Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

শরবতের চেয়েও মধুর ইদ্রিস আলীর আচরণ

শরবতের চেয়েও মধুর ইদ্রিস আলীর আচরণ
টঙ দোকানে শরবত তৈরিতে ব্যস্ত ইদ্রিস আলী, ছবি: বার্তা২৪.কম
হাসান আদিব
স্টাফ করেসপন্ডেট
বার্তা২৪.কম
রাজশাহী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী মহানগরীর গণকপাড়া মোড়ে গেলেই চোখে পড়বে ৭২ বছর বয়সী ইদ্রিস আলীর ছোট্ট টঙ দোকান। যেখানে প্রায় ৩০ বছর ধরে শরবত বিক্রি করছেন তিনি। বেল, কলা, পেঁপে, ইউসুফগুলের ভুষি, টক দইয়ের সঙ্গে হরেক রকম দ্রব্য মিশিয়ে বানানো সেই শরবতের বেশ পরিচিতিও রয়েছে নগরী জুড়ে।

প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা দোকানে বসে শরবত বিক্রি করেন ইদ্রিস। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তার ভদ্র ও মার্জিত কথাবার্তায় মুগ্ধ হয় ক্রেতারা। ক্রেতারা জানালেন- তীব্র গরমে ইদ্রিস আলীর হাতে বানানো শরবত খেয়ে যেমন শান্তি মেলে, তারচেয়েও বেশি মধুর তার আচরণ।

মঙ্গলবার (১৪ মে) দুপুরে সড়কের পাশে দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট দোকানে বিভিন্ন ধরনের উপকরণ প্লাস্টিকয়ের কৌটায় সাজানো। ওপরে টিনের ছাউনি। তাতে পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি ‘শিকেয়’ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বেল ও পেঁপে।

শরবতের চেয়েও মধুর ইদ্রিস আলীর আচরণ

সেখানে কথা হয় শরবত বিক্রেতা ইদ্রিস আলীর সঙ্গে। কেমন চলছে বেচাকেনা? প্রশ্নে চোখ তুলে তাকান তিনি। একগাল হাসি দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহর অশেষ রহমতে ডাল-ভাতের জোগাড় হয়ে যাচ্ছে মামা।’

পরিবারে কে কে আছেন, এমন প্রশ্নে সেই হাসিতে কিছুটা ভাটা পড়ল! জানালেন, শুধু অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়েই নগরীর কাদিরগঞ্জ মহিলা কলেজ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি।

ছেলে-মেয়েরা কী করেন…? হাতের ইশারায় থামিয়ে দিয়ে ইদ্রিস আলী বলতে থাকেন, ‘ওদের কথা তুল না বাপ। ওদের লেখাপড়া শিখিয়েছি, নিজেদের মতো করে খাচ্ছে।’

জানান, দুই ছেলে ৫/৬ বছর আগে বিয়ে করে পৃথক সংসার করছে। একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আরেকজনের ভালো ব্যবসা রয়েছে। তারা কোনো খোঁজ-খবর রাখে না। বছরে ঈদের সময়ে দু-একবার মন চাইলে ঘুরতে আসে, আবার কোনো বছর আসেও না।

ইদ্রিস আলী পরক্ষণে বলতে শুরু করেন, তাদের (সন্তান) টাকায় আমাকে চলতে হবেই বা কেন? আমার কী হাত-পা নেই। আমি কাজ-কর্ম করে খেতে জানি। তারা তাদের মতো ভালো থাকুক। আল্লাহ’র কাছে সেই দোয়া করি।

শরবতের চেয়েও মধুর ইদ্রিস আলীর আচরণ

স্মৃতি রোমন্থন করে শরবত বিক্রেতা ইদ্রিস বলেন, 'ছোট বেলায় বিয়ে করেছিলাম। স্বামী-স্ত্রী দু-জনে মিলে সংসার গড়েছি। ও (স্ত্রী) এখন প্রচণ্ড অসুস্থ। রোজা রাখতেও পারেনি এবার। বাড়িতে চুলাও জ্বলে না। দুপুরে খাবার কিনে বাড়িতে দিয়ে এখানে এসেছি। রাতে আবার হোটেল থেকে খাবার কিনে নিয়ে গিয়ে দু’জনে একসাথে খাব।

ইদ্রিস জানান, তার বাড়ি ফরিদপুর জেলার ভাঙা উপজেলায়। বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তিনি কাজের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে রাজশাহীতে চলে আসেন। সেটা প্রায় ৩০ বছর আগের কথা। পরে রাজশাহীতে থেকে গেছেন। প্রথমে ডিমের ব্যবসা করতেন। তবে বেশিদিন সেটা চলেনি। তারপর থেকে শরবতের বিক্রি করে চলছে তার জীবন।

শরবতের চেয়েও মধুর ইদ্রিস আলীর আচরণ

তিনি আরও বলেন, 'কাঠ দিয়ে বানানো টঙ দোকান নিয়ে আমার ব্যবসার যাত্রা শুরু। শুরুতে এক/দুই আনাতে শরবত বেচতাম। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় এখন গ্লাস প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করতে হয়। বেল ও পেঁপের শরবত ছাড়াও আমি বিভিন্ন ঔষধি গাছ-গাছড়ার শরবত বানিয়ে বিক্রি করি। ৫০/৬০ জন মানুষ আছেন, যারা নিয়মিত তার কাছ থেকে এসব শরবত খান। এছাড়া পথচারীরাও তার কাছ থেকে শরবত খান।'

বয়স বাড়ছে, কতদিন এভাবে কাজ করতে পারবেন তা নিয়ে একদম চিন্তিত নন ইদ্রিস আলী। সৃষ্টিকর্তার ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখা ইদ্রিস মনে করেন, সম্মানের সঙ্গেই তাকে জীবনে শেষ সময় পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবে আল্লাহ। সৃষ্টিকর্তার কাছে তার প্রার্থনা, কারও কাছে হাত পেতে নয়, কাজ করতে করতেই যেন হঠাৎ ওপারে পাড়ি জমাতে পারেন ইদ্রিস আলী।

আপনার মতামত লিখুন :

বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ

বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ
পৃথিবীর সর্বোচ্চ শীর্ষে মানুষ ওড়ালো বিজয় পতাকা, ছবি: সংগৃহীত

এবার নতুন জুটি হিসেবে হিলারি-তেনজিংরা প্রস্তুত। পরিবেশ ও পরিস্থিতিও আজ অনেক অনুকূল। সুন্দর ঝকমকে সকাল। রোদের ঝিলিকে স্বর্ণ ও রৌপ্যের মতো চকচক করছে হিমালয় শীর্ষের বরফখণ্ড। দলনেতার ইঙ্গিত পেলেই শুরু হবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গের দিকে শতাব্দীর সেরা অভিযান। শুধু সঠিক ও যুৎসই সময়ের অপেক্ষা। তখনই আবার ঘটলো বিপত্তি।

প্রস্তুত হয়ে তাবুর বাইরে বেরিয়েই হিলারির মাথায় বাজ পড়ল। তিনি আবিষ্কার করলেন, তার চামড়ার বুটজোড়া বরফে জমে গিয়েছে। ভুলবশত আগের দিন বিকেলে বাইরে শুকাতে দিয়ে জুতাজোড়া ভিতরে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন। সারা রাতের তুষার-বরফে লোহার মতো শক্ত হয়ে গেছে পর্বতারোহণের জুতা। চিন্তায় পড়লেন তিনি, ‘তা হলে কি আজ আর এগোনো হবে না?’

এবারও অদম্য রইলেই এই অভিযাত্রীদল। প্রায় দু’তিন ঘণ্টার চেষ্টায় অবশেষে ভিজা জুতায় পা গলানো গেল। এরপর বাকিটা ইতিহাস। সামনে এগিয়ে চলার ইতিবৃত্ত।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561489441312.jpg

ছবি ২: ১৯৫৩ সালের ২৯ মে। সকাল সাড়ে এগারোটা। এভারেস্ট চুড় স্পর্শ করলো মানুষ, ছবি: সংগৃহীত 

 

১৯৫৩ সালের ২৯ মে। সকাল সাড়ে এগারোটা। প্রমবারের মত এভারেস্ট চুড়ো স্পর্শ করলেন দুই অভিযাত্রী: স্যার এডমন্ড হিলারি আর তেনজিং নোরগে।

প্রথমে শীর্ষভূমিতে পা রাখলেন এডমন্ড হিলারি। ঠিক তার পেছনেই তেনজিং নোরগে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টে এই প্রথম মানুষের পদচিহ্ন অঙ্কিত হলো। ২৯ মে, ১৯৫৩।

অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময়ে পৃথিবী বদলেছে অনেক। বদলেছে পর্বতাভিযানের নিয়ম-কানুনও। সাজ-সরঞ্জামও অনেক আরামদায়ক ও সুলভ হয়েছে। অথচ প্রথম বিজয়ের দিনগুলো ছিল অনেক বিরূপ। আত্মজীবনীতে সেসব কথা বলে গেছেন তেনজিং।

শিখর জয়ের জন্য সেদিন ২৭,৯০০ ফুট উচ্চতায় ৯ নম্বর শিবির থেকে ভোর সাড়ে ছ’টায় রওনা হয়েছিলেন হিলারি-তেনজিং জুটি। এখন তিন-চারটে শিবির যথেষ্ট। দিনে নয়, অ্যাডভান্সড ক্যাম্প থেকে সন্ধ্যায় বের হয়ে পরদিন সকালে শিখর ছোঁয়াই নিয়ম।

তেনজিংদের জয়ের খবর দুনিয়াকে জানাতে নিকটবর্তী নামচে বাজারের পোস্ট অফিসে টেলিগ্রাম করতে ছুটেছিল রানার। দিনে দিনে এতো বড় বিজয়ের খবর পায়নি পৃথিবীর মানুষ।

আর এখন? স্যাটেলাইট ফোনে এভারেস্ট-শীর্ষ থেকেই কথা বলা যায়।

কিছু ইতিহাস কিন্তু অটুট। যেমন খুম্বু অঞ্চলের হতদরিদ্র শেরপা সম্প্রদায়, যেখান থেকে তেনজিং উঠে এসেছিলেন। তাদের ভাষায় লিখিত বর্ণমালা নেই, পাহাড়ে মালপত্র বয়ে আর ইয়াক চরিয়ে জীবন কাটাতে হয় তাদের। বিংশ শতাব্দীতে তেনজিং-ই প্রথম এশিয়া থেকে উঠে-আসা নিম্নবর্গের নায়ক। তাঁর আগে কোন এশীয় বীর এত নিচু স্তর থেকে উঠে আসেননি।

সেই তেনজিং আরেকটি কাজ করলেন। পৃথিবীর সর্বোচ্চ শীর্ষে পৃথিবীর মানুষের বিজয় পতাকা উত্তোলন করে দু’জনে শিখরে কাটালেন মিনিট পনেরো। আবেগপ্রবণ তেনজিং বহু ব্যর্থতার পর বিজয় পেয়ে নিজের জীবনের এক কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561489484360.jpg

ছবি ৩: মাউন্ট এভারেস্ট, ছবি: সংগৃহীত

 

তেনজিং শৈশব থেকে নিজের জন্মের তারিখটা পর্যন্ত সঠিক জানতেন না। যে পশ্চাৎপদ সমাজে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন, সেখানে লেখালেখি বা ইতিহাস রক্ষার কোনও রেওয়াজই ছিল না। এভারেস্ট জয়ের পর ২৯ মে তারিখটাকেই তিনি জন্মদিন হিসেবে গ্রহণ করতেন।

এই অভিযানের পর সত্যিই তো এক নতুন তেনজিংয়ের জন্ম হয়েছিল পৃথিবীর বুকে। তাকেই বোধহয় মনে মনে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন তেনজিং। এভারেস্ট বিজয়কে নিজের জীবনের অংশ করে রেখেছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: ১৬ বার ব্যর্থ হয়েছিলেন তেনজিং!

আরও পড়ুন: ইভেন-বরিলিয়ান আউট, হিলারি-তেনজিং ইন

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব

তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে হাইকোর্টে তলব
হাইকোর্ট

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), মহাব্যবস্থাপক (জিএম), উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এই তিনজনকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২ জলুাই তাদের শরীরে হাজির হতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিচারপতি এস আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তা নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তবায়ন না করায় একটি সম্পূরক আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এ তলবের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে হাইকোর্ট তিতাসের কর্মচারী নিয়োগে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাস্তায়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তা অনুসরণ না করায় আদালত সম্পূরক আবেদন করেন। আদালতের আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

২০১৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিতাসে ৭৯ জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিলেও চূড়ান্ত ফলে তাদের বাদ দেওয়া হয়। কোটা অনুসরণ করে নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে মো. রেজাউল করিমসহ ৮ জন ২০১৮ সালের ২০ নভেম্বর রিট দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ৬৩ জনকে নিয়োগ দেয় তিতাস। গত ২ এপ্রিল আরো ১৭ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে ক্ষুব্ধ রিট আবেদকারীরা হাইকোর্টে একটি সম্পূরক আবেদন করেন।

এই আবেদনের শুনানি করে হাইকোর্ট তিতাসের এমডিসহ ৩ জনকে তলবের আদেশ দেন।

আদালতে তিতাসের আইনজীবী জানান, ৩০ শতাংশ  কোটা সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। রিটের আইনজীবীরা তার এই বক্তব্যে আপত্তি জানান। 

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র