Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

একজন স্বপ্নদ্রষ্টার সারথি আমরা

একজন স্বপ্নদ্রষ্টার সারথি আমরা
বার্তা২৪.কম-এর প্রাণপুরুষ আলমগীর হোসেন/ ছবি: সুলতানা জাহান
মানসুরা চামেলী


  • Font increase
  • Font Decrease

সব নতুনের একটা জন্মগান থাকে। শুরুর একটা গল্প থাকে। গল্পটা হয় সংগ্রামের, কষ্টের। তারপরেও অনেক ভালোবাসার। এমন একটি গল্প বাংলাদেশের মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল বার্তা২৪.কম-এরও রয়েছে।

শুরুর দিকে এক স্বপ্নভঙ্গের গল্পও ছিলো। তবে পৃথিবীতে কারো কারো জন্ম হয়েছে দমে না যেতে, খেই না হারাতে –এমন এক স্বপ্নদ্রষ্টার হাতে বার্তা২৪.কম-এর প্রতিষ্ঠা। হতাশায় শুরু হওয়া যাত্রা, পরবর্তীতে সফলতা আর ভালোবাসার গল্পে পরিণত হয়।

১৮ মের দুই কি তিন দিন আগে দেশের অনলাইন জগতের পথিকৃৎ, গণমাধ্যমের নতুন নতুন ভাবনার স্বপ্নদ্রষ্টা আলমগীর হোসেন জানালেন, ‘যা হবার হয়েছে। আমি বার্তা২৪ চালু করতে যাচ্ছি। যারা আমার সাথে থাকতে চাও, তাদের কষ্ট করতে হবে। যারা কষ্ট করতে রাজি নও, তাদের যাওয়ার পথ খোলা আছে’।

নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত যিনি, নতুন সৃষ্টি সফল বাস্তবায়নের কারিগর যিনি, তার মুখে এমন কথা…..। যার প্রতিটি কথায় অনুপ্রেরণা, চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা।

উপস্থিত যারা শুনছিলাম, মনে মনে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ফেললাম। এরপর ইতিহাস, বিস্ময়ের, গতির এক বছর পেরিয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পদার্পণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/18/1558182765939.jpg

শুরুর এ বছরটা ছিল আমাদের জন্য যুদ্ধের ময়দান। একজন স্বপ্নদ্রষ্টার সারথি হয়ে নিজেদের প্রমাণ করার। তবে একজন দক্ষ পথপ্রর্দশকের নির্দেশনায় বার্তা২৪.কম আজ মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল হিসেবে পাঠকের আস্থা অর্জন করেছে। তবে আস্থা অর্জনের বিষয়টি পাঠকের হাতে ছেড়ে দেওয়াটাই ভালো।

বার্তার যুদ্ধের ময়দানে প্রথম যোদ্ধা যারা; তারা শুধুমাত্রা বার্তা২৪ কে ভালোবেসে ও একজন স্বপ্নদ্রষ্টার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে গেছে। রাতকে দিন করেছে, দিনকে রাত, নিজেদের মেধার সবদিক বিচরণ করেছে। হাজারো চাপে থেকে নতুন নতুন আইডিয়া, কর্মীদের ভেতরে কার কী প্রতিভা আছে- তা উন্মোচন করেছেন, সমর্থন দিয়েছেন- বাংলাদেশের অনলাইন এবং মাল্টিমিডিয়া নিউজপোর্টালের জনক আলমগীর হোসেন।

স্বল্প পরিসর, জনবলের ঘাটতি, কাজের সরঞ্জামের অভাব- তার উপর মাল্টিমিডিয়ার স্বপ্ন, বিষয়টা যেন আকাশ কুসুম। তবে একজন দক্ষ নাবিকের অনুপ্রেরণায় ও নেতৃত্বে অসম্ভবকে সম্ভব করে সাফল্যে র প্রমাণ আজকে বার্তা২৪.কম। অন্য যে কোনো অনলাইন, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সফলতার সঙ্গে একটি বছর পার করে নতুনের প্রত্যাশায় দ্বিতীয় বছরে। গুলশানের মতো অভিজাত এলাকায় নানন্দিক, সুবিশাল অফিস।

একজন দক্ষ এডিটরের পরিচালনায়, ভালোবাসায়, শিক্ষায় একঝাঁক নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর কাজে বার্তা২৪.কম এগিয়ে যাচ্ছে, যাবে। আজ ঢাকা অফিসসহ সারাদেশে শতাধিকের বেশি কর্মী। যারা বাংলা বাঙালির সারথি হয়ে দেশের আনাচে কানাচে বার্তার খবর পৌঁছে দিচ্ছেন।

আর সামনে পাঠকদের জন্য রয়েছে খবরের ভিন্নতা, মাল্টিমিডিয়া নিউজের নিত্য নতুন আবিষ্কার। সুতরাং, পাঠক বার্তা২৪.কম-এর সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ।

আরও পড়ুন: প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভক্ষণে বার্তা২৪.কম

আপনার মতামত লিখুন :

রোমান পোলান্‌স্কি : সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডালের মোক্ষম উদাহরণ

রোমান পোলান্‌স্কি : সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডালের মোক্ষম উদাহরণ
রোমান পোলান্‌স্কি

মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্পের প্রাণভোমরা হলিউডের জন্য হলেও বিশ্বের অন্যতম রোমাঞ্চকর গল্পের নগরী হিসেবে লস এঞ্জেলসকে চিহ্নিত করা যায়। কিন্তু ’৭০-এর দশকের এই শহর ছিল সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডাল দ্বারা অন্ধকারাচ্ছন্ন। যৌন বিকারগ্রস্ততা, মাদকাসক্তি প্রভৃতি ছিল হলিউড পাড়ার পরতে পরতে।

রোমান পোলান্‌স্কি তেমনই একজন সেলিব্রেটি যার ঝুলি নানাবিধ স্ক্যান্ডালে পরিপূর্ণ। তিনি একাধারে সফল একজন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, এমনকি লেখক। তবে আজ তিনি পৃথিবীবাসির কাছে একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেই সমধিক পরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত। বহুমুখী প্রতিভাধর এই প্রথিতযশা চলচ্চিত্র পরিচালক তার এই এক জীবনে কুড়িয়েছেন অসংখ্য সুখ্যাতি, জীবন তাকে দু হাত ভরে দিয়েছে এবং তিনিও দু হাত পেতে সেসব গ্রহণ করেছেন। কিন্তু তার জীবনের এই আলোয় ঝলমলে অধ্যায়ের ঠিক বিপরীতেই রয়েছে এক ভয়ংকর কালো অধ্যায়। আর সেই কালো অধ্যায়ের সূত্র ধরেই বলায় যায়, রোমান পোলান্‌স্কির জীবনই হলো ‘সেলিব্রেটি স্ক্যান্ডাল’-এর মোক্ষম উদাহরণ।

এই বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ১৯৩৩ সালের ১৮ আগস্ট ফ্রান্সের প্যারিস শহরে জন্মগ্রহণ করেন কিন্তু তার বেড়ে ওঠা পোল্যান্ডে। মা বুলা (জন্মনাম কাৎজ-প্রৎজেবর্স্কা) এবং বাবা রিসজার্ড পোলান্‌স্কি ছিলেন যথাক্রমে চিত্রশিল্পী ও ভাস্কর্য নির্মাতা। পোলান্‌স্কির বাবা ইহুদি এবং পোল্যান্ডের অধিবাসী ছিলেন। পোলান্‌স্কির মা রাশিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং রোমান ক্যাথলিক হিসেবে বেড়ে ওঠেন, তিনি মূলত অর্ধ-ইহুদি বংশধর ছিলেন। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144369603.jpg
◤ পোলান্‌স্কির বিখ্যাত চলচ্চিত্র দ্য পিয়ানিস্ট ◢


পোলান্‌স্কি পোল্যান্ডের তৃতীয় বৃহত্তম শহর উচের ন্যাশনাল ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেন। তাঁর চলচ্চিত্রে পদার্পণ একজন অভিনেতা হিসেবে। ১৯৫০-এর দশকে আন্দ্রজেয় ভায়দার ‘পোকোলনি’ (প্রজন্ম, ১৯৫৪) এবং একই বছর সিলিক স্টার্নফেল্ডের ‘জাকজারোয়ানি রোভার’ (জাদুকরী বাইসাইকেল) চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্যদিয়ে অভিনেতা পোলান্‌স্কির অভিষেক ঘটে।

চলচ্চিত্র পরিচালনায় পোলান্‌স্কির অভিষেক হয় ১৯৫৫ সালে, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রোভার’ (সাইকেল) নির্মাণের মধ্যদিয়ে। রোভার একটি আধা-আত্মজীবনীমূলক চলচ্চিত্র এবং এখানেও পোলান্‌স্কি অভিনয় করেন।

রোভারে তিনি তার বাস্তব জীবনের একটি সহিংস চক্রের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে দেখানো হয়েছে এক কুখ্যাত ক্রাকো ফেলোন ইয়ানুশ ডিজুবা, পোলান্‌স্কির সাইকেল বিক্রি করে দিতে চেয়েছিল; কিন্তু পরিবর্তে ডিজুবা তাকে মারধর করে এবং তার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। বাস্তব জীবনে পোলান্স্কির মাথার খুলি ফাটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় সে গ্রেফতার হয় এবং আরো আটটি অপরাধের মধ্যে তিনটি হত্যার জন্য তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। উচে পড়াশোনার সময় আরো বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য ছায়াছবি তাকে স্বীকৃতি এনে দেয়, বিশেষ করে ‘ডভায় লুডজি জ শাফাঁ’ (১৯৫৮) এবং ‘গডাই স্পাডায়া আনিওউ’ (১৯৫৯)। তিনি ১৯৫৯ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

ক্যারিয়ারের সোপানগুলি অবলীলায়, অত্যন্ত সফলতার সাথে ছুঁতে পারলেও তার দাম্পত্য জীবনের যাত্রাটা খুব একটা মসৃণ ছিল না। অভিনেত্রী বারবারা ল্যাস ছিলেন এই পোলিশ চলচ্চিত্র পরিচালকের প্রথম স্ত্রী। যিনি পোলান্‌স্কির ‘হোয়েন অ্যাঞ্জেলস ফল’ (১৯৫৯) চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তারপর এই জুটি ১৯৫৯ সালেই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন কিন্তু ১৯৬১ সালে মাত্র দু বছরের ব্যবধানে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। তারপর তিনি আবারও ১৯৬৮ সালের ২০ জানুয়ারি অভিনেত্রী শ্যারন টেইটকে (২৪ জানুয়ারি ১৯৪৩-৯ আগস্ট ১৯৬৯) বিবাহ করেন। শ্যারন টেইটও ছিলেন একজন সুঅভিনেত্রী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144309583.jpg
◤ অভিনেত্রী ও প্রথম স্ত্রী বারবারা ল্যাসের সঙ্গে পোলান্‌স্কি ◢


কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! রোমান পোলান্‌স্কির ক্যারিয়ার যখন খ্যাতির তুঙ্গে, ১৯৬৯ সালে সাড়ে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী অভিনেত্রী শ্যারন টেইটকে মাত্র ২৬ বছর বয়সে চার্লস ম্যানসনের অনুসারীরা হত্যা করে। স্ত্রীকে হারিয়ে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েন এই উঠতি চলচ্চিত্র পরিচালক। পরবর্তীকালে দীর্ঘ এক বিরতির পর ১৯৮৯ সালে ইম্যানুয়েল সিনার সাথে তৃতীয়বারের মতো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন, যিনি একজন ফরাসি অভিনেত্রী।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144429916.jpg
◤ অভিনেত্রী ও দ্বিতীয় স্ত্রী শ্যারন টেইটের সাথে পোলান্‌স্কি ◢


১৯৭৭ সালে রোমান পোলান্স্কি মাত্র ১৩ বছর বয়সী কিশোরী সামান্থা গেইমে’র সাথে যৌন সংসর্গে জড়িয়ে পড়েন, যখন তার বয়স ৪৩ বছর। ১০ মার্চ সামান্থার মা সুসানের তৎপরতায় পোলান্স্কিকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পোলান্স্কি জনসম্মুখে অপরাধ স্বীকার করেন এবং ইউরোপে পালিয়ে যান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরলে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে, এজন্য তিনি আর ফেরত আসেননি এবং ইউরোপ থেকেই চলচ্চিত্র পরিচালনা অব্যাহত রাখেন।

তবে শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্য যে, সামান্থার সাথে আজও রোমান পোলান্‌স্কির যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ আছে। জানা যায়, পোলান্‌স্কি ইউরোপে পালিয়ে যাওয়ায় সামান্থা খুশিই হয়েছেন এবং তিনি তাকে ক্ষমাও করে দিয়েছেন। কারণ তিনি চান না পোলান্‌স্কির বাকি জীবন জেলে কাটুক। এদিকে রহস্যজনকভাবে সামান্থা পোলান্‌স্কিকে ধর্ষক কিংবা যৌননিপীড়ক কিংবা শিশুকামী হিসেবে চিহ্নিত করতে নারাজ। সামান্থার ভাষ্যমতে, “আমি কখনোই তাকে পেডোফাইল বলব না। আমি যেটা বলতে পারি তা হলো, তিনি নিতান্তই ভুলবশত চরমতম খারাপ একটা কাজ করে ফেলেছেন। এবং, আমি তাকে তখনই পেডোফাইল হিসেবে চিহ্নিত করতে পারতাম, যদি তিনি তার পরবর্তী জীবনেও এই একই ধরনের কাজ অব্যাহত রাখতেন।”

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566144560460.jpg
◤ সামান্থা গেইম ◢


তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২০০৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই সুইজারল্যান্ডে থাকাকালীন রোমান পোলান্‌স্কিকে গ্রেফতার করা হয় এবং এই গ্রেফতার নিয়ে তুমুল বিতর্কের জন্ম হয়। রোমান পোলান্‌স্কির পক্ষে হলিউডের অসংখ্য নামজাদা সেলিব্রেটি, ইউরোপের শিল্পীগোষ্ঠী, এমনকি রাজনীতিকরা সমবেত হয়। তারা এই গ্রেফতারি পরোয়ানার বিরুদ্ধে কথা বলে। এদিকে তার গ্রেফতারের ঘটনার পর আমেরিকার জনমত পোলান্‌স্কির বিপক্ষে গেলেও ইউরোপ এবং পোল্যান্ডের অগনিত মানুষ ছিল তার পক্ষে। আর এভাবেই এ-যাত্রায়ও আইনের বেড়াজাল থেকে পার পেয়ে যান রোমান পোলান্‌স্কি।

রোমান পোলানস্কি পরিচালিত চলচ্চিত্রসমূহ
• জ উ ভজি (১৯৬২)
• রিপালসন (১৯৬৫)
• কুল-দে-সাক (১৯৬৬)
• দ্য ফিয়ারলেস ভ্যাম্পায়ার কিলার্স (১৯৬৭)
• রোজামারিস বেবি (১৯৬৮)
• ম্যাকবেথ (১৯৭১)
• হোয়াট? (১৯৭২)
• চায়নাটাউন (১৯৭৪)
• লা লোকাতায়ার (১৯৭৬)
• তেস (১৯৭৬)
• পাইরেটস (১৯৮৬)
• ফ্র্যান্টিক (১৯৮৬)
• বিটার মুন (১৯৯২)
• ডেথ অ্যান্ড দ্য মেইডেন (১৯৯৪)
• দ্য নাইন্থ গেট (১৯৯২)
• দ্য পিয়ানিস্ট (২০০২)
• অলিভার টুইস্ট (২০০৫)
• দ্য ঘোস্ট রাইটার (২০১০)
• কার্নেজ (২০১১)
• লা ভেনাস অ লা ফরুর (২০১৩)
• দাপ্রেস উন হিস্তোয়ার ভ্রাই (২০১৭)

পোলান্‌স্কি পরিচালিত ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ চলচ্চিত্রটিই সবচেয়ে বেশি আলোচিত এবং এটিই কেবল একাডেমি পুরস্কার অর্জন করে। পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও ব্রিটেনের যৌথ প্রযোজনায় নির্মীত এই দ্য পিয়ানিস্ট ২০০২ সালে মুক্তি পেয়েছিল।

পোল্যান্ডের এক ইহুদি পিয়ানো বাদকের ‘দ্য পিয়ানিস্ট’ নামের আত্মজীবনী গ্রন্থ থেকে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করা হয়েছে। দ্য পিয়ানিস্ট কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার অর্জন করে। এছাড়া তিনটি ক্ষেত্রে একাডেমি পুরস্কার অর্জন করে : সেরা অভিনেতা, সেরা পরিচালক এবং সেরা অভিযোজিত চিত্রনাট্য। এছাড়া ফ্রান্সের সেজার পুরস্কার লাভ করে তিনটি ক্ষেত্রে : সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা ও সেরা চলচ্চিত্র। এই ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন অ্যাড্রিয়েন ব্রডি। অ্যাড্রিয়েন ব্রডিই একমাত্র মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা যিনি ফ্রান্সের সেজার পুরস্কার জিতেছেন।

রোমান পোলান্‌স্কি শৈশবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিজ চোখে অবলোকন করেছিলেন, হয়তো সেজন্যই তার দ্য পিয়ানিস্টের নির্মাণশৈলি ছিল এত বেশি জীবন্ত। কাল পরিক্রমায় বিশ্ব রোমান পোলান্‌স্কিকে ভুলে যেতে পারে, কিন্তু দ্য পিয়ানিস্টকে কখনো ভুলতে পারবে না।

নমোফোবিয়া : ফোন হারানো চার্জ ফুরানোর ভয় যখন একটা রোগ

নমোফোবিয়া : ফোন হারানো চার্জ ফুরানোর ভয় যখন একটা রোগ
মোবাইল ফোন বুঁদ করে ফেলেছে আধুনিক প্রজন্মকে

মোবাইল ফোন আমাদের আধুনিক জীবনকে অনেকাংশেই সহজ করে দিয়েছে। অনেক বড় সমাধান থেকে অতি তুচ্ছ প্রয়োজনের জন্যেও হাতের মোবাইলের উপর ঝুঁকে পড়ে অনেকেই। তার ওপর নতুন মাত্রা যোগ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো। সুবিধার চূড়ান্ত দেবার মাধ্যমে এই যে নির্ভরশীলতা তৈরি করেছে, তা জন্ম দিচ্ছে এক নতুন ধরনের সমস্যার। নমোফোবিয়া, ফোন হারানোর উৎকণ্ঠা কিংবা চার্জ ফুরিয়ে যাবার ভয়।

নমোফোবিয়া শব্দটি এসেছে ইংরেজি কয়েকটি শব্দের মিশ্রণে। Nomophobia = No + Mobile + Phone + Phobia। নমোফোবিয়াকে প্রথম সংজ্ঞায়ন করে যুক্তরাজ্যের গবেষণা সংগঠন YouGov। সাদামাটাভাবে বললে ফোবিয়া হলো অযৌক্তিক ভয় বা অকারণ উৎকণ্ঠা। আর নমোফোবিয়া বলতে বোঝায় মোবাইলবিহীন থাকার ভয়। সিগনাল কিংবা ব্যাটারিজনিত কারণে মোবাইলের সাথে সংযোগ ছিন্ন হতে পারে, ক্ষণিকের জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে; প্রভৃতি কারণে প্রিয়াবিরহের মতো মোবাইলপ্রেমিকের ভেতরে যে উৎকণ্ঠা, তাই নমোফোবিয়া। ২০০৮ সালে চালানো এক গবেষণায় দেখা গেছে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে শতকরা ৫৩ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত। অর্ধেকের বেশি ব্যবহারকারী তাদের ফোন বন্ধ করেন না। গবেষণায় আরো দেখা গেছে এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566135919566.jpg

◤ নমোফোবিয়া: আধুনিক প্রযুক্তির প্রতিক্রিয়া ◢


ভ্রমণে কিংবা বাসায়—প্রায়ই এই ধরনের মানসিক বিভ্রান্তির দেখা মেলে। মনোবিজ্ঞানীরা একে “লো-ব্যাটারি অ্যাংজাইটি” বলে চেনেন। মানুষের জীবন দিনকে-দিন বিভিন্ন প্রযুক্তিতে ঘিরে ফেলছে। মানুষের কাজ করে দিচ্ছে নতুন নতুন ডিভাইস। সরাসরি কথা, সামাজিক যোগাযোগ, জিপিএস, গাড়ির সেবা, খাবারের অর্ডার, গেইম, ভিডিও বিনোদন, ব্যাংকিং, ক্যালেন্ডার, ক্যালকুলেটর, পরিবারের ছবি প্রভৃতি এখন কেবলমাত্র একটি ছোট্ট যন্ত্রের মাধ্যমেই সম্ভব—সেলফোন।

জীবন যাপনের সুবিধার জন্যই মানুষ ক্রমশ এনালগ ছেড়ে ডিজিটাল পৃথিবীতে প্রবেশ করছে। সকল ধরনের কাজে সরাসরি নিজেকে না জড়িয়ে ঝুঁকছে অনলাইন সুবিধার প্রতি। আর তাই, অল্প সময়ের জন্য ব্যাটারিতে চার্জ না থাকা কিংবা কোনো কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া ভয়ের উদ্রেক করে। হারিয়ে ফেলা কিংবা একা হয়ে যাবার ভয়।

ব্যাটারি যখন শেষ

আধুনিক যামানার ভৌতিক সিনেমাগুলোতেও দেখা যায়, সেলফোনের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ার মানে একটা খারাপ কিছু ঘটতে চলছে। ব্যক্তিকে একা করে ফেলা ক্লাসিক হররগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ১৯৬০ সালের Psycho, ১৯৭৪ সালের The Texas Chain Saw Massacre, ১৯৮০ সালের The Shining এমনকি গত ২০১৭ সালের Get Out প্রায় একইভাবে ফুটিয়ে তুলেছে বিষয়টা। মোবাইল না থাকার দরুণ সৃষ্ট এই নিঃসঙ্গতায় ভীতি।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রযুক্তির ওপরেই মূলত আমরা দৈনন্দিন জীবনে ভরসা করে থাকি। ১৯৭০ সালের দিকে ইংরেজ রসায়নবিদ স্টেনলি হুইটিংহাম এর আবিষ্কার করেন। তিনি তখন Exxon Corporation-এ গবেষণায় মগ্ন। তবে লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারির আগমন ছিল রীতিমতো বিপ্লবের মতো। লিথিয়াম-আয়ন এবং লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারির মধ্যেকার পার্থক্য ইলেক্ট্রোলাইটের ব্যবহারে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566135953565.jpg

◤ ব্যাটারি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিস্ময়করভাবে ◢


লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারিতে কঠিন পলিমার ইলেক্ট্রোলাইট ব্যবহার করা হয়। যেমনটা polyacrylonitrile এবং এনোডে প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থ। অন্যদিকে লিথিয়াম-আয়নে জৈব দ্রবণে ইলেক্ট্রোলাইট হিসাবে ব্যবহৃত হয় লিথিয়াম লবণ। ফলে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তাড়াতাড়ি অতিরিক্ত গরম হয়ে পড়তে পারে।

আধুনিক যামানায় সেলফোনপ্রযুক্তির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে ব্যাটারিপ্রস্তুতি। ব্যাটারি প্রস্তুতকারীরা মনোযোগী অধিক ধারণ ক্ষমতা আনতে। কিন্তু যখনই তারা ব্যাটারির সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, সেলফোন প্রস্তুতকারীরা সাথে সাথেই বের করছে নতুন কোনো ফিচার, যা পাওয়ার কমাবে। এভাবে সেলফোনের ফিচারগুলো ব্যাটারির পাওয়ার নামিয়ে আনে, আর প্রস্তুতকারীরা যোগ করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566136128928.jpg

◤ মোবাইল কোম্পানিগুলো এই উদ্বেগ কাজে লাগাচ্ছে ◢


মোবাইল কোম্পানিগুলো ক্রেতার এই উদ্বেগকে ব্যবহার করছে বেশ ভালোভাবেই। চার্জ দেবার জন্য ওয়্যারলেস সুবিধাসহ নতুন সেলফোন আসছে আজকাল। Qi Standard (উচ্চারণ. চি স্ট্যান্ডার্ড) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আরোহী পদ্ধতিতে চার সে.মি. দূরত্ব পর্যন্ত চার্জ দেওয়া সম্ভব।

চি পদ্ধতিটা মূলত তড়িৎচৌম্বকক্ষেত্র সৃষ্টির মধ্য দিয়ে কাজ করে। সেলফোন কোম্পানিগুলো এই বিশেষত্বকে খুব দ্রুত ক্রেতার চাহিদার সাথে মানিয়ে নিচ্ছে। এই সুবিধাহীন পুরানা ধাঁচের মোবাইলগুলোর জন্য এডাপ্টরের মাধ্যমে পোর্টে সংযোগ দেওয়া যায়। এমনিতেই তারের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার চেয়ে ওয়্যারলেস চার্জ সময়বহুল। আর যদি এডাপ্টার ব্যবহার করা হয়, তবে তো কথাই নেই।

দ্য এন্ড্রয়েড পাই অপারেটিং সিস্টেম ব্যাটারি লো হয়ে গেলে ব্যবহারকারীকে নোটিফিকেশন পাঠায়। উপরের কোনায় চার্জের শতকরা প্রদর্শন তো আছেই। আইফোন এক্স তাদের ফোনের ব্যাটারি আইকন থেকে আইকন সরিয়ে ফেলেছে। দেখতে হলে যেতে হবে কন্ট্রোল সেন্টার। সে যা-ই হোক, উভয় ক্ষেত্রেই চার্জ ফুরিয়ে আসতে গেলে নোটিফিকেশন আসে, লো পাওয়ার মুডে চালানোর জন্য; যাতে কম চার্জ ফুরায়।

কাজ হোক আর না হোক, ব্যাটারির সক্ষমতা ক্রেতাকে ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করে। ব্যবসার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর কাছে এটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টোপে পরিণত হয়েছে।

নমোফোবিয়ার লক্ষণ

বছর দশেক আগেও হয়তো কেউ প্রিয়তমার উদ্দেশ্যে বলত, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচব না। কিন্তু হাল আমলে সেই স্থান দখল করেছে সেলফোন। মনোবিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য মতে, নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকেই ধরে নিতে হবে নমোফোবিয়ার লক্ষণ—
১) রাতে ঘুম ভেঙে যদি প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর সেলফোন চেক করতে হয়।
২) দুপুরে কিংবা রাতে খাবার সময়েও যদি মোবাইল প্রাধান্য পায়।
৩) ব্যাটারি ফুরিয়ে যেতে চাইলে যদি চার্জে দেবার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে পড়ে।
৪) ফোনে সিগনাল না থাকলে যদি মনে হয়, জীবন থেকে বাইরে।
৫) যত ব্যস্ততাই থাক, যদি ফোনের জবাব দেবার জন্য ভেতর থেকে তাড়না আসে।
৬) ওয়াশরুমে পর্যন্ত ফোন হাতে করে নিয়ে যাবার অভ্যাস গড়ে উঠলে।
৭) এই আর্টিকেল পড়ার মধ্যে বেশ ক’বার যদি ফোন চেক করে ফেলা হয় 

নমোফোবিয়ার ক্ষতি

বেশিরভাগ সমস্যাই মনস্তাত্ত্বিক। তবে এর ফলাফল সদূরপ্রসারী। ব্যক্তিগত জীবন থেকে সামাজিক জীবনে বাধাগ্রস্ত হতে পারে তুচ্ছ এক অভ্যাসের কারণে। ক্রমানুসারে উল্লেখ করলে—
১) যেহেতু উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, সেহেতু রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে ব্যক্তির নিজের কাজের দিকে মনোযোগ কমিয়ে দেয়। ফলে উৎপাদন ক্ষমতায় কমে যায়।
২) সময়ের দারুণ অপচয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, একসাথে বহু কাজ করার মানে কোনো কাজই না করা। হাতে মোবাইল নিয়ে অন্য কাজ করতে চাওয়াটা অন্য অর্থে সময় নষ্টের নামান্তর।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566136283424.jpg

◤ নমোফোবিয়া ক্ষতিগ্রস্ত করে ঘুমের প্যাটার্নে ◢


৩) ঘুমের প্যাটার্ন বিঘ্নিত করে। ফোন থেকে নীল আলো চোখে পড়া ঘুমের জন্য ক্ষতিকর। এর কারণে মেলাটোনিন হরমোনের ক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। বলা বাহুল্য, মেলাটোনিন হরমোন ঘুমের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য দায়ী।
৪) লাগাতার ফোনের সাথে লেগে থাকা চর্মরোগ, এলার্জি কিংবা নানা ধরনের রোগের জন্ম দিতে পারে।
৫) সর্বোপরি বন্ধু ও পরিবারের সাথে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। বন্ধু বা পরিজনের সাথে কথা বলার সময় ঘন ঘন মোবাইলের নোটিফিকেশন চেক করা নিশ্চই ভালো দেখায় না। এই অভ্যাস কর্মক্ষেত্রে ও ব্যক্তিগত জীবনে ভয়াবহ ক্ষতিকর।

উপায় ও প্রতিকার

সব সমস্যারই সমাধান থাকে। নমোফোবিয়ার সমাধানও গবেষকদের ধারণায় বেরিয়ে এসেছে। তবে তা পুরোটাই নির্ভর করে ব্যক্তির অভ্যাস ও আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতার ওপর—
১) ঘুমের আগে মোবাইল বন্ধ করে ঘুমানো, যেন নিদ্রা বিঘ্নিত না হয়।
২) নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণে আনা। সবরকম অ্যাপ থেকে সব ধরনের নোটিফিকেশন বিরক্তিকর।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566136344305.jpg

◤ মোবাইল না দেখে চালু করতে হবে ঘড়ি দেখার অভ্যাস ◢


৩) অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনগুলো ডিলিট করে দেওয়া। 
৪) মোবাইল না, সময় দেখার জন্য ঘড়ি ব্যবহারের অভ্যাস করা।
৫) নিজের জন্য ফোন-ফ্রি জোন তৈরি করা। কাজের সময় ফোন দূরে সরিয়ে রাখা।
৬) বন্ধু ও পরিবারের সাথে বেশি সময় ব্যয় করা। ফোনের সাথে সীমিত ও হিসাব করে সময় দেওয়া।

জীবন যাপনে আধুনিকায়ন মানুষকে সমাজবিমুখ করে দিয়েছে। নির্ভরশীল করে দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর। আর তাই হাতের সেলফোনটা কেবল সেলফোন হয়ে নেই, পরিণত হয়েছে সবথেকে মূল্যবান সঙ্গী হিসাবে। মোবাইল হারানোর যে উদ্বেগ, তার পেছনের মনস্তত্ত্ব মূলত এটাই। আর তাই আগামী প্রজন্ম নমোফোবিয়া থেকে কিভাবে বের হবে কিংবা আদতে বের হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র