আমি যখন ওনার সঙ্গে কাজ নিয়ে বসতাম বুঝতেই পারতাম না উনি আমার বাবার বয়সী একজন মানুষ। কথায় কথায় খুনসুটি করা ওনার একটা কৌশল। খুনসুটির মধ্যেই কখনো ভুল ধরিয়ে দিতেন। কখনো বা কাজের প্রশংসা করতেন।

সহজে হাল ছাড়ার ব্যক্তি ছিলেন না তিনি। খুব সকালে উঠে কাজ করা তার চিরদিনের অভ্যাস। আমি ঠিক উল্টো। অনেকটা বিপরীতমুখী হওয়ায় আমাকে অবশ্য মাঝেমধ্যে কিছু প্রশংসা (বকা) বাণী শুনতে হতো। নিয়মিত আড্ডায় কফি অফার করতেন। সে অড্ডা থেকেই সারাদিনের মিডিয়ার কথা আলাপ হয়ে যেত। বলতে দ্বিধা নেই, সম্পাদক আর একেবারেই বয়সে তরুণ কোনো কর্মীর মধ্যে এমন আলাপচারিতা অনেকের কাছেই খটকা লাগত। তবে সত্যিটা হচ্ছে, আলাপ হতো দেশি-বিদেশি মিডিয়ার সবকিছু নিয়েই। বিশেষ গুরুত্ব পেত তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) আর টেলিযোগাযোগ। দূরদৃষ্টি না থাকলে প্রতিদিনের মিডিয়ায় প্রতিনিধিত্ব করা সত্যিই অসাধ্য। এ কৌশলটা আলমগীর ভাইয়ের কাছেই শেখা।

অনেকটা হুট করেই একদিন সমকাল ছেড়ে গেলেন আলমগীর ভাই। অবশ্য তার আগে তিনি সমকালের ‘নির্বাহী সম্পাদক’ হয়েছিলেন। সমকাল ছাড়লেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। প্রতিনিয়তই আইডিয়া শেয়ার হতো। নতুন কিছু করার প্রচণ্ড আগ্রহ তখন। সুযোগ আর সঠিক সময়ের অপেক্ষা চলছিল। অবশেষে (২৭ জানুয়ারি, ২০১০) সে সুযোগ এল। নতুন একটি অনলাইন করার জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ তাকে প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব দিলেন। আমার আবারও সুযোগ হলো তাঁর সঙ্গে থেকে শুরু থেকে কাজ করার। ওই সময় পরিকল্পিতভাবেই ‘বাংলানিউজ’ যাত্রা শুরু করে। চারদিকে আলোড়ন সৃষ্টি করেই (১ জুলাই, ২০১০) আত্মপ্রকাশ করে ২৪ ঘণ্টার অনলাইন পোর্টাল বাংলানিউজ।

তবে যাত্রার সূচনায় কোনো জাকজমকপূর্ণতা করেনি বাংলানিউজ। অনেকটা নীরবেই পথচলার শুরু। কিন্তু প্রতিদিনই বাংলানিউজ নিজেকে ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। ওই সময় তারুণ্যনির্ভর সাংবাদিকতার অনন্য উদাহরণ তৈরি করে বাংলানিউজ। করপোরেট ব্র্যান্ডগুলো তাদের যেকোনো আয়োজনের খবর বাংলানিউজে প্রকাশের অপেক্ষায় থাকত। একেবারে শূন্য থেকে সফলতার শীর্ষে চলে আসে বাংলানিউজ। অ্যালেক্সা র‌্যাংকিংয়ে ‘প্রথম আলো’কে ছাড়িয়ে শীর্ষে এসে নিজের দাপুটে উপস্থিতির জানান দেয়।

ভালো কোনো কিছুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে আলমগীর ভাই কখনোই খুব বেশি সময় নেন না। এটা অনলাইন সাংবাদিকতার জন্য বড় একটি বৈশিষ্ট্য। কারণ অনলাইন সাংবাদিকতায় খুবই দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

বাংলাদেশে অনলাইন সাংবাদিকতার রূপকার আলমগীর হোসেন এখন দিনরাত নেতৃত্ব দিচ্ছেন ‘বার্তা২৪.কম’। পরিসর সমৃদ্ধ হচ্ছে। বাড়ছে পরিবারের সদস্য।

ইতিমধ্যে এক পেরিয়ে মানে জন্মের কঠিনতম প্রথম বছর পার করে এসেছে বার্তা২৪.কম। গত ১৮ মে বার্তা২৪.কম ঢাকাস্থ গুলশান অফিসে তার প্রথম জন্মদিন উদযাপন করেছে। অপেক্ষাকৃত তরুণেরাই কাজ করছে এখানে।

উল্লেখ্য, বাংলানিউজের এক সময়ের তরুণ সাংবাদিকেরাই এখন দেশের বিভিন্ন অনলাইনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছে। অর্থাৎ আলমগীর হোসেন উদীয়মান সাংবাদিক তৈরি করেন। কে কোন বিষয়ে মেধাবী বা আগ্রহী তা খুঁজে বের করে তাকে সেই দায়িত্ব দেন।

ইতিমধ্যে দেশের গণমাধ্যমে ‘বার্তা২৪.কম’ নিজের অবস্থান সুস্পষ্ট করেছে। আর নতুন কিছুর প্রত্যয়ে প্রতিদিনই এগিয়ে চলেছে। সংবাদে ইনফোগ্রাফিক্স উপস্থাপন করে পাঠকদের আকৃষ্ট করার কাজটি করা হচ্ছে সযত্নে।

‘নিউ মিডিয়া’র মাল্টিমিডিয়াকেন্দ্রিক যে সাংবাদিকতার কথা আজ থেকে ১০ বছর আগে তিনি ভেবেছিলেন সেটাই আজ জনপ্রিয় ও বাস্তব। শুধু জনপ্রিয় নয়, এটি ব্যবসা সফল মিডিয়াও। সারা দেশজুড়ে অনেক অনলাইন মিডিয়া এসেছে আবার তা গুটিয়েও গেছে। কিন্তু গোছানো আর সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে অনলাইন মিডিয়ায় ব্যবসা সফল হয়ে টিকে থাকা সম্ভব। স্যোশাল মিডিয়ার কল্যাণে সাংবাদিকতার ধরন এখন অনেকটাই বদলে গেছে। সংবাদ হয়ে উঠছে সংক্ষিপ্ত তথ্য।

সংবাদ এখন ‘টু ওয়ে’ ইন্টারঅ্যাকটিভ মিডিয়া অর্থাৎ প্রতিটি সংবাদে পাঠক তার মন্তব্য দিয়ে সরাসরি অংশগ্রহণ করছে। এতে সাংবাদিকদের অনেকটাই চাপে থাকতে হয়। সামান্য কোনো ভুলেও পাঠক কঠিন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।

নতুনত্বের এবারের যাত্রায় ‘বার্তা২৪.কম’ সাফল্য অর্জন করুক, হয়ে উঠুক সারা বিশ্বের কোটি বাঙালির জনপ্রিয় আর অন্যতম সংবাদমাধ্যম। ‘বাংলা, বাঙালির সংবাদ সারথি’ হয়ে বিরামহীনভাবে নিরন্তন এগিয়ে যাক অপ্রতিরোধ্য বার্তা২৪.কম। শুভকামনা...

আপনার মতামত লিখুন :