Alexa

প্রথম দর্শন, অতঃপর কিছু কথা

প্রথম দর্শন, অতঃপর কিছু কথা

বার্তা২৪.কম-এর এডিটর ইন চিফের সঙ্গে পাবনা জেলা করেসপন্ডেন্ট আরিফ সিদ্দিকী, ছবি: বার্তা২৪.কম

আর কদিন বাদেই সংবাদ শ্রমিক হিসেবে দু’দশক পূর্ণ হবে আমার। তবে এই শিল্প ও বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাঝে মাঝে সংবাদ শ্রমিকের পরিচয় ঝেড়ে ফেলতে ইচ্ছা করে, কিন্তু পারি না। চোখ বন্ধ করলেই ভাসতে থাকে আমার অভিভাবক, দীক্ষাগুরু ও জন্মদাতা পিতার মুখ। একজন আদর্শ বাবা হিসেবে সাধ্যের মধ্যে তিনি সন্তানদের গড়ে তুলেছেন। তার ইচ্ছাতেই আমার বাংলা সাহিত্যে পড়ালেখা ও সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি। তবে সাংবাদিকতায় আমি হাতে কলমে দীক্ষা নিয়েছি আমার বড় ভাইয়ের কাছে।

সংবাদ শ্রমিক হিসেবে ইতোমধ্যে কয়েকটি গণমাধ্যমে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে। গতানুগতিক শাসন, ভালোলাগা, ভালোবাসা জুটেছে সংশ্লিষ্ট হাউজগুলো থেকে। তবে এ দীর্ঘ পথচলায় একজনের নাম শুনলেও তার সাথে কাজ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। যিনি স্বনামেই পরিচিত, আলোচিত, আলোকিত ও সদা হাস্যোজ্জ্বল। তিনি আর কেউ নন, বার্তা২৪.কম-এর শ্রদ্ধেয় এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন স্যার। এ পর্যন্ত তার অনেক নাম শুনেছি, জেনেছি। তবে তার সাথে সাক্ষাৎ হয়ে ওঠেনি। তাই মনে একটা জেদ ছিল- একদিন তার সাথে সাক্ষাৎ করবোই। আর তাই বার্তা২৪.কম-এর শুরু থেকেই লেগে ছিলাম। তবে আজ আমি সফল, কারণ সেই মানুষটির সাথেই দেখা হয়েছে, কথা হয়েছে।

গত ১৮ মে ছিল বার্তা২৪.কম-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আর ওই দিনই গুণী এই মানুষটির সাথে সাক্ষাতের সৌভাগ্য হয়েছিল। সকালে তার অফিসে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করলাম। সদা হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিটি যখন নিউজ রুমে এসে বসলেন, তখন সবচেয়ে মনমরা লোকটিও হাসতে বাধ্য হলেন। যদিও সবসময় শুনে এসেছি আলমগীর হোসেন একজন কড়া মেজাজের লোক। কিন্তু ওইদিন তার প্রথম দর্শনে আমার ধারণা পাল্টে গেল। কারণ আমি দেখেছি তার ভেতরে এক ধরনের অসাধারণ ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। এতো দ্রুত তিনি কাউকে আপন করে নিতে পারেন, দিতে পারেন স্নেহের পরশ- এটা তার সান্নিধ্যে না আসলে গল্প বলেই মনে হবে।

অফিসেই চলছে সংবাদ বিশ্লেষণমূলক কথাবার্তা। নিচ্ছেন পরিচিতদের খোঁজ খবর। হঠাৎ জিজ্ঞাসা করলেন- আগে সাক্ষাৎ হয়নি এমন কে কে আছে? এ কথা শুনেই ছুটে গেলাম সামনে, শুরু হলো কুশল বিনিময়। তারপর সামাজিক মাধ্যম ‘ফেসবুক’ নিয়ে কথা উঠতেই অনেকেই জানালেন অনেকদিন আগে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেও অ্যাকসেপ্ট করা হয়নি। এবার শুরু হলো ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণের পালা। কয়েকজনের রিকোয়েস্ট গ্রহণের পর সৌভাগ্যবসত আমার নামটি ভেসে ওঠে। তিনি আমার নাম ধরে রিকোয়েস্ট পাঠালেন। এক মিনিটেই ফেসবুকে আমি তার সাথে সংযুক্ত হলাম।

এখানে একটু না বললেই নয়, অনেক দিন ওনাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাতে চেয়েছি। কিন্তু অজ্ঞাত ভয়ে পারিনি। তবে এতো সহজেই এই মানুষটি আমাদের এতো আপন করে নেবেন, সেটা কখনও ভাবিনি। ফেসবুক পর্ব শেষ হতে না হতেই সবাইকে নিয়ে চললেন নিচ তলায় নিউজ রুম দেখাতে। খুব রসিক ও হাস্যোজ্জ্বল এই মানুষটি অফিস কক্ষের দরজায় ফিঙ্গার প্রিন্ট চাপ দিয়েই বললেন, ‘এটা ধরে নাও এডিটর ইন চিফের সচিবালয়।’ ভেতরে ঢুকতেই খুব সুন্দর, চাকচিক্য, পরিপাটি অফিস মুহূর্তেই মুগ্ধ করল আমাদের সবাইকে। তার বসার স্থান, ছোট ও বড় সেমিনার কক্ষসহ সবকিছু নিজেই ঘুরে ঘুরে দেখালেন।

অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম থেকে পুরোটাই আলাদা বার্তা২৪.কম। যার এডিটর ইন চিফ আলমগীর হোসেন একজন বড় ও সাদা মনের মানুষ। যিনি মফস্বল সাংবাদিকদের আস্থার জায়গা। বস গিরি নয় বরং মানবতা, ভালোবাসা আর নিষ্ঠার মধ্যমেই তিনি সবার সাথে সম্পর্ক তৈরি করেন। এক কথায় তিনি একজন সাংবাদিক, যেটা তার সাথে মুখোমুখি না বসলে, সরাসরি কথা না বললে, তার স্নেহের পরশে যেতে না পারলে অজানাই থেকে যেত।

বার্তা২৪.কম-এর এক বছরের যাত্রায় যারা নিবেদিতভাবে কাজ করছেন, গুরু দায়িত্ব পালন করছেন ইতোমধ্যে সবাই আমার খুব আপন ও প্রিয় মানুষ। আলমগীর হোসেনের হাত ধরে তারা বার্তা২৪.কম-কে পুরো জাতি ও বিশ্বের দরবারে নিয়ে যাবেন এমনই প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন :